Sports Image

ডাবল সেঞ্চুরি বনাম বিপদ সংকেত



শিরোনামটা পরে অনেকে হয়ত অবাকই হবেন। গাপটিল আজকে প্রথম কিউই এবং পঞ্চম ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হিসাবে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি করে দেখিয়েছেন। হুম, আমি গাপটিলকে কোন দোষ দিচ্ছি না এবং তাকে এই অসাধারণ মাইল ফলক স্পর্শ করার জন্য ফুল ক্রেডিট দিচ্ছি। জানি, ডাবল সেঞ্চুরি করাটা একজন ব্যাটসম্যানের কাছে একটা স্বপ্নের মতো এবং এটা বাস্তবায়ন করাটা কতটা কঠিন। গাপটিল সত্যিই অসাধারণ খেলেছে। আমি এটাও জানি একজন ব্যাটসম্যানের পক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারাতা কতটা সম্মানের বিষয়। তবে এই বিষয়টাই আমার চিন্তার কারণ। হইত সেই দিন আর বেশি দূরে নেই যেইদিন ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারাটা ব্যাটসম্যানদের কাছে আলাদা করে সম্মানের বিষয় আর থাকবে না।

সত্যিকারের ক্রিকেট বুদ্ধারা এতক্ষণে হয়ত আমার কথার সারমর্মটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এর পরও খুলে বলছি- এইত গত ৪ কি ৫ বছর আগেও এক দিনের ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানের পক্ষে একা ডাবল সেঞ্চুরি করাটা একটা অসম্ভব স্বপ্নের মতো ছিল। ২০১০ সালে শচীন টেন্ডুলকার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই অসম্ভব স্বপ্নকে বাস্তব করে দেখান। তার হাত ধরেই ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ পায়। এর পর দুই বছর কেটে যায় কিন্তু আর কেও ডাবল সেঞ্চুরির করার ধারে কাছে পৌছাতে পারেনি। অনেকেই হয়ত ধরে নিয়েছিলেন, শচীনের মতো গ্রেট ব্যাটসম্যানের হাতেই এরকম গ্রেট রেকর্ড হতে পারে, আর কেও হয়ত শচীনের রেকর্ডটা ভাঙতে পারবেন না। কিন্তু ঠিক এর ২ বছর পর ২০১২ সালে শচীনের স্বদেশী ব্যাটসম্যান শেবাগের হাতে সেই রেকর্ড ভেঙে যায়। এর পর থেকেই শুরু, এর পর রোহিত শর্মা একে একে ২ বার সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলেন। এর পরের ঘটনা সবার জানা। এই বিশ্বকাপে কেবল মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ক্রিস গেইল কিংবা আজকের মারটিন গাপটিলের ইনিংস। চার, ছক্কার আশায় যারা অবুঝের মতো ক্রিকেট খেলা দেখে তাদের জন্য বিষয়টা খুশি করার মতো হলেও যারা সত্যিকারের ক্রিকেট বুঝেন তারা হইত এখন ক্রিকেট নিয়ে প্রায় সময় দুশ্চিন্তায় ভুগেন।

ডাবল সেঞ্চুরির টাইম টেবলটা দেখলেই আপনি আন্দাজ করতে পারেন দিন দিন ক্রিকেট খেলাটা কিভাবে তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এখন হইত ব্যাটসম্যানরা ডাবল সেঞ্চুরিকে হাতের মোয়া মনে করেন। ডাবল সেঞ্চুরি করাটা যেন কঠিন কিছু নয়। কঠিন কেনই বা হবে? রান বাড়ানোর জন্য ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ৩ জন রাখা যায়। এর ওপর বেশির ভাগ খেলা ফ্ল্যাট পিচে হয়ে থাকে। যেখানে বোলাররা নূন্যতম সাহায্যটুকু পেতে পারে না। আর আজকাল ব্যাটসম্যানরা যেই ধরণের হ্যাভি ব্যাট ব্যবহার করে, এসব ব্যাট গুলোতে কানায় লাগা বল গুলোও অনায়াসে গ্যালারিতে চলে যায়। সুতরাং আর কয়েকদিন পর যদি কোন ব্যাটসম্যান একা ত্রিপল সেঞ্চুরি করেও থাকে, এতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ক্রিকেটকে ব্যাট বলের খেলা বলা হলেও বাস্তব পক্ষে এটা এখন ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়ে ওঠেছে। এখন এখানে ব্যাটসম্যান বনাম ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়। কে কার চেয়ে বেশি রান করতে পারে, কে কার চেয়ে বড় ছক্কা মারতে পারে, কার স্ট্রাইক রেট কার চেয়ে বেশি হবে সবাই এসব বিষয় এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে।