Technology Image

Oppo R7



Oppo প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে নতুন হলেও খুব কম সময়ের মধ্যেই এটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পেয়েছে। আর এজন্যেই আপনাদের জন্য আজ নিয়ে এসেছি অপ্পো ব্র্যান্ডের R7 মডেলটির রিভিউ। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।


ডিজাইন

গত বছরের R5 ডিভাইসটির মত R7 পাতলা না হলেও ডিভাইসটির ডিজাইন দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন। ৬.৩ মিলিমিটার পাতলা এই ফোনটিতে যুক্ত করা হয়েছে ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাকের যা গত বছরের R5 ডিভাইসটিতে ছিলনা। স্মার্টফোনটির সমগ্র ফ্রেমই তৈরি করা হয়েছে প্রিমিয়াম ফিলিং মেটাল ম্যাটারিয়াল দিয়ে যা ডিভাইসটির পেছন দিক, সামনের দিক এবং সাইডকেও করে তুলেছে আকর্ষনীয়। স্লাইট লিপ এবং মেটাল বিল্ডের এই কম্বিনেশন ডিভাইসটি হাতে নিয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে চমৎকার গ্রিপ দিয়ে থাকে। ডিভাইসটির ডান দিকে রয়েছে ভল্যিউম রকার এবং সিম কার্ড স্লট এবং বাম পাশে রয়েছে পাওয়ার বাটন। ডিভাইসটির ইউএসবি পোর্ট রাখা হয়েছে এর একদম নিচের অংশে। পাশাপাশি একটি ২.৫ডি গ্লাস প্যানেল দেখতে পাবেন ডিভাইসটির উপরের প্যানেলে যা ডিভাইসটির ৫.০ ইঞ্চি আকারের ডিসপ্লেটিকে কভার করে রাখে। ফোনটির ক্যাপাসিটাভ কী পাবেন স্মার্টফোনটির নিচের দিকে।

ডিসপ্লে

R7 স্মার্টফোনটিতে রয়েছে একটি ৫.০ ইঞ্চি ফুল এইচডি অ্যামোলেড ডিসপ্লে যাতে রয়েছে ৪৪৫ পিপিআই এবং এর ডিসপ্লে প্যানেলের সুরক্ষায় যুক্ত করা হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের কর্নিং গরিলা গ্লাস ৩ সুরক্ষার। স্মার্টফোনটির ডিসপ্লেটি যথেষ্ট ব্রাইট এবং অন্যান্য ডিভাইসের সাথে তুলনা করে দেখা যায় যে এই ডিভাইসটির কালার রিপ্রোডাকশন এবং ভ্যিউয়িং অ্যাঙ্গেল চমৎকার। ডিভাইসটির স্ক্রিন শুধু শার্প এবং ব্রাইটারই নয় বরং ডিভাইসটির শার্পনেসও চমৎকার।

হার্ডওয়্যার

স্মার্টফোনটিতে রয়েছে কোয়ালকমের এমএসএম৮৯৩৯ স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ চিপ। এর অক্টাকোর প্রসেসরের চারপটি হচ্ছে ১.৫ গিগাহার্জ করটেক্স-এ৫৩ এবং অন্যগুলো ১.০ গিগাহার্জ করটেক্স-১৫৩ প্রসেসর। গেম খেলার সুবিধার জন্য ডিভাইসটিতে রাখা হয়েছে অ্যাড্রিনোর ৪০৫ গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। শুধু তাই নয়, ল্যাগ ফ্রি গেমিং এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য ডিভাইসটিতে যুক্ত করা হয়েছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১৬ গিগাবাইট বিল্ট ইন স্টোরেজ সুবিধা। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৩২০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের নন-রিমোভ্যাল ব্যাটারি যা আপনি অপ্পোর VOOC ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৩০ মিনিটেই ০ শতাংশ চার্জ থেকে ৭০ শতাংশ চার্জ করতে পারবেন।

পারফর্মেন্স

ডিভাইসটির হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানার পর নিশ্চয়ই আপনাকে আর আলাদা করে এর পারফর্মেন্স সম্পর্কে বলার প্রয়োজন হবেনা। তবুও বলি মিড রেঞ্জের এই ডিভাইস থেকে আপনি চমৎকার পারফর্মেন্স পাবেন। এর অ্যান্ড্রয়েড লেয়ারের উপর ব্যবহার করা হয়েছে কালার ওএস যা আপনার অ্যান্ড্রয়েড এক্সপেরিয়েন্সকে করবে আরও স্মুথ। অন্যদিকে যে সব রমগুলো অ্যান্ড্রয়েডের জগতে বিখ্যাত সেগুলোর মধ্যে কালার ওএস অন্যতম এবং এতি বেশ সিম্পল ও লাইটও বটে।

ক্যামেরা

অপ্পোর আগের ক্যামেরা অ্যাপলিকেশনটিই যেন এবার বেশ কিছু মোডের সাহায্যে আপগ্রেড হয়েছে। অনেকগুলো হ্যান্ডি মোড যোগ করা হয়েছে স্মার্টফোনটির ক্যামেরা অ্যাপলিকেশনে যেমন ধরুন, এইচডিআর, জিআইএফ ক্রিয়েশন, আল্ট্রা এইচডি - এসবই পাবেন আপনি অ্যাপলিকেশনটিতে। আপনি খুব সহজেই ভ্যিউফাইন্ডারে সোয়াইপ করে ফটো থেকে ভিডিও ক্যাপচার মোডে যেতে পারবেন। আপনি ফুল এইচডি মোডে ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারবেন এই ডিভাইসটি দিয়ে। ডিভাইসটিতে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রেয়ার এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা।
চলুন, এবার এই স্মার্টফোনটি দিয়ে তোলা কিছু ছবি দেখে নিই।



বেশিরভাগ স্মার্টফোনের মতই লো-লাইটে এর পারফর্মেন্স কম হলেও কম আলোতেও বেশ ভালোই ছবি তোলে আমার মতে। দেখে নিন একটি লো লাইটে তোলা ছবি।

এই ছিল মোটামুটি রিভিউ, এখন তাহলে চলুন সংক্ষেপে স্মার্টফোনটির ভালো দিক এবং খারাপ দিক সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ভালো দিক সমূহ -
মেটাল কনস্ট্রাকশন যা আপনাকে নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার ফিল প্রদান করবে।
অ্যামোলেড স্ক্রিন।
স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ যা ডেইলি ড্রাইভের জন্য যথেষ্ট।
৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক।
ডুয়াল সিম এবং মাইক্রো এসডি কার্ড।
৮ মেগাপিক্সেল সেলফি শুটার।
কালার ওএস।

খারাপ দিক সমূহ -
পাতলা ফোন মানেই কিছুটা কম ক্ষমতার ব্যাটারি।
ডিসপ্লে ভালো তবে আহামরি নয়।
এনএফসি সুবিধা নেই।
ডিভাইসটির মূল্য - প্রায় ৩৪০০০ টাকা