Travel Image

শহীদের রক্তে ভেজা চারটি গ্রাম



মহান মুক্তিযুদ্ধের এক খন্ডিত ইতিহাস মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেন্দিয়া গনহত্যার ঘটনা, যা দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে । অথচ আজ পর্র্যন্ত এ ঘটনাটি অনুসন্ধানের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি । এমন কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষকরাও কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি । দেয়া হয়নি শহীদ হিসেবে ১২৬ শহীদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি । বিচার হয়নি এ মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্য নায়কদের । পাশাপাশি অনাবিষ্কৃত ৬ টি গনকবর হারিয়ে যাচ্ছে অযত্ন- অবহেলায় ফলে ঘটনার আড়ালেই ঢাকা পড়ে যাচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের এই ইতিহাস । ১৯৭১ সালে ( সম্ভাব্য ১৯মে ) বাংলা ১৩৭৮ সালের ৫ জ্যৈষ্ঠ বুধবার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা রাজৈর উপজেলার সেন্দিয়া, পলিতা, ছাতিয়ানবাড়ি ও খালিয়া গ্রামের ১২৬ জনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় । এ হত্যাকান্ডের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্র শিশুরাও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর একটি সেনা ক্যাম্প ছিল রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে । তখন নদী পথ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াতের আর কোন পথ ছিল না । ঘটনার দিন ৯টায় পাক বাহিনী লঞ্চযোগে গোপালগঞ্জের ভেন্না বাড়িতে নেমে চর চামটা থেকে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করতে করতে মাদারীপুরের কদম বাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারীর ভেতর দিয়ে প্রথমে উল্লাবাড়িতে হত্যাকান্ড চালায় । উল্লাবাড়ি থেকে সেন্দিয়ার দিকে যেতে যেতে পথে পথে অগ্নিসংযোগ, লুন্ঠন ও গুলি চালিয়ে হত্যা করতে করতে সেন্দিয়ার ভেতরে ঢোকে। এই সংবাদ পেয়ে সেন্দিয়া, পলিতা ,ছাতিয়ানবাড়ি ও খালিয়া গ্রামের আবাল -বৃদ্ধ-বনিতা আশ্রয় নেয় পার্শ্ববর্তি পশ্চিম সেনিদয়া আখক্ষেতে । পাকবাহিনী ততক্ষণে পুরো এলাকা ঘিরে গনহত্যা শুরু করে । এলাকার মুক্তিকামী নারী-পুরুষদের ধরে এনে পশ্চিম সেন্দিয়া ফকিরেভিটা , সেন্দিয়া বাওয়ালী ভিটায়, বারিদারবাড়ির উওরে বাঁশ বাগানে ,শচীন বারিকদারের বাড়ীর দক্ষিণ খালপাড় এবং ছাতিয়ানবাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলে দেয়। পাক বাহিনি এই গনহত্যা চালিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হঠাৎ করে আখক্ষেতে থেকে একটি ছাগলের ডাক শুনতে পায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাক বাহিনী ব্রাশফায়ার করে শতাধিক মানুষকে হত্যা করে । নারীরাই এই গনহত্যার শিকার হয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই সেন্দিয়ার গনহত্যার ব্যাপারে তেমন কোন লেখালেখি হয়নি । অনুসন্ধান করা হয়নি এলাকার ৬টি বধ্যভূমির । ওই দিনের সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞের মধ্যে মৃত্যু মায়ের বুকের দুধ পান করছিল প্রভাস পরে সেই চার মাসের শিশুটির লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন গোপালগঞ্জ বানিয়ারচরের মিশনারী ফাদার মারিনো রিগন । ওই দিনের সেই প্রভাস আজকের মোসি বাড়ৈই তিনি এখন আমেরিকার প্রবাসী এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী । তার প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে ফাদার মারিনো রিগন । দির্ঘ্য দিন পরে হলেও মোসি সার্বিক প্রচেষ্টায় এবং স্থানীয় লোকজন বানিয়ারচরের মাইকেল বাড়ৈর তত্ত্বাবধানে ২০০৯ সালে ১৪ই এপ্রিল (১বৈশাখ ১৪১৬ ) মঙ্গলবার সেন্দিয়ায় একটি শহীদ স্বৃতি ফলক স্থাপিত হয়। স্মৃতি ফলকে ১২৬ জন শহীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ।

শুধু পাক হানাদাররা ঘরে আগুন দিয়ে যে বৃদ্ধা কে (অমূল্য কুন্ডুর মা) হত্যা করে তাঁর নাম না জানার কারনে শহীদ স্মৃতি ম্ভম্ভে খোদাই করা সম্ভব হয়নি । এই স্মৃতি ফলকের উদ্বোধন করেন ১৯৭১ সালের সেনদিয়া গন হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ফাদার মারিনো রিগন । সে দিন শহীদ হয়েছিলেন যে সব নারী পুরুষরা তারা হলেন :-সুরধনী শিকারী , মধুমালা শিকারী, বড় বুড়ি শিকারী , বিনোদিনী শিকারী , সুবাসী বেপারী , কুমদী বেপারী , এলোকেশী কুন্ডু ,সুমিত্রা,বৈরাগী ,শোভা বৈরাগী,মালতী বৈরাগী ,তরংগী বৈরাগী ,সুলতা বৈরাগী , সৌদামিনী বৈরাগী , মনিমালাবাড়ৈ ,দিপালী বাড়ৈ , ঘ্রান্তী রানী মন্ডল , যশোদা মন্ডল , ঞ্জানদা মন্ডল,মনিরানী মন্ডল , পাষানী বিশ্বাস , করুনা মন্ডল , গৌরি মন্ডল ,ঘাঘড়ী বাওয়ালী ,রাইসোনা মোহন্ত , ঘাঘরী মজুমদার ,গৌরি বারিকদার ,কুসুম বারিকদার,মধুমালা বারিকদার , আলোমতি বারিকদার ,আন্না রানী বারিকদার, আয়না বারিকদার ,ময়না বারিকদার ,সাধনা বারিকদার ,ভগবতী বারিকদার,শ্রীমতি বারিকদার,পূজারানী বারিকদার , পুষ্প রানী বারিকদার,লক্ষী রানী বারিকদার, মালতী বারিকদার ,সুশীলা বারিকদার, শান্তি রানী বারিকদার ,সুলতা রানী বারিকদার,ঞ্জানদা বারিকদার,লেবু রানী বারিকদার ,মরি মন্ডল ,নেমু মল্লিক,মালতী মল্লিক,সুমি মল্লিক ,পাচি মল্লিক ,কুটি মল্লিক ,কুটি মল্লিক,সরস্বতী মল্লিক , মধুমালা মল্লিক ,ক্ষ্যান্ত মল্লিব,কুটিবুড়ি মল্লিক , সুধা কীর্তনীয়া,অলন্ত বাড়ৈ,কুটি রানী বাড়ৈ,পাগলী বাড়ৈ , মণিমালা বাড়ৈ , সুমতি বৈদ্য ,জৈলাসী,গোলদার,কমলা মন্ডল,ওইমুনা বারুরী,যামিনী বারুরী, মইফুল রায়, ফুলমালাবালা, ঘ্রান্তীবেপারী। পরানশিকারী, পুলিন শিকারী,প্রথম শিকারী,ফেলু সরদার,প্রশান্তসরদার,প্রসেন সরদার,বিরেন বাড়ৈ, বেনীমাধব মন্ডল,ব্রজবাসীমন্ডল,জুড়ান বিশ্বাস,মনিন্দ্রমন্ডল,বিমল বাওয়ালী,পাশ্বনাথ বারিকদার,ধন্যবারিকদার,যতীন বারিকদার, রতিকান্ত বারিকদার,জিতেন বারিকদার,মনিন্দ্রনাথ বারিকদার,দুঃখীরাম বারিকদার,বিরাট মল্লিক,ভুবন মল্লিক,সূর্যকান্তমল্লিক,রাজু বাড়ৈ,পুলিন বাড়ৈ,দশরথ বাড়ৈ,রাম চন্দ্র বাড়ৈ,মাখন বাড়ৈ,রসিক বাড়ৈ ,সৌদা বাড়ৈ,মঙ্গল বাড়ৈ,কোকারাম গোলদার,সুরেন বৈরাগী, চিত্র বৈরাগী, কমলা মন্ডল,জগদীশ বারুরী,গোপাল বারুরী,মুত্যুঞ্জয় রায় ,রাজেশ্বর রায় ,জগবন্ধু বালা, পাচুবালা,রঞ্জন বালা,পরিমল বেপারী,আনন্দ বেপারী,নারায়ন বেপারী,বিজয় বাড়ৈ, চন্ডীচরন বালা,কেনারাম মন্ডল,পূর্ন পাল।