Sports Image

নষ্টের গোড়া আইপিএল




ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ(আইপিএল) ক্রিকেটারদের বড়লোক ছাড়া আর কি করেছে, সেটা খুঁজতে গেলে ভারী যন্ত্রপাতি লাগতে পারে। তবে ভারতের এই ‘সবচেয়ে বড় উৎসব’ আর কিছু না করুন, ক্রিকেটের ১২টা বাজিয়ে চলেছে তাতে সন্দেহ নেই। এ সুরে যেমন গলা মেলাবেন সাবেক বিশ্বসেরারা, তেমনি ভারতের সাবেক বর্তমান অনেকেই।

প্রশ্ন হলো, আইপিএল কি দোষ করেছে? পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে, কি ভালো করেছে? ভারতের ঘরোয়া লিগে হয়তো লোকাল ক্রিকেটাররা সময়ের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই ড্রেসিং রুম শেয়ার করতে পারছেন ঠিকই, বিপত্তিটা তো অন্যখানে যার নাম ‘ফিক্সিং’! এই কাজে কিন্তু ওইসব ‘লোকাল’ ক্রিকেটাররাই বেশী যুক্ত হচ্ছেন। তাতে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। বরং আরো বেশী কলুষিত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট।

এ নিয়ে ১৯৮৩ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদও বললেন এক কলামে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জীবনে যাদের মদ ছুঁতে দেখিনি, তাঁরাও পান করেন এখানে। চিয়ার গার্লরা ক্রমাগত নেচে যায়। ব্যাটসম্যানরা তাদের সুপার ব্যাটের শাসনে বলকে বেদম পেটায়। আর কাঁধ ঝুঁকে পড়া বোলার ক্লান্ত শরীরটাকে কষ্ট করে টেনে বোলিং লাইন আপে নিয়ে যান পরের ডেলিভারিতে আরও মার খাওয়ার প্রস্তুতিতে।’

কথাগুলো কিন্তু চরম সত্যি। মানসপটে ক্রিকেটকে যেরকম চিন্তা করেন সমর্থকরা একটু ভিতরে নাক গলালে দেখা যাবে, পুরোটাই বিপরীত। শুধু কি তাই, ‘বড়লোকি’ এই টুর্নামেন্টেও যে কত্ত ছোটলোকির উদাহরণ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। টাকার অভাবে তো বন্ধই হয়ে গেছে পুণে ওয়ারিওর্স! ওহ ভুল বললাম, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আইপিএল আর রেসলিংয়ের মধ্যে ভীষণ এক মিল আছে। দুটো খেলাতেই হারলে পয়সা বেশী। তাই পকেট ভরা থাক আর না থাক, পয়সা পেলে আর কি চাই! তাছাড়া দেশটি যখন ভারত!

এই কথাটা বললেন কীর্তি আজাদও। তার মতে, আইপিএলের কোচ আর অধিনায়করা আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভাবনী শক্তি খরচ করে সেই সব অসাধারণ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন যা দিয়ে ম্যাচ হারা যায়। কারণ এই টুর্নামেন্টে জয়ের চেয়েও হারটা বেশি মূল্যবান!

মতবিরোধ থাকবেই। দোষ শুধু যে আইপিএল তা কিন্ত নয়, দোষ ক্রিকেটেরও দেওয়া যেতে পারে। এখন ভারতের কেউ বলতে পারেন, ‘ওই মিয়া, তোমাদের বিপিএল কি করলো? টাকা দিতে পারো না তোমরা, বন্ধই তো হয়ে গেলো!’

হ্যাঁ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ(বিপিএল) এও ঝামেলা ছিলো মানছি। তবে তা আইপিএলের চাইতে নিতান্তই নাজুক সেটাও সত্যি। অন্তত কালো টাকার এতো ছড়াছড়ি ছিলো না। আর আমাদের বিপিএলে নায়ক-নায়িকারা এসে শরীরও দোলান না। বাংলাদেশের মানুষ কর্পোরেট মানসিকতার চাইতে, আবেগকেই বেশী গুরুত্ব দেন।

আরেহ! আমি আবার ক্রিকেটের সঙ্গে দুই দেশের গন্ডোগোল পাকিয়ে ফেলছি। দুঃখিত ক্ষমা করবেন। মোদ্দা কথা হলো, আমাদের চোখে কি পড়ে না, ক্রিকেটের ‘মুকুট’ সাদা পোশাকের টেস্ট যে এইসবের জন্য দিন দিন বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে! বোলাররা হয়ে পড়ছেন শ্রমিক আর ব্যাটসম্যানরা রাজা! তাদেরও এখন অনেক তাড়া, বেশিক্ষণ থাকতেই চান না উইকেটে! রান করতে হবে রান। গরুর মতো রান। উইকেটে পড়ে থাকলে যে সময় নষ্ট। তাতে ক্ষতিটা হচ্ছে কি?

হচ্ছে। পরবর্তী যুগে ডন ব্র্যাডম্যান, শচিন টেন্ডুলকার, ব্র্যায়ান লারা আর আসবে না। আসার সম্ভাবনাটা দিনে দিনে আইপিএলের মতো ঝলমলে আলোকিত টুর্নামেন্টের কারণে প্রতিনিয়ত নিভু নিভু হয়ে পড়ছে।