Technology Image

প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত \"এক্স-রে\"




চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, স্ফটিক ও আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণ, বিমানবন্দর ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা প্রভৃতি কাজে এক্স-রে ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক আগে থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পালো আলটো শহরের একদল গবেষক এবার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এক্স-রে প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন।

জীবন্ত কোনো সত্তার মধ্যে পরমাণু ও অণুগুলো কীভাবে বিচরণ করছে, তা দেখার জন্য লিন্যাক কোহেরেন্ট লাইট সোর্স (এলসিএলএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। যন্ত্রটি আগের প্রজন্মের লেজার রশ্মির চেয়ে শতকোটি গুণ বেশি শক্তিশালী।

পালো আলটোর ওই প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক মাইক ডান। তিনি বলেন, এলসিএলএস অত্যন্ত দ্রুতগতির এক্স-রে প্রবাহ চালু করেছে। মনে করুন, একজন মানুষ ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় পদক্ষেপ বা স্থানের ব্যবধান এক সেকেন্ডের ১০০ ভাগের ১ ভাগ সময়। এই সূক্ষ্ম সময়কে ১০ লাখবার ভাগ করে প্রতিটি ভাগকে আবার ১০ লাখবার ভাগ করুন। এভাবেই দ্রুততম এক্স-রে প্রবাহের গতিকে বর্ণনা করা যেতে পারে।

লেজারটি এসএলএসি ন্যাশনাল একসেলারেটর ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম কণার পারস্পরিক সংঘর্ষ ঘটানোর যন্ত্রের (কলাইডার) কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে পরমাণু ভেঙে ফেলার পরিবর্তে এটি জীবন্ত সত্তার অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বিক্রিয়া ও বিভিন্ন তৎপরতা দেখতে গবেষকদের সুযোগ করে দেয়। অধ্যাপক ডান বলেন, ‘ব্যাপারটা আসলেই বৈপ্লবিক। আমরা এখন স্থান ও কালের মাত্রায় পরমাণুর ভেতরের অবস্থা প্রথমবারের মতো দেখতে পারছি। রসায়ন ও জীববিদ্যার ক্ষেত্রে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
পার্কিনসনস রোগে আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কে পাওয়া যায়—এমন একটি উপাদান গবেষণাগারে তৈরি করেছেন বিজ্ঞানী মেং লিয়াং। তিনি মনে করেন, নতুন লেজারটি তাঁর গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উজ্জ্বলতা ও দ্রুতগতির শর্ত পূরণ করে প্রকৃত সময়ে এসব সূক্ষ্ম উপাদানের ছবি তোলার ক্ষেত্রে এলসিএলএস যে সামর্থ্য দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন এসব উপাদানের অস্তিত্বের প্রমাণ না খুঁজে এগুলো সরাসরিই দেখা যাবে।

একই প্রতিষ্ঠানের গবেষক অধ্যাপক অ্যান্ডর্স নিলসন প্রথমবারের মতো দেখতে পেয়েছেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুগুলো কী রকম আচরণ করে। তিনি বলেন, রাসায়নিক উৎপাদনের গতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে নতুন এই প্রযুক্তি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। বিক্রিয়ার সময়ের সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো স্বচক্ষে দেখাটা একজন রসায়নবিদের স্বপ্ন। এখন তাঁরা প্রক্রিয়াটা বুঝতে শুরু করেছেন আর সেই উপলব্ধি থেকে অবশ্যই নতুন কিছু প্রাপ্তি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এলসিএলএসের সাফল্য দেখে জাপানের সরকার একই ধরনের একটি যন্ত্র বা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আর জার্মানির হামবুর্গে তৈরি করা হচ্ছে ব্যবস্থাটির ইউরোপীয় সংস্করণ।