Travel Image

ঘুরে আসুন বালিয়াটির জমিদার বাড়ি



কর্মব্যস্ত একটি সপ্তাহ কাটানো পর অনেকেই চান কাজ থেকে ছুটির দিনে কোথাও বেড়িয়ে আসতে। কিন্তু শহরে ভিড় আর হট্টগোলের ভেতর বেড়ানোর প্রশান্তিটা আর মেলে কোথায়? শহর ছেড়ে দূরে কোথাও যাবেন সে সময়টাও তো নেই, কারণ ছুটি মোটে একদিন! রাজধানী ঢাকার সীমানা পেরোতে পারলেই মানিকগঞ্জ জেলার শুরু। ঘুরে আসতে পারেন মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার বালিয়াটি ইউনিয়নে অবস্থিত বালিয়াটি জাদুঘর থেকে। দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসতে পারবেন।

বর্তমান মানিকগঞ্জ শহরের গোড়াপত্তন হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। প্রাচীন এই শহরটি বর্তমান শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ছিল। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত মানিকগঞ্জ ছিল ঢাকা জেলার একটি মহকুমা। মহকুমা ঘোষণার আগে, অর্থাত্‍ ১৮৪৫ সালের পূর্বে মানিকগঞ্জ বন্দর এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।
উনিশ শতকের শেষের দিকে ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত মানিকগঞ্জ বাজার ছিল প্রায় ২ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। শুকনো মৌসুম ছাড়া চলাচলের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। আর শুকনো মৌসুমে গাধা, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি ছিল পরিবহন ব্যবস্থা। এখানে সরষের তেল ও তামাকের বড় ব্যবসাকেন্দ্র ছিল। এগুলো আসত রংপুর ও কোচবিহার থেকে। এখান সেগুলোর চালান যেত নারায়ণগঞ্জ ও কলকাতায়।

বৃহত্তর ঢাকা জেলা গঠিত হওয়ার পর মানিকগঞ্জ বর্তমানে একটি জেলা। এই জেলার সাটুরিয়া থানায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদারবাড়িটিই বর্তমানে বালিয়াটি জাদুঘর।
বালিয়াটি জমিদারদের পূর্বপুরুষ গোবিন্দ রায় সাহা ছিলেন একজন ধনাঢ্য লবণ ব্যবসায়ী। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি প্রায় ৫.৮৮ একর জমির ওপর অবস্থিত। পুরো চত্বরটি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এখানে রয়েছে ৭টি প্রাসাদসম ইমারত এবং মোট কক্ষ রয়েছে ২০০টি। এছাড়া অন্যান্য স্থাপনাও রয়েছে। ১৯ শতকের এই ইমারতগুলো ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বালিয়াটি প্রাসাদ ১৯৮৭ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
কীভাবে যাবেন :
ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে জনসেবা বা এসবি লিংক গেটলক পরিবহনে মাত্র দুই ঘণ্টায় সাটুরিয়া পৌঁছে যাওয়া যায়। বাস ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৭০ টাকা। সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৩০ টাকা রিকশা ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন বালিয়াটি জাদুঘর।

টিকেট ও বন্ধ-খোলা :
বালিয়াটি জাদুঘরের জনপ্রতি টিকিটের হার দেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা এবং বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা। জাদুঘর বন্ধ থাকে রবিবার পূর্ণ দিবস এবং সোমবার অর্ধদিবস। অন্যান্য দিন খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
রাত্রিযাপন :
মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের সাটুরিয়া ডাকবাংলো ছাড়া এখানে রাত্রিযাপন করার জন্য আর কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই। চাইলে দিনেই ফিরে আসতে পারেন অথবা রাত কাটাতে পারেন এখানে।