Technology Image

এসিডে ক্ষতি হয় না, আগুনে পুড়ে না



সহজে ধ্বংস হয় না এবং দেহটি নমনীয় এমন এক রোবট তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ধসে পড়া ভবনের নিচের সংকীর্ণ পথ দিয়ে অনায়াসে ঢুকে পড়তে পারবে এ রোবট এবং খুবই বৈরী পরিবেশে উদ্ধার কাজসহ নানা তৎপরতায় সহায়তা করতে পারবে এটি।

বিজ্ঞান মানুষকে দিনদিন কতদূর এগিয়ে নিয়ে এসেছে এটা চিন্তা করলে সহজ কথায় উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। বলতে হবে বিজ্ঞান কি করেনি, বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলেই আজ ঠান্ডাকে গরম, গরমকে ঠান্ডা করা যায়। শুধুই যে সুফল বয়ে এনেছে তাও বলা যাবে না। আসলে আলোর সাথে যেমন আঁধারের মিল তেমন সফলতার সাথে বিফলতা।

বিজ্ঞান নিয়ে প্রযুক্তি নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে চলছে তো চলছেই। নতুন নতুন আবিষ্কার যেন নেশায় পরিণত হয়েছেন তারা। তাই তো তেমনি রোবট আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা যা কি না আগুনে পোড়ে না, হিমাংকের নিচের হাড় জমানো ঠাণ্ডায় জমে যায় না বা গাড়ি চাপা দেয়ার পরও ‘মরে’ না। এমন কথা শুনলে কে না অবাক হবেন, সবার অবাক হওয়ারই কথা- হ্যাঁ এ রকম রোবটটি তৈরি করেছেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইকেল টোলি ও তার গবেষক দল।

পরীক্ষামূলক ভাবে যে রোবটটি তৈরি করা হয়েছে তা লম্বায় মাত্র ৬৫ মিলিমিটার। মাইনাস -৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের হাড় জমানো ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে প্রবল তুষার ঝড়ের মধ্যেও এটি অনায়াসে হেঁটে গেছে। আগুনের শিখার ধকল সহ্য করেছে ২০ সেকেন্ড এবং পানি ও অ্যাসিড এ রোবটের কোনো ক্ষতি করতে পারে নি। গাড়ি চাপা দিয়েও এ রোবটকে ধ্বংস করা যায় নি। রোবটের দেহ নিয়েই কেবল এমন চরম পরীক্ষা চালান হয়েছে। রোবটটি পরিচালনার জন্য যে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তা আলগা ভাবে লাগান থাকায় এ সব পরীক্ষায় তা ব্যবহার করা যায় নি। অবশ্য টোলি বলেন, এ রোবটের নমনীয় দেহের ভেতর বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থা বসিয়ে দেয়ার কাজটি করা যাবে অনায়াসেই। দেহটি সব ধকল সহ্য পারে কিনা প্রথমে সেটাই যাচাই করাই একান্ত প্রয়োজন ছিল।

এ গবেষণার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের নমনীয় রোবট তৈরির পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন টোলি ও তার সহ-গবেষকরা।