মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র সুবাদার শাহ সুজার আমলের হোসেনী দালান
ঘরোয়া পদ্ধতিতে নাকের ত্বকের দাগ দূর
*নাকের দুপাশে কালচে থেকে মুক্তি পেতে-
এক চামচ মুলতানি মাটি, ৪ থেকে ৫ টা লবঙ্গ গুড়া গোলাপ জলে মিশিয়ে নাকের চারপাশে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
*নাকের উপর থেকে কালচে ভাব দূর করতে-
টকদই, মধু ও ডিমের সাদা অংশ একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করুন।
*অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের নাকের উপরে এবং দুপাশে আলগা মরা চামড়া দেখা দিলে-
কমলালেবুর খোসাগুঁড়ো, আমন্ড পাউডার ও ওটের ভুসি দুধের সাথে মিশিয়ে লাগিয়ে নিন ত্বকে। সপ্তাহে দু’দিন ব্যবহার করুন।
*নাকের চারপাশের ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে-
আমন্ড অয়েল ও নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ম্যাসেজ করুন।
শুষ্ক ও ফাটা চুলের যত্ন
*চুলের অবস্থা বাজে হলে শ্যাম্পু বদলে দেখুন পার্থক্য হয় কিনা। অনেকের চুলে সব শ্যাম্পু স্যুট নাও করতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্যাম্পু বদলানোর কারণে চুলের চেহারা বদলে যায়। এভাবে বার বার শ্যাম্পু বদলে চুলের জন্য মানাসসই শ্যাম্পু খুঁজে নিতে পারেন।
*পানি শুধু দেহকেই সুস্থ রাখে না, চুলের বৃদ্ধির জন্যও বেশ কার্যকর। তাই নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি খান।
*শুকনো আর ফাটা চুল বড় করতে হলে তাপ এড়িয়ে চলতে হবে। চুল আয়রন করবেন না। স্ট্রেইট করা থেকে আপাতত বিরত থাকুন। চুল বড় করে তারপর একটি ব্যবস্থা করা যাবে।
*যদি চুলের জন্য প্রতিদিনই মাল্টিভিটামিন খেয়ে থাকেন, তার সঙ্গে যোগ করুন ফোলিক এসিড ও বায়োটিন। এতে মাথার খুশকি দূর হবে এবং স্কাল্পের ত্বক পরিপুষ্ট মনে হবে।
*একটি সুন্দর পছন্দের চুলের কাট দিয়ে দিন। সেই চুলটিকে বড় করতে থাকুন। কোনো কাটিং ছাড়া এমন শুকনো চুল দেখতেও ভালো লাগে না। তাই একটি সুন্দর হেয়ারকাট দিয়ে চুল বড় করুন।
*চুলের শুষ্কতা দূর করতে হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে মলিনভাব দূর হয়ে যাবে। এ ছাড়া ফাটা চুলও কিছুটা সুস্বাস্থ্য ফিরে পেতে পারে। দুই-তিন দিন পর পরই সাধারণ কন্ডিশনার অথবা সপ্তাহে একদিন ডিপ কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।
*খাবারের ওপর যে চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে তা আমরা প্রায়ই ভুলে যায়। তাই রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিজপূর্ণ একটি বারগার খাওয়ার আগে চুলের কথা ভেবে দেখবেন। ভিটামিন ই-যুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
ত্বকের যত্নে স্টিম ফেসিয়াল
ত্বকের যত্নে আমরা কত কিছুই না করি। নিজেকে সুন্দর রাখার জন্য সুন্দর ত্বক অপরিহার্য। আর তাই এই ত্বক সুন্দর করতে আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে ফেসিয়ালের গুরুত্ব অপরিসীম।
ফেসিয়াল আপনার ত্বককে সজীব রাখে। বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল হয়, তবে সেসব অভিজ্ঞ মানুষের কাছ থেকেই করা ভালো। অর্থাৎ পার্লারে করা ভালো। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা সময়ের অভাবে যেতে পারেন না পার্লারে।
তাঁদের জন্যই রইলো ত্বক পরিষ্কারের একটি সহজ উপায়। ফেসিয়ালের মধ্যে স্টিম ফেসিয়াল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কেননা উত্তপ্ত বাষ্প রোমকূপের মুখকে প্রসারিত করে।
ফলে ধুলো ময়লা ও অবাঞ্ছিত তৈলাক্ত পদার্থ আটকে থাকা সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। গরম পানির ভাপ মুখে নিলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এবং এই ফেসিয়াল একটু মনযোগী হলে নিজে ঘরে বসেই করা সম্ভব।
আসুন জেনে নেই কি করে ঘরে বসে স্টিম ফেসিয়াল করা যায়:
*মাথার চুল পিছন দিকে আঁচড়ে বেঁধে ফেলুন।
*একটা বড় গামলায় অর্ধেকটা ফুটন্ত গরম পানি নিন।
*একটা বড় তোয়ালে পিঠের দিক থেকে মাথার উপরে টেনে গামলা ঢেকে দিন যাতে বাষ্প বেরিয়ে যেতে না পারে। অনেকটা তাবুর মত করে তোয়ালে দিয়ে ঝুঁকে পড়া মাথা সমেত গামলা ঢেকে দিন।
*চোখ দুটো বন্ধ করুন।
*মাঝে মাঝে তোয়ালে সরিয়ে শ্বাস নিবেন। চামুচ দিয়ে মাঝে মাঝে পানি নাড়িয়ে দিলে বেশি করে বাষ্প উঠতে থাকবে। ১০ মিনিট ভাপ নিন।
*পানিতে আপনি ইচ্ছে করলে বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক উপাদান মিশাতে পারেন। যেমনঃ ১ চামুচ যোয়ান, ২টি লেবুর রস অথবা খোসা, ২ চামুচ থেঁতো মৌরি।
*ভাপ নেওয়া শেষ হলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন।
*সব শেষে ময়েসচারাইজার ক্রিম মেখে নিন। গামলার বদলে বেসিনের ফুটো বন্ধ করে করতে পারেন।
ফেসিয়াল এক্সার্সাইজ টিপস
*ডাবল চিন থেকে রক্ষা পেতে হলে ডায়েটে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। জাংক ফুড, ফাস্ট ফুড এবং অন্যান্য খাবার যা ক্যালরি এবং ফ্যাটে পরিপূর্ণ সেগুলো খাবারের লিস্ট থেকে বাদ দিতে হবে।
*সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন তৈলাক্ত মাছ খাবারের লিস্টে রাখুন। মাছের ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ তেল মুখের ইলাস্টিসিটি ইম্প্রুভ করে।
*খাবারের তালিকায় ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন ব্রাউন রাইস, বার্লি, মটরশুঁটি, আপেল এবং সবুজ শাক সবজি রাখার চেষ্টা করুন।
*দিনে কয়েকবার সুগার ফ্রি চিউইং গাম চিবাতে পারেন।
*খাবারে লবণের পরিমাণ কমান এবং খাবার খাওয়ার সময় ভালো মতো চিবিয়ে খান।
*এছাড়াও প্রতিদিন ১ ঘণ্টা শারীরিক এক্সার্সাইজ এবং ২০ মিনিট মুখের এক্সার্সাইজ করার অভ্যাস করুন-
• ঘরের এক জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়ান। এরপর আপনার মুখ এমন ভাবে পিছনে নিন যাতে মুখটি সিলিং এর দিকে আড়াআড়ি ভাবে থাকে। এখন ঠোঁট প্রসারিত করে সিলিং এর দিকে কিস্ করার মতো করুন। এভাবে ৫ সেকেন্ড রাখুন। ৫ বার পুনরাবৃত্তি করুন। এক্সার্সাইজ়টি করার সময় মুখের অন্যান্য যে মাসল গুলো ব্যবহার হয় না সেগুলো যতটা সম্ভব রিল্যাক্সড্ রাখার চেষ্টা করবেন।
• মেরুদন্ড এবং মুখ সোজা করে বসুন। এরপর নীচের ছবির মতো করে মাথা ধীরে ধীরে এক ঘাড় থেকে আরেক ঘাড়ের দিকে আবর্তিত করুন। এটি এমনভাবে করতে হবে যাতে একটি পূর্ণ সার্কেলের মত হয়। আর যদি ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করেন তাহলে সেমি সার্কুলার গতিতে করতে পারেন। এভাবে ৩-৫ বার করুন। তবে এই এক্সার্সাইজ় করার সময় বেশি তাড়াহুড়া করা যাবে না।
• ফ্লোরে জোর আসনে বসুন। এখন বাম হাতটি কোমর থেকে ১০ ইঞ্চি দূরে ফ্লোরের উপর রাখুন। আঙ্গুল গুলোর উপর খুব জোরে ভর দিবেন না। এবার ডান হাত এবং তালু সোজা করে উপরে উঠান এবং...
রূপচর্চায় অলিভ অয়েল বা যইতুন তেল
*অলিভ অয়েল বাথঃ
এক বালতি পানিতে ৫ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন আর গোসল করুণ। আর এরপর অনুভব করুন তুলতুলে নরম, সিল্কি ত্বকের স্পর্শ অথবা আপনি যদি গোসলের আগে অভিল অয়েল দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করে নেন তাহলেও সেই একই ফলাফল পাবেন।
*নখের যত্নেঃ
অলিভ অয়েল একটা বাটিতে নিয়ে হালকা গরম করে নিন। তারপর নখ গুলো ডুবিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট। এরপর দেখুন আপনার নখ গুলো কেমন শাইন দিচ্ছে আর এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে নখগুলো শক্তও হয়ে যাবে।
*আই ক্রিমঃ
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আপনার রিং ফিঙ্গার দিয়ে আলতো হাতে অলিভ অয়েল বুলিয়ে দিন। অলিভ অয়েল চোখের চারপাশের কুঁচকে থাকা ত্বককে হাইড্রেট করে আর নরম করে তোলে।
*পা ফাটা রোধঃ
নরম তুলতুলে পায়ের জন্য, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন, তারপর মোজা পরে ঘুমান।
*ঠোঁটের যত্নেঃ
আপনার নরম কোমল ঠোঁটের কোমলতা আর উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে, নিয়ম করে প্রতিদিন অল্প অলিভ অয়েল ঠোঁটে বুলিয়ে নিন।
*মেক-আপ রিমুভারঃ
আঙ্গুলের ডগায় অথবা কটন প্যাডে অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিন। তারপর সার্কুলার মোশনে আস্তে আস্তে সমস্ত মেক-আপ তুলে ফেলুন। তারপর ভালো মানের ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। যাদের সেনসেটিভ স্কিন তারা নিরাপদে মেক-আপ তুলুন।
*মুখের যত্নঃ
মাস্ক– একটি ডিমের কুসুমের সাথে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল আর ৩ ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। তারপর মুখে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করে প্রথমে হালকা গরম পানি তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নরমাল অথবা শুষ্ক ত্বকে এই মাস্ক আর্দ্রতা বজায় রাখবে সেই সঙ্গে নরম কোমল করে তুলবে।
ময়েশচারাইজার– ১/২ কাপ অলিভ অয়েল, ১/৪ কাপ ভিনেগার আর ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে একটি সলিউশন তৈরি করুন। যা রাতে ঘুমানোর...
ছেলেদের চুলের যত্নে টিপস
*ভালো মানের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন চুল ধোয়ার পরও যেন চুলে শ্যাম্পু কিংবা কন্ডিশনার লেগে না থাকে।
*বেশি বেশি ফলমূল, শাকসবজি ও পানি খান।
*চুলে আরামদায়ক কোনো কাট দিন।
*চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না।
*রোদে বের হলে অবশ্যই ছাতা কিংবা ক্যাপ ব্যবহার করুন।
*খুশকি ও চুল পড়া দূর করতে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
*সপ্তাহে একদিন- ১ টেবিল চামচ বাটা মেহেদির সঙ্গে ২ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
*সপ্তাহে দুইদিন- ১ টেবিল চামচ লেবুর রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মেথির গুঁড়া ও ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
*সপ্তাহে একদিন- ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ আমলকির রস ও ১ টেবিল চামচ মেহেদি বাটা মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
১ মিনিটেই সৌন্দর্য!
সুন্দর’ হতে কে না চায়! কেউ ঘাটের কড়ি খসিয়ে দৌঁড়ান বিউটি পার্লারে। কেউ সৌন্দর্য খোঁজেন ‘ব্র্যান্ডেড’ উপকরণে। অথচ এমন অনেক ঘরোয়া উপকরণ আছে যা দিয়ে নিয়মিত যত্ন করলে আপনি হবেন নিমেষে ‘সুন্দর’।
তেমন-ই কিছু টিপস আপনার জন্যঃ-
১. রোজ মধুতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখতে পারলে বলিরেখা পড়বে না।
২. এক চামচ গোলাপ পানিতে এক চামচ দুধ আর দু’তিন ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখুন। আর হাতে গরম জেল্লাদার ত্বক পান।
৩. মৃতকোষ তুলে ত্বক পরিষ্কার করতে চান? স্ক্রাবিং করুন এক টুকরো টোম্যাটো দিয়ে।
৪. ত্বকের অতিরিক্ত তেলাভাব নিয়ে বিব্রত? এক চামচ লেবুর রসে এক চামচ গোলাপ জল আর পুদিনা পাতা বাটা মিশিয়ে মুখে মাখুন। এক ঘণ্টা রেখে পানিতে ধুয়ে নিন। ওই পেস্ট আবার মেখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। বাড়তি তেল উধাও।
৫. একটি পাত্রে এক চামচ কমলালেবুর রস, এক চামচ মধু বা গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানান। এই পেস্ট নিয়মিত মুখে মাখলে উজ্ব্বল ত্বক হাতের মুঠোয়।
৬. নিভাঁজ, টানটান ত্বক চাইলে মুখে মধু মেখে কিছুক্ষণ রেখে তারপর আঙুল দিয়ে মাসাজ করুন। ঈষদুষ্ণ পানিতে ধুয়ে নিন।
৭. বাদাম তেলে মধু মিশিয়ে চোখের তলায় লাগান। এবং আঙুল দিয়ে কিছুক্ষণ মাসাজ করে ধুয়ে নিন। কালচে ছোপ কমে যাবে।
৮. ঘরোয়া ক্লেনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে চাইলে চালের গুঁড়োয় টকদই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে, গলায় ভালো করে মাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে নিন।
৯. কিছুতেই ত্বকের শুষ্কভাব কমছে না? নারকেল তেলে মধু আর কমলালেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখুন। কিছুক্ষণ রেখে ঈষদুষ্ণ পানিতে ধুয়ে নিন। শেষে নারকেল তেল বা অন্য কোনও ময়েশ্চারাইজার মাখতে ভুলবেন না।
১০. নিয়মিত টমেটোর রস মুখে মাখলে অবাঞ্ছিত দাগ-ছোপ দূর হবে।
১১. ব্রণ বিব্রত করছে? সিদ্ধ...
ধুলা-বালি থেকে ত্বক বাঁচানোর টিপস
*তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন-
বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকে ধুলা বেশি জমে। তিন-চারবার পানির ঝাপটা দিতে পারেন মুখে। এতে ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল দূর হবে। ফলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।
এ ছাড়া তুলার সাহায্যে টোনার দিয়ে মুখ মুছে ফেলতে হবে। তেলমুক্ত ক্লেনজিং ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিন। আলতো করে মুখ মুছে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়াও বাড়িতে আগে থেকে ফেসপ্যাক বানিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। মসুরের ডাল অথবা মটরে ডালের বেসন, শসার রস ও সামান্য পরিমাণ টকদই দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকে শসার রস পরিমাণে বেশি রাখতে হবে। সম্ভব হলে প্রতিদিনই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়বে। তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে।
*মিশ্র ত্বকের যত্ন-
এ ধরনের ত্বকে কোনো অংশ তৈলাক্ত আবার কোনো অংশ স্বাভাবিক বা শুষ্ক হয়ে থাকে। তাই মিশ্র ত্বকে প্রতিদিন টোনার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন, যাতে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে যায়।
প্রতিদিন যেকোনো ম্যাসাজ ক্রিম দিয়ে প্রথমে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। আপনার প্রয়োজনমতো ত্বক মালিশ করুন। হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মুখ মুছে নিন। এরপর বাড়িতে বানানো প্যাক লাগাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ত্বকের প্যাকে শসার রসের পরিমাণ একই রেখে সয়াবিন পাউডার দিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। টকদই ব্যবহার করবেন না।
*শুষ্ক ত্বকের যত্ন-
এ ধরনের ত্বকে টোনার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ব্যবহারের ক্লেনজিং ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ, ত্বক পরিষ্কার করে নিন। দুধ, মধু, সামান্য পরিমাণ টকদই মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন।
এ ছাড়া তিলের তেল, দুধ ও মধু একত্রে মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা...
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া টিপস
*যাদের স্বাভাবিক অথবা তৈলাক্ত ত্বক তারা মসুর ডাল বাটা, চন্দন, টকদই দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর শুকিয়ে গেলে মুখ ধুয়ে নিন।
*অনেকেরই ব্ল্যাকহেডস হওয়ার প্রবনতা লক্ষ করা যায়। এমনটা হলে- দারচিনি গুঁড়া হাফ চামচ, ১ চামচ ময়দা দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে নাকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এমনি এমনি ব্ল্যাকহেডস বেরিয়ে আসবে। এটা দিলে একটু জ্বলে এবং স্কিন লাল হয়ে যায়। কিন্তু এতে ভয়ের কিছু নেই।
*যাদের বয়স ২৫ এর উপরে তারা কমলা লেবুর খোসার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। কমলা লেবু বয়সের ছাপ দূর করে। ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডসও চলে যায়।
*যাদের মুখে ব্রন আছে তারা নিম পাতার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে অনেক ধরনের নিম পাতার প্যাক পাওয়া যায়। বেছে নিন পছন্দ মতন।
*একদিন পর পর বাসায় স্ক্রাবিং করতে পারেন। এতে ত্বকের গভীর হতে ময়লা বের হয়ে আসবে। চিনি, লেবু, চালের গুঁড়া সামান্য মধুর সাথে মেশালে খুব ভাল ন্যাচারাল স্ক্রাবার হিসাবে কাজ করে। সারা শরীরেই ব্যবহার করতে পারবেন।
*বাইরে থেকে ফিরে মুখের ও হাত পায়ের পোড়া দাগ দূর করার জন্য টক দই লাগিয়ে নিন।
*টমেটো এবং গাজরের রস মুখের বয়সের ছাপ দূর করার জন্য অনেক উপকারি। আবার রোদে পোড়া ভাব কমাতেও কাজে আসে।