তালসারি সড়ক Nokkhotro Desk

feature-image

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা জেলাকে দুই ভাগ করেছে মোনাখালি-চুয়াডাঙ্গা সড়ক। এ সড়কের পূর্বদিকে চলে যাওয়া রাস্তার নাম তালসারি সড়ক। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গার ঐতিহাসিক সড়ক। অবিভক্ত বাংলার জমিদারি শাসনামলে এ সড়ক গড়ে তোলার পেছনে তৎকালীন জমিদার নফর পালের স্ত্রী রাধারানীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতেই এই পাখি ডাকা, ছায়াঘেরা সড়ক তৈরি করা হয় এমনটি বলেছেন ইতিহাসবিদরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস গ্রন্থের লেখক রাজিব আহমেদ জানান, এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন নফর পাল। তিনি ছিলেন ক্ষ্যাপাটে প্রকৃতির। তাঁর স্ত্রী রাধারানী ছায়াঘেরা পথে কৃষ্ণনগর যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। রাধারানীর ইচ্ছা পূরণ করতে জমিদার নফর পাল নাটুদহ থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত সড়ক ছায়া সুনিবিড় করার উদ্যোগ নেন। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলেও প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তার সঙ্গে এক কিলোমিটার পর পর ফলবাগান গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়াও রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন জাতের গাছ রোপণ করা হয়। কালক্রমে আম, জাম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি গাছের সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে; কিন্তু বহুবর্ষজীবী হওয়ায় ওই সময় লাগানো তালগাছগুলো এখনো একপায়ে দাঁড়িয়ে পথিককে ছায়া আর ফল দিয়ে যাচ্ছে। নাটুদহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, এলাকার ক্ষ্যাপাটে জমিদার নফর পালের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে এসব তালগাছ। এগুলো শুধু ছায়া দেয় না, এলাকার অনেকের জীবন-জীবিকাও সচল রেখেছে। তিনি আরো জানান, সৌন্দর্যমণ্ডিত সরকারি এ সড়কের দুই পাশের তালগাছ থেকে অনেকে শীতকালে রস সংগ্রহ করে তা বেচে সংসার চালায়। মহাজনপুর গ্রামের শ্রমজীবী হালিমা জানান, তাঁর স্বামী মৌসুমের তিন মাস তালের রস সংগ্রহ করে তাঁদের সংসারের অভাব মেটান।

প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনকারী এই তালসারিতে আশপাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরা বনভোজন করতে আসে। জমিদার নফর পাল নেই, নেই তাঁর স্ত্রী রাধারানী; কিন্তু তালসারি সড়ক তাঁদের পরিচয় বহন করছে।
A A