সোনারগাঁয়ের পানাম সিটিই আমাদের ব্যাবিলন

পানামনগর গৌরবোজ্জ্বল একটি অতি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদের নাম। এ জনপদটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা এলাকার বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কাছে অবস্থিত। স্মৃতি-বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া এক নগরীর নাম কেবলই পানাম। লোনা ইট, কালো পাথরের টেরাকোটা ধূসর স্মৃতি এখনও ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পানাম ও তার আশপাশের গ্রামগুলোতে। নাচঘরে এখন আর নাচে না নর্তকী। বাজে না নর্তকীর পায়ের ঘুঙুর। দরবার ঘরে বসে না মানুষের মেলা। বণিক-পর্যটকদের সারি সারি ডিঙি নোঙর ফেলে না পানাম নগরীর ঘাটে। মেতে ওঠে না কেনাবেচার বর্ণিল উৎসব। ধন-দৌলতে ভরে ওঠে না খাজাঞ্চিখানা। হারিয়ে গেছে এ নগরীর জীবনের সব বর্ণাঢ্য আয়োজন, ভেঙে গেছে আলোময় জীবনের সাজানো সব খেলাঘর। থেমে গেছে প্রাণের প্রবাহ। শত শত বছরের অনাদর আর অবহেলার চিহ্ন গায়ে মেখে আজও দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ অট্টালিকাগুলো। সোনালি অতীতের সাক্ষী এসব অট্টালিকা এখনও নজর কাড়ে ভ্রমণপিয়াসী দেশী-বিদেশী পর্যটকদের।
১২৮১ খ্রিস্টাব্দ থেকে সোনারগাঁয়ে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। ফখরউদ্দীন মুবারক শাহের সময় বা স্বাধীন সুলতানি আমলে সোনারগাঁ বাংলার রাজধানী হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। তারপর পর্যায়ক্রমে শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহ, সিকান্দার শাহ, গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ, শামসুদ্দীন হামজা শাহসহ আরও অনেক শাসক শাসনকার্য পরিচালনা করে বাংলার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করেন। তবে বার ভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁর সময় বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সোনারগাঁ বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সে সময় শাসকদের রাজকার্য পরিচালিত হতো পানাম নগরী থেকে। এর পাশাপাশি রাজাদের আমির-ওমরাহদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুণ কারুকাজ খচিত পাকা ইমারতরাজি।
স্মৃতির শহর পানামকে ঘিরে আছে প্রাচীন নগর ও রাজধানীকেন্দ্রিক নস্টালজিক স্মৃতি। যে স্মৃতির বেশির ভাগই কালের করাল গ্রাসে লুপ্ত আজ। ভগ্ন ইমারতের পুরা পলেস্তরা ঘন শ্যাওলার...[…]

Travel Image

বিজয় সিংহ দিঘী

প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের অমর কীর্তি এ বিজয় সিংহ দীঘি । এ দীঘি ফেনী শহরের প্রায় ৩ কিঃমিঃ পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের আধার এ দীঘিটির আয়তন প্রায় ৩৭.৫৭ একর। অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ দিঘীর চৌপাড় খুব উঁচু ও বৃক্ষ শোভিত । ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দিঘীর মধ্যে বিজয় সিংহ দীঘি অন্যতম । এ দিঘী দেখার জন্য জেলার এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা আসে। প্রতিদিন বিকাল বেলা পর্যটকের পদভারে মুখরিত এই স্থানটি মনে হয় যেন উৎসবস্থল। যারা এক বেলার জন্য প্রকৃতির কাছে যেতে চান কিংবা সময়টা কাটাতে চান শুদ্ধ জল ও বাতাসের সাথে তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে এ দিঘীর অবস্থান । জনশ্রুতি আছে ত্রিপুরা মহারাজের প্রভাবশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দুর করার মানসে প্রায় ৫/৭ শত বছর পূর্বে এ দীঘি খনন করা হয় বলে । স্থানীয় ভাষায় কন্যা-কে ঝি বলা হয় । ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দীঘির পাড়ে । দীঘির পাড়ে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ,অফিসার্স ক্লাব,জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্ক সহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে । মোট ১০.৩২ একর আয়তন বিশিষ্ট এ দীঘিটি ফেনীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি ।
যেভাবে যেতে হবে :
জেলা ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট কিংম্বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যায় এখানে। অথবা রিক্সা যোগে মহিপাল ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে সার্কিট হাউজ রোড দিয়ে যেতে পারেন বিজয় সিংহ দিঘীতে।
কোথায় থাকবেন :
- ফেনী সার্কিট হাউস (দর্শনীয় স্থান সংলগ্ন)
- জেলা পরিষদ ডাক বাংলো (দর্শনীয় স্থান হতে ৩ কিলোমিটার...[…]

Travel Image

মুন্সীগঞ্জের একটি প্রাচীন মসজিদ

ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর সঙ্গমস্থল এখানেই। মুন্সীগঞ্জ জেলা একসময় বিক্রমপুর নামে পরিচিত ছিল। সেখানে সেনবংশীয় রাজাদের বসবাস ছিল। সেন রাজবংশ, চন্দ্ররাজ বংশ ও বর্ম রাজবংশের রাজধানী। অর্থাৎ বঙ্গ-সমতটের রাজধানী শহর ছিল মুন্সীগঞ্জ। জেলা শহর মুন্সীগঞ্জ থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দরগাহবাড়ি। এ দরগাহবাড়িতে রয়েছে সুলতানী শাসনামলের একটি মসজিদ। বিভিন্ন বই-পুস্তক ও প্রাচীন দলিল-দস্তাবেজে এটি ‘বাবা আদম শহীদ’ মসজিদ নামে পরিচিত। কিন্তু মসজিদের শিলালিপি অনুসারে এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মহান মালিক কাফুরশাহ্।
রাজা বল্লালসেনের সময়কালে এক ধর্মপ্রচারক যার নাম ছিল বাবা আদম। যিনি বল্লালসেনের হাতেই নিহত হন।
ইউসুফ শাহের বিক্রমপুরের শাসক কাফুরশাহ্ ১৪৭৯ সালে একটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। যা বাবা আদম (রহ.) মসজিদ নামেই পরিচিতি লাভ করে। উত্তর-দক্ষিণে মসজিদের আয়তন ৪৩ ফুট। আর পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট। মসজিদের দেয়াল প্রায় সাড়ে ৩ ফুট চওড়া। মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে ৩টি মেহেরাব রয়েছে। পূর্ব দেয়ালে মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা রয়েছে। মেহেরাবগুলো অলংকৃত। মাঝখানেরটা অন্য দুটির চেয়ে প্রশস্ত। মসজিদটি নির্মাণের সময় ১০ ইঞ্চি, ৭ ইঞ্চি, ৬ ইঞ্চি ও ৫ ইঞ্চি মাপের লাল পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের চারকোণে ৪টি টারেট রয়েছে। যা অষ্টাভুজাকৃতির। চমৎকার কারুকার্যখচিত এ মসজিদটির ছাদে ৬টি গম্বুজ রয়েছে। ছাদের ভর রাখার জন্য মসজিদের ভেতরে দুটি স্তম্ভ ব্যবহার করা হয়েছে। ছাদ বক্রাকার কার্নিশ। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে মসজিদটি নির্মিত। ছাদের পানি সরানোরও ব্যবস্থা চমৎকার। মসজিদের পূর্বপাশে পাকা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। মসজিদটি ১৯৪৮ সাল থেকে পুরাতত্ত্ব বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৯১-৯৬ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বাবা আদম মসজিদের ছবি সংবলিত ডাকটিকিট প্রকাশ করে। কারুকার্যখচিত এ মসজিদটির নির্মাণে মালিক কাফুরশাহের সময় লেগেছিল ৪ বছর। অর্থাৎ বাবা আদম (রহ.) মসজিদের...[…]

Travel Image

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন

১৯৩৪ সালের জুন মাসে নোয়াখালী জেলার সাবেক বেগমগঞ্জ থানার বর্তমানে সোনাইমুড়ী উপজেলার বাগপাদুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আজাহার পাটোয়ারী, মা জুলেখা খাতুন। নৌবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৫৩ সালে। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে মোহাম্মদ রুহুল আমিন গোপনে পিএনএস বখতিয়ার নৌঘাঁটি ত্যাগ করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে বহু স্থলযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যদের সেপ্টেম্বর মাসে একত্রিত করা হয়। ভারত সরকারের উপহার দুইটি টাগ-বোটে ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ নিয়ে শুরু হয় নৌযুদ্ধের প্রস্তুতি। গার্ডেন রীচ নৌ ওয়ার্কশপে টাগ-বোট দুটিতে দুটি করে বাফার গান আর চারটি করে ৫০০ পাউন্ড ওজনের মার্ক মাইন বহন করার উপযোগী করে গানবোটে রূপান্তরিত করা। ১২ অক্টোবর গার্ডেন রীচ জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গানবোট দুটিকে পানিতে ভাসান হয়। ‘পলাশ’-এর ইঞ্জিন রুমের প্রধান আর্টিফিসারের দায়িত্ব পান তিনি। ১০ ডিসেম্বর শুক্রবার মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌঘাঁটি ও পিএনএস তিতুমীর দখল করার সময় পাক-বিমানবাহিনীর আক্রমণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনি শাহাদত বরণ করেন। সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ দুঃসাহসী বীর নাবিক মোহাম্মদ রুহুল আমিন অনায়াসেই জাহাজ ত্যাগ করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। কারণ সেই মুহূর্তে তার নিজের প্রাণের চেয়েও মূল্যবান ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রণতরী। ‘পলাশ’কে রক্ষা করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে পবিত্রতম দায়িত্ব। জীবনের মায়াকে তুচ্ছ মনে করে অবিচল ছিলেন দেশপ্রেম আর কতর্ব্যজ্ঞানের কাছে। ‘পলাশ’ ভাগ্যের সঙ্গে নিজ ভাগ্যকে মিলিয়ে দিয়ে হলেন পলাশ রঙে রক্তিম। মহান এ বীরকে সমাহিত করা হয় খুলনার রূপসা ফেরিঘাটের পূর্বপাড়ে।
নোয়াখালী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী উপজেলা। সেখান থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে বাগপাঁচড়া গ্রামকে লোকজন আমিননগর নামেই চেনে। ২০ জুলাই ২০০৮ সালে এখানে রুহুল আমিন গ্রন্থাগার...[…]

Travel Image

নাটোরের পথে

রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা নাটোর। আর নাটোরের কথা এলেই কেন জানি শুধু কাঁচা গোল্লার কথা মনে পড়ে। কি সুস্বাদু সেই কাঁচা গোল্লা! যাক সে কথা, এ নাটোর জেলার উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা। আত্রাই, বড়াল, নারদ ও নন্দকুঁজা জেলার প্রধান নদী। আমরা এবার আমাদের যাত্রায় অগ্রসর হয়েছি নাটোর জেলার দিকে।
রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ
নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজ্জল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটি ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১৭১০ সালের কোন এক সময় পুঠিয়ার রাজার কাছ থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এ রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।
উত্তরা গণভবন
জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি, যা উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারামের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দিঘাপাতিয়া পরগনা উপহার দেন। এখানে তিনি গড়ে তোলেন বেশ ক’টি সুরম্য প্রাসাদ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তার উত্তরসূরি প্রমোদনাথ রায় নতুন করে এখানে কয়েকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপাতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ সপরিবারে ভারত চলে যান। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ রাজপ্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার...[…]

Travel Image

ঐতিহ্যবাহী খালিয়া কুমার পল্লী

প্রতি দিনই চাকা ঘোরাতে হয় । চাকার এক একটি পাকে চলে সংসার। কাঠের তৈরি চাকাটি কোটিপাক ঘুরছে তাতেও তাদের ভাগ্যের চাকা মরিচা ধরা । অভাব অনটন আর দুঃখ তাদের পিছু ছাড়ে না । পেশায় তারা কুমার বা পাল । দিন দিন যে ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাতে তারা পেশা নিয়ে বেশ চিন্তিত । প্রযুক্তির হাওয়া বদলে ঘুরিয়ে মাটির তৈরি হাড়ি ,পাতিল, বাসন কোসনের প্রচলন দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে । তারপরও দেশে এমন এলাকা বা এমন গ্রাম আছে যেখানে এখনো বাংলার ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে । এমন কি সে গ্রাম জুড়ে একটিই পেশা আদিকাল ধরে চলে আসছে । গ্রামটি মাদারীপুর জেলার খালিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়া বা কুমারপল্লী। পুরানো একটি ছোট গ্রাম । এ গ্রামে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা শতাধিকের উপরে। শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কম হলেও কর্মঠ মানুষের সংখ্যা বেশি । গ্রামটিতে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি । মজার ব্যাপার গ্রামটিতে একটি পেশাই আদিকাল থেকে চলে আসছে । গ্রামের মানুষ সকাল থেকে গভীর রাত অবধি কাজ করে । গ্রামে বসবাসকারী শ’কয়েক লোকের মধ্যে সব বয়সী মানুষই এ পেশায় জড়িত । অর্থাৎ বসবাসকারী সব পরিবারই কুমার পেশায় নিয়োজিত পরিবার । গ্রামের সব ব্যস্ততায় সময় কাটায়কুমার পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিটি বাড়ি তে চলে দিনভর মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল, ঢাকনা, কলস,পুতুল,ভাশি, ডাবর, ধুপদানি, প্রদীপ, থালা, সরা, পটে আকা লক্ষীর সরা,তাগাড়ি,জল ঘট,জলেরপট, খেলনা, কড়াই, ফুলের টব, পিঠা বানানোর সাজ, মুর্তি, প্রতিমা, চুলা, ইত্যাদি বানানোর কাজ । এছাড়া প্রতিটি বাড়ির চেহারাও একই রকম। একই কাজের জন্য বাড়ির আশ পাশের পরিবেশ একই ধরনের গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে খোলা জায়গাগুলোতেই সারিসারি মাটির তৈরির হাড়ি পাতিল সাজানো যার সংখ্যা হাজার হাজার দেখে মনে হবে...[…]

Travel Image

গজনীতে বনভোজন

সবুজ পাহাড়, টলটলে হ্রদের মাঝে অবকাশকেন্দ্র এমন একটা সময় ছিল, যখন ‘শেরপুর’ বলতে সবাই জানতে চাইতেন, কোন শেরপুর? ময়মনসিংহ, বগুড়া না সিলেটের শেরপুর? কিন্তু এখন সেই দ্বিধার জায়গা অনেকটা পরিষ্কার। গজনী অবকাশকেন্দ্র শেরপুরের পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক।
১৯৯৩ সালে শেরপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গড়ে ওঠে এটি।
শেরপুর জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে এটি।
গজনী এলাকাটি ব্রিটিশ আমল থেকেই পিকনিক স্পট বা বনভোজনের জায়গা হিসেবে পরিচিত। মনোরম পাহাড়ি শোভামণ্ডিত গজনী এলাকায় একটি পুরোনো বটগাছের পূর্বদিকে আনুমানিক ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের টিলায় নির্মাণ করা হয়েছে তিনতলা অবকাশভবন। সেই সঙ্গে এলাকার প্রাচীন বটগাছের বিশাল গোলচত্বরটি পাকা করা হয়েছে। ছুটির দিনে বিশাল বটগাছের ছায়ায় চলে আড্ডা।
গারো উপজাতি-অধ্যুষিত গারো পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ পানির হ্রদ ও দিগন্তছোঁয়া সবুজ বনানীই এই এলাকার বৈশিষ্ট্য। এর মাঝে গড়ে ওঠা গজনী অবকাশকেন্দ্রে রয়েছে ছয় কক্ষের তিনতলা রেস্টহাউস। সমতল ভূমি থেকে অবকাশভবনে ওঠানামা করার জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় আঁকাবাঁকা ‘পদ্মসিঁড়ি’। এখানে রয়েছে হ্রদের পানির ওপর সুদৃশ্য দ্বিতল ‘জিহান অবসরকেন্দ্র’, লেকের মাঝে কৃত্রিম দ্বীপ ও দ্বীপের ওপর ‘লেকভিউ পেন্টাগন’।
গারো পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য আছে আকাশচুম্বী ‘সাইট ভিউ টাওয়ার’। কৃত্রিম হ্রদে নৌবিহারের জন্য আনা হয়েছে হয়েছে ‘প্যাডেল বোট’। দেশি ‘ময়ূরপঙ্খি নাও’ও আছে। আরও উপভোগ করবেন দোদুল্যমান ব্রিজ ও সুড়ঙ্গ পথ। শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত হয়েছে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, বন্য হাতির ভাস্কর্য ‘মিথিলা’ আর মৎস্যকন্যা ‘কুমারী’। কৃত্রিম জলপ্রপাতও তৈরি হয়েছে এখানে।
গজনী অবকাশকেন্দ্র থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবেও এর...[…]

Travel Image

ঐতিহ্যবাহী মথুরাপুরের দেউল

ফরিদপুর জেলার প্রাচীন কীর্তি মথুরাপুরের দেউল । রহস্যঘেরা এ স্থাপনা করে কে কখন নির্মাণকরেছিল তার সঠিক কোনো তথ্যপ্রমান পাওয়া যায়নি আজও । এর নিমার্ণ নিয়ে প্রচলিত আছে নানা কথা । মধুখালি উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তিটি । পাথরাকৃতির পোড়ামাটির তৈরি দেউলটি প্রায় ৭০ ফুট উঁচু । এর শিলাখন্ডগুলো সুগ্রথিত । কোথা থেকে এর গাঁথুনি শুরু হয়েছে তা বোঝা দুরুহ । একেবারে নিচ থেকে মোটা হয়ে ক্রমান্বয় উপরের দিকে অল্প সরু হয়ে চুড়ার দিকে মিশে গেছে । সম্পুর্ণভাবে ঢালাই করা এর ছাদ । নির্মাণকালে এ দেউলের সংখ্যা ছিল ৪টি । প্রত্নতত্ব ও জাতীয় জাদুঘর বিভাগের অধীনে নিয়ে আসার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ এর ২টি দরজা বন্ধ করে দেয় । বর্তমানে এর ভেতরে গিয়ে উপরের দিকে তাকালে অন্ধকারে কিছুই দেখা যায়না । দেউলের গা জুড়েই আঁকা রয়েছে অসংখ্য ছাপচিত্র ও মাটির কলস । অঙ্কিত শিলাখন্ডে চোখ পড়লে দেখা যায় হরেক মুর্তি । কোনোটি আছে নারীর , কোনোটি উৎসবের আনন্দযজ্ঞের । তীর ধনুক হাতে কোনো হনুমান দাঁড়িয়ে আছে । আবার দেখা যায়, কোনো প্রানীকেবহন করে নিয়ে যাচ্ছে হনুমান বা কিম্ভুত কোন প্রানী যার মুখ হিংস্রের মতো । কোথাও রয়েছে নৃত্যরত নগ্ন নর-নারী , গদা হাতে হনুমান , যুদ্ধের দৃশ্য, পেচা জাতীয় কোন প্রাণী , মুন্ডুহীন মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট প্রাণী দেহ । আরও দেখা যায় ধাবমান ঘোড়া , মন্দিরে প্রার্থনারত হনুমান ইত্যাদি । দেউল গাত্রের নির্মান সৌকর্যেও ফলক এবং যেসব মূর্তি রয়েছে সেগুলো দেখে বিমোহিত হন দর্শক ভ্রমন বিলাসীরা । দেউলটি কবে এবং কেন তৈরি করেছিলে সে ব্যাপারে কোন প্রামান্য তথ্য মেলেনি । এব্যাপারে নানা মত প্রচলিত আছে ।...[…]

Travel Image

একাত্তরের স্মৃতি বিজড়িত মিঠাপুর শিকদার বাড়ি

কালের করাল গ্রাসে বিলুপ্তি হয়ে গেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠপুরের ঐতিহ্যবাহী শিকদার বাড়ি। এক সময় রাজবাড়ির সদৃশ্য থাকলেও আজ তা বিশাল ভগ্নস্তুপ আর জরাজীর্ন ভবনের আংশ মাত্র। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকবাহিনী গুড়িয়ে দিয়েছে শিকদার বাড়ি,যা একটি অনাবিস্কৃত বদ্ধভূমি মুক্তিযুদ্ধের সময় বিজয় যখন দারপ্রান্তে তখন পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদেও হাতে শহীদ হন এই অঞ্চলের শতাধিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ । যাদের স্মৃতি আজও অনাবিস্কৃকত রয়ে গেছে। সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে , প্রসাদতুল্য বড় বড় দালান,সিংহ দরজা , শান বাধানো পুকুর ঘাট, মৃতের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত সমাধি মঠ আর টিলা সদৃশ্য ধ্বংস্তুপ,শ্যাওলা পড়া ভবনের আগাছাপূর্ণ দেয়ালগুলো অতীত ঐতিহ্যর কথা মনে করিয়ে দেয় । এক সময় শিকদার বাড়ির ঐতিহ্য,জাকজমকতা আর নামডাক বৃহওর ফরিদপুরসহ সারা দেশ জুড়ে ছিল । প্রায় ৩৫একর জায়গা নিয়ে শিকদার বাড়ি বর্তমানে প্রায় ভগ্ন ওঅর্ধভগ্ন ৬টি দালান রয়েছে এবং টিলার মত ভগ্ন দালানের ধ্বংসাবষেশে ৪টি স্তুপ রয়েছে গাছ-গাছালিতে ঘেরা এই শিকদার বাড়ি ।আজ ধ্বংসস্তুপের ভগ্নাবশেষ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করায় বিলুপ্তির পথে । শান বাঁধানো ৫টি পুকুর চোখে পড়ে শিকদার বাড়িতে । এই পুকুরগুলোতে শান বাঁদানো এবং গোসল করতে অপেক্ষ করার জন্য বসার আলাদা জায়গা রয়েছে । বিভিন্ন মনোরম আকৃরি দরজাও ছিল এই পুকুর ঘাঠে ।ধ্বংস প্রায় সিংহ দরজাটি চোখে পড়ে আজও ।এলাকায় আজও জনশ্রুতি আছে । এই শিকদার বাড়ির সিংহ দরজা দিয়ে একবার প্রবেশ করে সম্পূর্ন বাড়ি ঘুরে আবার সিংহ দরজায় আসা কোন অপরিচিত মানুষের পক্ষে সম্ভাব হতো না। শিকদার বাড়ির অর্থ-ভৈবরের পেছনে জনশ্রুতি আছে-কোন এক কালে এদেও আবস্থা সাধারন জনগনের মতই দরিদ্র ছিল। শিকদার বংশের কোন এক মহিলা পরশ পাথর বা গুপ্তধন পেয়ে পরবর্তীতে বিশাল অর্থ ও...[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.