Sports Image

সাঙ্গাকারার যে ১০টি তথ্য অজানা



শেষ হচ্ছে শ্রীলংকা ক্রিকেটের অন্যতম একটা অধ্যায়। বলা যায়, ‘সাঙ্গাকারা’ অধ্যায়। কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে চলতি টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন তিনি। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাষায়, ‘সাঙ্গাকারার মতো আর কোন ক্লাস ব্যাটসম্যান আসবে না’। এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে ২৭,৯৬৬ রান সংগ্রাহক জীবিত ব্যাটিং কিংবদন্তিদেরই একজন।

সাঙ্গাকারার ঝলমলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই এই বিদায়কে কেন্দ্র করে ভক্তদের জন্য এমন কিছু তথ্যই জানাতে চাই, যেগুলো হয়তো অনেকেই জানেন না-

১। সাঙ্গাকারা কিন্তু শুরুতেই উইকেটরক্ষক ছিলেন না! ভারতে ছোটদের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পর এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। এর পিছনেও রয়েছে মজার একটি গল্প। তার ভাষায়, ‘সবসময় চাইতাম, যে করেই হোক দলে থাকতে হবে। তো স্কুল ক্রিকেটে দেখতাম সবাই ব্যাটসম্যান অথবা বোলার হতে চাইতো। একদিন স্কুলের কোচ সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে উইকেটকিপিং করবে? দেখি, কেউ হাত তোলে না। তখন ভেবে দেখলাম, আমি যদি উইকেটের পিছনে দাঁড়ায়, তাহলে অন্তত ওই কাজের জন্য হলেও দলে থাকতে পারবো। সেই চিন্তা থেকেই উইকেট রক্ষক হওয়া। কিন্তু কখনো ভাবিনি, আমি জাতীয় দলের হয়ে উইকেট কিপিং করবো। সত্যি কথা বলতে, জাতীয় দলে ঢোকার আগ পর্যন্ত আমার উইকেট কিপিংয়ের অবস্থা যা তা ছিলো!’
২। সাঙ্গাকারার বড় ভাই ভিমিন্দ্রাও ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। স্কুলে থাকতে জাতীয় পর্যায়ে অর্জন রয়েছে তার।

৩। সাঙ্গাকারা শুধু ক্রিকেটই নয়! ব্যাডমিন্টন, টেনিস ও ফুটবলও ভালো খেলতেন। তরুণ অবস্থায়, ব্যাডমিন্টন ও টেনিসে জাতীয় পুরষ্কার অর্জন করেছিলেন তিনি।

৪। ক্রিকেটার সাঙ্গাকারা আরো একটি গুণ হলো, তিনি গাইতে পারেন এমনকি ভালো ভায়োলিনও বাজাতে পারেন।

৫। কুমার সাঙ্গাকারা একবার পড়াশোনার কারণে সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এজন্য বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে দায়ী করাই যেতে পারে। মুশফিকের স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার পরেই তাকে অনুপ্রেরণা মেনে আবারো পড়াশোনা শুরু করেন।

৬। সাঙ্গাকারা প্রকাশ্যে স্লেজিং পছন্দ করেন! এ ব্যাপারে তিনি বিখ্যাতও বটে!

৭। চলতি বছরেই ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই লঙ্কান ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার। কিন্তু দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী নাভিন দেশানায়েকের অনুরোধে তা বাড়িয়ে আগস্ট পর্যন্ত করেন সফল এই ব্যাটসম্যান।

৮। সাঙ্গাকারা ২০১১ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব(এমসিসি) ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ নির্বাচিত হন এবং লর্ডসে কাউড্রে বক্তৃতা দেন। সাঙ্গাকারা এখন পর্যন্ত ইতিহাসের কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার যিনি কিনা, এই সম্মান অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, বক্তৃতা প্রদানকারী ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এখনো অবসর নেননি।

৯। এমসিসি’র ওই বক্তৃতাকে বলা হয়ে থাকে ‘ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ’। শ্রীলংকায় ২০১৫ সালের ‘ও-লেভেল’ সিলেবাসে সাঙ্গার দেওয়া ভাষণের একটি অংশ ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১০। কুমার সাঙ্গাকারা দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দুইবার ‘উইজডেন ক্রিকেটার অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছেন (২০১১,২০১৫)।