Technology Image

উইন্ডোজ ১০ এর পেছনের কারিগর



উইন্ডোজ নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে যা কিছু লেখা হয়, তার সবই তিনি মনোযোগ দিয়ে পড়েন। বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই সফটওয়্যার সম্পর্কিত বিভাগটিও বর্তমানে তিনিই দেখেন। তিনি হলেন টেরি মিয়ারসন।

উইন্ডোজ ১০ এর নেপথ্য নায়ক তিনি। দীর্ঘ প্রায় এক বছর সময় ধরে তার টিম যে অপারেটিং সিস্টেমটি তৈরি করেছে, সেই উইন্ডোজ ১০ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে গত বুধবার। আর তাই তিনি এখন উইন্ডোজ ১০ এর ফীডব্যাক জানতে সবসময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন।

মিয়ারসন ১৮ বছর ধরে কাজ করছেন মাইক্রোসফটে। মাইক্রোসফটে তিনি দেখাশোনা করেন উইন্ডোজ ডিভিশনটি। আর এখান থেকে তৈরি করা অপারেটিং সিস্টেম বর্তমানে বিশ্বে সবথেকে বেশি মানুষ ব্যবহার করছে।

২০১১ সালে তিনি উইন্ডোজ ফোন বিভাগের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে তাকে সম্পূর্ণ উইন্ডোজ টিম বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আর গতমাসে তার দায়িত্বে আরও যুক্ত হয় এক্সবক্স, সারফেস, মোবাইল ডিভিশন। ফলে মাইক্রোসফট পুরো কনজ্যুমার কিংডমের দায়িত্বে এখন তিনিই আছেন।
উইন্ডোজ ১০ নিয়েও বেশ আশাবাদী মিয়ারসন। তিনি আশা করেন, ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি পিসি, ফোন এবং ট্যাবের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকবে উইন্ডোজ ১০।

উইন্ডোজের ইতিহাসে এবারই প্রথম একেবারে শুরু থেকে অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের সাথে গ্রাহকদের যুক্ত করা হয়। কিভাবে? উইন্ডোজ ১০ বাজারে আসার আগেই ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কয়েকটি প্রিভিউ বিল্ড উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর এখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ফিডব্যাক কাজে লাগানো হয়েছে মূল সংস্করণটি ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে। আর এই পুরো ব্যাপারটিই কিন্তু মিয়ারসনের মাথা থেকে এসেছে।

মিয়ারসন নিজেও তার প্রতিদিনের কাজের জন্য বেটা ভার্সন ব্যবহার করেন। ফলে এতে বিভিন্ন ধরণের ত্রুটি থাকাটা কতটা বিরক্তিকর ব্যাপার। আর তাই তিনি মাঝে মাঝে ভয়ও পান এই ভেবে যে, উইন্ডোজের প্রিভিউ বিল্ড সবার মাঝে উন্মুক্ত করে দেওয়ার কারণে অনেকেই এতে থাকা বিভিন্ন ত্রুটি দেখে বিগড়ে যেতে পারেন।

উইন্ডোজ ১০ নিয়ে তার টিমের সাফল্যে গর্বিত মিয়ারসন। তিনি বিশ্বাস করেন, উইন্ডোজ ১০ এ যা থাকবে বা থাকতে হবে, তা একেবারেই ইউনিক। তিনি বলেন, “আমরা জোর করে কাউকে ধরে রাখতে চাই না যা অন্যরা করে থাকে। আমরা চাই অগনিত সন্তুষ্ট গ্রাহক। আশা করি গ্রাহক নিজেই এখানে এসে আটকে থাকবে।“