Technology Image

দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি বাড়ছে



দেশে চতুর্থ দফায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে গতি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি জানান, নূন্যতম ২ এমবিপিএস গতি না হলে সেটিকে ব্রডব্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়া যাবে না।

দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০৮ সালে। সে বছর প্রথমবারের মতো ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় ১২৮ কেবিপিএস গতি ঠিক করে দেওয়া হয। পরে তা বাড়িয়ে ৫১২ কেবিপিএস করা হয়। ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল গ্রাহকের স্বার্থে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তখন বলা হয়, ব্রডব্যান্ড বলা যাবে এমন সার্বক্ষণিক তথ্য বা ইন্টারনেট সেবাকে, যার ন্যূনতম ব্যান্ডউইডথ হবে ১ মেগা বিটস পার সেকেন্ড (এমবিপিএস)। ইন্টারনেটের প্রচলিত (ডায়াল-আপ) গতির চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন ডাটা আদান-প্রদানকে ব্রডব্যান্ড বলা হয়।

২০০৯ সালের জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২-এ বলা রয়েছে, ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রডব্যান্ড বলা যাবে, এমন সার্বক্ষণিক ডাটা বা ইন্টারনেট সেবাকে, যার ন্যূনতম ব্যান্ডউইডথ ১২৮ কিলো বিটস পার সেকেন্ড (কেবিপিএস)।’ ব্যান্ডউইডথ হলো তথ্য বা ডাটা চলাচলের গতি। বিটিআরসি বলেছে, আগে ১২৮ কেবিপিএসের চেয়ে কম ব্যান্ডউইডথকে ন্যারোব্যান্ড বলা হতো, আর এখন ন্যারোব্যান্ড বলা হবে ১ এমবিপিএসের চেয়ে কম ব্যান্ডউইডথকে। শিগগির সেটা ২ এমবিপিএসের চেয়ে কম ব্যান্ডউইডথকে ন্যারোব্যান্ড বলে ঘোষণা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে ইন্টারনেটের গতির দিক থেকে শীর্ষ তিনটি দেশের স্থানই দখল করে রেখেছে এশিয়ার তিনটি দেশ। সম্প্রতি (মার্চ ২০১৫) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আকামাইয়ের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের গতির দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে বরাবরের মতোই দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে ইন্টারনেটের গড় গতি ২২.২ এমবিপিএস। দ্বিতীয় স্থানে থাকা হংকংয়ের বর্তমান গড় গতি ১৬.৮ এমবিপিএস। তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানে ইন্টারনেটের গড় গতি ১৫.২ এমবিপিএস। শীর্ষ দশে থাকা বাকি দেশগুলো যথাক্রমে সুইডেন (১৪.৬ এমবিপিএস), সুইজারল্যান্ড (১৪.৫ এমবিপিএস), নেদারল্যান্ড (১৪.২ এমবিপিএস), লাটভিয়া (১৩.০ এমবিপিএস), আয়ারল্যান্ড (১২.৭ এমবিপিএস), চেক প্রজাতন্ত্র (১২.৩ এমবিপিএস) এবং ফিনল্যান্ড (১২.১ এমবিপিএস)।

উল্লেখ্য, বিটিআরসির প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে মে-২০১৫ পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৭৪ লাখ ২১ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার। এসব ব্যবহারকারী তুলনামূলক কম গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) এবং ওয়াইম্যাক্স প্রতিষ্ঠানগুলো। এদের গ্রাহক ১৪ লাখ ৪৯ হাজার। এর মধ্যে ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১২ লাখ ৬১ হাজার।