স্বর্ণ মন্দির

সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি সুদৃশ্য এই স্বর্ণ মন্দিরটির আসলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। নামেই বোঝা যায় এটির রঙ সোনালি। দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এখানে প্রার্থনা করতে আসেন। এই বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা প্যাগোডাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- এটির আরেক নাম ‘মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বৌদ্ধধাতু চেতী’। তবে স্বর্ণ মন্দির নামেই এটা পরিচিত বেশি।
-এটি সুউচ্চ পাহাড়ের চুড়ায় বান্দরবন-রাঙ্গামাটি সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত।
- ঐ পাহাড়ের চুড়ায় দেবতা পুকুর নামে একটি পুকুর রয়েছে যা দেবতা পুকুর নামে পরিচিত।
- মন্দিরটি থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের স্থাপত্য নক্সায় তৈরি করা হয়েছে। মন্দিরের পাশাপাশি এখানে একটি মিউজিয়াম ও রয়েছে।
-গৌতমবুদ্ধের সমসাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মূর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে।
কিভাবে যাবেন
বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটা’র পুল পাড়ায় এর অবস্থান। বান্দরবান জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে যেকোন বাসে করে সরাসরি বান্দরবান পৌঁছানো যায়। এরপর রিক্সা বা গাড়ী উভয় যোগেই সেখানে যেতে পারবেন।
দর্শনাথীর সময়
বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
[…]

Travel Image

লালবাগ কেল্লা

আমরা বাঙ্গালীরা ভ্রমণ বিলাসী । আর তার তাড়নায় ঘুরে বেড়ায় দেশ এবং দেশের বাহিরে। কিন্তু দেশের অনেকাংশেই আমরা ঘুরে দেখিনা । এমনকি আমরা এটাও অনেকে জানিনা ব্যস্ত নগরীতে লুকিয়ে আছে অনেক ঐতিহাসিক স্থান। আর এই ঢাকা নগরীকে আমরা রমণী হিসেবে ভাবতে শিখিনি। আজ আমরা আমাদের রমণীর এক ঐতিহ্যবাহী রূপের বর্নণা করবো,আর তা হলো লালবাগ কেল্লা। ঢাকা থেকে যে-কেউ খুব সহজে সদরঘাট গিয়ে, রিকশা করে লালবাগ কেল্লায় পৌঁছানো যায়। এছাড়া ঢাকার বাহিরের থেকে এসেও সদরঘাট পৌঁছে, রিকশা করে লালবাগ কেল্লায় পৌঁছতে পারবে।
ঐতিহাসিক স্থান :-
মোগল আমলের বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন হলো লালবাগ কেল্লা। যার মাঝে ব্যবহৃত হয়েছে কষ্টি পাথর, দুর্লভ মার্বেল পাথর, এছাড়াও হরেক রকমের টালি। বাংলাদেশের অন্য কোন ঐতিহাসিক নিদর্শনে এমন দামি ও দুর্লভ পাথরের সংমিশ্রন আদৌ পাওয়া যায়নি একমাত্র লালবাগ কেল্লা ছাড়া। প্রায় প্রতিদিনই হাজারো দেশ-বিদেশী দর্শনার্থীর অবয়বের ভীড় মিলে লালবাগ এলাকার এই দুর্গে।
দেখার যা যা আছে :-
লালবাগ কেল্লার তিনটি বিশাল দরজার মধ্যে যে দরজাটি বর্তমানে জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া সেই দরজা দিয়ে ঢুকলে বরাবর সোজা চোখে পড়ে পরী বিবির সমাধি। সচরাচর টেলিভিশনে, খবরের কাগজে, ম্যাগাজিনে আমরা লালবাগ কেল্লার যে ছবিটি দেখি সেটা মূলত পরী বিবির সমাধির ছবি।
কেল্লাতে একটি মসজিদ আছে, আজম শাহ দিল্লি চলে যাওয়ার আগেই তিনি এই মসজিদটি তৈরি করে গিয়েছিলেন। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি যে কারো দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। মসজিদটিতে জামায়াতে নামায আদায় করা হয়, সময়-সুযোগ হলে সেখানে থেকে নামায পরে আসতে পারেন আপনি। ঢাকায় এতো পুরনো মসজিদ খুব কমই আছে।
লালবাগ কেল্লাতে এখানে ওখানে বেশ কয়েকটি ফোয়ারা আছে। কেল্লাতে সুরঙ্গ পথ ও আছে, সুরঙ্গ পথগুলো দিয়ে আগে যাওয়া যেতো, এখন যাওয়া...[…]

Travel Image

ঢাকা থেকে একটু দূরে

রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন জেলা গাজীপুর। এই জেলার উত্তরে রয়েছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ, পূর্বে কিশোরগঞ্জ-নরসিংদী, দক্ষিণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এবং পশ্চিমে ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত। দেশের প্রাচীন জেলাগুলোর একটি এই গাজীপুরে রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর মতো নানা দর্শনীয় এবং ঐতিহাসিক স্থান।
গাজীপুর শহরের বেশ কিছুটা আগে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে সংঘটিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে শহীদ হুরমত আলীসহ অন্য শহীদদের স্মরণে ১৯৭১ সালেই নির্মিত হয় এ ভাস্কর্যটি। এর স্থপতি আবদুর রাজ্জাক। ভাস্কর্যটির উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট। আর এর দু’পাশে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১নং সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা রয়েছে।
গাজীপুরের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ স্থান ভাওয়াল রাজবাড়ী। এই প্রাচীন রাজবাড়ীটি গাজীপুর সদরে অবস্থিত। জমিদার লোকনারায়ণ রায় বাড়িটির নির্মাণ শুরু করলেও শেষ করেন রাজা কালীনারায়ণ রায়। প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে মূল ভবনটি বিস্তৃত। ভবনটির দক্ষিণ পাশে মূল প্রবেশপথ। মূল প্রবেশপথের পরই রয়েছে প্রশস্ত একটি বারান্দা এবং এর পর একটি হল ঘর। ভবনের ওপরের তলায় ওঠার জন্য ছিল শাল কাঠের তৈরি প্রশস্ত সিঁড়ি। ভবনের উত্তর প্রান্তে খোলা জায়গায় রয়েছে ‘নাটমণ্ডপ’।
রাজবাড়ীর সব অনুষ্ঠান হতো এই মঞ্চে। রাজবাড়ীর মধ্যে পশ্চিমাংশের দ্বিতল ভবনের নাম ‘রাজবিলাস’। এই ভবনের নিচে রাজার বিশ্রামাগারের নাম ছিল ‘হাওয়া মহল’। দক্ষিণ দিকে খোলা খিলানযুক্ত উন্মুক্ত কক্ষের নাম ‘পদ্মনাভি’। ভবনের দোতলার মধ্যবর্তী একটি কক্ষ ছিল ‘রানীমহল’ নামে পরিচিত। সুরম্য এই ভবনটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৬০টি কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে এটি জেলা পরিষদ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ভাওয়াল রাজবাড়ী থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার উত্তরে মৃতপ্রায় চিলাই নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী। এটি ছিল ভাওয়াল রাজপরিবারের সদস্যদের...[…]

Travel Image

বাংলার উত্তরের শেষ প্রান্তে

বাংলাদেশের মানচিত্রে একদম উত্তর প্রান্তে তেঁতুলিয়ায়। মহানন্দার তীরে নিরিবিলি ডাকবাংলোতে বসে দেখবেন নদী থেকে পাথর কুড়ানো আর অপর পাড়ে ভারতীয় জনপদে মানুষজনের আনাগোনা। যদি হয় বর্ষাকাল তবে, অঝোরে বৃষ্টি নামবে নির্জন ডাকবাংলোর বারান্দায় এক কাপ ধূমায়িত চা হাতে নিয়ে চুপচাপ শুনবেন বৃষ্টির গান। আর যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে তাহলে তো কথাই নেই-বাংলাদেশে বসেই দেখা যাবে হিমালয়ের অন্যতম বড় পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য!
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ভারতের দার্জিলিং যাওয়ার দরকার নেই। এই বাংলাদেশ থেকেই এমন দৃশ্য দেখা সম্ভব। দার্জিলিং চায়ের স্বাদও নিতে পারেন তেঁতুলিয়ায় বসেই। সিলেটের পর দেশের সবচেয়ে বেশি চায়ের আবাদ যে এখানেই হয়! এখানকার চা বাগানিদের দাবি, তেঁতুলিয়ার চায়ের মান পৃথিবীবিখ্যাত দার্জিলিং চায়ের কাছাকাছি।
দেখতে পারবেন ঐখানকার সমতল ভূমির সুন্দর-সুন্দর সব চা বাগান। পঞ্চগড় শহর থেকে তেঁতুলিয়া রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রাস্তার দুধারে পাওয়া যাবে চা বাগান।
রাস্তায় চোখে পড়বে আরও একটা জিনিস। এখানকার অনেক এলাকায় মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যায় পাথর। তাই অনেক জমির মালিক মাটি খুঁড়ে পাথর তুলে স্তূপ করে রাখেন পথের ধারে, বিক্রির জন্য।
পাথর পাওয়া যায় আরও এক জায়গায়। সেটি মহানন্দা নদী। স্রোতের টানে ভারত থেকে নেমে আসে পাথর। নদী থেকে এসব পাথর সংগ্রহ করে এখানকার দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ।
তেঁতুলিয়ায় মহানন্দার তীরে সরকারি ডাকবাংলোতে আস্তানা গেড়ে সেখান থেকে চলে যাবেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। বর্তমানে এই একটি মাত্র পথেই বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্য চলে। বাংলাবান্ধা সীমান্তের সব চেয়ে কাছে ১০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহর।
তেঁতুলিয়া আর পঞ্চগড়ে বেড়াতে গিয়ে দেখবেন আরও অনেক কিছু। এরমধ্যে আছে রকস মিউজিয়াম। পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে ১৯৯৭ সালে স্থাপিত এটি পাথর সম্পর্কে দেশের প্রথম জাদুঘর। এখানে দেখতে পাবেন প্রাগৈতিহাসিক কালের ছোট-বড়...[…]

Travel Image

ডালিম গাছের নীচে চিরনিদ্রায় শায়িত পল্লীকবি

গ্রামের নাম অম্বিকাপুর । সাধারন মানুষের জণ্য এক তীর্থস্থান যেন । ক্ষীনতোয়া কুমার নদের তীরে নিভৃত এই পল্লী ফরিদপুর শহর থেকে খুব কাছেই । মুল শহর থেকে বড়জোর দুই কিলোমিটার হবে এর দূরত্ব ! পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি এই গ্রামে । প্রতিদিন অনেক মানুষ দেখতে আসেন এই বাড়ি । নকশীকাঁথার মাঠের কবিকে নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন । কবি লিখেছিলেন ,‘এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে /তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে ’। এখন তাঁর নিজের কবরের শিয়রেই রঙিন ফুল আর সবুজ পাতায় ভরা ডালিম গাছ । তার ছায়াশীতল স্নেহে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত । বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ল কবরস্থান । উঁচু, বাঁধানো । প্রবেশপথে চোখে পড়ে কবি জসীম উদ্দীনের লেখা কবিতাংশ । ‘এই নদীতটে বরষ বরষ পুলের মহোৎসবে /আসিবে যাহারা তাহাদের মাঝে মোর নাম নাহি রবে / সেদিন কাহারো পড়িবে না মনে, অভাগা গাঁয়ের কবি/ জীবনের কোন কনকবেলায় দেখেছিল কার ছবি। কবির বাবা-মা ,ভাই,পুএ, নাতির কবর আছে এখানে । কবরস্থানে পুবপাশের গাছপালা ও ফুলবাগানের মাঝে আরেকটি জায়গা এখানে আগত মানুষের নজর কাড়ে । সেটি হলো জাতীয় কবি নজরুল ইসলমের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা। বরেন্য দুই কবির পুন্য স্মৃতিসিক্ত এই জায়গাটুকু কবির বাড়িতে ঢোকার বা দিঁয়ে পড়ে কলাগাছ, ঘাস, জবা ফুলের গাছ ও পেঁপে গাছের সমাহার এখানে । সাইনবোর্ডে এই স্থানমাহাত্ম্য লেখা আছে কবির নিজেস্ব জীবনীতে । তিনি লিখেছেন , “ কবি নজরুল ইসলামকে আমাদের নদীতীরে বাশঁবনের ছায়াতলে মাদুর পাতিয়া দিলাম ( এই স্থান ) ....আধা ঘন্টার মধ্যে কবি একটি অপূর্ব কবিতা লিখিয়া ফেলিলেন ‘আকাশেতে একলা দোলে একাদশীর চাঁদ / নদীর তীরে ডিঙি তরী পথিক-ধরা ফাঁদ ।
”অম্বিকাপুরে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি । বাঁ থেকে কবি...[…]

Travel Image

ঝিনাই নদীর উৎসমুখ জঙ্গলদি ভ্রমণ

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বেরিয়ে ঝিনাই নদী যমুনায় পড়েছে। উৎস মুখ জঙ্গলদি। জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার পাঁচ নম্বর চর অঞ্চল। অপূর্ব নিঃসর্গ। উত্তরের দিগন্ত ছুঁয়ে মেঘালয়ের গারো পাহাড় । দশানী নদীর মোহনা। দীর্ঘ দিগন্ত জুড়ে মেঘেদের খেলা। উড়ালী পাখির কিচিরমিচির। ধু-ধু বালি প্রান্তরে বাদাম, তিষি, যব, মসুর, কলাইয়ের ক্ষেত। নিরিবিলি এক সবুজ স্বর্গ সীমা। দশদিক জুড়েই আবহমান গ্রাম বাংলার নিসর্গের চালচিত্র। প্রাণজুড়ানো মিহি সুর বয়ে যায় বুকে যে কোন পর্যটকদের প্রকৃতি প্রেমাকর্ষণকে জাগিয়ে তুলবে ক্ষণিকেই। এখানকার দৃশ্যপট প্রতি ঋতুতেই পাল্টে যায়। বর্ষায় দশানী-ব্রহ্মপুত্র-ঝিনাই নদীর জল কল্লোল নদী দৃশ্য। শরতে কাশফুলের আদর কোমল দৃশ্য পাহাড় এবং নদী পর্যটকদের মন পাগল করে তুলবে প্রকৃতির আশ্চর্য জাদুতে!
দলযাত্রা অঞ্চল ইতিহাস
শীতভোরে পদযাত্রায় রওয়ানা হই ঝিনাই নদীর উৎস মুখ জঙ্গলদির উদ্দেশ্যে। স্বপ্ন ঘুমে বিভোর মেলান্দহ জনপদের সব মানুষ। কুয়াশায় আবছা পথ। রাতজাগা পাখির কিচিরমিচির। পদশব্দ তালে পথচলা। ১০ কি.মি. পথ।
রেইললাইন পেরিয়ে কিছুটা যেতে যেতে পথেই প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। শরীর গরম এতেও একরকম আনন্দের অনুভব। সহযোগে সহপ্রেমে সহমর্মিতায় এক রকম হƒদয় ঘষাঘষিতে বাড়িয়ে তোলে উদ্যম। জালালাবাদ বর্তমানে জালালপুর গ্রাম ছাড়িয়ে সাধুপুর ভাঙা ব্রিজে যেতে যেতে পথেই পুব আকাশ লাল হয়ে সূর্যোদয় হচ্ছে। অপূর্ব দৃশ্য বড় থালার মতো সকালের লাল সূর্য দিগন্ত ছুঁয়ে। খোলা আকাশের নিচে এ এক সম্মোহনী দৃশ্য। ধীরে ধীরে হাঁটা পথে এসে পৌঁছলাম জঙ্গলদি বহিরচর। ঝিনাই নদীর উৎস মুখে। উত্তরের গারো পাহার থেকে দশআনী নদী এসে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে। নদের দক্ষিণ পাড় ভেঙে ব্রহ্মপুত্র বুক থেকে প্রবাহ উৎসারিত হয়ে ঝিনাই নদী ছুটেছে প্রবলা যমুনা নদীর বুকে। সূর্যোদয়ে এবং সূর্যাস্তে এ নির্জন নিসর্গ হয়ে ওঠে নয়নাভিরাম পর্যটন স্বর্গ। এ নির্জনতায় মোহনার...[…]

Travel Image

খানজাহান আলী সমাধিসৌধ

খানজাহান আলী (রহ.) কে বলা হতো রাজনৈতিক সন্ন্যাসী। রাজ্য শাসন ছিল তার দায়িত্ব, ধর্ম প্রচার ছিল তার কর্তব্য, সুফিসাধনা ছিল তার আধ্যাত্ম, প্রজার কল্যাণ ছিল তার লক্ষ্য এবং শিল্পসমৃদ্ধ স্থাপনা নির্মাণ ছিল তার আনন্দ। বস্তুত তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত নির্মাতা। সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের পথে-প্রান্তরে রয়েছে তার অসংখ্য কীর্তিমাখা নিদর্শন। বাগেরহাট শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং খুলনা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে খানজাহান আলী (রহ.) সমাধিসৌধ অবস্থিত। খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক থেকে ৩০০ গজ দূরে এর অবস্থান। বাস থেকে নেমে এটুকু পথ আপনাকে হেঁটে যেতে হবে। পথের পাশে রয়েছে সারি সারি দোকান। দূর থেকে স্থানটি টিলার মতো উঁচু মনে হবে। ধারণা করা হয় খাঞ্জালি দীঘিটি খননের ফলে যে বিপুল মাটির স্তূপ জমা হয়, তার ওপর এই স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এই সমাধিতে প্রবেশের সময় আপনার চোখে পড়বে একটি আকর্ষণীয় উঁচু ফটক। এই ফটক পার হলেই সমাধিসৌধটি দৃষ্টিগোচর হবে। এই সমাধিসৌধের প্রবেশপথ রয়েছে দুটি। পূর্বদিকের প্রবেশপথটি কারুকার্যময়। তবে সবসময় বন্ধ থাকে। দক্ষিণের প্রবেশপথটি সবসময় খোলা থাকে। বর্তমানে এই সমাধিটি খানজাহান আলী (রহ.) মাজার কমপে¬ক্স নামে পরিচিত। এই কমপে¬ক্সের ভেতর আপনি আরও দেখতে পাবেন নজরকাড়া এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি বিশাল মসজিদ। খানজাহান আলীর (রহ.) সমাধিসৌধের নির্মাণশৈলী ও নির্মাণসামগ্রী আপনাকে বিস্মিত করবে। এর উপরের অংশটি ইট নির্মিত একটি অর্ধবৃত্তাকার বিশাল গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। চারকোণে চার-চারটি কুইঞ্চ গম্বুজটির ভার বহন করছে। কুইঞ্চের কোণে ৪টি টাওয়ার রয়েছে। এতে রয়েছে ঘুরানো ত্রিমাত্রিক বাঁকানো কার্নিশ। বৈশিষ্ট্যে তা বাংলার স্বকীয় স্থাপত্য রীতির পরিচয় বহন করে। এই সমাধিসৌধের গোলাকৃতির টাওয়ার, দেয়ালের খালি গাত্রাদেশ এবং খিলানের নির্মাণরীতি বাইরে থেকে আগত। সমাধিসৌধের নিচের দিকটি পাথরে নির্মিত। লক্ষ্য করলে দেখবেন বড় বড় খাজকাটা পাথর দ্বারা তা নির্মিত...[…]

Travel Image

বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ শ্রেষ্ঠ পর্যটন স্থান

বাংলাদেশ সবুজ গ্রামাঞ্চলের, প্রাকৃতিক বিস্ময়ের , রঙিন সংস্কৃতি জীবন এবং সর্পিল নদীর জমিন। এটা পর্যটকদের জন্য স্বপ্ন গন্তব্য এবং এটি মরা সাইট ফুঁ মন আছে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ভবন , ল্যান্ডস্কেপ এবং বৃহত্তম বন ও দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত , হোটেল, মিনার, বাংলাদেশে সারা দেশে এছাড়াও পিকনিক স্পট যাদুঘর মত অনেক বিখ্যাত পর্যটক আকর্ষণ আছে। বাংলাদেশ সেরা পর্যটন স্থান কিছু নিম্নলিখিত :
১. সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, টেকনাফ
এটা বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অংশে একটি ছোট দ্বীপ। গত পাঁচ বছরে দর্শক জনসংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে আপনি আপনার সফর মাছ ধরার মত বিভিন্ন কার্যক্রম মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক 'প্রাণীকে সঙ্গে উত্তেজিত করতে পারেন। নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মধ্যে আপনি নিখুঁত জলবায়ু পাবেন।
২. লালবাগ কেল্লা,ঢাকা
লালবাগ দুর্গের নির্মাণ মুঘল সুবেদার সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে মোহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু করেছিলেন। এটা ১৭ শতকের মোঘল আমলের জটিল ও অসম্পূর্ণ একটি দুর্গ। যা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থিত। এই দুর্গের স্থাপত্য অনেক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।
৩. সোমপুর মহাবিহার , পাহাড়পুর বিহার
সোমপুর মহাবিহার পাহাড়পুর বিহার অবস্থিত এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধ বিহার হিসাবে পরিচিত হয়। এটা পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত গন্তব্য কারণ এটি অনন্য স্থাপত্য, এই স্থান পরিদর্শন বেশিরভাগ ভারতীয়।
৪. ষাট গম্বুজ মসজিদ , ঢাকা
ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এটি বৃহত্তম মসজিদ এক এবং সুলতানি আমলের নির্মিত হয়। মসজিদটির নির্মাণ ১৪৪২সালে শুরু করে এবং এটি ১৪৫৯ সালে সম্পূর্ণ হয়। মসজিদটি সাধারণত নামাজের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং এছাড়াও মাদ্রাসা ও সমাবেশ হল জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রায় ধর্মীয় পর্যটকদের এই স্পট পরিদর্শন।
৫. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর , সেগুনবাগিচা, ঢাকা
এই যাদুঘর ২২ মার্চ ১৯৯৬ খোলা হয়,এবং যাদুঘর প্রদর্শন ১০,০০০ অধিক হস্তনির্মিত এবং চিত্র প্রদর্শনীতে। এটি বর্তমানে পুনর্নির্মিত হচ্ছে। যাদুঘর কোনো দেশের জন্য সবচেয়ে ভাল জায়গা বলে মনে করা হয়, কারণ এটাতে অনেক...[…]

Travel Image

পাহাড় চূড়ায় হ্রদ

রাঙামাটির পাহাড় চুড়ায় নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক হ্রদ। হ্রদটির নাম 'রাইংখ্যং পুকুর'। হ্রদের নামেই স্পষ্ট যে, এলাকাটি আদিবাসী অধ্যুষিত। অবস্থান রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বড়থলি এলাকায়। হ্রদের কাছেই ত্রিপুরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস।
মন কেড়ে নেয়া এই হ্রদটির আয়তন প্রায় ৩০ একর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত হ্রদটির গভীরতাও অনেক। হ্রদটি সম্পর্কে স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত আছে নানান কল্প কাহিনী।
স্থানীয়রা জানান, হ্রদের পানি স্বচ্ছ হওয়ায় সূর্যালোক, আবহাওয়া ও মেঘের উপর ভিত্তি করে পানি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। তবে মাঝে মধ্যে এই হ্রদের পানি আকস্মিকভাবে লালও হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা মনের আশা পূরণ হওয়ার আশায় এই হ্রদে নানান পূজা অর্চনা করেন।
মনে করা হয়, হ্রদটি ২ সহস্রাধিক বছরেরও আগের আগ্নেয়গিরির সৃষ্ট লাভামুখ।
চারদিক সবুজ অরণ্য ঘেঁষে পাহাড় চূড়ার উপর প্রাকৃতিক হ্রদের এমন দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কোন সৌন্দর্য্য পিপাসু মানুষকে মুগ্ধ করে। অতি দুর্গম হওয়ায় দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রাকৃতিক হ্রদটির সৌন্দর্য্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত।
ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে ওই স্থানে পায়ে হেঁটে যেতে সময় লাগে ৩দিন। আর বিলাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে ওখানে যেতে সময় লাগে ৪ দিন। সাধারণত ওই এলাকার অধিবাসীরা বড়থলী থেকে ১ দিনে পায়ে হেঁটে বান্দরবানের রুমায় এসে থাকেন। পরদিন ওখান থেকে সড়ক পথে চন্দ্রঘোনা নতুবা রাঙামাটি হয়ে বিলাইছড়ি এসে ১ দিন পর ফারুয়ায় যান।
বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অমর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, রাইংখ্যং পুকুরেরর কিছু দূরে বার্মা ও ভারতের অভিন্ন সীমান্ত। হ্রদটি থেকে ১ ঘন্টা পায়ে হেঁটে সীমান্তে পৌঁছা যায়।[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.