Lifestyle Image

কর্মক্ষম থাকুন



*ঘুমাতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ঘুমের সময়ে শরীর তার ক্ষয় পুরণ করে, তার যন্ত্রাংশগুলোকে মেরামত করে, নতুন করে গড়ে তোলে শরীরকে। তাই ঘুম দরকার প্রয়োজনমত। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারনত ৭-৮ ঘন্টার ঘুমই যথেষ্ট তরতাজা হয়ে জেগে ওঠার জন্য।

ঘুমাতে যাবার জন্য ভালো সময় রাত ১০ টার মাঝে। এ সময় ঘুমালে লাভ হচ্ছে আমাদের দেহের গ্রোথ বা বৃদ্ধির জন্য নিয়োজিত হরমোন রাত ১১ থেকে রাত ১ টার মাঝে নিঃসৃত হয় যা ঘুমের সময় দেহের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

*সকালের খাবার হবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার কেননা এটা সমগ্র দিন চলার গ্যাসোলিনের যোগান দেবে। ক্ষুধা না লাগলেও খেতে হবে ব্রেকফাস্ট।
ব্রেকফাস্ট শব্দকে ভাঙ্গলে আমরা পাই ব্রেক এবং ফাস্ট অর্থাৎ অনাহার থেকে মুক্ত হবার খাবার। আপনি অনাহারী থেকে কাজ শুরু করলে কাজে বার বার ব্রেক নিতে হবে। ব্রিটিশ এক গবেষণা থেকে দেখা যায় পর্যাপ্ত প্রাতরাশ আপনার স্ট্রেস হরমোন বা করটিসলের নিঃসরণকে বাধাগ্রস্ত করে যার ফলাফল স্ট্রেস বা ক্লান্তি কম আসা। তাই শুরু হোক প্রাতরাশের জয়গান আজ থেকে।

*সারাদিনের আহারে থাকতে হবে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ যদিও গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১৫ গ্রাম আঁশ আমরা গ্রহণ করছি দিনে। আশের প্রতি এতো গুরুত্ব দেয়া হওয়ার পেছনে কারণ ও রয়েছে। খাবারে আঁশ থাকলে সেটি শর্করা শোষণে দেরী করায়, যার ফলাফল হচ্ছে একবারে দ্রুতগতিতে রক্তে শর্করা প্রবেশ না করে ধীরে ধীরে মধ্যম গতিতে অনেক সময় নিয়ে প্রবেশ করা। অর্থাৎ অনেক সময় ধরে শক্তির যোগান বজায় থাকা যা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও খুবই দরকারী এক ব্যবস্থা। আঁশের জন্য দেশি খাবারের মাঝে বরবটি, সজিনা, ঢেঁড়স ইত্যাদি বেশ ভালো কাজ করে। খেতে পারেন আপেল, জামরুল, পেয়ারা ইতাদি ফল। জামরুল অনেকেরই প্রিয় ফল যা একাধারে পানি ও আঁশ বহন করে যথেষ্ট পরিমাণে। প্রচণ্ড গরমে দেশি ফল হিসেবে জামরুলের মজাই আলাদা।

*একবারে বেশি করে না খেয়ে কম করে বার বার খাবেন। একবারে অধিক খাবার খেলে সেটা হজম করতে দেহের অনেক শক্তি একবারে প্রয়োজন পড়ে যার ফলে ভুরিভোজের পরে আমরা ক্লান্তি অনুভব করি। প্রধান তিন আহারের পরিমাণ মাঝারি রেখে তার মাঝে মাঝে সময়ে ২ বার হাল্কা কিছু খেয়ে নিন। যাকে বলে স্ন্যাক্স, সেই স্ন্যাক্স গ্রহণ করুন।

*পান করুন প্রচুর পানি। পানি রক্তকে রাখে তরল, দেহের যন্ত্রাংশগুলোকে রাখে সতেজ। পানির অভাবে রক্ত হয়ে পড়ে ঘন, ঘন রক্তকে সারা দেহে সঞ্চালন করতে আমাদের আবেগের হৃদয়কে খাটুনী দিতে হয় বেশি, সে হয়ে পড়ে দুর্বল, আর আমরাও হয়ে পড়ি ক্লান্ত। প্রতি ২ থেকে ৪ ঘন্টায় একবার মূত্র ত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন, সেভাবে পানি পান করুন আর মূত্র যেনো হয় পরিস্কার অথবা হালকা হলদে।

*মস্তিস্কের চনমনে ভাব আনার জন্য ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের ভূমিকা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। আমাদের দেশের সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এই মেদঅম্ল। এই অম্ল দেহের শর্করাকে নিরেট মেদের বদলে গ্লাইকোজেনে রুপান্তরিত হতে সাহায্য করে আর গ্লাইকোজেন হলো আমাদের দেহের সঞ্চিত শক্তির প্রধান উৎস যা সাধারণ মেদের মতো অপকারী নয়।

*ক্লান্তি এড়াতে জুড়ি নেই চা বা কফির। ১ বা ২ কাপ কফি হলেই চলে যায় অনেকের সারাটা দিন। আগামীকাল ভাইভা পরীক্ষা, অনেক পড়া বাকি, সারারাত জাগতে হবে, এমন অবস্থায় গরম এক মগ কফির জুড়ি নেই। তবে ঘুমানোর আগে এসব পানীয় পান করলে কিন্তু ঘুমটাই নস্ট হবে, তাই পান করুন হিসেব রেখে।

*শ্বাস নিন গভীর ভাবে। আমাদের একটা সাধারণ অভ্যাস হলো হাল্কা করে বুক দিয়ে শ্বাস নেওয়া। পেট ফুলিয়ে শ্বাস নেয়ার মানে ফুসফুসে অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রবেশ করা যা দেহের জ্বালানী পোড়াতে অধিক সাহায্য করে। ফলশ্রুতিতে মস্তিস্ক হয়ে ওঠে চাঙ্গা, শরীর পায় অতিরিক্ত শক্তি।

*সতেজ থাকতে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল বা শাওয়ার বেশ উপকারী। মনকে করবে উৎফুল্ল, দূর করবে দেহের ময়লা আর চোখের ঘুম। খুব ক্লান্তি এলে মুখে দিতে পারেন ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা।

*অনুভূতিকে প্রকাশ করুন, বেধে রাখবেন না। সব কিছু বেদনা, দুঃখ, কস্ট মনের মাঝে চেপে রেখে আমরা নিজেরদের ম্যাচিউরিটি প্রকাশ করতে চাই যা প্রকারন্তরে বয়ে আনে ক্লান্তির অনুভূতি।

কারো সাথে নিজের অনুভুতির বা সমস্যার আলোচনা আপনার মনের জানালায় প্রবাহিত করে তাজা হাওয়া আর আপনিও হয়ে ওঠেন তরতাজা মানসিক দিক দিয়ে।

*খুব ক্লান্ত লাগলে কিছুটা হেটে নিতে পারেন অথবা শরীর চর্চা।
গবেষকেরা দেখেছেন ক্লান্তি দূর করতে শরীর চর্চার ভালো ভূমিকা রয়েছে। শরীর চর্চা করলে শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, হৃদয়ের গতি বাড়ে, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে প্রবেশ করে অতিরিক্ত অক্সিজেন, দ্রুত রক্ত সঞ্চালনের কারনে দেহ পায় অধিক জ্বালানী। এভাবে দেহ হয় 'বুস্টেড আপ'।

*দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে সঙ্গীত বেশ ভালো কাজ করে। তাই গান শুনতে পারেন।