Technology Image

সেরা কিছু ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা



বর্তমানে আমরা অনেকেই আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করে রাখার ক্ষেত্রে নানা ধরণের ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ব্যবহার করে আসছি। ক্লাউড স্টোরেজ সেবাগুলো ব্যবহার করার অন্যতম কারণ হচ্ছে এগুলো আমাদের লোকাল স্টোরেজের চাইতেও কিছুটা বেশি নিরাপদ। আমাদের দেশেই ধরুন, যারা ডেস্কটপ ব্যবহারকারী আছেন তাদের অনেকেই ইউপিএস ব্যবহার করেন না। আর আপনার নিশ্চয়ই আমাদের দেশের বিদ্যুৎ সেবা সম্পর্কে ধারণা আছেই, আর তাই মাঝে মাঝে হঠাত করে লোড শেডিং বা অন্য কোন সমস্যায় আমাদের হার্ড-ড্রাইভ ফেইল করে, ফলে হঠাত করেই আমাদের হার্ড-ড্রাইভ বা লোকাল স্টোরজের সাথে সাথে হারিয়ে যেতে পারে অনেক প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস যা হয়তো আর কখনোই ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না। তবে সেই ডকুমেন্টগুলো যদি আমরা আমাদের লোকাল স্টোরেজের পাশাপাশি ক্লাউড স্টোরেজেও সংরক্ষণ করে রেখে থাকি তবে আমরা সহজেই সেই ডকুমেন্টগুলো ফিরে পাবো।

শুধু যে উপরে উল্লেখিত কারণটির জন্যেই আমরা ক্লাউড সেবা ব্যবহার করে থাকি তাও কিন্তু নয়, ক্লাউড স্টোরেজ সেবার আরও একটি চমৎকার দিক হচ্ছে আপনি যে কোন স্থান থেকে সেই ক্লাউড স্টোরেজগুলোকে এক্সেস করতে পারবেন এবং আপনার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। এর জন্য অবশ্য আপনার ডিভাইসটিকে ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে। আজকে আপনাদের বর্তমানের সেরা কিছু ক্লাউড স্টোরেজ সেবা সম্পর্কে জানাতে চেষ্টা করবো যেগুলো অনেক ক্লাউড স্টোরেজ সেবার মধ্যে মাথা উঁচু করেই তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। চলুন তাহলে, শুরু করা যাক।


Dropbox

আপনি যদি একজন নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী না হয়ে থাকেন তবে আপনি নিশ্চয়ই ড্রপবক্সের নাম শুনেছেন। ড্রপবক্সকে চোখ বন্ধ করেই সবচাইতে ওয়েল-নোন ক্লাউড সার্ভিস হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। অনান্য ক্লাউড স্টোরেজ সেবাগুলোর মত ড্রপবক্সে অনেক চোখ ধাঁধানো ফ্যান্সি সব ফিচার না থাকলেও খুবই সিম্পল এই সেবাটি বেশ নিরাপদ এবং বিশ্বস্তও বটে।

ড্রপবক্স সেবাটির রয়েছে চমৎকার সিম্পল ইউজার ইন্টারফেসের একটি অ্যাপলিকেশন যা আপনি অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ, আইওএস এবং এমনকি লিনাক্স প্লাটফর্মেও ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে আপনি ড্রপবক্সে একদম নতুন হয়ে থাকলে আপনার কাছে এর ফ্রি অ্যাকাউন্টের স্টোরেজের পরিমাণটি খুবই কম মনে হবে। কেননা, এখনও সেবাটি একটি ফ্রি অ্যাকাউন্টে (বেসিক অ্যাকাউন্ট) মাত্র ২গিগাবাইট ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে আপনি আপনার রেফারেল লিংক ব্যবহার করে ড্রপবক্সে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারলে প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য আপনি ৫০০মেগাবাইট করে পাবেন আর এভাবেই আপনি ১৬গিগাবাইট পর্যন্ত আপনার স্টোরেজ বৃদ্ধি করতে পারবেন।
চমৎকার এই ক্লাউড স্টোরেজে আপনার যদি এখন পর্যন্ত কোন অ্যাকাউন্ট না খোলা থাকে এবং আপনি যদি চমৎকার একটি ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা ব্যবহার করতে চান তবে এখনই ড্রপবক্সে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন ঝটপট করে।


Google Drive

বর্তমানের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মাঝে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীর সংখ্যাই বেশি আর একজন অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বিশিষ্ট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য বলা চলে গুগল ড্রাইভ সেবাটি ব্যবহার করা অনেকটা প্রাকৃতিক! আর যদি আপনিও একজন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে সম্ভবত আপনার স্মার্টফোনের অ্যাপ ড্রয়ারে ইতিমধ্যেই বিল্ট-ইনভাবে গুগল ড্রাইভের অ্যাপলিকেশনটি ইন্সটল করাই রয়েছে।

ড্রপবক্সের মতই গুগল ড্রাইভের বেসিক বা ফ্রি অ্যাকাউন্টে ক্লাউড স্টোরেজের পরিমাণ কিছুটা কম তবে ড্রবক্সের সাথে তুলনায় তা ঢের বেশি। আপনি আপনার বেসিক অ্যাকাউন্টে পাবেন ১৫ গিগাবাইটের মত স্টোরেজ যা আমার মতে অনেক ব্যবহারকারীর জন্যেও পর্যাপ্ত। আপনি নিশ্চয়ই আপনার ক্লাউড স্টোরেজে আপনার লোকাল হার্ড-ড্রাইভটির সব ফাইলই কপি করবেন না বা মুভি কালেক্ট করবেন না, তাই না? তবুও যদি আপনার ১৫ গিগাবাইট কম মনে হয়ে থাকে তবে আপনি মাসে ১.৯৯ ডলার খরচ করে ১০০গিগাবাইট বা ৯.৯৯ ডলার খরচ করে ১টেরাবাইট স্টোরেজ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
প্রায় সকল প্লাটফর্মের জন্যেই গুগল ড্রাইভের অ্যাপলিকেশন রয়েছে এবং অ্যাপলিকেশনটি খুবই সহজ এবং ফ্রেন্ডলি এনভায়োরনমেন্টেই করা তাই আপনি একবার যদি গুগল ড্রাইভের মজা পেয়ে যান তবে আপনার পক্ষে অন্য কোন ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যাবে।


OneDrive

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য যেমন গুগল ড্রাইভ একটি ন্যাচারাল সেবা বা ন্যাটিভ সেবা ঠিক একই রকমভাবে ওয়ান ড্রাইভ হচ্ছে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য ন্যাচারাল একটি সার্ভিস এবং এজন্যেই উইন্ডোজ ৮ এবং পরবর্তি ভার্সনগুলোতে ওয়ান ড্রাইভ অ্যাপলিকেশনটি উইন্ডোজের মধ্যে ইন্সটল করেই দেয়া থাকে।

গুগল ড্রাইভের মতই ওয়ান ড্রাইভও একজন বেসিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীকে দিয়ে থাকে ১৫গিগাবাইট ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা এবং আপনি চাইলে মাসে ৬.৯৯ ডলার খরচ করে ১টেরাবাইট স্টোরেজ এবং সেই সাথে অফিস ৩৬৫ সেবাটি উপভোগ করতে পারবেন।
ওয়ানড্রাইভ চমৎকার সেবা প্রদান করে থাকলেও অনান্য ক্লাউড স্টোরেজ সেবাগুলোর চাইতে এর অ্যাপলিকেশনটি কিছুটা অন্যরকম যা আরও ভালো হতে পারত।


Apple iCloud

আপনি যদি একজন অ্যাপল প্রোডাক্ট ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য আমার মতে আইক্লাউড সেবাটি সর্বোত্তম হবে। সেবাটি ম্যাক, আইফোন এবং আইপ্যাডের জন্য কিছুটা স্পেশালি ডিজাইন করে তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে আপনি ছবি, ভিডিও বা ডকুমেন্ট শেয়ার করতে পারবেন এবং সেবাটির ফ্যামিলি শেয়ারিং প্ল্যানের সাহায্যে আপনার পরিবারের অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইস ব্যবহারকারীর সাথে এই শেয়ারিং সুবিধাটি আরও বেশি উপভোগ করবেন।

শেয়ারিং এবং স্টোরেজ সুবিধার পাশাপাশি আইক্লাউড আপনার মেইল, ক্যালেন্ডার, রিমাইন্ডার, সাফারি ডাটা, ব্যাক-আপ ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয় ভাবে সিনক্রোনাইজ করতে সক্ষম।

উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, অ্যাপল - সবাই নিজ নিজ ক্লাউড স্টোরেজ সেবা দিয়ে যাচ্ছে ব্যবহারকারীকে। তবে, ভালো দিক হচ্ছে এই সেবাগুলোর সবগুলোই কিন্তু আপনি বিভিন্ন প্লাটফর্মে ব্যবহার করতে পারছেন আর তাই চমৎকার এই সেবাগুলো থেকে আপনার কোনটি দরকার বা কোনটি ব্যবহার করে আপনি স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন তা ভেবে নেয়া সহজই হয়ে যাবে আশা করছি। যাই হোক, আশা করি এই লেখাটি থেকে আপনার কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন আর যদি সত্যিই তাই হয় তবে লেখাটিও তখন স্বার্থক হয়ে যাবে।