Sports Image

উদ্বাস্তু শিবির থেকে বিশ্বকাপ দলের অধিনায়কত্ব



পেশোয়ারের উদ্বাস্তু শিবিরের দিনগুলি এখনও তাজা মহম্মদ নবির মনে৷ এই গল্প শুধু নবির নয়৷ এই দলে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা বয়ে বেড়াচ্ছেন এমনই অনেক স্মৃতি৷ দিন বদলেছে, বদলেছে ভাগ্য৷ কিন্তু স্মৃতির পাতায় আজও উজ্জল ফেলে আসা দিন৷ মহম্মদ নবি নীল জার্সিতে যখন প্রথম অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার মাটিতে পুরো আফগানিস্তান দল নিয়ে নামছিলেন তখন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত সেই দেশে ছিল অলিখিত যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা৷ কে করেছিল সেই ঘোষণা কেউ জানে না৷ এই বার্তা যেন উপর থেকে এসেছিল রক্তাক্ত আফগানিস্তানের উত্তাল সময়কে মুঠোয় বন্ধ করে রাখার জন্য৷ ক্রিকেট বিশ্বে নাম লিখিয়ে ফেলার৷ আর সেই দেশের অধিনায়ক নবির উত্থানের দিনগুলির কথা হয়তো ভাবলেও শিউরে উঠবেন কোহলি, রোহিতরা৷ কিন্তু নবি পেরেছেন৷ সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধের দিনগুলি মহম্মদ নবির পরিবারের কেটেছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারের এক উদ্বাস্তু শিবিরে৷ ১০ বছর বয়েসে সেখানেই প্রথম ব্যাট হাতে তুলেছিলেন তিনি৷ পাকিস্তানে সব সময়ই ক্রিকেটের রমরমা৷ সেই থেকে আজকের দিন৷ দীর্ঘ পথ কেটেছে নানা টানা-পোড়েনের মধ্যে দিয়ে৷ আফগানিস্তান ক্রিকেট শিখেছে৷ ক্রিকেট জেনেছে৷ মাত্র দু’যুগ আগে প্রথম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তৈরি হয়েছিল আফগানিস্তানে৷ রাতারাতি বদলে গিয়েছে আফগানিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা-ভাবনা৷ বোরখার আড়ালে থাকা মহিলা ক্রিকেট নিয়েও ভাবছে অ্যাসোসিয়েশন৷



টেলিভিশনের সামনে আফগানিস্তানের সমর্থকরা৷

দেশকে প্রথম বিশ্বকাপের আসরে দেখার উন্মাদনা ছিল পুরো দেশের মানুষদের মধ্যে৷ টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখেছিল দেশ৷ হারতে হয়েছে বাংলাদেশের কাছে৷ কিন্তু তাতে দুঃখ নেই দেশের৷ তবুও পুরো দেশের চেহারা কি আদৌ বদলে যাবে৷ থেমে যাবে যুদ্ধ? এই প্রশ্নগুলি ঘুরছে ক্রিকেটারদের মনে৷ দেশের বাইরে থাকার সময়গুলি সব সময় পরিবার নিয়ে চিন্তায় কাটে৷ অতীতে এমন একাধিকবার ঘটেছে৷ ক্রিকেট মাঠে বিস্ফোরনে মৃত্যু হয়েছে উদীয়মান ক্রিকেটারের৷ ভারতে ফুটবল নেহরু কাপ খেলতে এসে আফগানিস্তান ফুটবলের এক প্লেয়ার হঠাৎ খবর পেয়েছিলেন বিস্ফোরনে মৃত্যু হয়েছে তাঁর ভাইদের৷ এই সবের মধ্যেই খেলা দিয়ে দেশের শান্তি ফেরাতে চাইছেন নবিরা৷ এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজের নামের পাশে ১০০০রান লিখে নিয়েছেন নবি৷ বিশ্বের সেরা আটজন অল রাউন্ডারে মধ্যেও নথিভুক্ত হয়েছে তাঁর নাম৷ তিনিই আজ তাঁর দেশের ক্রিকেট আইকন৷ তাঁকে দেখেই আফগানিস্তানের মানুষ ক্রিকেটমুখি হচ্ছে৷ ক্রিকেটের আফগানিস্তান কি ফেরাতে পারবে দেশের শান্তি? ফুটবল সাময়িক স্বস্তি দেয় কখনও কখনও৷ যখন নেপালের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আফগানিস্তান তখন সারা দেশ সব ভুলে উৎসবে মেতেছিল৷ ক্রিকেট বিশ্বকাপে যেখানেই শেষ করুক না কেন আফগানরা বিশ্বকাপ থেকে যেদিন ফিরবেন নবিরা সেদিনও যুদ্ধ ভুলে উৎসব হবে দেশে৷