এবং হিমু

৫ বছর আগে লিখেছেন

পেশা না নেশা???

বলুন তো একজন রিকশাচালক এবং ভিক্ষুকের মধ্যে কার বেশি উপার্জন?   উত্তরটা সবার নিশ্চয়ই জানা | একজন রিকশাচালক আধাবেলা প্যাডেল চেপে যে আয় করে তা একজন ভিক্ষুক দু ঘন্টাতে আয় করতে পারে |   আর সে কারণেই রিকশাচালকের চাইতে ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি | কারণ তারাও চায় স্বল্প পরিশ্রমে বেশি উপার্জন করতে |   এ তো গেল ভিক্ষুকশ্রেণীর মানুষের কথা | এখনকার দিনে মানুষের হাত পাতার স্বভাবটা নতুন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে | সে ভিক্ষুক হোক অথবা স্যুট টাই পরা ভদ্র সমাজের লোকই হোক...| একটু তেলিয়ে, একটু হাত-পা ঘষে যদি দু চার পয়সা বাড়তি ইনকাম হয় তাতে মন্দ কি ?   আসলে মন্দ কিছু না | তেলিয়ে অথবা হাত পেতে কিছু আয় করে অথবা বাড়তি সুবিধা নিয়ে দিনগুলো ভালোই পার করতে পারবেন, কিন্তু রক্তের ভেতর যখন হাত পাতা অভ্যাসটা পৌঁছে যাবে তখন আপনার অবস্থা হবে নিচের গল্পের মহিলার মতো-        “একবার কোন এক নাটকে দেখেছিলাম এক দম্পতি আর্থিকভাবে কিছুটা অস্বচ্ছল ছিল | টাকা পয়সার খুব অভাব ছিল তাদের | তো স্ত্রী একটু লোভী থাকায় অন্যের টাকার ব্যাপারে বেশি ঝোঁক ছিল | অন্যের কাছ থেকে সে অকারণেই টাকা ধার করতো |    যখন স্বামীর অবস্থার একটু পরিবর্তন হলো তখন সে সবার টাকা পরিশোধ করার জন্য স্ত্রীকে টাকা দিলো | কিন্তু ঐ যে, তার অভ্যাস..   প্রতিদিন ব্যাগ নিয়ে বের হয়, কিন্তু টাকা আর পরিশোধ করে না | এমনকি বাড়িওয়ালী যখন ভাড়া নিতে আসতো তার ভাড়ার টাকাটাও দিতে চাইতো না |”    অবস্থার পরিবর্তন হলেও তার অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি | | |   তাই খুব হাসিমুখে, তেলিয়ে কিছুটা লাভবান হয়তো হতে চাইছেন, তাতে কি হবে?   ভবিষ্যতে হয়তো... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (2)

  • - জাকিয়া জেসমিন যূথী

    এত লিখেন কীভাবে? আপনার জন্যে এত্তগুলা হিংসা।

এবং হিমু

৫ বছর আগে লিখেছেন

শূন্যতা

অফিস থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সায়েম।হঠাৎই রাস্তার ওপারে দেখলো কিছু মানুষের জটলা।তাই সেদিকে এগিয়ে গেল।ভিড় ঠেলে দেখতে পেল একটি ছেলে উল্টো হয়ে শুয়ে আছে।মাথা বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
 
তাড়াতাড়ি ছেলেটির কাছে এগিয়ে গেল সায়েম।ভালই ইনজুরড হয়েছে বোঝা যাচ্ছে।তাদের ঘিরে দাড়িয়ে আছে মানুষগুলো।তারা যেন বায়োস্কোপ দেখছে।তাই কিছুটা রেগেই সায়েম বললো-
 
‘আপনারা দাঁড়িয়ে থেকে কি তামাশা দেখছেন?একটা অ্যাম্বুলেন্স তো ডাকতে পারেন কেউ?এই যে ভাই,একটু ধরুন না।ওকে হসপিটালে নিতে হবে।’
 
এবার পাবলিকের একটু টনক নড়লো মনে হয়।দুতিনজন গিয়ে একটা সিএনজি যোগাড় করলো।ধরাধরি করে ছেলেটাকে সিএনজিতে উঠানো হলো।গন্তব্য হাসপাতাল।
 
সায়েম জড়িয়ে রেখেছে ছেলেটাকে।রক্তে ওর সাদা শার্ট রঙিন হয়ে উঠেছে।এতকিছু খেয়াল করার সময় নেই এখন।কিভাবে অ্যাকসিডেন্ট হলো,ছেলেটার আত্মপরিচয় কিছুই জানে না সায়েম।জানার প্রয়োজনও নেই এখন।একটি জীবন বলে কথা...
 
হাসপাতালে পৌঁছে দ্রুতই ছেলেটাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলো।এখন ছেলেটার একটু খোঁজ দেয়া লাগে ওর পরিবারকে।না জানি ফ্যামিলি কত টেনশন করছে ছেলেটার জন্য। বেশি বয়স হবে না ওর।হয়তো ফাইভ-সিক্সে পড়বে।আল্লাহর কাছে প্রার্থনা যেন বেশি কিছু না হয়;ভাবতে থাকে সায়েম।
 
ছেলেটা স্কুল থেকে ফিরছিল।তাই সাথে স্কুলের একটা ব্যাগ আর টিফিন বক্স ছাড়া আর কিছু নেই।ব্যাগ খুঁজে একটা স্কুলের একটা ডায়েরী পেল।সেটিতেও তেমন কোনো তথ্য পাওয়া গেল না।ভাল মুশকিল তো,মনে মনে ভাবলো সায়েম।
 
ঘড়িতে রাত তখন আটটা।আইসিইউ থেকে ডাক্তার বের হতেই সায়েম জিজ্ঞেস করলো-
 
‘কি অবস্থা ডাক্তার?’
 
‘আরজেন্ট ব্লাড লাগবে।ও পজিটিভ।’
 
‘আমার ও পজিটিভ,ডাক্তার।’
 
‘ওকে।আসুন আমার সাথে।’
 
সায়েম ডাক্তারের পিছন পিছন রওনা হলো।ছেলেটার ফ্যামিলিকে পরেও জানানো যাবে,আগে রক্ত দেয়াটা বেশি প্রয়োজন।তাই আর বেশি সময় নষ্ট... continue reading
Likes Comments
০ Shares

এবং হিমু

৫ বছর আগে লিখেছেন

অত:পর প্রেম...

‘কিরে! কি অবস্থা?’-অনলাইনে তৃষাকে পেয়েই নক করলো ধুসর।
‘খুব ভাল অবস্থা দোস্ত তোর কি খবর?’-তৃষার পাল্টা জবাব
‘খুব ভাল অবস্থা???বাব্বাহ!!! আমার আর কি?এইতো চলছে।’-ধুসর উত্তর দেয়।
‘হুম দোস্ত,মন ভাল হওয়ার মতো একটা সুখবর আছে।’-তৃষা বলে।
‘তাই নাকি?তাড়াতাড়ি বলে ফেল।’-আগ্রহের সাথে জানতে চায় ধূসর।
‘নিয়াজের সাথে আমার এংগেজমেন্ট আগামী সপ্তাহে’-থুশিমনে বলে তৃষা।
‘ওয়াও!!!হোয়াট এ গ্রেট নিউ্জ।কত্তদিন পর বিয়ে খেতে পারবো।যদি তুই দাওয়াত দিস’-হাসতে হাসতে বলে ধূসর।
‘মজা নিচ্ছিস?মাইর খাবি।তোর এবার একটা স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে দোস্ত’-হাসতে হাসতে বলে তৃষা।
‘ই্য়াপ!!!এইবার অবশেষে আপনার সাথে আমার দেখা হবে’-বলে ধূসর
‘হিহিহিহি....দোস্ত এখন যাই।নিয়াজ ফোন দিয়েছে।পরে কথা হবে।’-বলেই অফলাইনে চলে যায় তৃষা।ধুসর থেকে প্রত্যুত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে না।
ল্যাপটপের স্ক্রীণে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ধূসর।
*****
ধূসর-তৃষার পরিচয়টা ফেসবুকেই।সেই ২০০৭ থেকে ওদের বন্ধূত্ব শুরু।এরপর পার হয়েছে কত মাস,বছর...ওদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটি আরো গাঢ় হয়েছে এর মধ্যে।কিন্তু আক্ষেপ একটিই,ওদের কখনো দেখা হয়নি।ধূসর থাকে ঢাকায় আর তৃষা খুলনাতে।এদিক থেকে আক্ষেপটা ধূসরের একটু বেশিই।কারণ অনেকবার দেখা করার অ্যাটেম্পট নিতে চাইলেও তৃষার বাঁধার মুখে পড়ে দেখা আর হয়নি।তৃষার এক কথা-‘সময় হবে দেখা করার।’ সেই সময় যে অবশেষে আসছে ভেবে কিছুটা খুশি ধূসর।
বন্ধুত্বে শেয়ারিং-কেয়ারিং বলতে যা বোঝায় সবই ছিল ওদের সম্পর্কে।সেদিক থেকে ধূসরই একটু এগিয়ে।সময়মতো সব কিছুর খোঁজ ধূসরই আগে নিত।আসলে তৃষার জন্য ধূসরের মনে একটা ভাললাগা কাজ করতো যেটি কখনোই ও প্রকাশ করার সাহস পায় নি।কারণ,যখন থেকে ধূসর বুঝতে পারে ও তৃষাকে পছন্দ করা শুরু করেছে তখন থেকেই নিয়াজের সাথে তৃষার সম্পর্ক।তাই নিজের ভাললাগাকে গোপন করে রাখাটাই ওর কাছে শ্রেয় মনে হল,কারণ সব কিছুর পরেও বন্ধূত্বের মর্যাদাটুকু যে রাখতে হবে।সেই মর্যাদা
রাখার তাগিদে এখনো তৃষার কাছে ওর ফোন নম্বরটি চাওয়ারও সাহস করেনি ধূসর।কারণ যা কিছুই হোক না কেন তৃষাকে তো আর ধূসর ওর মতোন করে পাবে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (3)

  • - লুৎফুর রহমান পাশা

    • - চারু মান্নান

      thanks kobi,,,,,,,,,

এবং হিমু

৫ বছর আগে লিখেছেন

একটি অলিখিত প্রেমের গল্প

রোহান আজ খুব ব্যস্ত।সারাদিনের প্ল্যান রেডি করে ফেলেছে ঘুম থেকে উঠেই।আ্জ ওর জন্য বিশেষ দিন।আর সেই বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষটিকে কিভাবে বিশেষ ভাবে আনন্দ দেয়া যায় তা ভেবেই রোহান উত্তেজিত হয়ে পড়ছে।
 
তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা খেয়ে বের হওয়ার পথে রোহান।রাস্তায় পা দিতেই ফোন আসলো শ্রেয়ার-
 
‘কোথায় তুই?’-ওপাশ থেকে শ্রেয়া বললো।
 
‘এইতো বের হয়েছি।তোকে ফোন দিতাম।তার আগেই...’-রোহানের উত্তর্।
 
‘এতক্ষণে বের হয়েছিস?কাল না তোকে বললাম আজ খুব জরুরী কিছু কাজ আছে।কতক্ষণ লাগবে?’-শ্রেয়া জিজ্ঞেস করলো।
 
‘আরে ঘুমাতে ঘুমাতে দেরি হয়ে গেল।তাই,বেশিক্ষণ লাগবে না।এইতো বড়জোর এক ঘন্টা।আর জ্যাম থাকলে..বুঝিসই তো’-একটু হেসে বললো রোহান।
 
‘রাত জেগে করিস কি?তোর তো গার্লফ্রেন্ডও নাই যে ফোনে রাত পার করবি।’
 
‘আরে ওসব হয়ে যাবে শীঘ্রই...আর বেশিদিন নেই।’-হাসতে হাসতে বললো রোহান।
 
‘হুহ!আর হয়েছে তোর।যার মুখ থেকে কথাই বের হয় না সে গার্লফ্রেন্ড পালবে কি করে?’
 
‘হাহাহা...কথা দিয়েই সব হয় না বান্ধবী।’
 
 ‘বলছে তোকে।জলদি আয়।আমি রেডি হয়ে নেই।’-বলেই ফোন রেখে দিল শ্রেয়া।
 
ফোনটা রেখে কিছুক্ষণ মোবাইলের স্ক্রীণ ওয়োলপেপারের দিকে তাকালো রোহান।তারপর মুচকি হাসলো।মনে মনে বললো ছবিটার দিকে তাকিয়ে-
 
‘রোহান আজ পারবে।’
 
শ্রেয়া-রোহান।সেই কলেজ  থেকে ওদের বন্ধুত্ব জীবন শুরু।কলেজ এক হলেও ভার্সিটি ছিল আলাদা।তাতে কোনো সমস্যা হয়নি।সবকিছুর পরেও ওরা নিজেদের জন্য আলাদা করে সময় রাখতো।সেসময়টা একান্তই ওদের দুজনের।রোহান কথা বলে খুব কম।খুবই বিনয়ী টাইপের।আর শ্রেয়া বলতে গেলে রোহানের পুরো বিপরীত।এতক্ষণ ফোনে কথা বললো কিন্তু আজকে রোহানের জন্মদিনে এখন পর্যন্ত একটিবারও উইশ করেনি।শ্রেয়া এমনই...কখনোই সামনে না থেকে উইশ করে না।তার আগ র্পন্ত এমন ব্যবহার করবে যেন দিনটা খুব সাধারণ।এইতো গতবার।রোহান ভেবেছিল... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (1)

  • - বাঙলা বেলায়েত

    - আলমগীর সরকার লিটন

    জানালা ভেঙ্গে দক্ষিণা বাতাস

    দেহ জুড়ায় ছড়ায় সুভাস

     

এবং হিমু

৫ বছর আগে লিখেছেন

বেশ কয়েকদিন থাকতে পারবো না। অনুষ্ঠানটিতেও হয়তো অংশগ্রহণ করতে পারবো না। কাল সকালে দেশের বাড়ি যাচ্ছি।সকলে দোয়া রাখবেন...

Likes Comments
Load more writings...