Site maintenance is running; thus you cannot login or sign up! We'll be back soon.

এই শীতে হাকালুকি হাওর

উপরে নীল আকাশ, চারদিকে শান্ত জলরাশি। স্বচ্ছ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অপরূপ প্রতিচ্ছবি। নৌকা নিয়ে গোটা বিল চষে বেড়ানো, পাশেই উড়ন্ত বড় বকের ঝাঁক, নিচে বসা কালো লেজ জৌরালি ও দাগিলেজ জৌরালির ঝাঁক। চারপাশ জুড়ে চেনা-অচেনা পাখিদের মিলন মেলা শীতের ভ্রমণের অন্যতম এক আকর্ষণ। শীতের সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসা পাখিদের কলতানে মুখরিত হয়ে থাকে আমাদের দেশের এসব হাওর অঞ্চল। শীতের সময়ে এসব হাওরের রূপ-বৈচিত্র্য দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন।
কিভাবে যাবেন ?
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি সিলেটে যেতে হবে। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন পেয়ে যাবেন। ভাড়া পড়বে ৩৫০-৫০০ টাকা। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার ছাড়া প্রতিদিনই পেয়ে যাবেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৫০-৭০০ টাকা। সিলেট শহর থেকে যে কোনো স্থানেই ভ্রমণের জন্য বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা পেয়ে যাবেন।

কোথায় থাকবেন ?
এসব হাওরের আশপাশে থাকার জন্য তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। সারা দিন বেড়ানোর পর সিলেটের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল শহরসহ আশপাশে অনেক হোটেল-মোটেল বা রিসোর্ট পাবেন। এসব হোটেল-রিসোর্টে ৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় রুম পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি। পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় ও পূর্বে পাথারিয়া মাধব পাহাড় বেষ্টিত হাকালুকি হাওর সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট-বড় প্রায় ২৩৮টিরও বেশি বিল ও ছোট-বড় ১০টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়। থই থই জল আর হিজল বনের রূপকথার গন্ধ মিলবে হাকালুকিতে। ঘন কুয়াশার সকাল, তপ্ত দুপুর আর লাল গোধূলি এখন এই অপরূপের দেশে। ধানের ক্ষেত হাওয়ায় দোলে, জলাশয়ে ছোট্ট ডিঙি, রাখালের গরুর পাল নিয়ে হেঁটে চলা এ যেন সেই...[…]

Travel Image

ফাতরার চর

সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একটি চরের নাম ‘ফাতরার চর’। যদিও বন বিভাগের নামানুসারে এর নাম ‘ফাতরার বন’। মূলত সুন্দরবনেরই একটি অংশ পটুয়াখালীর এই অংশে এসে নাম নিয়েছে ফাতরার চর। বিখ্যাত সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাকে চেনে না এমন কম মানুষই আছে। সেই কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও খাল পেরিয়ে ট্রলারে করে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে এই চরে যেতে।
ফাতরার চর কুয়াকাটা
আগেই বলেছি, সুন্দরবনের একটি অংশ হচ্ছে এই চর। তাই এটিও একটি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। দিনে দুবার এটি জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়। বনে সুন্দরী, কেওড়া, বাইন, গোলপাতাসহ আরো বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ দেখা যায়। অজগর, গোখরা, গুই সাপের মতো সরীসৃপেরও দেখা পেতে পারেন ভাগ্য সহায় হলে। এ ছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডাকে আপনি বিমোহিত হবেন।
দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের বুকে চলার কিছুক্ষণ পরই আপনার চোখে পড়বে সাগরের বুকে জেগে ওঠা ফাতরার চরের বনভূমি। এ যেন সাগরের বুকে ভাসমান কোনো অরণ্য। ট্রলারে চেপে যখনই আপনি ফাতরার চরের খালে ঢুকবেন, তখনই আপনাকে স্বাগত জানাবে দুপাশের ঘন সবুজ অরণ্য। ট্রলারের জেটি পেরিয়ে আপনি চরের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়বে শান-বাঁধানো একটি পুকুর ও বন বিভাগ নির্মিত একটি রেস্টহাউস। মূলত চরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা মানুষের মিঠাপানির জন্য করা হয়েছে এই পুকুর। বন বিভাগের কয়েকজন বনরক্ষী ছাড়া এখানে কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করে না। পুকুরপাড় দিয়ে আপনি এবার প্রবেশ করবেন ঘন গহিন অরণ্যে। প্রকৃতির এই নিস্তব্ধতার মাঝে ক্ষণে ক্ষণে ডেকে ওঠা পাখির ডাক আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে। চরের পূর্ব অংশে রয়েছে একটি ছোট সমুদ্রসৈকত, ভাটার সময়ে আপনি নামতে পারেন এই সৈকতটিতে। এখানে যেতে হলে বনের সবুজ অরণ্য আর কয়েকটি ছোট খালের ওপরে তৈরি...[…]

Travel Image

সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি সোনাদিয়া দ্বীপ

প্রকৃতির অদ্ভুদ সব সৌন্দর্য মানুষকে প্রতিনিয়ত কাছে টানছে সৃষ্টির শুর হতে। যেন সৃষ্টার সৃষ্টি সব কিছু দিয়ে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের দণি-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেষে জেগে থাকা সোনাদিয়া দ্বীপ।পৃথিবীর এক মাত্র দ্বীপ যেখানে সব চেয়ে বড় ঝাউবন রয়েছে। পুরো দ্বীপটাই বালির, সৈকতের পাড়ে শান্ত ঢেউয়ের আচড়ে পড়ার দৃশ্য সবার মনে দোলা দেওয়ার মতই। এখানে সাগরের ঢেউ গুলো ঋতু অনুযায়ী রুপ ধারণ করে। যেমন- বর্ষ আসলে সাগরের ঢেউ বড় আকারের হয়, শীত আসলে ঢেউ শান্ত হয়, শরৎ আসলে শুভ্র বাতাসের আমেজে পুরো সৈকতটাকে স্বর্গীয় মনে হয়।
সোনাদিয়া দ্বীপটি ছোট ছোট দুটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। দ্বীপের দেিণ দীর্ঘ ঝাউবন আর উত্তরে ম্যানগ্রোভ বন, যা দ্বীপকে প্রাকৃতিক দূযোর্গ থেকে রা করে। এ দ্বীপে জন সংখ্যা কম থাকায় লোক জন তেমন একটা চোখে পড়ে না তাই যখন আপনি সমুদ্র সৈকতে হাটবেন তখন আপনার কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ো কোন মানুষ দেখতে পাবেন না, মনে হবে এই দ্বীপে আপনিই একা। আর এই অনুভূতিটাই হতে পারে আপনার ভ্রমনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।
এখানে আপনাকে আকৃষ্ট করবে পরিষ্কার বালি, চিরসুজের ঝাউবন, ঝাউয়ের ছায়ায় শীতল বালিতে বসে আড্ডা দেয়া। সোনাদিয়া বীচে আপনাকে গোসল করতে হলে সাঁতার জানাটা খুব জরুরী কেন না কক্সবাজাররের অন্যান্য বীচের চেয়ে এই দ্বীপের বীচ খুবই গভীর।
এখানে পাবেন দেশের সব চেয়ে উন্নত মানের যে কোন ধরনের শুটকি। এখানকার বাসিন্দারা জেলে হওয়ায় আপনি পাচ্ছেন বাড়তি এ সুবিধা।
আপনি আপনার পরিবার অথবা বন্ধু নিয়ে ভ্রমন করতে পারেন কোন রকম ঝামেলা ছাড়া। সোনাদিয়া দ্বীপটি মূলত কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার
একটি ওয়ার্ড। সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে কক্সবাজার আসতে হবে।
কক্সবাজার লাবনী পয়েন্ট বা মেইন বীচে আসতে হবে অর্থাৎ আপনাকে...[…]

Travel Image

ছুটি কাটুক ঢেউয়ের তালে

একটু ছুটি মিললেই কেউ কেউ পরিবারসহ শিশুপার্ক, পার্ক, জাদুঘরসহ নানা জায়গা ঘুরতে যায়। এবারের ছুটিতে না হয় একটু ঢেউয়ের তালে তালে পানিতে ঘুরলেন। মানে নৌকায় করে ঘোরার কথা বলছি। কোনো কোনো নদীর তীরের পাশে কাশবনও দেখতে পারবেন। দেখে নিন কোথায় কোথায় ঘুরতে পারেন এই শীতে।
বুড়িগঙ্গা, সদরঘাট
বুড়িগঙ্গায় নৌকায় করে ঘোরার সময় দেখতে পারবেন লঞ্চ ঘাটে ভিড়ছে, কোনোটা আবার ছেড়ে যাচ্ছে। চোখের পলকে শাঁই শাঁই ছেড়ে যাচ্ছে স্পিডবোটগুলো। এখানে ঘণ্টা হিসেবে নৌকা ভাড়া দেওয়া হয়। প্রতি ঘণ্টা নৌকাভ্রমণে ভাড়া পড়বে ২০০-৩০০ টাকা। ২৫-৩০ জনের বেলায় ট্রলার ভাড়া নিতে পারেন, সে ক্ষেত্রে গুনতে হবে ১৫০০-২০০০ টাকা। তবে নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়া স্পিডবোটে চড়ার সুযোগ নেই এখানে।
ধানমন্ডি লেক
এই ছুটিতে নৌকাভ্রমণের শখটাও মেটাতে পারেন ধানমন্ডি লেকের পানিতে। তবে ভয় নেই, প্রত্যেকের জন্যই লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা আছে এখানে। ‘ডিঙি বোট’-এর এই নৌকাভ্রমণে নৌকাপ্রতি প্রথম ৩০ মিনিট ১০০ টাকা, পরবর্তী ১৫ মিনিট ৫০ টাকা ভাড়া। প্রতি নৌকায় শিশুসহ সর্বোচ্চ তিনজন, শিশু ছাড়া সর্বোচ্চ দুজন চড়তে পারবেন। তবে অভিভাবক ছাড়া ১২ বছরের ছোট শিশুদের নৌকাভ্রমণ নিষিদ্ধ।
মিরপুর বেড়িবাঁধ, ঢাকা
মিরপুর বেড়িবাঁধে নৌকাভ্রমণের আগেই অনেক কিছু দেখার সুযোগ আছে। এক পাশে ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর আর অন্য পাশে দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির তুরাগ নদী। এখানে-ওখানে ফুটে আছে নাম না জানা ফুল। বাঁধের পাথুরে ব্লকগুলোয় ফাঁকে ফাঁকে সবুজ ঘাস জাল বিছিয়ে আছে । বাঁধকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর দাঁড়ানো জলে ভাসা রেস্তোরাঁ। নামগুলোও চমৎকার: শীতল, স্বপ্নচূড়া, স্বপ্ন বিলাস, গাঙচিল। গাঙচিলের পাশে নৌকার ঘাট। পাঁচজনের ছোট ডিঙি নৌকায় জনপ্রতি ১০০ টাকায় বেড়ানো যাবে ঘণ্টাব্যাপী। আর ৩০-৩৫ জনের বেলায় ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পুরো দিন
কাটিয়ে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে...[…]

Travel Image

ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক

ঢাকা শহর থেকে যে কয়েকটি জেলা অতি নিকটে তার মধ্যে গাজীপুর জেলা অন্যতম। এই গাজীপুর জেলাতেই ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক অবস্থিত।
অবস্থান
ঢাকা থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ও গাজীপুর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে জয়দেবপুরে ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কটি অবস্থিত।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যেকোনো বাসে চড়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ফটকের সামনেই নামা যায়। এ ছাড়া ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি বাস চলে এ পথে। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। নিজস্ব বাহনে গেলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে ময়মনসিংহের দিকে কিছু দূর চলতে হাতের ডানে পড়বে এর প্রধান প্রবেশপথ।
যা দেখতে পাবেন
গাছে গাছে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই নজরকাড়া। সারি সারি বৃক্ষের মাঝে পায়ে চলা পথ। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য আছে বেঞ্চ কিংবা ছাউনি। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে পড়বে ধানক্ষেত। কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোট আকারের লেক।
এ ছাড়া ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বনভোজন কেন্দ্র। এগুলোর নামও বেশ মজার। আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু, অবকাশ, অবসর, বিনোদন আরো কত বাহারি নামের বনভোজন কেন্দ্র । এখানকার কটেজগুলোও বাহারি নামের। বকুল, মালঞ্চ, মাধবি, চামেলী, বেলী, জুঁই ইত্যাদি। নামের মতো এগুলোর পরিবেশও ভিন্ন আমেজের। পিকনিক স্পট কিংবা রেস্ট হাউস ব্যবহার করতে হলে বন বিভাগের মহাখালী কার্যালয় থেকে আগাম বুকিং দিয়ে আসতে হয়।
প্রধান আকর্ষণ
একসময় ভাওয়াল উদ্যানে পাওয়া যেত ব্লাক প্যান্থার, চিতা বাঘ, ময়ূর, হাতি। এসব এখন ইতিহাস। ক্রমাগত বন উজাড়ের ফলে দিনে দিনে এর পরিধি কমে আসায় এ বন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে নানান বন্যপ্রাণী। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বনকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে। পৃথিবীর অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের আদলে ৫০২২ হেক্টর জমিতে ১৯৭৩ সালে এ উদ্যান সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয়।...[…]

Travel Image

বালিয়াটি প্রাসাদ

ঢাকা বিভাগের একটি উল্লেখযোগ্য জেলার নাম মানিকগঞ্জ। মানিকগঞ্জ জেলায় যে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে বালিয়াটির জমিদার বাড়ি অন্যতম। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বালিয়াটির জমিদার গোবিন্দরাম একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সেই প্রাসাদটিই বর্তমানে বালিয়াটি প্রাসাদ নামে সুপরিচিত।
কোথায় অবস্থিত
মানিকগঞ্জ শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়ার বালিয়াটিতে এই প্রাসাদটি অবস্থিত।
দেখতে পাবেন
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদারবাড়ি। ঢাকা থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্ব দিকে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু সুরম্য প্রাচীন স্থাপনা। অনেক দূর থেকে এখনও দালানগুলোর চূড়া মন কাড়ে আগতদের। সময়ের ব্যবধানে ভবনগুলো ধ্বংসের প্রহর গুনলেও আজও ঠায় দাঁড়িয়ে জানান দেয়া বালিয়াটির জমিদারদের সেকালের সেই বিত্ত আর বৈভবের কথা। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি বালিয়াটির জমিদাররা আঠারো শতকের প্রথম ভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমভাগ প্রায় দুইশ বছরের এ দীর্ঘ সময়টাতে বালিয়াটির জমিদারদের সুখ্যাতি ছিল বিস্তর। এ সময়ে তারা নানা রকম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করেন এ এলাকায়। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি সেগুলোর অন্যতম। জানা যায়, আঠারো শতকের মধ্যভাগে জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। আর ক্রমান্বয়ে তার উত্তরাধিকারীরা এখানে নির্মাণ করেন আরো বেশ কিছু স্থাপনা। এখানে পূর্ববাড়ি, পশ্চিমবাড়ি, উত্তরবাড়ি, মধ্যবাড়ি এবং গোলাবাড়ি নামে বড় আকারের পাঁচটি ভবন। জমিদারবাড়ির এই বিভিন্ন অংশ বালিয়াটি জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীরাই তৈরি করেন বলে জানা যায়। মূল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটির একই রকম পাঁচটি অংশ আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পূর্ব দিকের একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও বাকি চারটি টিকে আছে এখনও। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালজুড়ে নানা রকম কারুকাজ আজ মূর্তি চোখে পড়ে। বালিয়াটি জমিদারবাড়ির বিশাল কমপ্লেক্সটি উঁচু দেয়ালে ঘেরা। প্রাচীন আমলের সেই প্রাচীর এখনও টিকে আছে। এ চার...[…]

Travel Image

ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজার জেলা। পাহাড়, পর্বত, ঝার্ন্নাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৈচিত্র দিয়ে ঘেরা এই জেলাটি। এই জেলার চকরিয়া উপজেলাতেই ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক অবস্থিত। এটি ১৯৮০-৮১ সালে হরিন প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে চালু হয়েছিল। বর্তমানে এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নানা রকম বুনো জীবজন্তুর নির্ভয় আবাস স্থল।
কোথায় অবস্থিত
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে ডুলাহাজরা রিজার্ভ ফরেষ্টে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত বনাঞ্চলে সাফারী পার্কটি অবস্থিত।
সাফারী পার্ক কি
সাফারী পার্ক হলো সরকার ঘোষিত এলাকা যেখানে বণ্যপ্রানীদেরকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিপালন করা হয়। এর মধ্যে দেশী-বিদেশী বন্য প্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও অবাধ বিচরণের সুযোগ থাকে এবং যাতে পর্যটকগণ পায়ে হেঁটে বা যানবাহনে ভ্রমণ করে টিকিটের বিনিময়ে শিক্ষা,গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ থাকে। সাফারী পার্ক চিড়িয়াখানা থেকে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীব-জন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে আর সাফারী পার্কে মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে।
দেখতে পাবেন
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে ডুলাহাজরা রিজার্ভ ফরেষ্টে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত বনাঞ্চলে সাফারী পার্কটি অবস্থিত। এটি ১৯৮০-৮১ সালে হরিন প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে চালু হয়েছিল। বর্তমানে এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নানা রকম বুনো জীবজন্তুর নির্ভয় আবাস স্থল এবং ইকো-ট্যুরিজম ও গবেষণার পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এর আয়তন ৯০০ হেক্টর। এখানে বুনো জীব  উপভোগ করতে পারেন। এই পার্কে তথ্য শিক্ষা কেন্দ্র, প্রাকৃতিক ঐতিহাসিক জাদুঘর,পরিদর্শন টাওয়ার এবং বিশ্রামাগার রয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হতে উত্তরে পার্কটির দূরত্ব ৫০ কি:মি: এবং চকরিয়া সদর হতে দক্ষিণে ১০ কি:মি:। এর আয়তন প্রায় ৯০০ হেক্টর।
প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত নির্জন উঁচু নিচু টিলা,প্রবাহমান ছড়া,হ্রদ,বিচিত্র গর্জন এর মত সু-উচ্চ ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক বৃক্ষ চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-গাছালি,ফল-ভেষজ উদ্ভিদ,লতার অপূর্ব উদ্ভিদের সমাহার ও ঘন আচ্ছাদনে গড়ে উঠেছে সাফারী পার্ক। এর ছায়া ঘেরা...[…]

Travel Image

ছুটির দিনে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন, নানা বৈচিত্র্য, পাহাড়ী ঝর্ণাধারা আর সবুজের সমাহারপূর্ণ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ, নদী বয়ে চলে তার আপন মনে। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা যেখানে প্রকৃতি কথা বলে কবিতার ভাষায়। নদীর বাঁকে বাঁকে বাতাস সুর তোলে আপন মনে, গায় সুন্দরের গান। চারপাশ যেন আঁকা কোন জল রঙের ছবি। এখানে হাজার রঙের প্রজাপতি খেলা করে সবুজের মাঝে, রাতের আঁধারে দীপ জ্বেলে যায় লক্ষ কোটি জোনাকীর দল। এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়ানাভিরাম দৃশ্যপট। এ জেলার বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে।
একাধিক পর্যটন স্পটসমৃদ্ধ এ জেলায় রয়েছে আলুটিলার সুড়ঙ্গ পথ, রিছাং ঝর্ণা, নুনছড়ি দেবতা পুকুর, দীঘিনালায় উপজাতীয়দের সংস্কৃতিসমৃদ্ধ মানিক্যাদীঘি, মাটিরাঙ্গায় শত সহস্র বছরের পুরনো মায়ের মমতা ও মাতৃত্ববোধের অপরূপ দৃশ্য বটতলী, সর্বোচ্চ বৌদ্ধমূর্তি সম্বলিত পানছড়ি অরণ্য কুটির, আলুটিলা আলোক ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার, দীঘিনালা শিবছড়ি পাহাড়, জেলা সদরে পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি ও দৃষ্টি নন্দন কর্নেলের বাগান। ঐতিহাসিক লোগাং ধুদুকছড়া, শুকনাছড়ি রহস্যে ঘেরা মন্দির। মহালছড়িতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীরউত্তম ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের শাহাদাত বরণের স্থান ও রামগড়ে সমাধিস্থল, ঝর্ণা টিলায় মনোরম পাহাড়ী ঝর্ণা এবং প্রায় ১৬ শ’ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ভগবান টিলা ও জেলার রামগড়ে রয়েছে বিডিআর’র এর জন্মস্থান এবং প্রথম সদর দফতর, কৃত্তিম পর্যটন লেক, ঝুলন্ত সেতু, বনবীথি মৎস্য লেক ও বাগান।
এছাড়াও চা বাগান পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান। তবে খাগড়াছড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পর্যটন...[…]

Travel Image

বিমান বাহিনী জাদুঘর

আকাশে ওড়ার স্বপ্ন কমবেশি আমাদের সবারই আছে। পাখির মতো আকাশে ভেসে বেড়াতে না পারলেও এখন উড়োজাহাজে করে মানুষ আকাশে উড়তে পারে।
তবে উড়োজাহাজে করে ঘুরে বেড়ানো, উড়োজাহাজকে কাছ থেকে দেখার সাধ ছোট-বড় সবার থাকলেও সে সাধ্য আমাদের কয়জনের আছে?
উড়োজাহাজকে কাছ থেকে দেখার এবং আপনার বিমান ভ্রমণের ইচ্ছাটাকে একটু হলেও পূরণ করতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নির্মাণ করেছে দেশের প্রথম বিমান বাহিনী জাদুঘর।
যেখানে সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর। দুই দিকেই বড় প্রাচীর। মাঝখানে মাঠের ওপর সাজানো আছে নানা আকৃতির বিমান, হেলিকপ্টার, রাডারসহ নানা সরঞ্জাম। কোনোটা বিশাল আকৃতির যুদ্ধবিমান, কোনোটা আবার যাত্রী পরিবহনের হেলিকপ্টার। দু-চারটি নয়, ২১টি যুদ্ধবিমান!
জাদুঘরের প্রবেশ মূল্য মাত্র ২০ টাকা। টিকিট কাউন্টার অতিক্রম করলেই বামপাশে চোখে পড়বে নীলাদ্রি। এই দোকানে পাওয়া যাবে বিমান বাহিনীর স্মারকসহ আরো অনেক কিছু। ডান পাশে জাদুঘরের অফিস পেরুলে একটু সামনেই চোখে পড়বে একটি মানচিত্র। এক নজর মানচিত্রে চোখ বুলালেই আপনার ধারণা হয়ে যাবে পুরো জাদুঘরের কোথায় কী আছে।
সামনের দিকে এগোতেই চোখ আটকে যাবে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারায়। ফোয়ারার পাশেই দাঁড়িয়ে বিশাল আকৃতির এক বিমান এন-২৪ পরিবহন বিমান। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম যাত্রীবাহী বিমান। রাশিয়ায় তৈরি এই বিমান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বলাকা নামে সংযোজিত হয়। ৪৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার এই বিমান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করতেন। আপনি চাইলে চড়ে দেখতে পারেন বিমানটিতে। মাত্র ৩০ টাকার টিকিট সংগ্রহ করে ঘুরে দেখতে পারেন পুরো বিমানটি। বিমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুব্যবস্থা রয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দরের পশ্চিম রানওয়েতে (আইডিবি ভবনের বিপরীত পাশে) সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিমানবাহিনীর এ নতুন জাদুঘর। এতে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ডাকোটা বিমানটিসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন।
এ জাদুঘর ঘুরে দেখা যায় নানা শ্রেণির...[…]

Where do you want to travel?

Your journey will lead you to famous domestic and foreign beauty spots.