বাংলার নায়াগ্রা নাফাকুম

মারমা ভাষায় কুম মানে হল জলপ্রপাত। বান্দরবানের প্রাণ সাঙ্গু নদী পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে অজস্র ছোট খুম বা জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে। রেমাক্রিখুম ও নাফাখুম এর মধ্যে অন্যতম। নাফাখুম যেতে হলে থানচী যেতে হয় বলে বান্দরবানে। থানচী পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। সরাসরি জিপ বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে যাওয়া যায়। থানচী পর্যন্ত চান্দের গাড়ির ভাড়া ৪ হাজার টাকা। চান্দেরগাড়ি হচ্ছে টেম্পো বা লেগুনার মতো। এক গাড়িতে ১২ জন অনায়াসে বসতে পারে। পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে রাস্তা, কিছু রাস্তা এমন যে ব্রেক ঠিক সময়ে না কষলেই সোজা কয়েকশ’ ফিট নিচে পড়ে চুরমার হয়ে যাব। একটি রাস্তায় আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। এর নাম পিক ৬৯।
থানচী পৌঁছে নৌকায় জনপ্রতি ৫ টাকা দিয়ে নদী পার হওয়া যায়। সাঙ্গু নদীটি এখানে খালের মতো হয়ে আছে। এর ওপর দিয়ে একটি অসমাপ্ত ব্রিজ। যাত্রা এখানেই শেষ নয়। আসল অ্যাডভেঞ্চার এখান থেকে শুরু। থানচীর নৌকা ঘাটে গিয়ে গাইড সমিতি থেকে গাইড নিতে হবে । যিনি নাফাকুম নিয়ে যাবেন। তাকে দিতে হবে দিনপ্রতি ৬০০ টাকা। ক্যাম্পে নাম, ঠিকানা এন্ট্রি করে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করা যাবে যাওয়া-আসা ৪ হাজার টাকায়।
পরদিন সকাল ৭টায় নৌকায় উঠবেন। উদ্দেশ্য নাফাখুম। ২ ঘণ্টায় সাঙ্গুর ওপর দিয়ে গেলে তিন্দু বাজার। ছোট একটি ঝরনা দেখতে পাবেন। গাইড জানাবেন প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে সামনে রাজা পাথর। খুব কঠিন পথ। যেতে যেতে পথে হঠাৎ নৌকার সামনে পড়বে নৌকার চেয়েও বড় পাথর। আশপাশে বিশালাকার পাথর, একটির চেয়ে আরেকটি বড়। বাড়ি খেলে নৌকা গুঁড়িয়ে যাবে।
কয়েকজন নৌকা থেকে নেমে যাওয়া ভালো , পানি কম থাকবে, কিন্তু এই পানিতেই অনেক স্রোত। নদীর মাঝে বিশাল বিশাল পাথরকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে।...[…]

Travel Image

পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় কানাইঘাটের লোভা-মূলাগুল

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অসংখ্য ছোট বড় নদী বিধৌত অপূর্ব শোভায় শোভিত প্রাচীন জনপদটির নাম কানাইঘাট। সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৫১.২ কিলোমিটার (৩২ মাইল) দূরে উত্তর পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে কানাইঘাটে আসতে হলে সিলেট-তামাবিল রোড অথবা,জকিগজ্ঞ রোডে কানাইঘাট উপজেলা সদরে আসা যায়। কানাইঘাট বাজার ঘেঁষে প্রবাহিত সুরমা নদীর দু’পারেই দু’টি বাস ষ্টেশন আছে। সীমান্তকে ঘিরে রেখেছে খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া পাহাড়। এর পাদদেশে অবস্থিত অসংখ্য টিলা,মণিপুরী টিলা,মিকিরপাড়া,লুহাজুড়ি সহ অসংখ্য টিলার অবস্থান এ উপজেলায়। আবার এসব টিলার মধ্য দিয়ে অসংখ্য নদী বা ছড়া পাহাড় থেকে এসেছে। এর মধ্যে লোভা,নুনগাং,কালিজুড়ি,আপাং,সুরই,সিংগাইর,নাপিতখাল অন্যতম, এগুলি দিয়ে উজান বেয়ে পাহাড়মুখী উপরদিকে উঠলে এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবার চোখে ভাসে। এসব আঁকাবাঁকা নদীর দু’পাশে শত শত জাতের গাছপালা,আর বনজফুল,ফলে শোভিত টিলার বন-জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে নৌকায় চড়ে উঠলে কি এক অপরূপ মনোরম দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। কানাইঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লোভা ছড়া চা বাগান,লোভা পাথর কোয়ারী,বালুমহাল,বনায়ন প্রকল্প,রিজার্ভ ফিসারী ও লোভা নদী তীর ঘেঁষা এলাকার নয়নাভিরাম দৃশ্যকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্পের উজ্জল সম্ভাবনা। এই প্রাচীন এলাকাটিতে রয়েছে উপভোগ করার মত বেশ কিছূ দৃশ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় উঁচু নিচু পাহাড়। পাহাড়ের ঢালে রয়েছে ঝর্ণা লেক। যা দেখলে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এই এলাকায় রয়েছে সুবিশাল চা বাগান। আর তাতে শত শত শ্রমিক আপন মনে কচি কচি পাতা তুলে নেয়। মূলাগুলের লোভা ছড়া চা বাগানে প্রচুর লিচু,আম,কাঠাল,সুপারী,তেজপাতা,পান,কামরাঙ্গা প্রভৃতি ও জন্মে। ১৯২৫ সালে ইংরেজদের নির্মিত ঝুলন্ত ব্রীজ আছে। আছে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মহান আন্তত্যাগের স্মৃতি গাঁথা শহীদ মিনার। চা বাগানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পাহাড়িয়া খরস্রোতা লোভা নদী। পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুন্দর। ভারত সীমান্তের কাছাকাছি লোভা...[…]

Travel Image

গোপালগঞ্জের চান্দার বিল জীব বৈচিত্রে ভরা এক বিশাল জলাভূমি

১০হাজার ৮৯০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত চান্দার বিল জীব বৈচিত্র্যে ভরা এক বিশাল জলাভূমি । এর পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত মধূমতি বিলরূট ক্যানেল । গোপালগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী চান্দার বিল আজ থেকে প্রায় ৪হাজার বছর আগে উঁচু বন ভূমি ছিল বলে জানা যায় । এখানে তখন জনবসতি ছিল না ছিল বন্যপশুর অবাধ বিচরন । ভূমিকম্পের ফলে ঐসব বনভূমি দেবে গিয়ে বিশাল জলাভূমিতে পরিনত হয় । বিগত ৩শ’বছর আগে চান্দার বিল এলাকা ঘিরে বসতি গড়ে উঠে । গোপাল গঞ্জ জেলার সদও, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৪ টি মৌজা নিয়ে আজকের যে চান্দার বিল তার মধ্যে ৫৪ হাজার লোকের বসবাস । এখানকার শতকারা ৮০ ভাগ হিন্দু , ১৫ ভাগ মুসলমান এবং বাকি ভাগ খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ভূক্ত । শতকরা ৭০ভাগ লোক কৃষিকে প্রধান পেশা হিসাবে নিয়েছেন । যাদের অনেকেই বছরের বেশীর ভাগ সময় কৃষি কাজ এবং বাকী সময় মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে । খন্ডকালীন মৎস্য শিকার ছাড়াও অনেক জেলে সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে কেবল মাছ ধরাই যাদের পেশা । এখানে এক সময় এত বিপুল পরিমান প্রাকৃতিক মাছ ছিল যে চান্দার বিল বৃহওর ফরিদপুর জেলার মাছের অভয়ারন্য হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে । মাছের প্রাচুর্যের জন্য এ বিলকে এখনও বলা হয় গোপালগঞ্জের ঐতিহ্য । সাড়ে ৫ হাজার মাছের কুয়া চান্দার বিলে সারা বছরই মাছ ধরা হয় । বর্ষাকালে পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি কৃষকেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকেন । ভাদ্র , আশ্বিন, কর্তিক ও অগ্রহায়ন মাসে সবচেয়ে বেশী মাছ ধরা হয় । এ সময় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ টন মাছ ধরা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় । চান্দার বিলে সাড়ে ৫ হাজার কুয়া রয়েছে ।...[…]

Travel Image

ওপার সৌন্দর্যের হাতছানি সুন্দরবন

এ বনাঞ্চলের খ্যাতি পৃথিবী জুড়ে। এত বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বিশ্বের আর কোথাও নেই। বাংলাদেশের আয়তনের ৪ দশমিক ২ শতাংশ ভূমির প্রায় ৪৪ ভাগ এই সুন্দরবন। এখানকার জোয়ারভাটা, সবুজ বনানী আর বিচিত্র বন্যপ্রাণী সব সময় হাতছানি দেয় মানুষকে। পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের রাজকীয় পদচারণা রয়েছে এ বনাঞ্চল জুড়ে। বনের দক্ষিণ কোল ঘেঁষে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। নিকটবর্তী সাগরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের অবতারণা করে। এ বনকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত পৃথিবীর সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অংশবিশেষ নিয়ে সুন্দরবনের বিস্তার। এ বনেই বাস করে ভুবনবিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য হাতছানি দেয় দেশি-বিদেশি নানা রংয়ের মানুষকে। চিত্রল হরিণ, সুন্দরী গাছ, জলের কুমির আর নানা জাতের মাছ, গাছে গাছে শত শত প্রজাতির রং-বেরংয়ের পাখিই এই আকর্ষণের মূল কারণ। বনভূমি ও বন্যপ্রাণী দেখতে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে ভিড় করছেন পর্যটকরা। প্রকৃতির অপরূপ অনাবিল সৌন্দর্যমণ্ডিত রহস্যঘেরা এ বনভূমি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা। সুন্দরবন বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রল হরিণের জন্য। তবে এখানে বানর, কুমির, হাঙ্গর, ডলফিন, অজগর ও বনমোরগ ছাড়াও রয়েছে ৩৩০ প্রজাতির গাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ৩২ প্রজাতির চিংড়িসহ ২১০ প্রজাতির মাছ। এসব বন্যপ্রাণী ও সুন্দরবনের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রতিনিয়ত সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।জালের মতো অসংখ্য নদী আর খাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সুন্দরবন জুড়ে। সুন্দরবন সৌন্দর্য বিস্তারের পাশাপাশি বৃহত্তর খুলনার লাখ লাখ উপকূলবাসীকে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে থাকে। একই সঙ্গে তাদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বনও এই বন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ বনজ সম্পদ রক্ষায় জাতীয় অভয়ারণ্য হিসেবে সুন্দরবন...[…]

Travel Image

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রঙতুলি দিয়ে সাজানো সাতছড়ি

জীবনের ব্যস্ত সময় কাটানোর মধ্যেও প্রত্যেক মানুষ চায় একটু আনন্দ। চায় একটু বিনোদন। বাংলাদেশ ছোট ভৌগলিক সীমা রেখার দেশ। দেশের মানুষ দেশের ভেতরের পর্যটনযোগ্য বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে বাগান বাড়ি না দেখলে জীবন চলা অপূর্ণই থেকে যায়। বাংলাকে প্রকৃতি নিজের হাতে অতুলনীয় রুপে সাজিয়ে রেখেছে। এখানে রয়েছে বিনোদনের অনেক জায়গা, রয়েছে প্রাকৃতিক অপুরূপ স্থান।
পর্যটকদের দৃষ্টি নন্দন স্থানের মধ্যে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একটি। দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি একটি। এর আয়তন ২৪২.৮২ হেক্টর বা ৬শ একর। এটি রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেষ্টের একটি অংশ। ঢাকা থেকে প্রায় ১৩০ কিঃমিঃ উত্তর-পুর্ব দিকে এবং শ্রীমঙ্গল থেকে ৬০ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একটি ট্রপিকেল রেইন ফরেষ্ট বা মিশ্র চির সুবুজ এবং পত্রঝরা বন। ইকো ট্যুর গাইডের সাহায্য নিয়ে জীব বৈচিত্রে ভরপুর সাতছড়ি উদ্যানে হাইকিং করলে অপূর্ব বনশ্রী হƒদয়ে দাগ কাটবে নিঃসন্দেহে। যা নিজের চোখে এবং বাস্তবে উপভোগ না করলে বুঝা সম্ভব নয়। হাজারো পর্যটক প্রাকৃতিক দৃশ্য পরিভ্রমনে আসেন। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের নামকরণে রয়েছে এক ইতিহাস। এটির মধ্য দিয়ে পানিহীন ৭টি ছোট খাল বা ছড়া প্রবাহিত হয়েছে। যা বর্ষায় পানি এলেও তা শুকিয়ে যায়। তবে অবাক হওয়ার কথা, ছড়াগুলোর মধ্যে প্রকৃতি তার নিয়মে বিছিয়ে রেখেছে পানি বিহীন দুধের ন্যায় সাদা বালু। দুধ রং বালুর উপর হেটে যেতে পারেন উদ্যানের অভ্যন্তরে। তখন মনে হবে কেউ হয়তো শুভ্র গালিচায় অভ্যর্থনা জানাতে এ প্রয়াস চালিয়েছে। ছড়ার পথে হাটতে হাটতে চারদিকে চোখ রাখলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও নাম না জানা অসংখ্য লতা পাতা। উল্লেখযোগ্য বৃক্ষের মধ্যে চাপালিশ, আউয়াল, কাকড়া, হারগাজা, হরতকি, পাম, লটকন, আমড়া, গামার, কাউ, ডুমর ইত্যাদি। এ...[…]

Travel Image

উয়ারী – বটেশ্বর

এই দুই জায়গা একদা ছিল রাজধানী। প্রাচীন আমলেই গড়ে উঠেছিল উয়ারি – বটেশ্বর। যুদ্ধরাজ বম্বেট শক্তিমান গ্রিকবীর আলেকজান্ডার যে জাতির ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন সে জাতির বসবাস ছিল এই দুই গ্রামেই। সেই জাতির নাম গঙ্গারিডি। নরসিংদীতেই ছিল তাদের বসবাস। উয়ারি – বটেশ্বরে আড়াই হাজার বছরের প্রতনিদর্শন আবিষ্কারের কাহিনী একটি জনপদের অস্তিত্বের কথা প্রমাণ করে দেয়। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার চক্রবর্তী উয়ারী দুর্গনগরীকেই এই জনপদের রাজধানী মনে করেন। এখানে পাওয়া গেছে প্রাচীন দূর্গনগরী, বন্দর, রাস্তা, র্পাশ্বরাস্তা, পোড়ামাটির ফলক, পাথরের পুঁতি, মুদ্রাভান্ডারসহ উপমহাদেশের প্রাচীনতম রৌপ্যমুদ্রা যা নরসিংদী জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বেলাব উপজেলার আমলার ইউনিয়নে উয়ারী – বটেশ্বরে অবস্থিত। উয়ারি – বটেশ্বরে পাওয়া গেছে স্বল্প মূল্যবান পাথরের গুটিকা, কাচের গুটিকা, রৌদ্রমুদ্রা, উচ্চমাত্রায় টিনমিশ্রিত ব্রোঞ্জ নির্মিত নবযুক্ত পাত্র। উত্তরভারতীয় মসৃণ কালো মৃৎপাত্র প্রভৃতি নির্দশনগুলোকে প্রতাত্ত্বিকরা খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দ থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতক র্পযন্ত সীমায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধানণা করেছেন। উয়ারী গ্রামে একটি অস্থায়ী জাদুঘর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা অথবা সিলেট থেকে সড়কপথে রওনা দিলে আপনি মরজাল বাসস্ট্যান্ডে নেমে যাবেন। মরজাল থেকে ৪ কি. মি. দূরে উয়ারী – বটেশ্বর। এ পথে রিকশা নিয়ে আসা যাবে।
মনোহরদী উপজেলা সদর থেকে কয়েক মাইল দূরে গেলে বনাঞ্চল দেখতে পাবেন। এখানে বানরসহ নানান জাতের বন্যপ্রাণী বসবাস। এছাড়া রঘুনাথ মন্দির ঘুরে দেখুন। এটি খুবই আকর্ষনীয়।
নরসিংদী যেভাবে যাবেন
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়ে বামে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে একটু এগুলেই নরসিংদী। ঢাকা থেকে নরসিংদীর দূরত্ব মাত্র ৫৪ কিলোমিটার। গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও আব্দুল্লাহপুর থেকে নরসিংদীর বাস পাওয়া যায়। বিভিন্ন পরিবহন ৫ মিনিট পর পর নরসিংদী যাচ্ছে। যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। ভাড়া ৬০ টাকার মতো। ট্রেনেও নরসিংদী...[…]

Travel Image

শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্কে

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা শেরপুর জেলার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়। এই গারো পাহাড়ে দেশের পার্বত্য এলাকার মতো সুউচ্চ পর্বত বা পাহাড় ও লেক না থাকলেও এখানকার শাল-গজারি, ইউকিলিপটাস-একাশিয়া, সেগুন-মেহগিনি, মিনঝিরিসহ নানা প্রজাতির গাছগালি ঘেরা ঊঁচু নিচু টিলা আর পাহাড়ি টিলা বেয়ে সমতলের দিকে ছুটে চলা ছোট ছোট ঝর্ণা, ঝোড়া ও ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যে কোন প্রকৃতি প্রেমির হৃদয়কে আন্দোলিত করবে। ওই সব পাহাড়ি টিলার উপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠির নানা সম্প্রদায়দের লোকদের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে উচু-নিচু পাহাড়ের গায়- মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসিদের ঘর-বাড়ি’র দৃশ্য মন ছুয়ে যায়, হৃদয়কে উদ্বেলিত করে।সেসঙ্গে এই গারো পহাড়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা হাজার হাজার নর-নারী ও প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন মেলা ও হাট বসে।
১৯৯৯ সনে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর “মধুটিলা ইকো পার্ক” নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। গারো পাহাড় এলাকায় নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক ওই পিকনিক কেন্দ্রে এখন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষা সফর ও বনভোজনে বাস, মাক্রোবাস, প্রাইভেট কার করে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুরা বেড়াতে আসছে। ফলে জেলা প্রশাসন ও সরকারের রাজস্ব খাতে প্রতি বছর আয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ময়মনসিংহ বন বিভাগ ১৯৯৯ সন থেকে ইকো পার্কের প্রাথমিক অবকাঠামো ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ দুই...[…]

Travel Image

পরিকুণ্ড জলপ্রপাত

মাধবকুন্ডের পাশে পরীকুন্ড জলপ্রপাত টানবে সবাইকে। ঈদের ছুটিতে অনেকে বেড়াতে যান। বেড়ানোর জায়গাটা যদি প্রকৃতির খুব কাছাকাছি হয়, তবে তো কথাই নেই। ‘মাধবকুণ্ড’ জলপ্রপাত কমবেশি সবারই চেনা। তবে এর কাছেই যে আরেকটি জলপ্রপাত আছে, সেটা কি দেখা হয়েছে? স্থানীয় মানুষের কাছে এর নাম ‘পরিকুণ্ড’। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই জায়গাটি টানবে সবাইকে। মাধবকুণ্ডের চেয়ে পরিকুণ্ড কিছুটা নির্জন। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালায় ছেয়ে আছে এর চারপাশ। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু থেকে পাথরের খাড়া পাহাড় বেয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। নিচে বিছানো ছোট-বড় পাথর গড়িয়ে স্রোতধারা একটি বড় ছড়ায় মিশে গেছে। বড় একটি পাথরে বসে আনমনে খুব কাছ থেকেই জলপ্রপাতের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যেতে পারে। ইচ্ছা করলে স্বচ্ছ পানির ছড়ায় ভালোমতো গোসলও সেরে নেওয়া যায়।
ঈদের ছুটিতে যাঁরা মাধবকুণ্ডে বেড়াতে যেতে চান, তাঁরা চাইলেই পরিকুণ্ড দেখে আসতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ জানালেন, তিনি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে পর্যটকদের ছবি তুলে দেন। কেউ বললে পরিকুণ্ডে নিয়ে যান। পর্যটকেরা খুশি হয়ে যা দেন, তা-ই নেন। মাধবকুণ্ডের পর্যটন করপোরেশনের রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক রমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া জানালেন, মাঝেমধ্যে পর্যটকদের অনেকে এসে পরিকুণ্ড যাওয়ার রাস্তা সম্পর্কে জানতে চান।
যেভাবে যাবেন পরিকুণ্ড
টিকিট কেটে প্রধান ফটক পেরিয়ে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের রাস্তা। হাঁটতে হাঁটতে সামনে গিয়ে হাতের বাঁ পাশে টিলার ওপর শিবমন্দির। এর ঠিক বিপরীতে রাস্তার সঙ্গে একটি নতুন পাকা সিঁড়ি তৈরি হয়েছে। ওই সিঁড়ি দিয়ে নেমে মাধবকুণ্ডের মূল ছড়া। আর ওই ছড়াটির সোজাসুজি পাথর বিছানো ছড়া দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলেই পরিকুণ্ড। ভয়ের কারণ নেই। ছড়ায় শুধু পায়ের পাতাই ভিজবে। ভয়ের অবশ্য দু-একটা কারণ আছে। নিচে বিছানো পাথরগুলো কিন্তু বেশ পিচ্ছিল। শ্যাওলা জমে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পা ফেলতে হবে...[…]

Travel Image

রাজাদের নাটোরে

নারদ নদীর তীরে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা নাটোর। এর উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা। আত্রাই, বড়াল, নারদ ও নন্দকুঁজা জেলার প্রধান নদী। নাটোর জেলার উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো নিয়ে কড়চার এবারের বেড়নো
রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ
নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজ্জল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটির ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দিতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১৭১০ সালের কোনো এক সময় পুঠিয়ার রাজার নিকট থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।
উত্তরা গণভবন
জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি, যা উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারামের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দিঘাপাতিয়া পরগনা উপহার দেন। এখানে তিনি গড়ে তোলেন বেশ কটি সুরম্য প্রাসাদ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তার উত্তরসূরি প্রমোদনাথ রায় নতুন করে এখানে কয়েকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপাতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ সপরিবারে ভারত চলে যান। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ রাজপ্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নজরে আসে এবং এর সংস্কার করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার...[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.