সোনামসজিদ

আমের জেলা নামে বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আম বিখ্যাত এই জেলায় আছে অনেক নিদর্শন। দেশের বিভিন্ন জেলায় আছে অনেক মসজিদ কিন্তু প্রাচীন এই মসজিদটি অনেক ঐতিহ্য বহন করে আসছে আমাদের দেশে। ১০ টাকার পুরনো নোটে এই সোনামসজিদের ছবি আছে।
বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি দেখার মতোই একটি দর্শনীয় স্থান। উত্তরাঞ্চলের সীমান্তরেখা বরাবর আবস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর মধ্যে এই সোনামসজিদ অন্যতম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শত শত বছরের পুরনো এই সোনামসজিদসহ অন্য মসজিদগুলোর অপূর্ব কারুকাজ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন নিঃসন্দেহে। আর আপনি আপনার অবসর ছুটির সময় অথবা গ্রীষ্মকালীন ছুটির এই সময়টা অনেক ভালোভাবে কাটাতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভ্রমণ করে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনামসজিদ দেখে।
ছোট সোনামসজিদ
কারুকার্যময় স্থাপত্য নির্মাণে মুঘলদের অবদান অনস্বীকার্য। মুঘলদের কল্যাণে আমাদের দেশেও নির্মিত হয়েছে প্রাচীন অথচ সমৃদ্ধ কিছু স্থাপত্য শিল্প। বাংলার মুসলিম স্থাপত্য অনুশীলন যুগে যে কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ছোট সোনামসজিদের নাম অবশ্যই আসবে। কথিত আছে যে, একবার স্যার লর্ড ক্যানিংহাম এসেছিলেন এ মসজিদটি দেখতে। অসাধারণ সৌন্দর্য ও সোনা রঙের ১৫টি গম্বুজের এ মসজিদটি দেখে তিনিই এর নামকরণ করেন সোনামসজিদ। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একেবারে সীমানার কাছাকাছি চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকারান্তরে গৌড় অঞ্চলে অবস্থিত এই সোনামসজিদ।
জায়গাটা কোথায় আন্দাজ করতে পারছেন তো?
‘কানসাট’ স্থানটির নাম শুনে থাকবেন নিশ্চয়ই। সেই কানসাট থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোনামসজিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকাটি বাংলাদেশের একটি খ্যাতনামা স্থলবন্দরও। সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫৯১ খ্রি.) ওয়ালী মুহাম্মদ এ মসজিদটি তৈরি করেন বলে জানা যায়।
মসজিদের আকার
আকারের দিক থেকে দেখতে গেলে দেখা যাবে এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ২৫ মি. (৮২ ফুট) ও প্রস্থ ১৬.৯০ মি. (৫২ ফুট)। মসজিদের চার কোনায় ৪টি তুঘলক পদ্ধতির বুরুজ বা টাওয়ার শোভা...[…]

Travel Image

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য টুঙ্গিপাড়া

মধুমতি নদীর তীরে পাটগাতির পরেই টুঙ্গিপাড়া। কোনো কবি এখানে এলে রূপসী বাংলাকে স্বচক্ষে দেখতে পারেন-ই। তখন কবির কাব্যে প্রকৃতি নতুনতর রূপে অঙ্কিত হবে। কবি আলাদা এক জগৎ সৃষ্টি করবেন। টুঙ্গিপাড়ার গাঁয়ের মেঠো পথের পারে চোখে পড়বে বিল-ঝিল। আর সেখানে ফুটে রয়েছে কত না শাপলা। টগর-কামিনী ফুলের গন্ধেও মাতোয়ারা হতে হয় তখন।
এই টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের সমাধি। এখানে ঢুকতেই পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে_"দাঁড়াও পথিক বর যথার্থ বাঙালি যদি তুমি হও। ক্ষণিক দাঁড়িয়ে যাও, এই সমাধিস্থলে। এখানে ঘুমিয়ে আছে, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা।
এ দেশের মুক্তিদাতা, বাংলার নয়নের মণি" এই কথাগুলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমানের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন 'খোকা' বলে। তাঁর শৈশবকাল কাটে টুঙ্গিপাড়ায়। জীবনভর তিনি দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সংগ্রাম করে গেছেন। পাকিস্তানীদের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে বার বার তিনি কারাগারে গিয়েছিলেন। তবুও বাংলার মানুষের পাশেই ছিলেন তিনি। ১৯৬৮-৬৯ সালে শেস্নাগান উঠল_'আগরতলার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলা মানি না', 'শেখ মুজিবের মুক্তি চাই'।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি প্রায় দশ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিটের ঐ ভাষণে তিনি বাঙালির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান জানান। এই ভাষণে তিনি বললেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।" ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতাকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন।[…]

Travel Image

বধ্যভূমি রায়েরবাজার

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে আমরা সবাই একত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্ধুদ্ধ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এই জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম সব সময় প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যা পৃথিবীর ইতিহাসের একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকাল ও ইতিহাস
বর্তমান আধুনিক বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধটি ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যা একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ভারতীয় মিত্রবাহিনী এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী নিয়ে একটি যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। এর ফলে স্থল, নৌপথ ও আকাশপথে একযোগে আক্রমণ করা সম্ভব হয় হানাদার বাহিনীর ওপর। এতে তারা সহজেই পর্যুদস্ত হয়। পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তানি শাসকচক্র এদেশীয় কিছু দোসরদের সহায়তায় দেশকে চিরতরে মেধাশূন্য করার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়। তারা ভেবেছিল এ দেশকে মেধাশূন্য করা গেলে বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। এ জন্য তারা হত্যা করেছিল বাঙালি জাতির বিবেক, চেতনা, মননশীলতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এ মাটির সন্তান বুদ্ধিজীবীদের। তবে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশনা ও মদদে এদেশীয় দালাল এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, নাট্যকার, শিল্পী প্রভৃতি শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং এই হত্যাযজ্ঞ ঘটায়। তারা ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, শহিদুল্লাহ কায়সার, ডা. ফজলে রাব্বীসহ এদেশের প্রথম সারির অনেক বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিজয় লাভের কিছুদিন পর তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ রায়েরবাজারের ওই স্মৃতিসৌধের স্থানটিতে পাওয়া যায়।...[…]

Travel Image

বাগেরহাটের খাঞ্জালি দীঘি

প্রত্মতাত্ত্বিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাগেরহাট। এ জেলায় রয়েছে শত শত বছরের প্রাচীন মঠ, মন্দির, মসজিদ ও সমাধিসৌধ। তবে যে কারণে বাগেরহাট জেলার খ্যাতি তা হচ্ছে, এখানে রয়েছে সাড়ে পাঁচশ বছরের প্রাচীন একটি চিত্তাকর্ষক সমাধিসৌধ এবং খাঞ্জালি দীঘি।
খানজাহান আলী (রহ.) সমাধিসৌধের লাগোয়া দক্ষিণ দিকে রয়েছে এই বিশাল দীঘিটি। তিনি যে ৩৬০টি দীঘি খনন করেছিলেন, তাদের মধ্যে এই দীঘিটি সর্ববৃহৎ। প্রায় ৪০ একর জমিতে এই দীঘি খনন করা হয়েছে। খননকৃত মাটি এর চারদিকের পাড়ে ফেলায় পাড় সমতল ভূমি থেকে খুব উঁচু হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ পাড় পাহাড়ের মতো উঁচু। দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে এই দরগার ফকির-খাদেমদের বসতি গড়ে উঠেছে। দীঘির জল স্বচ্ছ ও সুপেয়। এই জল যাতে কেউ অযথা অপরিষ্কার না করে সে জন্য খানজাহান কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় নামে কয়েকটি কুমির এই দীঘিতে ছেড়েছিলেন। তবে এসব কুমির মানুষকে আক্রমণ করে না। যদি আপনার ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকে তবে এদের দেখতে পাবেন। আরও দেখতে পাবেন ভক্তরা মুরগি নিয়ে দীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে কুমিরকে তীরে আসার জন্য হাঁকডাক দিচ্ছে। তাছাড়া বহু মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে এই দীঘির পাড়ে বিশ্রাম নেয়। দীঘির পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। দক্ষিণ দিকের গাছ-গাছালি দেখে গভীর বন মনে হবে। এই দীঘির পশ্চিমে দরগা থেকে ২৫০-৩০০ গজ দূরে রয়েছে জিন্দা পীরের মাজার ও দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে নয়গম্বুজ মসজিদ। সে সবও আপনি দেখে আসতে পারেন।
যেভাবে যাবেন
প্রতিদিন অসংখ্য বাস মতিঝিল, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বাগেরহাট-খুলনা যাতায়াত করে। এসি-নন এসি ও সাধারণ কোচ সব ধরনের বাসই পাবেন। সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।
থাকার ব্যবস্থা
বাগেরহাটে থাকার সুব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। মাজার কমপে¬ক্সেও থাকার মতো বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না। তবে খুলনা থেকে বাগেরহাটে আসতে সময় ১ ঘণ্টা...[…]

Travel Image

নওগাঁর দিবর দীঘিতে

বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নওগাঁ জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই সঙ্গে নওগাঁ জেলা বাংলাদেশের পরিচিত একটি জেলা। প্রাচীন বাংলার এক সমৃদ্ধ জনপদের নাম বরেন্দ্রভূমি। অনেক দর্শনীয় স্থান, পর্যটন কেন্দ্র থাকলেও এই জেলায় আরও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইতিহাসকেন্দ্রিক স্থান। তার মধ্যে একটি দিবর দীঘি। নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা থেকে ১৬ কি.মি. পশ্চিমে সাপাহার-নওগাঁ সড়কের পাশেই ঐতিহাসিক দিবর দীঘি অবস্থিত। দিবর দীঘির ঐতিহাসিক পটভূমি ছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশেষ ভূমিরূপ এবং আদিবাসী সাঁওতালদের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্যতম।
ফিরে যাই পেছনে :
ইতিহাস অনেক কিছু বলে আর এই ইতিহাসই পরিচয় করিয়ে দেয় অজানাকে। তেমন দিবর দীঘির সম্পর্কে জানতে আমরাও তাকাব পেছনে ফিরি। দিবর বা ধীবর দীঘি নামে পরিচিত এই জলাশয় ও জলাশয়ের মাঝখানে স্তম্ভটি একাদশ শতাব্দীর কৈবর্ত্য রাজা দিব্যক, তার ভ্রাতা রুদোক ও রুদোকের পুত্র প্রখ্যাত নৃপতি ভীমের কীর্তি হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের (১০৭০-১০৭১ খ্রি.) অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বরেন্দ্রভূমির অধিকাংশ অমাত্য পদচ্যুত সেনাপতি বরেন্দ্রভূমির ধীবর বংশোদ্ভূত কৃতী সন্তান দিব্যকের নেতৃত্বে পাল শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করেন। পরে দিব্যককে সর্বসম্মতিক্রমে বরেন্দ্রর অধিপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। স্বল্পকাল পরে দিব্যক মৃত্যুবরণ করলে প্রথমে রুদোক ও পরে রুদোক-পুত্র ভীম সিংহাসনে আরোহণ করেন। এই তিন কৈবর্ত্য বংশীয় রাজা ২৫-৩০ বছর বরেন্দ্র ভূমি শাসন করেন বলে জানা যায়। পরে দ্বিতীয় মহীপালের ভ্রাতা রামপাল ভীমকে পরাজিত ও নিহত করে পালরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। বাংলাদেশের এই প্রাচীন জয়স্তম্ভটি কোন কৈবর্ত্য রাজা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেনÑ আজ অবধি তা সঠিক জানা যায়নি। একটি অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি এই স্তম্ভের নয়টি কোণ আছে। এর এক কোণ থেকে আরেক কোণের দূরত্ব ১২...[…]

Travel Image

রাবার ড্যাম প্রকল্প

দেখে মনে হতে পারে কোন জলপ্রপাত। প্রায় ১০ ফুট উঁচু হাওয়ায় ফুলানো রাবারের বেলুনের উপর দিয়ে প্রচন্ড গর্জন ও তীব্র বেগে আছড়ে পড়ছে জলধারা।
জলপ্রপাত যারা দেখেননি, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এর কাঁকড়া নদীতে সেচ কাজে নির্মিত রাবার ড্যামের অবিরাম জলবর্ষনকে তারা জলপ্রপাত মনে করতে পারেন। এই রাবার ড্যাম প্রকল্প শুষ্ক নদীর দু’কূলের প্রায় ৫ হাজার কৃষক পরিবারের ৫০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে আরো ১০ হাজার মানুষের।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এলাকায় এনেছে নান্দনিক সৌন্দর্য। যা কেও দেখে হয়ত মনে মনে দেশাত্মকবোধক গানের দু/এক কলি গুন গুন করে উঠবেন।
যদিও কৃষকদের চাষাবাদের বিষয়টি চিন্তা করে ২০০১ সালে কাঁকড়া নদীর উপরে দিনাজপুর এলজিইডি ৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৩০ ফুট দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মান করে। এই রাবার ড্যাম নির্মানের ফলে চিরিরবন্দর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই ও কাঁকড়া নদীর ১০ কিলোমিটার এবং পাশ্ববর্তী ১২ কিলোমিটার কয়েকটি শাখা খাল বছরের পুরো সময় পানিতে ভর্তি থাকে। ২ হাজার ২০৫ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। কুশলপুর, খোচনা, পশ্চিম সাইতাড়া, দক্ষিণ পলাশবাড়ী, উত্তর ভোলানাথপুর, আন্দারমুহা, অমরপুর, ভিয়াইল, কালিগঞ্জ, তালপুকুর, পুনট্টি, উচিতপুর, তুলসীপুর, নারায়নপুর ও গোবিন্দপুর গ্রামের ৪ হাজার ৯৫০ জন কৃষক ড্যামের পানি তাদের জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ অঞ্চলের জমি উর্বরা হওয়া সত্বেও সেচের অভাবে অনাবাদি ছিল। রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় এখন নিয়মিত ৪টি ফসল হচ্ছে। আমন, ইরি, আলু, সরিষা, ভুট্টা, গমসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। নদী ও খাল থেকে পানি তুলে কৃষকেরা অনায়াসে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। আগে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মন ধান উৎপন্ন হত। রাবার ড্যাম হওয়ায় সেচ সুবিধার কারণে এখন...[…]

Travel Image

মাধবকুণ্ডের ঝরনা তলায়

মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড ঝরনা যে কোনও ভ্রমণপিপাসুর নজর কাড়বে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ পাহাড়ি ঝরনাধারা ও তার চারপাশের অপরূপ মনোলোভা সবুজ প্রকৃতি সব শ্রেণীর পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। গঙ্গাসাড়া নামক পাহাড়ি ছড়ার প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে যুগ যুগ ধরে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম জলরাশি। দৃষ্টিনন্দন এ ঝরনা শুধু পর্যটকদের কাছেই আকর্ষণীয় স্থান নয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে তীর্থস্থান হিসেবেও সুপরিচিত। এ ঝরনাধারায় যে কুণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে সে কুণ্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে শিবমন্দির। হিন্দুমতে, এ শিবমন্দির স্থানটির মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। এ শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে স্মানে আসে শত শত পুণ্যার্থী।
সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালতলী থেকে রিকশায় অথবা স্কুটারে যেতে হয় মাধবকুণ্ডে। ১৫ কিলোমিটার সমতল ও পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পিচঢালা পথ, সেই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে বোনা চা বাগানের অপরূপ প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে কখন যে মূল স্পটে চলে যাবেন, ভাবতেই পারবেন না। ঝরনার শব্দ কানে আসতেই এক অন্যরকম আনন্দানুভূতিতে মন নেচে উঠবে। চারদিকেই গাঢ় সবুজের হাতছানি। এখানে পাহাড়ের গায়ে ঘন গাছপালা, পাথরের সাজ, সুনিপুণ মাটির স্তরবিন্যাস, বৈচিত্র্যময় শিলাগঠন সবকিছুতেই যেন চোখ স্থির হয়ে যেতে চায় বারবার। কঠিন শিলায় গড়া পাহাড়ের উঁচু থেকে ঝিরিঝিরি ছন্দে নেমে আসছে পানির রেশমি লহর। সাদা সাদা ফেনা তুলে উচ্ছল সেই পানির স্রোত অবিরাম গতিধারায় নিচে পড়ছে। পানি পড়ার স্থানটিতে তৈরি হয়েছে একটি ছোট্ট লেক। দেখলেই ইচ্ছা হবে পানিতে নামার। সাঁতার জানা থাকলে আর সঙ্গে বাড়তি কাপড় থাকলে নেমে যেতে পারেন লেকের হিমশীতল জলধারায়। তবে ঝরনার একেবারে কাছে যাওয়া মোটেই সমীচীন নয়, যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। কেননা, লেকটি গভীর। কেউ পানিতে গা ভেজাতে না চাইলে তাদের জন্য রয়েছে নৌকার ব্যবস্থা। যে...[…]

Travel Image

রাসেল পার্ক

যানজট না থাকলে রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে মাত্র আধাঘন্টার পথ। রূপগঞ্জ উপজেলা সদরের মাহমুদাবাদে এলে পৌঁছে যাবেন মনোমুগ্ধকর রাসেল পার্কে। সবুজ স্নিগ্ধ গ্রামীণ নিসর্গের পটভূমিতে জৈনক রাসেল ভূইয়া গড়ে তুলেছেন মনোরম এই বিনোদন কেন্দ্রর। তিনি নেই তবু তার স্মৃতি আগলে রেখেছে এ পার্কটি। উপজেলা সদর থেকে চমৎকার পথ চলে গেছে রাসেল পার্ক পর্যন্ত। দু’পাশে সবুজের ঘন সমারোহ, দিগন্তপ্রসারী ফসলের মাঠ পেরিয়ে খানিক দূর এগুতেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। বছর দশেক আগেও এলাকাটির আলাদা কোন বৈশিষ্ট ছিলনা। ছিল কিছু হাজামজা ডোবা আর ধানক্ষেত। বর্তমানে পার্কটির কারনে এখন এটি একটি ব্যস্ত পর্যটন নগরী। এটিই এখন সারা দেশে রাসেল পার্ক নামে পরিচিত। পার্কে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। হরিণ, ভাল্লুক, হনুমান, ময়ুর, বানর, সাপ, বেজি থেকে শুরু করে অসংখ্য পশু পাখি রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। এছাড়াও সারা পার্ক জুড়ে শোভা পাচ্ছে কংক্রিটের তৈরি বাঘ, ঘোড়া, হাতি,আছে সবুজ ঘাঁসে মুখ গুঁজে থাকা চিত্রা হরিণের দল।
পার্কের এক পাশে রয়েছে গজারী বন। সারিবদ্ধ সবুজের এই সমারোহ পার্কে পিকনিকে আসা দূরদুরান্তের দর্শনার্থীদের একটি পছন্দের স্থান। এ ছাড়া রয়েছে ঘাটবাঁধা পুস্পপুকুর। এ ছাড়া জিবন্ত হাসের ছুটাছুটিতো চোখে পরবেই। পুকুরের দু’ধারে দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে ঝুলন্ত ২টি শেড। এখানে বসে পুকুর আর পুরো পার্কের নিসর্গ শোভা উপভোগের চমৎকার ব্যবস্তা করা হয়েছে। পাশেই আছে শুটিং স্পট। আছে প্রসাধনের ব্যবস্থা সম্বলিত ড্রেসিং রুম। ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত কটেজ। আহারের জন্য রয়েছে পার্কের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ও ফাস্ট ফুডের দোকান। আছে পিকনিক পার্টির জন্য বিশাল ডাইনিং হল। এখানে রাত যাপনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। যারা রাত যাপন করতে চান তাঁরা পার্কের রেষ্ট হাউজে থাকতে পারেন। দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পার্কে রয়েছে কৃত্রিম লেকে...[…]

Travel Image

শ্রীমঙ্গলে নতুন জলপ্রপাত হামহাম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নয়নাভিরাম হামহাম জলপ্রপাতে পর্যটকের ঢল নেমেছে গহিন অরণ্যের এই জলপ্রপাতটি দেখার জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ওই জলপ্রপাতকে পর্যটন উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের চেয়ে তিনগুণ বড় হামহাম জলপ্রপাতটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পর্যটন শিল্পে নবদিগন্তের সূচনা করবে। কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা বনাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্তে গহিন অরণ্যের হামহাম জলপ্রপাতটির সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হলে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়। ঈদ ছুটি উপভোগ করতে গত কয়েক দিন ধরে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ১৬০ ফুট উচ্চতা থেকে প্রবাহিত হামহাম জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতে যাওয়ার কোন রাস্তা না থাকলেও পর্যটকরা দুর্গম পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সংগ্রাম করে এক নজর হামহাম দেখতে ছুটছেন। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক এই জলপ্রপাত ভ্রমণ করেছেন বলে স্থানীয় গাইডরা জানান।
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আবদুল্লাহ্ মামুন বলেন, পাহাড়ি উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসার পর জলপ্রপাতের পানির শব্দ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, মাধবকুণ্ডের চেয়ে তিনগুণ বড় হয়ে পানি পড়ছে। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কি.মি. অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাতের অবস্থান। এখানকার পাহাড়ি অধিবাসীরা পানি পতনের স্রোতধ্বনিকে হামহাম বলে। তাই এটি হামহাম নামে পরিচিত। হামহাম জলপ্রপাতে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার কোন ব্যবস্থা নেই। কমলগঞ্জ-কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কি. পাকা রাস্তায় স্থানীয় বাস, জিপ, মাইক্রোবাসযোগে যেতে পারলেও বাকি ৩-৪ কি. মি. পথ পাড়ি দিতে হয় পায়ে হেঁটে। কুরমা চেকপোস্ট থেকে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত মাটির রাস্তা। সেখান থেকে প্রায় ৫ কি.মি. দূরে সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা আদিবাসীদের পল্লীর বন বিভাগের কুরমা বিটের...[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.