Sports Image

টেনিস বলের ক্রিকেট থেকে পাকিস্তান-বধ



বছর তিনেক আগের কথা! মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পেসারদের এক ট্রায়ালে এসেছিলেন এক কিশোর। বাঁ-হাতি পেসারের বলের উপর এতোটা নিয়ন্ত্রন দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন কোচরা।

ব্যাস সেই থেকেই মুস্তাফিজুর রহমানকে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী দিনের তারকা। অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলেছেন, খেলেছেন ‘এ’ দলেও। এবার জাতীয় দলের হয়েও জাতটা চিনিয়ে দিয়ে গেলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকেই চার ওভারে ১৬ টি ডটবল সহ ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট পাওয়া তো আর চাট্টিখানি কথা নয়।

তবে, তার উঠে আসার গল্পটা শুরু হয়ে আরও অনেক আগে থেকেই। সেটা জানতে হলে ফিরে যেতে হবে পাঁচ বছর আগে। তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে সাতক্ষীরা শহরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। প্রায় প্রতিদিনই এতটা পথ পাড়ি দিয়ে প্র্যাকটিসে যেতেন মুস্তাফিজ।

বড় ভাই মোখলেসুর, স্থানীয় কোচ আলতাফ ও জেলা কোচ তপু ভাইয়ের নিয়মিত পরিচর্যায় মুস্তাফিজ শাণিয়ে নিতে থাকেন নিজের ধার। যেই ধারের কাছে কচুকাটা হতে থাকে প্রতিপক্ষের একের পর এক খেলোয়াড়। জেলা পর্যায়ের পর খুব বেশি দিন তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়নি। ডাক পেয়ে যান খুলনার বিভাগীয় দলে খেলার।

এর আগে সাতক্ষীরা অনূর্ধ্ব ১৬ দলের হয়ে খেলেছেন। বয়সভিত্তিক এই জেলা পর্যায়ের টুর্নামেন্টটির বাছাই পর্বেই ঘটেছিল বেশ মজার এক ঘটনা। মোখলেসুরের বাইকে চেপে সাতক্ষীরার সরকারি কলেজ মাঠে বোলিংয়ের পরীক্ষা দিতে এসেছেন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজ একা নন, এসেছেন আরও অনেক উঠতি তরুণ।

আশঙ্কায় খানিকটা কুঁকড়ে গেলেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছিল, এত প্রার্থীর ভিড়ে পরীক্ষাই বুঝি দিতে পারবেন না। অবশেষে পালা আসে তাঁর। কিন্তু হালকা টেনিস বলে খেলে অভ্যস্ত মুস্তাফিজ কাঠের বল হাতে প্রথমেই ঘটালেন বিপত্তি। প্রথম কয়েকটি বল ঠিকমতো পিচেই ফেলতে পারলেন না।

বড় ভাই দৌড়ে এসে সাহস দিলেন, অভিষেকে প্রথম বল ওয়াইড হওয়ার পর যেমনটা দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তারপর আর পিছু ফেরা নয়। একের পর এক দুর্দান্ত বল করে তিনি তাক লাগিয়ে দিলেন নির্বাচকদের। যেমন তাক লাগালেন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শককে!