Technology Image

ওটিজি বৃত্তান্ত



ইদানীং বেশ কিছু প্রযুক্তি সম্পর্কিত ব্লগ এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কিছু গ্রুপে ব্যবহারকারীদের ওটিজি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন করতে দেখেছি। অনেকেই আবার ওটিজি এবং ওটিএ এর মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন, তাই চিন্তা করলাম 'ওটিজি' সম্পর্কে একটি ডেডিকেটেড লেখাই লিখে ফেলা যাক।

ওটিজি (OTG) কী
OTG মুলত 'USB On The Go' এর সংক্ষিপ্ত রূপ যা আপনার স্মার্টফোনটির সাথে অনান্য পেরিফেরাল যুক্ত করার সুবিধা দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আগে যদি আমরা আমাদের স্মার্টফোনের কোন ফাইল বন্ধুর পেন ড্রাইভ বা হার্ড ড্রাইভে ট্রান্সফার করতে চাইতাম তবে প্রথমে ডেটা ক্যাবলের মাধ্যমে তা আমাদের প্রথমে কম্পিউটারে নিতে হত এবং কম্পিউটার থেকে এরপর আমরা সেই পেন ড্রাইভটিতে সংরক্ষণ করতাম। কিন্তু এখন প্রযুক্তির কল্যাণে আপনি ওটিজি ফিচারটি ব্যবহার করে সহজেই সরাসরি হার্ড ড্রাইভে বা পেনড্রাইভে আপনার স্মার্টফোনটি থেকে সরাসরি ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবেন। আবার ধরুন, আপনার স্মার্টফোন দিয়ে তোলা ছবি পূর্বে প্রিন্ট করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে নিশ্চয়ই কম্পিউটারে নিতে হত? বর্তমানে এত ঝামেলা না করে সরাসরিই আপনি ওটিজির মাধ্যমে আপনার স্মার্টফোনটির সাথে প্রিন্টার কানেক্ট করে ছবি প্রিন্ট করতে পারবেন।
এছাড়াও আপনি আপনার স্মার্টফোনটিকে পরিবর্তন করতে পারবেন একটি ইউএসবি হোস্টে যা অন্যান্য ইউএসবি ডিভাইস যেমন মাউস, কীবোর্ড, গেম কন্ট্রোলার ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
ওটিজি'র জন্য রয়েছে এর নিজস্ব একটি সুন্দর লোগো। আপনি বর্তমানে স্মার্টফোন কিনলে আপনার স্মার্টফোনটি যদি সাপোর্টেড হয়ে থাকে তবে আপনার স্মার্টফোনের প্যাকেটের গায়েই লোগোটি দেখতে পাবেন। এছাড়া ডিভাইসটির প্যাকেটে ওটিজির পরিবর্তে ইউএসবি হোস্ট সাপোর্টেড কথাটিও লেখা থাকতে পারে।

ওটিজি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়?
শুধুমাত্র আপনার স্মার্টফোনটি ওটিজি সুবিধা সাপোর্ট করলেই হবেনা, ওটিজি ফিচারটি ব্যবহার করার জন্য আপনার কাছে একটি ওটিজি ক্যাবল থাকতে হবে। বর্তমানের ওটিজি সাপোর্টেড ডিভাইসগুলোর বক্সেই একটি ওটিজি ক্যাবল দেয়া থাকে তবে যদি দেয়া না থাকে তবে আপনি খুব কম দামেই বাজার থেকে ওটিজি ক্যাবল কিনে আনতে পারবেন। এর মূল্য কোয়ালিটি এবং দোকান ভেদে ৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ওটিজি ক্যাবলটি আকারে বেশ ছোট হয় এবং এর একপ্রান্তে স্মার্টফোনের মিনি ইউএসবি জ্যাক থাকে যা স্মার্টফোনের চার্জিং পোর্টে যুক্ত করা হয় এবং অন্যদিকে একটি ইউএসবি ফিমেইল প্রান্ত থাকে যার সাথে পেরিফেরাল ডিভাইস সমূহ যোগ করা হয়।

ওটিজি দিয়ে যা করা সম্ভব
ওটিজি ফিচারটি ব্যবহার করে আপনি অনেক কাজই করতে পারবেন, যেমন -
পেন ড্রাইভ থেকে মিডিয়া কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।
যাদের অন বোর্ড স্টোরেজ কম তারা পেন ড্রাইভে প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন।
ট্যাবকে আপনি এক্সট্রা কীবোর্ড-কেস সহ একটি ছোট্ট ল্যাপটপ ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে গেম খেলার ক্ষেত্রে গেমিং কনট্রোলার ব্যবহার করতে পারবেন।

ওটিজি (OTG) এবং ওটিএ (OTA)
আমি প্রথমেই বলেছি এখনও অনেকে আছেন যারা ওটিজি এবং ওটিএ ফিচার দুটির মাঝে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। ব্যাপার দুটি সম্পুর্নই আলাদা। OTG এর পূর্নরূপ হচ্ছে On The Go যা আপনার স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সাথে অন্যান্য পেরিফেরাল ডিভাইস কানেক্ট করার সুবিধা প্রদান করে থাকে এবং অপরদিকে, OTA এর পূর্নরূপ হচ্ছে On The Air যা আপনার ডিভাইসের ফার্মওয়্যার অফিসিয়ালি কোন রকম কম্পিউটারের সাহায্য ছাড়াই আপডেট করার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আপনার ডিভাইস কি ওটিজি সাপোর্টেড?
প্রথমেই বলেছি, ওটিজির সুন্দর একটি লোগো রয়েছে এবং আপনি আপনার স্মার্ট ডিভাইসটির প্যাকেটের গায়েই লোগোটি দেখতে পাবেন যদি আপনার ডিভাইসটি সাপোর্টেড হয়ে থাকে। এছাড়াও আপনি ইউএসবি ওটিজি চেকার অ্যাপলিকেশনটি ব্যবহার করেও আপনার স্মার্টফোনটি ওটিজি সাপোর্টেড কিনা তা জানতে পারবেন।
মনে রাখবেন, আপনার ডিভাইস যদি ডিফল্ট ভাবে ওটিজি সাপোর্টেড নাও হয়ে থাকে কিন্তু আপনার ডিভাইসের কার্নেলে যদি ওটিজি সাপোর্ট থেকে থাকে তবে কাস্টম রম ইন্সটল করার মাধ্যমেও আপনি ওটিজি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

শেষ কথা
আশা করি যারা এখনও ওটিজি সম্পর্কে জানতেন না বা ওটিজি এবং ওটিএ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তাদের সংশয় দূর হয়েছে। যদি এরপরেও এ সম্পর্কে কোন প্রকার প্রশ্ন থেকে থাকে আপনাদের তবে মন্তব্যে জানাবেন, সাধ্যমত চেষ্টা করবো আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে।