জিন্দা পার্ক

রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের জিন্দা গ্রামে বিশাল এলাকার উপর গড়ে তোলা হয়েছে জিন্দা নামের এই পার্কটি। অপস নামে একটি সামাজিক সংগঠনের অর্থায়নে এ পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। টিলা আর লেক বেষ্টিত এ পার্কের ভেতরে আছে দ্বি- পুকুর। লেকে নৌকায় চড়ে ভ্রমনের সুযোগ। পার্কের ভেতরেই রয়েছে মার্কেট সেখানে সব ধরনের কেনাকাটা করতে পারে দর্শনার্থীরা। আছে লাইব্রেরী, ক্যান্টিন, প্রাণী জগত। পার্কের ৫০ ভাগ জুড়ে আছে লেক। লেকের পাড়ে ফুলের বাগানে নিরিবিরি চুটিয়ে আড্ডা দেবার মত জায়গা রয়েছে। এখানকার লাভ লেক প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য আকর্ষনীয় স্থান। পুরো পার্কে পুকুর লেক ছাড়া রয়েছে ঘন সবুজ অরণ্যে ঘেরা ছোট বড় টিলা। পার্কে আছে বাংলো, রেস্টুরেন্ট,স্লিপার,দোলনা। আছে সবুজ ঘাষে ঢাকা শিশুদের খেলার মাঠ। লেকময় ঘুরে বেড়ানোর জন্য ১০ টি নৌকা রয়েছে। আছে চিকিৎসার জন্য ফ্রি ক্লিনিক। নিরাপত্তা ও সেবার জন্য রয়েছে একঝাক তরুন তরুনী। যারা সর্বক্ষন দর্শনার্থীদের সেবায় নিয়োজিত। শুটিং ও পিকনিকের এক অনন্য স্থান জিন্দা পার্ক । রূপগঞ্জের জিন্দা গ্রামের ৫ প্রতিভাবান কিশোর এক যুগ আগে জিন্দা গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে অপস নামে এক সেবামূলক সামাজিক সমিতি চালু করে। এই কিশোররা স্বপ্ন দেখেনি স্বর্নকমল বানানোর; স্বপ্ন দেখেনি বিদেশে পাড়ি জমানোর। তারা স্বপ্ন দেখেছে হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের। তাদের স্বপ্ন ছিল একটাই অজোগাঁ জিন্দাকে আদর্শ মডেল গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তাদের সে স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। জিন্দা আজ রূপগঞ্জের মডেল গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি জিন্দা পার্কের কারনে জিন্দার সুনাম ছড়িয়ে পরেছে সারা দেশে।
এছাড়া যেতে পারেন ইউসুফগঞ্জ উপশহর এলাকায়। বিশাল এলাকা জুড়ে ছোট ছোট টিলা, সমতল ভূমি, শালবন,কাঠাল বাগান। সব মিলিয়ে কি বিচিত্র এখানকার রূপ। প্রাকৃতিক এ সৌন্দর্যে নিঃসন্দেহে আপনি অভিভূত হবেন। মনে হবে অসংখ্য...[…]

Travel Image

তেওতা জমিদার বাড়ি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়িতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নজরুল ও প্রমীলার অনেক স্মৃতি। কাজী নজরুল ইসলাম এই বাড়িতেই প্রমীলা দেবীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়/সেকি মোর অপরাধ’। তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়া,সেকি মোর অপরাধ”।
নজরুলের এই গানটা খুব সারা জাগানো। কিন্তু আমরা এটা জানিনা এই গানটি নজরুলের কোন ভাব থেকে লিখা।
মানিকগঞ্জের তেওতা জমিদার বাড়ি।তেওতা জমিদার বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে- আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রিয়তমা প্রমীলা দেবীর প্রেমের স্মৃতি। জমিদার বাড়ির পাশেই ছিল নজরুলের প্রিয়তমা স্ত্রী প্রমীলা দেবীর বাড়ি।প্রমীলা দেবীর পিতা বসন্ত সেনের ভ্রাতুষপুত্র বীরেন সেনের সঙ্গে কবির পরিচয় সুত্র ধরে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত।এভাবেই প্রমীলা দেবীর (ডাকনাম দুলী) সঙ্গে নজরুলের প্রেম। প্রমীলা নজরুলকে কবিদা বলে ডাকতেন। একদা দুলি তথা প্রমীলা যখন বাড়ির পুকুরে গোসল করাতে যেত, তখন তার রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি বলে উঠেন,
“তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়,
সেকি মোর অপরাধ”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেওতা জমিদার বাড়িটির বয়স ৩০০ বছর ছাড়িয়েছে।জেলার ইতিহাস থেকে জানা গেছে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে পাচুসেন নামের পিতৃহীন দরিদ্র এক কিশোর তার সততা আর চেষ্টায় তামাকের ব্যবসা করে বিপুল ধন সম্পদ অর্জন করেন । দরিদ্র পাচুসেন দিনাজপুরের জয়গঞ্জে জমিদারী কিনে হয়ে যান পঞ্চানন সেন।তারপর শিবালয়ের তেওতায় তিনি এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন। জমিদার বাড়ির মূল ভবনের উত্তর দিকের ভবনগুলো নিয়ে হেমশংকর এস্টেট এবং দক্ষিন দিকের ভবনগুলো নিয়েছিল জয়শংকর এস্টেট। প্রতিটি এস্টেটের সামনে বর্গাকৃতির অট্টালিকার মাঝখানে আছে নাটমন্দির। পুব©দিকের লালদিঘী বাড়িটি ছিল জমিদারদের অন্দর মহল। অন্দর মহলের সামনে দুটি শানবাঁধানো ঘাটলা, এর দক্ষিন পাশের ভবনের নীচে রয়েছে চোরা কুঠুরী যাকে এলাকার মানুষেরা বলে অন্ধকুপ। উত্তর ভবনের...[…]

Travel Image

আমের দেশ

আমজনতার ‘আম’ অথবা সাহেবদের ‘mango’।
প্রাচীনকালে আমের কদর আর গুরুত্ব বোঝাতে সংস্কৃতে এর নামকরণ করা হয় ‘আম’, যার অর্থ মজুদ খাদ্য বা রসদ। আম ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষাভাষী দেশগুলোতে ‘mango’ নামে পরিচিত। mango নামটির উৎপত্তি তামিল ম্যান-কি অথবা ম্যান-গে থেকে। পর্তুগিজেরা ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে বসতি স্থাপনের সময় এটিকে গ্রহণ করেন সধহমধ নামে।
আমতত্ত্ব
আম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে উৎপন্ন একটি ফল। Anacardiaceae গোত্রের Mangifera indica প্রজাতির এ ফল গাছের উৎপত্তির ইতিহাস সুপ্রাচীন।
কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতে, আম বাংলাদেশ, আসাম (ভারত) ও মিয়ানমারসহ ভারত উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের স্থানীয় ফল। অন্যান্য প্রজাতি যথা M. laurina-এর উৎপত্তি সম্ভবত মালয় অঞ্চলে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় ও লোকজ অনুষ্ঠানে ব্যবহার্য ফলাদির মধ্যে আমের ব্যবহার সর্বাধিক। এসব অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমের মতো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক খুব কম ফলেরই রয়েছে। কথিত আছে, স্বয়ং গৌতম বুদ্ধকে একটি আম্রকানন উপহার দেয়া হয়েছিল যেন তিনি তার ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। বলা হয়, বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন-সাং, যিনি ৬৩২ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝিতে ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন, তিনি আমকে সর্বপ্রথম বহির্বিশ্বে পরিচিত করান। মরোক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতাও চতুর্দশ শতকে আমের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে কয়েক হাজার বছর ধরে আমের চাষাবাদ চলছে, পূর্ব এশিয়াতে আমের প্রচলন হয় খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম-চতুর্থ শতাব্দী থেকে এবং চাষাবাদ শুরু হয় আরও পরে খ্রিস্টাব্দ দশম শতাব্দীর দিকে। মোগল সম্রাট আকবর তার শাসনামলে (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতের লাখবাগের দারভাঙার কাছে প্রায় এক লাখ আম গাছ রোপণ করেছিলেন। সেটিকে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সুসংগঠিত আমবাগান বলে মনে করা হয়।
আনুমানিক ১৭০০ সালে ব্রাজিলে প্রথম আম গাছ রোপণের আগ পর্যন্ত পশ্চিম গোলার্ধে আমের চাষ শুরু হয়নি। সেখান থেকে এ ফল ওয়েস্ট ইন্ডিজে পৌঁছায় ১৭৪০ সালের দিকে। আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয়...[…]

Travel Image

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

আত্ম বিস্মৃত বাঙালী জাতি চিরকালই অনিহা প্রকাশ করে এসেছে ইতিহাস আর ঐতিহ্য চর্চায়। এ কারণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রায় পোনে দুইশত বছর পূর্বে বাঙালীর ইতিহাস নাই বলে খোদোক্তি করেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐ খোদোক্তি দূর করার জন্য অনেক কৃতি বাঙালী বাংলার ইতিহাস চর্চায় ব্রতী হয়েছিলেন। কেউ ব্যক্তিগতভাবে, কেউ যুগ্নভাবে জাতির ইতিহাস ও ঐতিহার্য রক্ষায় তাদের মহান দয়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সথে পালন করে গেছেন। এসব ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্রয় হলেন দিঘাপতিয়ার (নাটোর) জমিদার কুমার শরৎকুমার রায় (জন্ম : ১৮৭৬,মৃত্যু: ১২ এপ্রিল ১৯৪৬) ও তার ২ সহযোগি অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় (জন্ম : ১ মার্চ ১৮৬১,মৃত্যু: ১০ ফেব্রয়ারী ১৯৩০)ও রমাপ্রসাদ চন্দ্র (জন্ম : ১৫ আগষ্ট ১৮৭৩, মৃত্যু: ২৮ মে ১৯৪২); তাদের পরিশ্রমের ফল ১৯১০ সালে গড়া বাংলদেশের একমাত্র শতবষীয় জদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর।
১৯০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের কাশিম বজারে রাজা মনীচন্দ্রের রাজবাড়ীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে¡ অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গীয় সহিত্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। ১৯০৯ সলে রাজশাহী শহরে পুঁঠিয়ার পাঁচ আনীর রাজ বাড়ীর চত্বরে আচর্য্য পি.সি. রায়ের সভাপতিত্বে বঙ্গীয় সহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে। এই সম্মেলনের আঞ্চল-ভিত্তিক একটি মৌলিক তথ্য সম্বলিত প্রবন্ধ উপস্থাপনে ব্যবস্থা করা হয়। তৎকালীণ রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক রমাপ্রসাদ চন্দ্র অত্যান্ত পরিশ্রম করে ‘বাঙালী জাতির উৎপত্তি’ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করে পাঠ করেন। মৌলিক তথ্য সমৃদ্ধ এই প্রবন্ধ উপস্থিত নবীন ও প্রবীণ সহিত্যিকদের মনে ব্যাপক অলোড়ন সৃষ্টি করে। এই সম্মেলনের রমাপ্রসাদ চন্দ্রকে এ অঞ্চলের উপর অর্থাৎ বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতœ সম্পদের উপরে আরো একটি প্রবন্ধ রচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয় এবং তা আগামী অধিবেশনে পাঠনীয় হিসাবে নিদ্ধারণ করা হয়।
পরের বছর, ১৯১০ সালে বিহারের ভাগলপুরে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে কুমার শরৎকুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় ও...[…]

Travel Image

রাজাপুর সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি

রাজাপুর সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি রাজাপুর উপজেলার একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম সাতুরিয়া। রাজাপুর- পিরোজপুর মহাসড়কের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের কিছু পূর্বে সাতুরিয়া গ্রামের জমিদার বাড়ির মাতুলালয়ে বাংলার বাঘের জন্ম। প্রায় ৩ শত বছর আগে সাতুরিয়ায় জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। এছাড়া দেখা যায় বিশাল এলাকা প্রায় একশত একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িতে অনেকগুলো পুকুর, ফুলের বাগান, তিনটি পুরনো কারুকার্য খচিত মোঘল আদলের তৈরি দালান, প্রধান ফটক বা সদর দরজা। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের চাখার হলেও, শৈশবের মধুর সময়গুলো মায়ের সাথে মামাবাড়ি সাতুরিয়ায় কেটেছে। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছে জমিদার বাড়ির মক্তবে। সাঁতার কেটেছেন বাড়ির সান বাঁধান পুকুরের ঘাটে। শুধু শৈশব নয়, তার রাজনৈতিক জীবন এবং কর্মজীবনের বহু মূল্যবান সময় তিনি সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে কাটিয়েছেন।
রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জমিদার বাড়ির মাতুলালয়ে বাংলার বাঘের জন্ম। রাজাপুর- পিরোজপুর মহাসড়কের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের কিছু পূর্বে সাতুরিয়া গ্রাম অবস্থিত ।
প্রায় ৩ শত বছর আগে সাতুরিয়ায় জমিদার বাড়িটি নির্মিত হয় । এখানে আসলে দেখাতে পাবেন বিশাল এলাকা প্রায় একশত একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িতে অনেকগুলো পুকুর, ফুলের বাগান, তিনটি পুরনো কারুকার্য খচিত মোঘল আদলের তৈরি দালান, প্রধান ফটক বা সদর দরজা। শেরে বাংলার পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের চাখার হলেও, শৈশবের মধুর সময়গুলো মায়ের সাথে মামাবাড়ি সাতুরিয়ায় কেটেছে।[…]

Travel Image

জগদ্দল মহাবিহার

জগদ্দল পাথর প্রবাদটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। কিন্তু এ নামের কোনও পাথর বা জায়গা আদতেই আছে কি? এসব তথ্য সরেজমিনে জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার জগদ্দল গ্রামে। অল্প খরচে স্বল্প সময়ে বেড়িয়ে আসার বেশ সুন্দর একটি জায়গা ‘জগদ্দল মহাবিহার’।
বাংলার চার শতাব্দীব্যাপী গৌরবময় রাজত্বকাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজারা তাদের বিশাল সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিভিন্ন রকম বৌদ্ধ মন্দির, মঠ ও স্তূপ নির্মাণ করেছিলেন। ধারণা করা হয় রাজা রামপাল প্রায় ৫০টি স্বয়ংসম্পূর্ণ বৃহদায়তন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। পাল রাজাদের নির্মিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের সোমপুর মহাবিহার, বিক্রমপুরের বিক্রমপুরী বিহার, মগধের বিশালায়তন বিক্রমশীলা মহাবিহার ও জগদ্দল মহাবিহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সম্ভবত রাজা ‘রামপাল’ (১০৭৭-১১২০) জগদ্দল মহাবিহার নির্মাণ করেন।
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট-জয়পুরহাট মহাসড়কের হরতিকডাঙ্গা বাজারের তিন কিলোমিটার উত্তরে, বাংলাদেশ-ভারতের কালুপাড়া সীমান্তের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ধামইরহাট থানা কার্যালয়ের ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এই জগদ্দল মহাবিহারের অবস্থান। এ স্থান থেকে পাহাড়পুর ও হলুদ বিহার বৌদ্ধ মন্দিরের দূরত্ব ২৭ কিলোমিটারের মধ্যে।
যেসব প্রত্নবস্তু উদ্ধার করা হয়েছে
সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ১৯৮৩-৮৪ সালে এ এলাকায় প্রাথমিক জরিপ করে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে জগদ্দল গ্রামের বিশাল ঢিবিতে এক সংক্ষিপ্ত খননকার্য চালানো হয়। এ সময় এখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নবস্তু উৎকীর্ণ লিপিযুক্ত দুটি পাথরের স্তম্ভ, যা এ প্রত্নস্থলের সময়কাল নির্ধারণে সহায়তা করে। এর একটি পাওয়া গেছে বিহারের পূর্বদিকের প্রবেশ পথের কাছে, অন্যটি দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে। পূর্বদিকের প্রবেশপথের কাছে প্রাপ্ত প্রথম স্তম্ভটির অষ্টকোণ দণ্ডের গায়ে দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শাসকের প্রাচীন বাংলা হরফে এর লিপিকার গঙ্গাপুরের শ্রী মক্কড় নন্দীর নাম উৎকীর্ণ আছে। মন্দিরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে প্রাপ্ত প্রস্তুর-স্তম্ভটি এখনও উৎখান-খাদে অর্ধপ্রোথিত রয়েছে। এটিতেও একই সময়ের প্রাচীন বাংলা লিপিতে উৎকীর্ণ রয়েছে লিপিকার...[…]

Travel Image

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত চুয়াডাঙ্গার আট কবর

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থান হচ্ছে আটকবর।আমাদের প্রাণের, আমাদের আবেগের ইতিহাস জড়িত এখানে।এটা একটি ঐতিহাসিক স্থান।বলা চলে- রাজাকার কুবাদ খা’র মায়াবী প্রতারণার ফাঁদ হচ্ছে এই আটকবর।
১৯৭১ সালের ০৩ আগস্ট,গেরিলা কমান্ডার হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা দামুরহুদা’র সীমান্তবর্তী জপুর শেল্টার ক্যাম্পে অবস্থান নেন।এসময়ে পাকিস্থান মুসলিম লীগের দালাল কুবাদ খাঁ পরিকল্পিত প্রতারনার ফাঁদ পাতে।সে জপুর ক্যাম্পে মুক্তিবাহিনীকে খবর দেয় যে, রাজাকারেরা নাটুদা, জগন্নাথপুর ও এর আশেপাশের জমি থকে পাঁকা ধান কেটে নেয়ে গেছে।দেশপ্রেমের টানে যুবকদের রক্ত টগবগ করে ওঠে।রাজাকার ও পাক আর্মিদের শায়েস্তা করতে ০৫ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা’র দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে বাগোয়ান এলাকায়।এসু্যোগে নাটুদা ক্যাম্পের পাক আর্মি পরিকল্পিতভাবে চতুর্দিকে ঘিরে ফেলে।শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ।আটকা পড়ে বেশ কয়েকজন।আটজন মুক্তিযোদ্ধাকে তারা হত্যা করে।বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।অবশ্য এ সম্মুখ যুদ্ধে অনেক পাক আর্মিও হতাহত হয়।পাক আর্মির নির্দেশে রাজাকারেরা ০৮ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে পাশাপাশি দু’টি গর্ত করে কবর দেয়।পরবর্তীতে এর নামাকরন হয় ‘আট কবর’।আটজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাগণ হচ্ছেন-(১) হাসান জামান, গোকুলখালি,চুয়াডাঙ্গা (২) খালেদ সাইফুদ্দিন তারেক, পোড়াদহ, কুষ্টিয়া (৩) রওশন আলম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা (৪) আলাউল ইসলাম খোকন,চুয়াডাঙ্গা শহর (৫) আবুল কাশেম, চুয়াডাঙ্গা শহর (৬)রবিউল ইসলাম, মোমিনপুর, চুয়াডাঙ্গা (৭) কিয়ামুদ্দিন, আলমডাঙ্গা (৮) আফাজ উদ্দিন চন্দ্রবাস, দামুরহুদা।

এখানে একটি মুক্ত মঞ্চ আছে।আছে সুরম্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা। সুন্দর সুন্দর ফুল বাগান আর বিভিন্ন প্রজাতির ফলগাছ আপনাকে স্বাগত জানাবে।পাখি ডাকা এই নিরিবিলি পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।এর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে- এর পরিসর ছোট।চেষ্টা চলছে এর পরিসর বৃদ্ধির।মুজিবনগর পরিদর্শনে এলে এটা দেখতে ভুলবেন না আশা করি।এর খুব কাছেই রয়েছে জমিদার নফর পাল’র হাজার দুয়ারি ঘর আর তাঁর স্ত্রীর জন্য নির্মিত অপুরুপ ‘তালসারি সড়ক’।আর ৫-৬ কিমি দূরে তো প্রথম রাজধানী মুজিবনগর থাকলই।[…]

Travel Image

তালসারি সড়ক

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা জেলাকে দুই ভাগ করেছে মোনাখালি-চুয়াডাঙ্গা সড়ক। এ সড়কের পূর্বদিকে চলে যাওয়া রাস্তার নাম তালসারি সড়ক। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গার ঐতিহাসিক সড়ক। অবিভক্ত বাংলার জমিদারি শাসনামলে এ সড়ক গড়ে তোলার পেছনে তৎকালীন জমিদার নফর পালের স্ত্রী রাধারানীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতেই এই পাখি ডাকা, ছায়াঘেরা সড়ক তৈরি করা হয় এমনটি বলেছেন ইতিহাসবিদরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস গ্রন্থের লেখক রাজিব আহমেদ জানান, এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন নফর পাল। তিনি ছিলেন ক্ষ্যাপাটে প্রকৃতির। তাঁর স্ত্রী রাধারানী ছায়াঘেরা পথে কৃষ্ণনগর যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। রাধারানীর ইচ্ছা পূরণ করতে জমিদার নফর পাল নাটুদহ থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সড়ক ছায়া সুনিবিড় করার উদ্যোগ নেন। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলেও প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তার সঙ্গে এক কিলোমিটার পর পর ফলবাগান গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়াও রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন জাতের গাছ রোপণ করা হয়। কালক্রমে আম, জাম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি গাছের সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে; কিন্তু বহুবর্ষজীবী হওয়ায় ওই সময় লাগানো তালগাছগুলো এখনো একপায়ে দাঁড়িয়ে পথিককে ছায়া আর ফল দিয়ে যাচ্ছে। নাটুদহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, এলাকার ক্ষ্যাপাটে জমিদার নফর পালের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে এসব তালগাছ। এগুলো শুধু ছায়া দেয় না, এলাকার অনেকের জীবন-জীবিকাও সচল রেখেছে। তিনি আরো জানান, সৌন্দর্যমণ্ডিত সরকারি এ সড়কের দুই পাশের তালগাছ থেকে অনেকে শীতকালে রস সংগ্রহ করে তা বেচে সংসার চালায়। মহাজনপুর গ্রামের শ্রমজীবী হালিমা জানান, তাঁর স্বামী মৌসুমের তিন মাস তালের রস সংগ্রহ করে তাঁদের সংসারের অভাব মেটান।
প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনকারী এই তালসারিতে আশপাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরা বনভোজন করতে আসে। জমিদার নফর পাল নেই, নেই তাঁর স্ত্রী রাধারানী; কিন্তু তালসারি সড়ক তাঁদের পরিচয় বহন করছে।[…]

Travel Image

রানী ভবানীর বাপের বাড়ি

রানী ভবানী একটি পরিচিত নাম। কিন্তু আমরা ক’জন জানি রানীভবানীর বাবার বাড়ি বগুড়ার সান্তাহারের ছাতিয়ানগ্রামে। আর সেখানেই এককালের অর্ধে বঙ্গেঁশ্বরী পরিচিতিন ’’রানীভবানীর” বিজরিত ছাতিয়ানগ্রামে তার স্মৃতি টুকু ও আজ ধংশের পথে। সংস্কার ও সংরক্ষনের অভাবে মহিয়সী এই নারীর জন্মস্থান হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য। ভেঙ্গেঁ ফেলা হয়েছে তার পিতার বাড়ী যেখানে তিনি ভূমিষ্ঠ হয়ে ছিলে। এখন তার পিতৃগৃহের ধবংশবশেষ আছে মাত্র। ভেঙ্গেঁ ফেলা হয়েছে মায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত জয় দুর্গা মন্দির এবং শিব মন্দির। এগুলি রক্ষার জন্য সরকারী উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়নি কখনো। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে পাকা রাস্তার ছাতিনগ্রাম। সপ্তদশ শতাব্দীর কথা ছাতিয়ানগ্রামে ছিলেন ছোট খাটো জমিদার নাম ছিল আত্মারাম চৌধুরী ও শ্রী জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানী। ছিলেন নিঃসন্তান সন্তান লাভের আশায় জমিদার তার বাড়ীর অদুরে নির্জন এক পুকুর পাড়ে ঈশ্বরের সাধনা অর্চনা শুরু করেন। শ্রী জয় দুর্গার গর্ভে জন্মে ছিলেন এক ফুট ফুটে কন্যা সন্তান তান নাম রাখা হয় ভবানী। আত্মারাম চৌধুরী যে স্থানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করে ছিলেন সে স্থানটি আজও সিদ্ধেশ্বরী নামে স্মৃতি বহন করে আসছে। ভবানীর বয়স যখন ৯/১০ বৎসর। একদিন নাটোর রাজবাড়ীর দেওয়াল (মগনেহর) দয়ারাম নবাব আলীবর্দী খানের দরবার থেকে ফেরার পথে ছাতিয়ানগ্রামে এসে রাত হয়ে যায়। সে খানে তাবু ফেলা হয় রাত্রি যাপনের জন্য।
নিয়মিত প্রাতঃভ্রমনের অভ্যাস ছিল দয়ারামের। ভোরে তিনি শয্যা ত্যাগ করে বেরুলেন তাবু থেকে। দেখলেন ফুট ফুটে একটি মেয়ে লাল শাড়ী পরে পুজার জন্য ফুল তুলছে। দেওয়ান দয়ারামের পছন্দ হল ঐ মেয়েটিকে। তিনি পিছু নিলেন মেয়েটির। পৌঁছলেন তিনি আত্মারাম চৌধুরীর বাড়ীতে জানলেন মেয়েটি আত্মারাম চৌধুরীর। নাম তার ভবানী। দেওয়ান নাটোরের রাজকুমার রামকান্তের সাথে ভবানীর বিয়ের প্রস্তাব দিলেন আত্মারামের কাছে।...[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.