পাহাড়ের গায়ে পাহাড়ি জনপদ

পাহাড়, নদী হৃদ উপত্যকার নৈসগিক রূপের রানী বাংলাদেশের এই পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। উজার প্রকৃতির নিপাট আলিঙ্গন যেন আগলে রেখেছে এই জেলাটকে রঙ্গিন হাওয়া আর প্রকৃতির অনুভাব করার জন্য এখানে আছে বৈচিত্র্য। দেশ বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে রাঙ্গমাটি আকর্ষণ অফুরন্ত। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে ৭৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাসে সময় নেবে প্রায় দুই ঘন্টা। রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে কয়েক কিলোমিটার অগ্রসর হলেই দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। পার্বত্য স্কুল রাস্তা সাপের মতো এগিয়ে গেছে। রাঙ্গামাটি যাওয়ার বাকে বাকে অনুভাব করা যাবে দারুন রোমাঞ্চ। ছবির মতো পাহাড়ের পর পাহাড়। পাহাড়ের পুরোটাই গহিন অরন্যে ঢাকা, কোন পাহাড়ে জংলা পরিস্কার কওে ঢালু জমিতে জুম চাষ করা হয়েছে। পথে পথে দেখা হবে চাকমা, মগ, মুরং প্রভৃতি অদিবাসী সম্প্রদায়ের প্ররিশ্রমী মানুসের সঙ্গে। ঢাকা থেকে রাত দশটায় বাসে উঠলে খুব ভোরেই পৌছায় রাঙ্গামাটি শহরে। শহরে নেমে হোটেলে একটু বিশ্রাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়তে পারবেন। প্রথম দিনে শহর ও এর আশ পাশের দর্শনীয় জায়গাগুলোতে বেড়ানো যেতে পারে। রাঙ্গামাটি শহরের শুরুর দিকটায় রয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর অটোওয়ালাকে বললে আপনাকে নিয়ে যাবে জাদুঘরের সামনেই। এখানে রয়েছে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসরত নানান অদিবাসীদের নানা সরঞ্জামাদী পোশাক, জিবনাচরন এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য। ছোট অথচ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এ জাদুঘরটি। খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫.৩০ মিনিট পর্যন্ত। শনি - রবিবার ও অন্ন্যান্য সরকারী ছুটির দিন গুলোতে জাদুঘরটি বন্ধ থাকে। জাদুঘরে প্রবেশে বড়দের জন্য পাঁচ টাকা ও ছোটদের জন্য দুই টাকা লাগবে। উপজাতীয় জাদুঘরটি দেখে চলে আসতে পারেন পাশ্ববর্তী রাজবন বিহারে এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাম্বীদের একটি তীর্থস্থান এই রাজবন বিহার। এখানে আছে একটি প্রার্থনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তের (বৌদ্ধভিক্ষ) আবাস্থল ও বনভান্তের ভোজনালয় প্রতি শুক্রবার ছাড়াও...[…]

Travel Image

ঢাকার প্রথম মসজিদ

মানুষের জীবনে ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গাতে একই অবস্থা। মানুষ ছুটছে তো ছুটছেই। বেঁচে থাকার এই ইঁদুর দৌড়ে টিকতে হবে, সেটাই হয়তো মুখ্য বিষয়। তবে মাঝে মধ্যে ক্লান্ত হয়ে মনটা একটু বিশ্রাম চাইতেই পারে। হয়তো ব্যাকুল হয়ে ওঠে লোকালয় ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও ছুটে যেতে। তাই তো ভ্রমণ শব্দটি শুনলেই চেহারায় ফুটে ওঠে চওড়া হাসি, চকচক করে ওঠে ওই চোখজোড়া। সচরাচর আমরা ভ্রমণ বলতে দূরে কোথাও যাওয়া কিংবা ঘুরে বেড়ানোকে বুঝি। তবে মানুষ নিজেদের মনের টানে ভ্রমণকে করেছে বৈচিত্র্যময়। সেটা হতে পারে কাছে কিংবা দূরে, নিরিবিলি অথবা রোমাঞ্চকর। অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, বাড়ির কাছে দেখার মতো বা জানার মতো এমন অনেক কিছুই রয়েছে। তবু আমরা ছুটে যাই দূর অজানায়। তাই কাছের জায়গাগুলো দেখতে বা সেটা সম্পর্কে জানতে, কেবল ইচ্ছা থাকলেই হল। আর কিছুর প্রয়োজন নেই। অনেকে আবার ঘুরে ঘুরে দেখে থাকে বিভিন্ন মসজিদ।
তবে ভ্রমণপিপাসু মন, যদি ঢাকার ইতিহাসের প্রথম মসজিদটি একটু ঘুরে দেখতে চায় তাহলে বোধহয় মন্দ হয় না। তাই সোজা চলে যাওয়া যাক পুরনো ঢাকার নারিন্দা এলাকায়। কারণ, সেখানে প্রায় ৫৫৫ বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিনত্‌ বিবির মসজিদ, যাকে ঢাকার প্রথম মসজিদ বলা হয়। ১৪৫৬ সালে, অর্থাৎ বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় ধোলাইখাল বয়ে গিয়ে বুড়িগঙ্গায় মিশত। আর বুড়িগঙ্গা মিশত শীতলক্ষ্যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল নদীনির্ভর। তাই পারস্য উপমহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য সওদাগরের মতো আরাকান আলীও এই অঞ্চলে বাণিজ্য করতে আসেন। মেয়ে বিনত্‌ বিবিকে নিয়ে বসবাস করতে লাগলেন স্থায়ীভাবে। এ সময় নামাজ পড়তে অসুবিধা হয় বলে তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার কিছুদিন পরই বিনত্‌ বিবি আকস্মিক...[…]

Travel Image

ঢাকার প্রথম মসজিদ

মানুষের জীবনে ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গাতে একই অবস্থা। মানুষ ছুটছে তো ছুটছেই। বেঁচে থাকার এই ইঁদুর দৌড়ে টিকতে হবে, সেটাই হয়তো মুখ্য বিষয়। তবে মাঝে মধ্যে ক্লান্ত হয়ে মনটা একটু বিশ্রাম চাইতেই পারে। হয়তো ব্যাকুল হয়ে ওঠে লোকালয় ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও ছুটে যেতে। তাই তো ভ্রমণ শব্দটি শুনলেই চেহারায় ফুটে ওঠে চওড়া হাসি, চকচক করে ওঠে ওই চোখজোড়া। সচরাচর আমরা ভ্রমণ বলতে দূরে কোথাও যাওয়া কিংবা ঘুরে বেড়ানোকে বুঝি। তবে মানুষ নিজেদের মনের টানে ভ্রমণকে করেছে বৈচিত্র্যময়। সেটা হতে পারে কাছে কিংবা দূরে, নিরিবিলি অথবা রোমাঞ্চকর। অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, বাড়ির কাছে দেখার মতো বা জানার মতো এমন অনেক কিছুই রয়েছে। তবু আমরা ছুটে যাই দূর অজানায়। তাই কাছের জায়গাগুলো দেখতে বা সেটা সম্পর্কে জানতে, কেবল ইচ্ছা থাকলেই হল। আর কিছুর প্রয়োজন নেই। অনেকে আবার ঘুরে ঘুরে দেখে থাকে বিভিন্ন মসজিদ।
তবে ভ্রমণপিপাসু মন, যদি ঢাকার ইতিহাসের প্রথম মসজিদটি একটু ঘুরে দেখতে চায় তাহলে বোধহয় মন্দ হয় না। তাই সোজা চলে যাওয়া যাক পুরনো ঢাকার নারিন্দা এলাকায়। কারণ, সেখানে প্রায় ৫৫৫ বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিনত্ বিবির মসজিদ, যাকে ঢাকার প্রথম মসজিদ বলা হয়। ১৪৫৬ সালে, অর্থাৎ বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় ধোলাইখাল বয়ে গিয়ে বুড়িগঙ্গায় মিশত। আর বুড়িগঙ্গা মিশত শীতলক্ষ্যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল নদীনির্ভর। তাই পারস্য উপমহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য সওদাগরের মতো আরাকান আলীও এই অঞ্চলে বাণিজ্য করতে আসেন। মেয়ে বিনত্ বিবিকে নিয়ে বসবাস করতে লাগলেন স্থায়ীভাবে। এ সময় নামাজ পড়তে অসুবিধা হয় বলে তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার কিছুদিন পরই...[…]

Travel Image

পদ্মা রিসোর্ট

প্রমত্তা পদ্মার তীরে পানির ওপরেই ছোট ছোট কাঠের কটেজ। নদীতীর থেকে কটেজে আসতে কাঠের করিডোর। নিচে থৈ থৈ করছে পানি, যেন ভরা বর্ষার বন্যায় উঁচু ঘরের নিচের দিকটা পানিতে তলিয়ে গেছে। কফির মগ হাতে কটেজের বারান্দায় বসে দেখা যাচ্ছে পদ্মার বুকে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। সন্ধ্যার লাল সূর্য পদ্মার পানিকেও রাঙিয়ে দিচ্ছে। এমন দৃশ্য সচরাচর আমরা শুধু কল্পনাতেই দেখি।
এই কল্পনা বাস্তবে রূপ দিয়েছে পদ্মা রিসোর্ট। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানা কমপ্লেক্সের ঠিক উল্টো পাড়ে পদ্মা তীরে এর অবস্থান।
থানা কমপ্লেক্স ঘাট থেকে রিসোর্টের ট্রলারে করে নদী পার হয়ে পৌঁছানো যায় গন্তব্যে। কাঠের পাটাতন ফেলে নদীর ঘাট থেকে রিসোর্টের গেট পর্যন্ত অস্থায়ী পথ। সেখান থেকে কাঠের সাঁকো দিয়ে অফিস বা কেবিনগুলোতে যাওয়া যায়। সোজা গেলে অফিস কক্ষ। কেবিনটির নাম ‘বসন্ত’। এমন কেবিন আছে মোট ১৬টি। বাংলা ১২ মাস আর ষড়ঋতুর নামে কাঠের কটেজ। বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত ১২টি, বাকি ৪টির নাম হল গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত্ ও বসন্ত। বাকি থাকল শীত! হুম। খাবারঘরটির নাম শীত!
প্রতিটি থাকার কেবিন দুই লেভেলের বা বলা ভালো তিন লেভেলের। দক্ষিণ দিকে মুখ করা। নিচতলায় আড্ডার জায়গায় আছে কয়েকটি সোফা ও একটি খাট। দোতলার দিকে আধাআধিতে রয়েছে খোলা ডেক। এটি নদীর দিকে। মানে এই ডেকে বসে খাওয়া যায় নদীর হাওয়া। গভীর রাতে জ্যোত্স্নার আঁকিবুঁকি দেখা যায় প্রমত্তা পদ্মার পানিতে।
বাকি অর্ধেক উঠলেই দোতলা থাকার ঘর। এ ঘরে দুটি খাট। ছনের আধুনিক ছাউনি ভেদ করে বৃষ্টির পানি নিচে আসতে পারে না বটে, কিন্তু দেখার চোখ থাকলে উপভোগ করা যায় ছাদে পানির চমত্কার সব নকশা।
বর্ষায় নদীর পানি কূল ছাপিয়ে ঢুকে পড়ে রিসোর্টে। পানি ঠেকানো হয় না, ফলে সেটি অবাধে ঢুকে...[…]

Travel Image

পুণ্যভূমি সিলেট

বাসে-ট্রেনে-প্লেনে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশেরই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। সিলেট শহরে নেমেই দেখে আসুন পুণ্যাত্মা হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহপরানের (রা.) মাজার। হযরত শাহজালালের (রা.) মাজারের পাশে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী।
সিলেটের অন্যদিকে মৌলভীবাজার। আসলে বিধাতা সৌন্দর্যের ডালি মেলে দিয়েছেন এ জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা উপজেলায়। সিলেট থেকে চলে এসে আস্তানা গাড়বেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। এখান থেকে শুরু করবেন শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ আর কুলাউড়ার প্রকৃতি দর্শন। এ জেলাতেই দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান। এখানেই আছে সবার পরিচিত লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও ঝরনা, হাকালুকি হাওর, বাইক্কা বিল, হাইল হাওর। দেখবেন মণিপুরিদের গ্রাম, খাসিয়া পানপুঞ্জি। পাশাপাশি আছে অপেক্ষাকৃত অল্প পরিচিত আরও কয়েকটি রিজার্ভ ফরেস্ট। শ্রীমঙ্গলের কোনো চা বাগানের গেস্টহাউসে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করতে পারলে তো কথাই নেই।
হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহপরানের মাজার জিয়ারত শেষে শহরেই ঘোরাঘুরি করে কাটিয়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে কীন সেতুর নিচে এখন নদীতীরে সময় কাটানোর সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, দেখে আসুন সেটা। সিলেট শহরের আশপাশেও চা বাগান আছে। এছাড়া শহর থেকে একদিকে জাফলং-লালাখাল-তামাবিল।
সিলেটে আস্তানা গেড়ে দেখে আসবেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের কোলে জাফলং-তামাবিল-লালাখাল-জৈন্তাপুর। ঈর্ষা হবে সীমান্ত থেকে ভারতের দিকে শুরু হওয়া খাসিয়া পাহাড়ের স্থানে স্থানে ঝরনা দেখে। কেন যে পাহাড়টা বাংলাদেশে পড়ল না!
যাতায়াতের বাহন হিসেবে সিলেট বা শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত বাস বা ট্রেনে যাওয়াই ভালো। এরপর ভাড়া করে নিন জিপ অথবা মাইক্রোবাস। যদি কেউ শুধু মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক নিসর্গ উপভোগ করতে চান তাহলে সিলেট পর্যন্ত যাওয়ার দরকার নেই। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সোজা শ্রীমঙ্গল চলে যান। এরপর গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন।
বিভাগীয় শহর সিলেটে...[…]

Travel Image

নিরিবিলি পাক্শী রিসোর্ট

মনকে সঙ্গী করে হংস বলাকায় চড়ে উড়ে যেতে পথে নেমে পড়েন আজই। ব্যস্ত এই জীবনের ক’দিন ছুটি নিয়ে বেড়িয়ে আসুন পাক্শী রিসোর্ট থেকে। পাবনা জেলার পদ্মা নদীর পাশে পাক্শী রিসোটের অবস্থান। ঢাকা থেকে কয়েক ঘন্টার পথ। যমুনা সেতু থেকে ১ ঘন্টার রাস্তা। রিসোর্টে যাওয়ার পথে চোখ জুড়িয়ে দেবে দু’পাশের ধান ক্ষেত আর চিরচেনা সবুজের সমারোহ। পাক্শী রিসোর্ট গড়ে উঠেছে ৩৬ একর জমির ওপর। মূল ভবনরে নাম খান মঞ্জিল। খান পরিবারের অন্যতম সদস্য সঞ্জু খান একজন শৈল্পিক মানুষ পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য তার বসতবাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন, গড়ে তুলছেন পাক্শী রিসোর্ট হিসাবে।
কীভাবে যাবেন: ঢাকার মহাখালী বা কল্যানপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে যেতে হবে পাবনার ঈশ্বরদীর পাক্শীতে। পাবনা, কুষ্টিয়া বা নাটোর শহর থেকে পাক্শী রিসোর্ট মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের পথ। ছায়াঘেরা গ্রাম। প্রাচীন ঐতিহ্যের রেলওয়ে শহর। ট্রেনেও যেতে পারেন আপনি। ঢাকা থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায়। কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিনবঙ্গের যে কোনো ট্রেনে ঈশ্বরদী বাইপাস বা জংশনে নেমে পাক্শী যেতে পারেন। রিকশা বা গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন, মাত্র ১০ মিনিটের পথ।
কোথায় থাকবেন: এ রিসোর্টে : এ রিসোর্ট পর্যটকদের জন্য রয়েছে দোতালা দুটি ভবন। বিদেশি স্থাপত্য কাঠামোয় গড়ে ওঠা এ রিসোর্টে রয়েছে সব রকমের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। প্রতিটি কক্ষই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রয়েছে বিশাল ডাইনিং হল। বসার জায়গা, বুফে এবং বারবিকিউয়ের ব্যবস্থা। পাক্শী রিসোর্টে থাকার জন্য তিন ধরনের এসি রুম সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা । দক্ষিনা হাওয়া ও শিশিরভেজা রিসোর্টেও লন আর নিরিবিলি মনোরম পরিবেশ আপনাকে সতেজ করবে খুব অল্পসময়ে। পাক্শী রিসোর্টে আছে ষড়ঋতু বা ঝরী ঝবংধড়হং নামের একটি আধুনিক রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টে পরিবেশন করা হয় নদীর টাটকা মাছ। রিসোর্টের নিজস্ব...[…]

Travel Image

শেরপুরের অর্কিড পর্যটন প্রকল্প

সবুজের সাথে মিতালি করতে চাইলে চলে আসুন শেরপুরের অর্কিড পর্যটন প্রকল্পে। শেরপুর জেলা শহরের মধ্যেই ব্যাক্তি উদ্দোগে গড়ে তোলা হয়েছে অর্কিড পর্যটন প্রকল্প। এ প্রকল্পে’র চারিদিকে রয়েছে সারি সারি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছ, মাঠ জুড়ে রয়েছে সবুজ ঘাস আর সান বাঁধানো পুকুর। পুকুরের চারপাশে মাছ খেতে বসে থাকে সাদা-সাদা বক। সবুজ বাতায়নের ওই অর্কিড প্রঙ্গনের খাঁচায় খেলা করছে বানর, টার্কিছ, খোরগোশসহ দেশীয় বিভিন্ন জীবজন্তু। পিয়জন অথবা বন্ধ-বান্ধবদের নিয়ে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাতা এবং ছাতার নিচে রয়েছে বসার জন্য রয়েছে চেয়ার। চা, কফি ও সেভেন-আপ বা কোকাকোলা পানের জন্য রয়েছে ছনের তৈরী সুদৃশ্য ক্যান্টিন এবং রেস্ট হাউজ। এ যেন শহরের মধ্যে এক খন্ড সবুজের লীলা ভুমি। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাতে কাছে বেড়ানো বা শহুরে জীবনের এক ঘিয়েমি কাটাতে চমৎকার একটি পারিবারিক বিনোদক কেন্দ্র এই ‘অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র’।
শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শেরপুর-ঝিনাইগাতী ফিডার রোডর সংলগ্ন কান্দাপাড়া মহল¬লার স্থানীয় চাতাল ব্যাবসায়ী ও সৌখিন মনের অধিকারী মো: আজাহার আলী ১৯৯০ সালে প্রাথমিক ভাবে তার ধানের খলার পাশেই প্রায় সারে ৫ একর জমির উপর সম্পুর্ন ব্যাক্তি খরচে নানা জাতের দেশী-বিদেশী বনজ ও ফলদ গাছ-গাছরা রোপন করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড’ বাগান। সেসময় ওই বাগানক ‘কলা বাগান’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল। এরপর নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ওই বাগানের সৌন্দর্য হারানোর পর আবার ২০০৮ সাল থেকে অর্কিড মালিক আজাহার আলী তার মনের মাধুরি মিশিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করে নানা অবকাঠামো তৈরীর মাধ্যমে নতুন করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড পর্যটন প্রকল্প’। এবার তার অর্কিডে প্রবেশ করতে সেচ্ছাদান হিসেবে ২০ টাকা করে ধার্য করেছেন। প্রতিদিন ওই অর্কিডে প্রেমিক জুটিসহ বন্ধু-বান্ধবসহ ক্লান্ত জীবনের একটু অবকাশ কাটাতে পরিবার-পরিজন...[…]

Travel Image

ঢাকার কাছেই বিরুলিয়া

নগরীর যান্ত্রিকতার দাপটে মানুষ অস্থির। তারপরও থাকতে হয় এখানে। প্রতিদিন কাজ করে চলতে হয় রুটিনমাফিক। জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে চাই একটু নির্মল পরিবেশে বেড়ানো। অল্প সময়ে নির্মল পরিবেশে বেড়ানো ঢাকায় বিরল হলেও কাছেই আছে বিরুলিয়া। এটি ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের একটি গ্রাম। অবস্থানটা ঢাকার অতি নিকটে। মিরপুর-১ নম্বর বেড়িবাঁধ দিয়ে এগিয়ে আশুলিয়ার দিকে অগ্রসর হলে হাতের বাম দিকে প্রথমে যে গ্রামটি চোখে পরবে সে গ্রামটির নামই বিরুলিয়া।
ভাসমান দ্বীপের মতো বিরুলিয়া গ্রাম। ঢাকার অতি নিকটে হলেও ঢাকার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে এখানের মানুষের জীবনযাত্রার কোনো মিল নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুত্, গ্যাস সব মিলিয়ে পিছিয়ে থাকা লোকগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে কোনো মতে। বেড়িবাঁধ থেকে গ্রামটিতে যেতে হয় খেয়া নৌকা পার হয়ে। বর্তমানে এটি একটি গণ্ডগ্রাম হলেও একশ বছর আগে এর চিত্র ছিল ভিন্ন। ছোট্ট এই গ্রাম ছিল বিরুলিয়া নগরী। সে সময় এখানে বাস করতেন কিছু বড় ব্যবসায়ী ও জমিদার। তাদের অনেকেরই ব্যবসা ছিল কলকাতায়। স্বাধীনতার পর অনেকেই ফিরে আসেনি কলকাতা থেকে। কিন্তু আজও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে গ্রিক স্থাপত্য নকশায় গড়া বাড়িগুলো। সেটাই এখন দেখার বিষয়। বাড়ির রংহীন উঁচু থাম দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে এককালের জমিদারির ইতিহাস। ছোট্ট এই গ্রামে রয়েছে আট-দশটি জমিদারবাড়ি। দু-একটা বাড়িতে জমিদারের বংশধররা টিকে আছে। বাকিগুলোতে থাকে কিছু ভূমিহীন পরিবার। যার কারণে এখানের সঠিক ইতিহাসও পাওয়া কঠিন। বহু দিন রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না বাড়িগুলো। তাই দিনে দিনে খসে পড়ছে প্লাস্টার ও নকশা। প্রতিনিয়তই ধ্বংস হচ্ছে ইতিহাসের উপাদান এই বাড়িগুলো। সবুজ গাছ-গাছালির মধ্যেখানে বাড়িগুলো চমত্কার দেখায়। বিরুলিয়া গ্রামের সৌন্দর্য একবার দেখে আসুন। নিবিড় সবুজের স্পর্শে আপনার এই শহুরে মন কিছুটা স্বস্তি পাবে এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
মিরপুর-১ নম্বর দিয়াবাড়ি থেকে...[…]

Travel Image

রাজার পাহাড় হতে পারে মনোরম পর্যটন কেন্দ্র

পাহাড়-নদীঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড় সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি। ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবারিত সবুজের সমারোহ নিয়ে এ গারো পাহাড়ের অবস্থান। ছোট বড় অসংখ্য টিলা ভূমিগুলো সবুজে ঘেরা এ গারো পাহাড় কত যে মনোমুগ্ধকর যারা একবার দৃশ্য অবলোক করেছেন তারাই অনুভব করতে পারবেন। গারো পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষনীয় টিলা রাজার পাহাড়। কিংবদন্তি রয়েছে প্রাচীনকালে এ পাহাড়ে সম্ভ্রান্ত রাজ বংশের জনৈক এক রাজার অবস্থানের কারনে পাহাড়ের নাম হয় রাজার পাহাড়। এ পাহাড়ের আগের সৌন্দর্য এখন আর নেই। তবে এর বৈশিষ্ট্য পাশের পাহাড় গুলোর তুলনায় ব্যাতিক্রমী। গারো পাহাড়ের যতগুলো পাহাড় রয়েছে তার মধ্যে রাজার পাহাড়ের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। এর চূড়ায় রয়েছে শতাধিক হেক্টর জমির সমতল বিরানভূমি। সবুজ আর নীলের সংমিশ্রনে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ ছোঁয়া বিশাল পাহাড়ের নৈশর্গিক দৃশ্য মনকে করে আবেগ তাড়িত। প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে ওঠা এ পাহাড়ে প্রতিদিন শতশত মানুষের ভিড়ে হয়ে ওঠেছে কোলাহলপূর্ন। নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদভারে হয়ে ওঠেছে মুখরিত। রাজার পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র হলে ভ্রমন পিপাসুদের চাহিদা পূরনে যোগ হবে নতুন মাত্রা।দেশি বিদেশী পর্যটকদের পদভারে আরো মুখরিত হবে । দেশের পর্যটন শিল্পে উন্নয়নে এখান থেকে আয় হবে বছরে লাখ লাখ টাকা। পাশের আদিবাসী গ্রামগুলোর অনেক বেকার ও হতদরিদ্রদের হবে কর্মসংস্থান।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী পৌর শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে কর্নঝোরা বাজার সংলগ্ন এ রাজার পাহাড়ের অবস্থান। এটি মানুষের জন্য বিনোদন স্পটে পরিচিত হয়েছে। বছরের প্রায় সব সময়ই শতশত মানুষ শহর থেকে রাজার পাহাড়ের নির্মল পরিবেশে বেড়াতে আসে। এ যেন এক পর্যটন স্পট। রাজার পাহাড়ের পাশের জনপদ বাবেলাকোনা, যেন অসংখ্য উচু টিলার ঘেরা অন্যবদ্য গ্রাম। প্রাচীনকাল থেকে এখানে গড়ে উঠেছে জনবসতি। ঝোঁপ জঙ্গঁলে আবৃত্ত গ্রামটি কালের আবর্তনে পরিচিত। আজ...[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.