Technology Image

ভাইরাস ভয়ঙ্কর




কম্পিউটার থাকে ভাইরাসের ভয়ে। তবে এই যন্ত্রকে ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে এর ব্যবহারকারীকেই সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হয়। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বছর বয়সী স্কুল পড়–য়া ছাত্র রিক স্ক্রেন্টা শখের বসেই তৈরি করে প্রথম ভাইরাস ইল্ক ক্লোনার। যদিও এই ভাইরাসটিকে অনেকেই বাসা বাড়ির কম্পিউটারের জম হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। প্রথম এই ভাইরাসটি স্টোরেজ ডিভাইস ফ্লপি ডিস্কগুলোকে আক্রমন করে। এর পর যদি ঐ ফ্লপি ডিস্ককে অন্য কোনো কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হতো তাহলে ভাইরাসটি স্বয়ক্রিয়ভাবে ঐ কম্পিউটারকেও আক্রমন করত। যদি এই ভাইরাসটিকেই প্রথম ভাইরাস হিসেবে ধরা হয় তাহলে ভাইরাসের বয়স ২৯ বছর। ইল্ক ক্লোনার প্রতি ৫০ বার কম্পিউটার বুট বা চালুর সময় একটি চমকপ্রদ কবিতা প্রর্দশন করে। এই কবিতা দেখেই ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন তার কম্পিউটারটি ভাইরাস আক্রান্ত। হার্ডডিস্কের বুট সেক্টর ধংশকারী ভাইরাসটি হলো ব্রেইন। এটি ছিলো ভয়ংঙ্কর এক ভাইরাস। ভাইরাসটির আক্রমনে হার্ডডিস্ক থেকে কোনো ডেটাই পড়া যেতো না। ফলে কম্পিউটারও রান করত না। ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের লাহোরবাসী বাসিত এবং আমজাদ ফারুক আলভি এই ভাইরাসটি তৈরি করেন। প্রথমদিকে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখলেও পরবর্তীতে জানা যায় তারা ছিলেন দুই ভাই। যারা অ্যান্টিভাইরাস নিয়ে কাজ করেন তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছিলো মরিস ওয়র্ম নামের ভাইরাসটি। এটি একের পর এক নিজের ডুপ্লিকেট কপি [ একই ধরনের] তৈরি করে কম্পিউটারের মেমোরিকে হ্যাং করে দিতো। ভাইরাসটি এক সাথে ৬ হাজার কম্পিউটার এক্কেবারেই কাজের অনুপযোগী করে তোলে। ১৯৮৮ সালের ২ নভেম্বর রবার্ট মরিস এই ভাইরাসটি তৈরি করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও অতি সহজে ১০ হাজার ডলার জরিমানা ও আর এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্র“তিতে তিনি রেহাই পান। এর পর ১৯৯৯ সালে ছড়ায় মেলিসা। এই ভাইরাসের কারনেই অ্যান্টিভাইরাস বিক্রি বেড়ে যায়। মাইক্রোসফট আউটলুক ও ওয়ার্ড ডকুমেন্টের বিনিষ্টকারী এই ভাইরাস প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিসাধন করে। মনে পড়ে কি ২০০০ সালের আই লাভ ইউ ওয়ার্মটির কথা। ২৪ ঘন্টায় ই-মেইলের মাধ্যমে এই ওয়ার্মটি পুরো বিশ্বকেই যে কাপিয়ে তোলে। ওয়ার্মটি তৈরি করতে ভিজুয়্যাল বেসিক প্রোগাম ব্যবহার করা হয়েছিলো। বড় বড় প্রতিষ্ঠান সিআইএ, ব্রিট্রিশ পার্লামেন্ট ও পেন্টাগনের ও টনক নাড়িয়েছিলো এই ভাইরাসটি। তাদের সার্ভারকে বন্ধ রাখতে হয়েছিলো ঘন্টার পর ঘন্টা। হিসেব খতিয়ে দেখা গেছে ওয়ার্মটি বিশ্বের প্রায় ৪৫ মিলিয়ন কম্পিউটার ও ৭ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছিলো। ব্রিট্রিশ পার্লামেন্টের নির্দেশে এর অনুসন্ধান ও খুব দ্রুত হয়। অভিযুক্ত করা হয় ফিলিপাইনের এক ছাত্রকে। কিন্তুু ফিলিপাইনের আইনে ঐ সময়ে সাইবার অপরাধ না থাকায় কোনো কিছুই করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। টাইমলাইন হিসেবে এর পর আসে কুর্নিকোভা ভাইরাস। টেনিস তারকা আনা কুর্নিকোভার ছবি মেইলের মাধ্যমে এক প্রাপক থেকে আরেক প্রাপকে পৌছানোই ছিলো এই ভাইরাসটির কাজ। তবে ভাইরাসটি ততটা মারতœক ছিলো না।

ভাইরাস কিভাবে ছড়িয়ে পড়েঃ
ইন্টারনেট ছাড়া এখন এক মুর্হুত্ত ও ভাবা যায় না। আর ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম ই হলো ইন্টারনেট। পোর্টেবল স্টোরেজ ডিভাইস [হার্ডডিস্ক, পেন ড্রাই, ফ্লপি, সিডি] দিয়ে এখন আর অতটা ভাইরাস ছড়ানো সম্ভব হয় না। কারণ বর্তমানের ব্যবহারকারীরা অনেক সতর্ক। আপনি কোনো ওয়েব পেজে গেলেন এবং সেখানে লোভনীয় কোনো বিজ্ঞাপন দেখে তাতে ক্লিক করলেন তাহলেই কেল্লা ফতে। আপনার কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমিত হলো আর আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলো। তাই ইন্টারনেটে থেকে কোনো ওয়েব পেজের কোনো কনটেন্টে ক্লিক করার আগে একটু মাথা খাটিয়ে নিতে হবে আসলে এই লিঙ্কটি আপনার উপকারে আসবে নাকি তার উল্টোটা ঘটাবে। ই-মেইলের মাধ্যমে ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইদানিং লক্ষ্য করা যায় খুব আকষর্নীয় বিষয়বস্তুুতে মেইল আসতে থাকে প্রাপকের ঠিকানায়। এতে ই-মেইল বডিতে অনেক লিঙ্ক দেওয়া থাকে যাতে ক্লিক করলেই সর্বনাশ। এছাড়াও নেটওয়ার্কে থাকা কোনো একটি কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমিত হলে অন্যান্য কম্পিউটারগুলো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। বর্তমানে মোবাইল মেমোরি কার্ড দিয়ে ও কম্পিউটার বা সেলফোন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কম্পিউটারের মাধ্যমে মেমোরি কার্ডে গান ,ভিডিও, গেমস ইত্যাদি আপলোড করা হচ্ছে এতে সব কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাস থাকছে না। তাই কোনো আক্রান্ত কম্পিউটার থেকেও ভাইরাস আপনার সেলফোন বা কম্পিউটারে ছড়াতে পারে অনায়াসেই।

ভাইরাস কি ক্ষতি সাধন করেঃ
তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের ব্যবহার্য উপাদানের মধ্যে কম্পিউটার [নেটবুক, নোট বুক, ল্যাপটপ, সেলফোন] অন্যতম। কম্পিউটারের প্রধান শত্র“ই হলো ভাইরাস। ভাইরাস যে ক্ষতি সাধন করতে পারে তা ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হলো-
কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে জায়গা থাকা স্বত্ত্বেও বারবার ম্যাসেজ দিবে যে হার্ডডিস্কে আর কোনো জায়গা খালি নেই। এতে ব্যবহারকারী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে।
পুরো হার্ডডিস্কের পার্টিশন ভেঙ্গে নতুন পার্টিশন তৈরি করে।
সিস্টেমের তারিখ বা সময় পরিবর্তন করে ।
স্টোরেজ ডিভাইসগুলোকে অপরিচিত ডিভাইস হিসেবে প্রর্দশন করে। মাঝে মধ্যে অনেক ব্যবহৃত পোর্ট গুলোকেও ব্লক করে দেয়।
বুট টাইম বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে কম্পিউটার রান হতে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সময় লাগে।
বার বার কম্পিউটারের সফট বুট ঘটায়, যার ফলে এমন কোনো গুরুত্বপুর্ণ কাজ করছেন, সেটি সেভ করার সময় না দিয়েই কম্পিউটার পুনরায় চালু হয়।
কম্পিউটারের গুরুত্বপুর্ন ডকুমেন্ট নষ্ট করে ফেলে, যার ফলে ব্যবহারকারীর অপুরণীয় ক্ষতি হয়।
অনেক সময় হার্ডডিস্কের বুট সেক্টরে রক্ষিত তথ্যাদি [যার মাধ্যমে কম্পিউটার চালু হয়] তথ্যাদি নষ্ট করে ফেলে, যা ফলে কম্পিউটারই রান হতেই চায় না, ইত্যাদি ইত্যাদি।

মহাওষৌধঃ
যদি সহজ এবং একমাত্র কোনো সমাধান খোঁজেন তাহলে অ্যান্টিভাইরাস ই হলো ভাইরাসের একমাত্র মহাওষৌধ। দেশ এবং বিদেশের বাজারে অনেক অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে যা আপনার কম্পিউটার বা সেলফোনকে ভাইরাস থেকে রক্ষা করবে। বাজারে যে সব অ্যান্টিভাইরাসগুলো বহুল প্রচলিত তার মধ্যে সিমেনটেক, এভিজি, ক্যাসপারস্কি, জি-ডাটা, ম্যাকআফি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব অ্যান্টিভাইরাসগুলোর ডেমো ভার্সন ইন্টারনেটে রয়েছে। তবে ডেমোভার্সনের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে তাই এই ডেমোভার্সন চালানোর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লাইসেন্স ভার্সন কিনে নেওয়া উচিৎ। ডেমো ভার্সন ইন্টারনেটে ফ্রি দেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য যেন ব্যবহারকারী নির্ধারিত অ্যান্টিভাইরাসটির কার্যক্রম আগে থেকে যাচাই বাছাই করে নিতে পারে। ডেমো ছাড়া কিছু ক্র্যাক ভার্সন রয়েছে যেগুলোকে ইচ্ছে করলে বছরের পর বছর কাজ করানো যায়। অ্যান্টিভাইরাসের দাম এখন হাতের নাগালেই। ৭০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকার মধ্যেই লাইসেন্স অ্যান্টিভাইরাস বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার নামকরা কোম্পানীর। তবে ভাইরাস নির্মাতারা কিন্তু অনেক অ্যান্টিভাইরাস নির্মতা কোম্পানির সাথে এক হয়ে কাজ করে। অনেকে ভাবতে পারেন অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানিতে কেন ভাইরাস নির্মাতা। এর একটাই কারণ ভাইরাস নির্মাতার ভাইরাস সমন্ধীয় সব খুটি নাটি জেনে থাকেন। এ কারনেই নতুন কোনো ভাইরাস পাওয়া গেলেই তারা তাদের অ্যান্টিভাইরাস ডেটাবেজে সাথে সাথে নতুন ভাইরাসটির [স্পাম, স্পাইওয়্যার] জন্য রক্ষাকবচ [কোডিং করে ভাইরাস ঠেকানো] যোগ করে থাকেন। ফলে যারা আগে থেকেই ওই অ্যান্টিভাইরাসের লাইসেন্স কপি ব্যবহার করেন তারা নতুন এই ভাইরাসটি তাদের আর কোনোই ক্ষতি করতে পারেন না। এক কথায় অ্যান্টিভাইরাস, অ্যান্টিস্পাম, অ্যান্টিস্পাইওয়্যার ই হলো ভাইরাস থেকে বাচার একমাত্র উপায়।

যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবেঃ
এটা নিশ্চিত যে, অ্যান্টিভাইরাস থাকলে কম্পিউটার সুরক্ষিত। তারপরেও বাইরে থেকে রিমোভাল ড্রাইভগুলোতে বহন করা ডেটা, গান, গেমস ইত্যাদির কোনো কিছুই হুট হাট করে খোলা যাবে না। খোলার আগে অবশ্যই আগে স্ক্যান করে নিতে হবে। ই-মেইলের কোনো অ্যাটাচ ফাইল নিশ্চিত না হয়ে ওপেন না করাই ভালো। ইন্টারনেটে কোনো সফটওয়্যার খুজলে এবং তা পেয়ে গেলে নিশ্চিত না হয়ে তার ডাউনলোড লিঙ্কে ক্লিক না করাই শ্রেয়। পুরো সিস্টেমকে রিস্টোর করেও ভাইরাস দুর করা যায়। তবে বার বার এ কাজটি না করাই ভালো। কম্পিউটারের ফরম্যাটবল ডিস্কগুলোর একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট লাইন থাকে। মানে সেটিকে কয়বার ফরম্যাট করা যাবে। তাই এ কাজটি এড়িয়ে চলা উচিৎ। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঘটিয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিভাইরাসকে প্রতিনিয়তই অবশ্যই আপডেট রাখতে হবে। এতে নতুন নতুন ভাইরাস ডেফিনেশন গুলো অ্যান্টিভাইরাসের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

নানা পদের ভাইরাসঃ

স্প্যাম: এক কথায় বলতে গেলে এটি একটি ই-মেইল ভাইরাস। ই-মেইলের মাধ্যমেই এটি ছড়িয়ে থাকে। স্প্যামাররা ই-মেইলের মাধ্যমে নানান বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারন ব্যবহারকারীদের কম্পিউারের ক্ষতি সাধন করে । ভাইরাসগুলোর ধরন হলো আপনি লটারি জিতেছেন বা বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এমন শিরোনামেই ব্যবহারকারীর ই-মেইলে মেইল পাঠিয়ে থাকে। ব্যবহারকারী যদি এই ফাদে পা দেন তবেই বিপদ। স্প্যাম কম্পিউটারের ক্ষতি, সময় ও নেটওয়ার্ককে ধীর করে দেয়।

বুট সেক্টর ভাইরাস
একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে [বুট ] লুকিয়ে থাকা ভাইরাস এটি। ভাইরাসগুলো ফ্লপি ডিস্কে বা হার্ডডিস্কের বুট সেক্টরে আঘাত হেনে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। আর যখনি কম্পিউটার চালু করা হয় তখনি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে নিজেদের জায়গা করে নেয়। বাজারে প্রচলিত সব ধরনের অ্যান্টিভাইরাসই বুট সেক্টর ভাইরাস ক্লিন করতে সক্ষম।

ওয়ার্ম
প্রতিনিয়তই এই ভাইরাসগুলোর আক্রমন বেড়ে চলছে। ওয়ার্মের টার্গেটই হলো বড় বড় কর্পোরেট নেটওয়ার্ক । স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজকে ভর করেই ওয়ার্মের জন্ম। লাভগেট, এফ, আইলাভইউ ইত্যাদি ওয়ার্ম ভাইরাস।

ট্রোজান হর্স
গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে দিতে বা হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করতে খুব পটু এই ট্রোজান হর্স। এই ভাইরাসগুলো ব্যবহারকারীকে সর্বদাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেয়। কারণ এরা ছদ্দবেশ ধারন করতে খুবই পছন্দ করে। কেউ হয়তো তার কম্পিউটারের কোনো ড্রাইভে হঠাৎই দেখলে একটি গেমিং ফ্লোডার। সাথে সাথে গেমপ্রেমী সেই ব্যবহারকারী সেই ফ্লোডারে ক্লিক করলে গেম খেলা তো দুরে থাক নিজের কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা হার্ডডিস্ক নিয়েই বিপাকে পড়বেন।

ম্যাক্রোভাইরাস
ভাইরাসগুলোর মূল টার্গেটই হলো অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম। যার মধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, ¯েপ্রডশীট, এক্সেস ডেটাবেজ, কোরেল ড্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ম্যাক্রোভাইরাসের আক্রমনের ভয়াবহতা এতটাই জটিল যে এরা ম্যাক্রোসার্পোটেড কোনো ডকুমেন্টই খুলতে দেয় না। শেষ পর্যন্ত ওই ফাইল বা ডকুমেন্ট ডিলিট করা ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না। তবে ভালো মানের অনেক অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে যেগুলো ম্যাক্রোভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে খুবই ওস্তাদ।

অ্যাডওয়ার
বিজ্ঞাপন সেটে দেওয়াই এই ভাইরাসের কাজ। ব্যবহারকারী যখন ইন্টারনেট ব্রাউজ করে তখনি ব্রাউজারের উইন্ডোতে একটি বারের মাধ্যমে অ্যাডওয়ার তার মূল কাজটি করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয় আপনি বুঝতে পেরে যদি সেটি বন্ধ করেন কিছুক্ষন পর আবারও সক্রিয় হয় অ্যাডওয়্যার। সে জন্যই এখন অনেক অ্যান্টিভাইরাস নির্দিষ্ট করা থাকে শুধুমাত্র ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য। ভাইরাস প্রস্তুুত কারীরা প্রতিনিয়তই ভাইরাস তৈরি করে যাচ্ছে। কম্পিউটারের খুটি নাটি বা প্রোগ্রামিং এ তারা খুবই পারদর্শী। পাশাপাশি অনেক ভাইরাস প্রস্তুতকারীরা প্রোগ্রামাররা এখন কাজ করছেন বিশ্বের নামী-দামী সব কোম্পানিতে।



অ্যান্টিভাইরাসের কাজ করার কৌশলঃ
অ্যান্টিভাইরাস নিয়ে অনেক কথা হলো। এবার জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এটি কাজ করে কম্পিউটার শত্র“ ভাইরাসের বিপক্ষে। অ্যান্টিভাইরাস দুটি পদ্ধতিতে কাজ করে। প্রথমটিঃ ভাইরাস ডিকশনারীরর মাধ্যমে। প্রতিটি অ্যান্টিভাইরাসের একটি ভাইরাস ডিকশনারী থাকে। এখানে প্রতিটি ভাইরাসের বর্ণনা দেওয়া থাকে। অ্যান্টিভাইরাস সন্দেহাতীত ভাইরাসটিকে ডিকশনারীর বিবরণের সাথে মিলিয়ে দেখে। যদি মিলে যায় তখনি সক্রিয় হয়ে উঠে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। দ্বিতীয়তঃ এলগরিদম এর সাহায়্যে। কম্পিউটারের কোনো প্রোগ্রামের সন্দেহমূলক আচরণ শক্তিশালী নানা এলগরিদম এর মাধ্যমে বিচার বিশ্লেষন করেও অ্যান্টিভাইরাস ভাইরাস দূর করে থাকে।