Sports Image

বাংলাদেশি তরুনদের সম্ভাবনা দেখছেন পল টেরি



বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাই পারফরম্যান্স দলের নতুন কোচ হয়েছেন ভিভিয়ান পল টেরি। এই খবরটা পুরনো। সেসময়ই জানা গিয়েছিল জার্মান বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ কোচ বিসিবির সঙ্গে ১০০ দিনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছেন।

৫৫ বছর বয়সী পল টেরি বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হয়েছিলেন গণমাধ্যমের। বললেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবার এসেছি। এখানে কাজ করতে পারা আমার জন্য দারুণ এক সুযোগ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা দেখেছি। দারুণ খেলেছে তারা। আপাতত এখানকার তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি। আমার সাথে স্থানীয় কোচরাও থাকবেন। শিগগিরই আমরা কাজ শুরু করবো।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের তরুন প্রজন্মের মধ্যে দারুন প্রতিভা আছে বলে মনে করছেন তিনি, ‘তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষতাকে পরের ধাপে উন্নত করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে অনেক ক্রিকেটার বাংলাদেশের হয়ে খেলে। সুতরাং এখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেক প্রতিযোগিতা হয়। সে হিসেবে হাই পারফর্ম্যান্স ইউনিট তরুণদের জন্য দারুণ এক সুযোগ। এখান থেকেই তারা জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের নিয়ে কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং। এ কারণেই মূলত এখানে আসা। আপাতত আমার একটাই চিন্তা, তাদের নিয়ে ভালো কাজ করা। আসলে একাডেমিতে যারা আসবে, তারা তো নির্বাচকদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েই আসবে। টেস্ট ও ওয়ানডে দলের পারফর্ম তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের কাছে অনেক কিছুই প্রত্যাশা করা হবে। ভালো ক্রিকেটার হওয়ার জন্য তাদেরকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।



নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমি মূলত কোচদের নিয়ে কাজ করবো। কোচদের জন্য নানা প্রোগ্রাম সেট করবো। এখানে একজন হেডকোচ থাকবেন। শিগগিরই তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কয়েকজন স্থানীয় কোচও নিয়োগ দিবেন। আমার কাজ হবে তাদের সাথে কাজ করা।এখানকার সুবিধাদি অনেক উন্নত। জিম আছে। ক্রিকেটারদের জন্য নেটস এবং অন্য সব ধরনের সুবিধাও আছে। এ বিষয়ে আমার কোনো অজুহাত নেই। তরুণদের এখানকার আয়োজন অনেক ভালো।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে বাংলাদেশ উঠে আসছে দারুণভাবে। এখানকার সবাই ক্রিকেট খুব ভালোবাসে। বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগোবে। একাডেমিতে ক্রিকেটারদের আরো বেশি দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

নিজের কোচিং পদ্ধতি প্রসঙ্গে পল টেরি বলেন, ‘আমি এখানে ইংলিশ বা অস্ট্রেলিয়ান পদ্ধতিতে কাজ করবো না। আমার কাজ হবে কোচদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখা এবং তাদের সাথে খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করা। সব মিলিয়ে অনুশীলনে সব ধরনের সমন্বয় থাকবে। জাতীয় দলের কোচ শ্রীলঙ্কান, বোলিং কোচ জিম্বাবুয়ের, ফিল্ডিং কোচ আবার ইংল্যান্ডের। সেখানেও সব কিছু সমন্বিতভাবে হয়। হাই পারফর্ম্যান্স ইউনিটের কার্যক্রম দীর্ঘ মেয়াদী হতে হবে। যাতে এখান থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। যুবদল থেকে যারা এখানে আসবে, তাদেরকে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। আমার মনে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে এই কার্যক্রম টেকসই হবে।’