১০০ বছর পেছনে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায়

প্রাচীন ঐতিহ্যের স্মৃতি কালের গহ্বরে ঢাকা পড়লেও এর নিদর্শন চিরকাল অম্লান হয়ে থাকে। রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ার জমিদার বাড়িটি তেমনই একটি স্মৃতিচিহ্ন। এ বাড়িটিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে রূপগঞ্জের ইতিহাস, কৃষ্টি, সভ্যতা ও আজকের এই কোলাহলপূর্ণ জন বসতি। শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে মহাকালের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে এ জমিদার বাড়ি। ছায়া নিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা মনোমুগ্ধকর এ জমিদার বাড়ির যে কোন ভ্রমণপিপাসুর মন কাড়ে।
গোড়াপত্তনের ইতিহাস
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার মুড়াপাড়া এলাকায় ৫২ বিঘা জমির উপর এই প্রকাণ্ড জমিদার বাড়ি অবস্থিত। জমিদার বাবু রাম রতন ব্যানার্জী তৎকালীন মুড়াপাড়া জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং জমিদারদের ঊর্ধ্বতন ষষ্ঠ পুরুষ। তিনিই মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন করেন। রাম রতন ব্যানার্জীর পুত্র পিতাম্বর ব্যানার্জী এবং তৎপুত্র প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জী শাহজাদপুরের জমিদারি ক্রয় করে জমিদারি বর্ধন করেন। কথিত আছে, জমিদারি ক্রয় সূত্রে প্রতাপ ব্যানার্জীর সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঠাকুরদা প্রিন্স দ্বারকা নাথ ঠাকুরের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল। ১৮৮৯ সালে প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জীর পৈতৃক এজমালি পুরনো বাড়ি ত্যাগ করে আলোচ্য এ প্রাসাদের পেছনের অংশ নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জীর পুত্র বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ সালে প্রাসাদের সম্মুখ অংশের একতলা ভবন নির্মাণ ও সেখানে ২টি পুকুর খনন করার পর হৃদরোগে মারা যান। তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের প্রথম গ্রাজুয়েট। বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জীর দুই সুযোগ্য পুত্র জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জী ১৯০৯ সালে প্রাসাদটির দোতলার কাজ সম্পন্ন করেন। এ অঞ্চলে জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জীর নাম সমধিক প্রসিদ্ধ। কারণ তিনি দু’বার দিল্লির কাউন্সিল অব স্টেটের পূর্ববঙ্গ থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জমিদার জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী প্রজা সাধারণের কল্যাণসাধনের জন্য স্থাপন...[…]

Travel Image

ড্রীমল্যান্ড হলিডে পার্ক

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ নরসিংদী সদর উপজেলার চৈতাব নামক স্থানে গড়ে উঠেছে বিনোদনের এক স্বর্গরাজ্য। এখানে জলকামান, ওয়াটার আম্ব্রেলা, রাজহংস, রেইনবো ওয়াটার, ঐতিহাসিক টাইটানিকসদৃশ জাহাজ, যা অর্ধডুবন্ত অবস্থায় রয়েছে। যার মধ্যে আছে প্রতি ৫ মিনিট পরপর পানির ফোয়ারায় গা ভাসিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা। আরও রয়েছে ড্রাইভিং টিউব, যাতে আপনি অনায়াসে পানির তোড়ে ভেসে যাবেন। এর সঙ্গে রয়েছে পানির ছন্দে বাজানো মিউজিক, আপনাকে মুহূর্তের মধ্যে করবে রোমাঞ্চিত ও শিহরিত। পার্কে ঘুরে বেড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, আছে নয়নাভিরাম ক্যানেল। যেখানে ফাইটার ৮ বোট চালিয়ে আপনি অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আরও রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম ও সার্বক্ষণিক সুরের মূর্ছনা, রকিং হর্স অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে শিশুরা চলে যাবে স্বপ্নপুরীর দেশে। আরও রয়েছে নাগেক ক্যাসেল। যেখানে শিশুরা সারাক্ষণ লম্ফঝম্প করে আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এয়ার বাইসাইকেল, যা বাংলাদেশের পার্কের জন্য এক নতুন সংযোজন। এতে বসে দু’জন মানুষ অনায়াসে নিজ ইচ্ছায় প্যাডেল চালিয়ে পার্কের ওপর দিয়ে বেড়াতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি এ পার্কের অন্যতম আকর্ষণ। মায়াবী স্পটে কৃত্রিম জলজ প্রাণীর পিঠে চড়ে পৌঁছে যাবেন রূপকথার মৎস্যকন্যা মায়াবী দানবের দেশে। কিন্তু এখানে পৌঁছতে আপনাকে সাহসী হতে হবে। কৃত্রিম অভয়ারণ্য অর্থাৎ হরিণ, কুমির, অজগরসহ বিভিন্ন প্রাণীর সমাহার থাকছে এখানে। এছাড়া ক্যানেলের চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াতে সুপ্রশন্ত ফুটপাত এবং কুঁড়েঘরে বসে বিশ্রাম নেয়ার সুব্যবস্থা, রাতযাপনের জন্য রয়েছে ডুপ্লেক্স বাংলো প্যাটার্নের কটেজ। যার মধ্যে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ সপরিবারে থাকার সুব্যবস্থা। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার লাইভ ফিশ ক্রয় করে নিজে তৈরি করে বার-বি-কিউ খাবার সুবিধা। পার্কটিতে সার্বক্ষণিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা ও সরকার প্রদত্ত পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর তত্ত্বাবধানে সুশৃংখল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল জায়গা, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজস্ব...[…]

Travel Image

মসজিদের পাশেই কবরটি

বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেসব কবি-সাহিত্যিক তাদের লেখনীর মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশের তরুণ সমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তাদের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম। মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তসমাজ ও মুক্তসংস্কৃতি নির্মাণের কবি ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি গোঁড়ামি-ধর্মান্ধতা, জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ও ছোট-বড় এসব কুসংস্কার ও সংকীর্ণতাকে কখনও আমলে নেননি। মানুষকে সব ধরনের চেতনার দৈন্যতা ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার জন্য শক্ত হাতে লিখেছেন অবিরাম। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ- দুই বাংলাতেই তার কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচার এবং দাসত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই বিদ্রোহী কবি চিরশায়িত আছেন।
"মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই/যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই"
এই কবিতায় তার অন্তিম ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
তার এই ইচ্ছার কথা বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কবি নজরুলের সমাধির এক পাশে রয়েছে মসজিদ আর অন্য পাশে চারুকলা ইন্সটিটিউট। এরই ফাঁকে সুপারিগাছে ঘেরা ছোট্ট প্রাঙ্গণটিকে চিরতরের জন্য আপন করে নিয়েছেন বিদ্রোহী কবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে নজরুলের কবরসংলগ্ন এলাকাটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। নজরুলের কবরের সামনে তৈরি করা হয় একটি ছোট্ট গোলচত্বর। এই গোলচত্বরের শোভাবর্ধন করতে সেখানে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লাইন পোড়ামাটির ফলকে এঁকে বসানো হয়েছে।
যেকোন দিন ঘুরে আসুন জাতীয় কবির সমাধিস্থান থেকে।[…]

Travel Image

কাকিনা জমিদারী বংশ ও জমিদার বাড়ি

বর্তমানের কালীগঞ্জ উপজেলাধীন কাকিনা ইউনিয়নের কাকিনা মৌজায় এক কালে গড়ে উঠেছিল বড় বড় ইমারত বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি, যা কালের স্রোতে নিশ্চি হয়ে গেছে। কাকিনা জমিদার বাড়ির অতীত স্মৃতি ধারণ করে এখন নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধুমাত্র- "হাওয়াখানা'।

ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, মহারাজা মোদ নারায়নের সময় কাকিনা ছিল কোচবিহার রাজ্যাধীন একটি চাকলা। তৎকালে কাকিনার চাকলাদার ছিলেন ইন্দ্র নারায়ণ চত্রুবর্তী। ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ঘোড়াঘাটের ফৌজদার এবাদত খাঁ মহারাজা মোদ নারায়ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কোচ রাজ্যে অভিযান চালানোর সময় রঘু রামের দু'পুত্র রাঘবেন্দ্র নারায়ণ ও রাম নারায়ণ ফৌজদারের পক্ষ অবলম্বন করেন। মোগলদের এ অভিযানে কোচ বাহিনী পরাজিত হলে ইন্দ্র নারায়ণ চত্রুবর্তীকে কাকিনার চাকলাদার পদ থেকে অপাসারণ করা হয় এবং রাঘবেন্দ্র নারায়ণকে পরগনা বাষট্টি ও রাম নারায়ণকে পরগনা কাকিনার চৌধুরী নিযুক্ত করা হয়। এভাবেই ইন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তীর চাকলাদারী শেষ হয়ে কাকিনায় রাম নারায়ণের মাধ্যমে নতুন জমিদারীর সূচনা ঘটে। রাম নারায়ণ চৌধুরীর পিতা রঘু রাম সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, চাকলাদার ইন্দ্র নারায়ণ চত্রুবর্তীর সময় তিনি কাকিনা চাকলার একজন সাধারণ কর্মচারী ছিলেন। তবে রঘু রামের পিতা রমা নাথ ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে কোচবিহার মহারাজা প্রাণ নারায়ণের সময় (১৬৩২-৬৫ খ্রিঃ) রাজ দফ্তরে মজুদদারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে রাম নারায়ণ কাকিনা পরগনার চৌধুরী নিযুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে কাকিনায় যে জমিদারীর সূচনা ঘটেছিল, জমিদার মহেন্দ্ররঞ্জনের সময় তাঁর অপরিণামদর্শী ব্যয় ও বিলাসিতার কারণে তা ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। মহাজনদের বকেয়া ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জমিদারী নিলাম হয়ে যায় এবং এর পরিচালনার ভার কোর্ট অব ওয়ার্ডস- এর অধীন চলে যায়। অতঃপর তিনি প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় সপরিবারে কাকিনা ত্যাগ করে কার্সিয়াং (দার্জিলিং)- এ চলে যান। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে...[…]

Travel Image

প্রাচীন আলোয় কুমিল্লা

জনপদের নাম কুমিল্লা। গোমতী পাড়ের শহর। ত্রিপুরার রাজারা এক সময় এ শহরের গোড়াপত্তন করেছিল গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপন কেন্দ্র হিসেবে। গোমতী পাড় বলে এ জনপদের সুখ্যাতি রয়েছে। ব্যাংক ও ট্যাংকের (পুকুর) শহর কুমিল্লা। তার পাশঘেঁষে গড়ে উঠেছে কমলাংক বা বর্তমান নাম কুমিল্লা। দক্ষিন এশিয়ার স্বপ্ন আয়তনের একটি দেশ হলেও পর্যটন শিল্পের বিচিত্রশাখায় সমৃদ্ধ এ জেলা। বিরল সৌন্দর্য এবং সভ্যতার আদি নিদর্শন এ অঞ্চলের মানুষের বর্ণাঢ্য জীবনধারা প্রকৃতির এ রূপ দেশী-বিদেশী ভ্রমন বিলাসীদের চিরকাল আকর্ষন করেছে। কুমিল্লা শহরের বুকজুড়ে রয়েছে আদি নিদর্শন বিহার, শালবন রুপবানমুড়া, ইটাখোলামুড়া, ময়নামতি ঢিবি, রানীর বাংলো, ময়নামতি জাদুঘর আরও আছে অপূর্ব প্রাকৃতিক ঘেরা সবুজ বৃক্ষবেষ্টিত লালমাটির লালমাই পাহাড়।
প্রাচীন সভ্যতার নীরব সাক্ষী ময়নামতি লালমাই : কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি.মি. পশ্চিমে অবস্থিত। টিলাগুলোর উত্তর অংশে ময়নামতি দক্ষিনে লালমাই। মাটির রঙ লাল ও টিলাগুলো ঢালু। ১৮৭৫ সালের আগ পর্যন্ত সব ছিল অজানা। বর্তমান কোটবাড়ি এলাকার রাস্তা তৈরির সময় ছোট ইমারতের ধ্বংসাবশেষে উন্মোচিত হয়ে পড়ে। ভূমির ওপর অসংখ্য কাঠের ফসিলের টুকরো দেখতে পাওয়া যায় যা র্ভূমগুলীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। ১৯১৭ সালে অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টশালী রনবংকমল¬ হরিকেল দেবের তাম্রশাসন (খ্রিস্টীয় তের শতক) উল্লেখিত দুর্গ বিহার পরিবেষ্টিত পট্টিকরা নগর বলে শনাক্ত করেন। প্রত্মতাত্ত্বিক খননের ও জরিপের ফলে মূল্যবান স্থাপত্যিক নিদর্শন আবিস্কৃত হয়।
শালবন বিহার : কালিবাজার সড়ক ধরে কুমিল্লা শহর থেকে কোট বাড়ি এসে দক্ষিন দিকগামী রাস্তা দিয়ে ১.৫ কিলোমিটার এগিয়ে গেলে শালমানপুর গ্রামে পৌঁছার পর হাতের বামে শ্রী ভবদেব মহাবিহার। কালের পরিক্রমায় গ্রামের নামানুসারে শালবন বিহার নামকরন হয়। তবে সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে যেটা পাওয়া যায় ১৯৫৫-৬৮ সাল পর্যন্ত খনন কাজ পরিচালনার ফলে ছয়টি বসতি আমরে চিহ্নসহ একটি বর্গাকার বিহারের ভেতর...[…]

Travel Image

আলতাদীঘি

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’ কবি জীবনানন্দ দাশের এ উক্তি নিছক কবি-বন্দনা নয়। এদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বিদেশীরা বারবার এদেশের ধন-সম্পদ লুট করে নিলেও নিয়ে যেতে পারেনি এর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই তো এদেশের মানুষের কণ্ঠে শোনা যায় ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা।’ আর এ দেশ কেন এত সেরা তা উপলব্ধি করতে হলে নিজের চোখে সে সৌন্দর্যকে দেখতে হবে। সে সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে হবে।
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তর দিকে আলতাদীঘির অবস্থান। ধামইরহাট উপজেলা পার হয়ে পূর্ব দিকে একটি ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তা পাকা, বাকিটা কাঁচা রাস্তা। রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই দু’পাশে বাঁশঝাড় আর গাছগাছালি আপনাকে মুগ্ধ করবে। কিছুদূর গেলে দেখা যাবে রাস্তার দুই পাশে শালবন। এখানে দেখা যাবে বরেন্দ্রভূমির লালমাটির সৌন্দর্য। পাহাড়ি এলাকার মতো উঁচু-নিচু রাস্তা। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ শালবন বর্তমানে সরকারিভাবে সংরক্ষিত। বনের মধ্যে হাঁটলে দেখা যাবে, সূর্যের আলো সরাসরি মাটিতে পড়তে না পেরে গাছের পাতা ভেদ করে বনের ভেতর চাঁদের আলোর মতো রূপ নিয়েছে। যা সত্যিই খুব আনন্দঘন। বনের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে কখনও যদি উইপোকার তৈরি বড় ঢিবি দেখা যায় তবেই বোঝা যাবে বাংলার রূপ সত্যিই কত সুন্দর। বাংলার রূপ কি বিচিত্র। বছরের পর বছর মাটি দিয়ে উইপোকা তৈরি করেছে এসব ঢিবি। প্রকৃতির তৈরি এ বনের মধ্যে এরকম নিখুঁত শিল্প দেখে যে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারবে না। আলতাদীঘির নামেই গ্রামের নাম দেয়া হয়েছে আলতাদীঘি। গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি মাটির তৈরি। আবার অনেকে মাটি দিয়েই দোতলা বাড়ি তৈরি করেছেন। গ্রাম পার হয়ে...[…]

Travel Image

ইতিহাস খ্যাত দূর্গা সাগর দীঘি

ঐতিহাসিক নিদের্শন সমৃদ্ধ দেশের দক্ষিনাঞ্চলের জেলা বরিশাল। বর্তমানে বিভাগীয় শহর । অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল ও সবুজ বেষ্টনী ঘেরা এ জেলায় জম্নগ্রহন করেছেন প্রথিতযশা, রাজনীতিক,শিল্পী, সাহিত্যিক সহ অনেক গুনীজন। ইতিহাস খ্যাত এই বরিশাল জেলার একটি ইউনিয়ন মধাব পাশা। চন্দ্রদ্বীপ রাজারা এখানে প্রায় ২০০ বছর রাজ্য শাসন করে ছিলেন। মাধবপাশা বিভিন্ন গ্রামে সেসব রাজ-রাজাদের বাস ভবনের ভগ্নাবশেষ আজও মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে । মাদবপাশার নয়নাভিরাম দূর্গাসাগর দীঘি সেই রাজাদেরই এক কীর্তি । জনশ্রুতি এবং তথ্যনুসন্ধানে জানাযায়, ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে এই দীঘিটি খনন করার তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যেও পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ন রায় । বাংলায় বারো ভূইয়ার একজন ছিলেন তিনি । স্ত্রী দূর্গাবতীর প্রতি ভালোবাসার গভীরতা প্রমানের জন্যই নাকি তিনি রাজকোষ থেকে ৩লাখ টাকা ব্যয়ে দীঘিটি খনন করান। কথিত আছে, রানী দূর্গাবতী একবাওে যতোদূর হাঁটতে পেরেছিলেন ততোখানি জায়গা নিয়ে এ দীঘি খনন করা হয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক রাতে রানী প্রায় ৬১ কানি জমি হেঁটেছিলেন । রানী দূর্গাবতীর নামেই দীঘিটির নাম করন করা হয় দূর্গাসাগর দীঘি। সরকারী হিসাব অনুযায়ী দীঘিটি ৪৫ একর ৪২ শতাংশ জমিতে অবস্থিত। এর ২৭ একর ৩৮ শতাংশ জলাশয় এবং ১৮ একর ৪শতাংশ পাড় । পাড়টি উওর- দক্ষিনে লম্বা ১৪৯০ফুট এবংপ্রশস্ত পূর্ব পশ্চিমে ১৩৬০ ফুট। কালের বিবর্তন ধারায় দীর্ঘিটি তার ঔজ্জ্বল্য কিছুটা হারিয়েছে, এ কথা সত্যি তবে প্রতি শীত মৌসুমের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে এখানে নানান প্রজাতির পাখি আসে । সরাইল ও বালিহাঁস সহ নানান প্রজাতির পাখি দীঘির মাঝখানে ঢিবিতে আশ্রয় নেয় । সাঁতার কাটে দীঘির স্বচ্ছ, স্ফটিক পানিতে । কখনো বা হালকা শীতের গড়ানো দুপুওে ঝাকঁ বেঁধে ডানা মেলে দেয় আকাশে । কালে কালে দীঘিটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ইংরেজ শাসনামলে...[…]

Travel Image

ঐতিহ্যের সোনারগাঁয়ে

গ্রামবাংলার প্রকৃত অস্তিত্বের রূপ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায়। ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা, শান্ত সিগ্ধ অপরূপ সৌন্দর্যের সন্ধানে যদি আপনি যেতে চান তো চলে আসতে পারেন প্রাচীন বাংলার রাজধানী সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের কিংবা ঈশা খাঁর সোনারগাঁয়ে। এ দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই সোনারগাঁ নামের সঙ্গে পরিচিত। কেবল পরিচিতই নয়, অনেকে এসেছেন, ঘুরেছেন, দেখেছেনও সোনারগাঁকে। তদুপরি বলতে হয় সোনারগাঁয়ে রয়েছে দেখার মতো বিস্তৃত জায়গা। যেমন ধরুন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের মাজার কিংবা পাঁচ পীরের দরগা’র কথাই। ঢাকা থেকে কিংবা দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকেই বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নেমে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়–ন দেখতে সোনারগাঁকে। চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে যে রাস্তাটি গিয়েছে রিকশা নিয়ে আগাতে থাকুন। ঐতিহ্যবাহী মোগড়াপাড়া হাইস্কুল পার হয়ে সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশ দিয়ে গাছপালা ঢাকা সরু পিচের আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে সামনে এগুলেই সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের মাজার। গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের আমলের সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ছিল অনেক সমৃদ্ধ। ওই রাস্তা ধরেই সামনে এগিয়ে গেলে বিখ্যাত পাঁচ পীরের মাজার। যাদের এলাকাবাসী অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্পের জাদুঘরের কথা তো সর্বজনবিদিত। জাদুঘরের বর্ণনা করে কারও সময় নষ্ট না-ই বা করলাম। জাদুঘর পেরিয়ে যেতে পারেন পানাম নগরীতে। দু’পাশে সারি সারি পুরনো ভবন। নিশ্চুপ, নিরেট শান্ত সিগ্ধ পরিবেশ। ভবনগুলোকে দেখলেই বুঝা যায় সোনারগাঁয়ের ইতিহাস কত শান-শওকতে পরিপূর্ণ ছিল। সোনারগাঁয়ের গোয়ালদী গ্রামে রয়েছে বাংলার ইতিহাসের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর অন্যতম একটি মসজিদ। যেতে পারেন বারদীতেও। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে স্কুটার কিংবা রিকশায়। বারদীতে রয়েছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম। হিন্দু নাগ জামিদারদের প্রাচীন ভবনগুলোও দর্শনীয়। রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতিবসুর পৈতৃক বাড়ি। শান বাঁধানো পুকুরঘাট, গাছপালা ঘেরা নৈসর্গিক দৃশ্য সম্পন্ন গ্রামবাংলার প্রকৃত রূপ।
যদি আপনি...[…]

Travel Image

প্রজাপতির দুনিয়া

ঢাকার অদূরে সাভারে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকায় রয়েছে নানা জীববৈচিত্র্য। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সম্প্রতি সবার দৃষ্টি কেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি গার্ডেন। প্রজাপতি গার্ডেন মূলত হরেক নাম আর রঙের প্রজাপতির এক পরিকল্পিত আবাস। সেখানে প্রজাপতিদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ঘর আর প্রজননকেন্দ্র। এখানে প্রজাপতিদের কেউ বিরক্ত করে না, তারা আপন মনে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়, মধু খায়। সকাল, দুপুর, সাঁঝে তারা পাখা মেলে। আকাশে ছড়ায় রঙ। জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে প্রজাপতির অভয়ারণ্য। সবুজ বনানী, নরম ঘাসের ডগায় দিনভর চলে তাদের ওড়াউড়ি। সুয্যিমামা জাগার আগেই ঘুম ভাঙে তাদের। শুরু হয় আরও একটি দিনের। শরতের সকালের শিশির ভেজা শান্ত পরিবেশে একটু এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি, তারপর খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়া। প্রকৃতি রোদের ছোঁয়ায় তেতে ওঠার আগেই খাদ্য সংগ্রহ করা চাই। এজন্য ছুটতে হয় এ ডাল থেকে ও ডালে। এক বন থেকে অন্য বনে। চলে মধু সংগ্রহের প্রতিযোগিতা। বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল বর্ণের বৈচিত্র্যময় ডানায় ভর করে তারা ছুটে চলে। রঙের জাদুতে মোহিত করে দর্শককে। দেখে ভ্রম হয়, প্রজাপতি, প্রজাপতি, কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?
প্রজাপতির বাগানের প্রজাপতিদের রঙের বাহার যেমন, তেমই নামের বাহার। টাইগার গ্রপ, শ্যালো টেল, গ্রাস ইয়েলো, ইয়েলো পেনসি, লাইম বাটার ফ্লাই আরও কত কি! আমাদের দেশের মোট দু’শ জাতের প্রজাপতির ১১০ প্রজাতিই রয়েছে এখানে। আর এর মধ্যে আবার ৬১টি প্রজাতি নতুন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩শ’ একর জমির ওপর এই প্রজাপতি বাগান। জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন ১৪ বছরের সাধনায় গড়ে তুলেছেন প্রজাপতিদের এই আবাস। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যলয়ের বন-বনানী আর জীববৈচিত্র্যের কারণে তা সম্ভব হয়েছে। আর প্রজাপতিরাও আপন করে নিয়েছে বাগানটিকে।[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.