Sports Image

মজার ক্রিকেটে গাম্ভীর্যের মুখোশ



ডেনিস হোপ নামের এক মার্কিনি যখন চাঁদ ও সৌরজগতের মালিকানা দাবী করে চাঁদে এবং বিভিন্ন গ্রহে জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন, তখন শুরুতে লোকে পাগল ঠাউরেছিল। আইনীপথে চাঁদের মালিকানা তিনি পান বা না পান, চাঁদের জমি বেচে লাখ লাখ ডলার তো এসেছে তার অ্যাকাউন্টে ! হোপের কাছ থেকে চাঁদে জমি কেনা মানুষদের তালিকায় আছেন তিন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং হলিউড তারকারাও। ঠিক তেমনি চীনের জেং গুয়াংবিয়াও কোটিপতি হয়ে গেছেন স্রেফ বাতাস বেচে! চীনে শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা অনেকবেশি, সেখানে জেং ক্যানে করে বিক্রি করছেন “পাহাড়ের টাটকা বাতাস”!কোমলপানীয়ের ক্যানের আকারে এক ক্যানভর্তি তাজা বাতাস বিক্রি করেছেন ৬০টাকার কাছাকাছি অংকে। ১০ দিনে ১কোটির কাছাকাছি ক্যান নাকি বিক্রি হয়েছে! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাগুলো নির্জলা সত্যি, অনেকটাই টোয়েন্টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের “হটকেক” হয়ে ওঠার মত। শুরুতে মনে হচ্ছিল,কেমন হবে বিশওভারের এই ক্রিকেট? লোকে কি আদৌ দেখবে, খেলা তো শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যাবে?অথচ প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর একযুগের মাথায় টি-টোয়েন্টিই হয়ে উঠেছে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জনপ্রিয়তম সংস্করণ, দর্শকদের কাছে তো বটেই খেলোয়াড়দের কাছেও।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের মার্কেটিং ম্যানেজার ছিলেন স্টুয়ার্ট রবিনসন। ক্রিকেটকে সংক্ষিপ্ত করার অনেক ভাবনা এর আগে বিক্ষিপ্ত ও নানা সংস্করণে বাস্তবায়িত হলেও বিশ ওভারের ক্রিকেটের ভাবনা ও প্রয়োগটা হয় তার হাত ধরেই। ফুটবল পাগল ইংরেজরা ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল ক্রিকেট থেকে, বিশেষ করে তরুণরা। তাই সন্ধ্যায় কাজফেরতা লোকেদের জন্য স্বল্প সময়ের বিনোদন এবং সবচেয়ে বড় কথা রোমাঞ্চ এবং ফল নিষ্পত্তি নিশ্চয়তা নিয়েই টি-টোয়েন্টির জন্ম। এর আগে “সিক্স এ সাইড” ও “ডাবল উইকেট” সহ নানান সংক্ষিপ্ত সংস্ক রণও দেখেছিল আলোর মুখ, কিন্তে টেকেনি। তবে টি-টোয়েন্টি টিকে গেল।শুধু টিকেই গেল না,আস্তে আস্তে টি-টোয়েন্টিই যেন হয়ে উঠছে এ যুগের ক্রিকেটের চেহারা। কারণ খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবে অনেক, তবে বেশিরভাগের যুক্তিতেই প্রধান অনুঘটক হচ্ছে ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ভারতের হার! ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিদায় নেয় ভারত, আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় পাকিস্তান। ফলে সুপার এইটের সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ রূপ নেয় বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে। বার্বাডোজের সেই ম্যাচের জন্য টিকিটের চাহিদা ছিল তুঙ্গে, সেটা কমে যায় একদম। বাতিল হয় অজস্র রুম আর ফ্লাইট বুকিং।কারণ অনাবাসী ভারতীয় ও পাকিস্তানীরা ব্রিটেন ও মার্কিন মুল্লুক থেকে বার্বাডোজে আসার যে পরিকল্পনা করেছিলেন,সেটা যে ভেস্তে যায় ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ না হওয়ায়। সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপণ থেকে আয়ও কমে যায়। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টির প্রথম বিশ্বআসর, সেটা আবার হয় দারুণ রোমাঞ্চকর ও আর্থিকভাবে লাভজনকও।প্রথমসারীর খেলোয়াড়দের বসিয়ে তরুণদল পাঠিয়ে ভারত শিরোপা জেতে পাকিস্তানকে হারিয়ে।এতে সেদেশের বোর্ড কর্তারাও মনে করেন, এই সংস্করণেই সাফল্য আসবে বেশি। টুর্নামেন্টের স্থায়ীত্ব ওয়ানডের চাইতে কম, দর্শকদের মাঠে আসার হার বেশি, খেলায় রোমাঞ্চের মাত্রাও অনেক…সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টির প্রথম বিশ্বআসর একেবারে “শোলে’ ছবির মতই সুপারহিট। তা থেকেই বারবার এই আসরের আয়োজনে আগ্রহী হয়েওঠে আইসিসি, আর বিশ্বআসর বলেই দেশগুলোও মনযোগী হয়ে ওঠে টি-টোয়েন্টিতে। ফল,একসময় যে ক্রিকেটটা ছিল নিছক মজা বা বিনোদন এখন সেটাই প্রধান প্রতিযোগিতা।

বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে,২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। দুই দলের খেলোয়াড়রাই প্রতিদ্বন্দিতার চাইতে মজা করতেই যেন নেমেছিলেন মাঠে। তাদের পরণে প্রথাগত জার্সির বদলেছিল আশিরদশকের ব্যান্ডগুলোর আদলে ঝলমলে রঙ্গিন ডিস্কো ড্যান্সারসুলভ পোষাক।কেউকেউ লাগিয়েছিলেন আলগা চুল,নকল দাড়িগোঁফ এবং বিশাল গগলস। তাদের মধ্যে নাকি কে সবচেয়ে ভাল পুরানো দিনের সাজ নিতে পারেন, এইনিয়ে প্রতিযোগিতাও হয়েছিল! নিউজিল্যান্ডের জয়ের যখন বাস্তব সম্ভাবনা নেই তখন ট্রেভর চ্যাপেলের মত আন্ডারআর্ম বল করেন গ্লেন ম্যাকগ্রা, এজন্যে তাকে আবার লালকার্ড দেখান আম্পায়ার বিলি বাউডেন! এমন হাসিঠাট্টার আবহটাই চলে আসছিল বেশ কিছুদিন। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জার্সিতে নামের বদলে ছিল হেইডোস, চার্চ,পাপস, পান্টার!এগুলো আসলে ম্যাথু হেইডেন , অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইকেল ক্লার্ক, রিকি পন্টিং এর ডাকনাম, শুধু কি তাই মাঠেই খেলতে থাকা খেলোয়াড় মাইক্রোফোনে সংযুক্ত হচ্ছেন ধারাভাষ্যে, কথা বলছেন এবং বলতে বলতেই ফিল্ডিং করছেন এমনটাও হয়েছে। এই হাসিঠাট্টার ক্রিকেটই যে প্রথম বিশ্বআসর আয়োজনের অল্পদিনেই এমন সিরিয়াস ক্রিকেট হয়ে উঠবে,সেটা কেই বা ভেবেছিল! আগে বিশ ওভারের ক্রিকেটে মজাটাই ছিল মুখ্য, সিরিজ শুরুর আগে একটু আইসব্রেকিং এর মত। এখন টি-টোয়েন্টি রামগড়ুরের ছানার মতই গম্ভীর,এখানেও অধিনায়ককে গোমড়ামুখে সংবাদ সম্মেলনে বলতে হয়, “আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে নির্দিষ্ট দিনে যে কোন দলকেই হারিয়ে দিতে পাড়ির মত জীর্ণ হয়ে যায় বাক্য!

অনেকেই বলেন,ভারত যদি পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম আসরটা না জিতত তাহলে এমন হতো না। কথাটা একেবারে ফেলনা নয়। জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়াতে তাদের দেশে কোন তোলপাড় হয়নি,পরের আসরে স্বাগতিক ইংল্যান্ড নেদারল্যান্ডসের কাছে হারার পরও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়নি তাদের ঘিরে। বরং ২০১০ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ড প্রথমবারের মত বৈশ্বিক কোন আসরের ট্রফি জেতার প্রেরণাতেই হয়তো ছয় মাসবাদে অ্যাশেজ জেতে ২৬ বছরপর। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা বার্ষিকসূচীতে বাড়তে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মত দলগুলো টি-টোয়েন্টিকে দেখেছে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেবার একটা জায়গা হিসেবেই। নইলে কি আর অস্ট্রেলিয়া কোন রকমের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই জর্জ বেইলিকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক বানিয়ে দেয়? ইতিহাসের প্রথম টেস্টের অধিনায়ক ডেভ গ্রেগরি বাদে এই “রেকর্ড” যে আর কারোই নেই। ডেভ গ্রেগরির পক্ষে তো আর ব্যপারটা সম্ভব ছিল না,অথচ বেইলি কোন রকম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ছাড়াই হয়ে গিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক! তবে সবাই তো আর অস্ট্রেলিয়া নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে টানা দূর্ভাগ্যের ব্যর্থতা ঘোচাতে টি-টোয়েন্টির সাফল্য খুঁজছে মরীয়া হয়ে,যদিও এখানেও এখনো শিরোপা তাদের অধরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সোনালি সময়কে পেছনে ফেলে টেস্ট ও ওয়ানডেতে র‍্যাংকিং এর তলানির দিকের দল, অথচ তারাই ২০১২ সালে জিতেছে টি-টোয়েন্টির শিরোপা। ক্রিস গেইল,ড্যারেন ব্র্যাভো, কিয়েরন পোলার্ডরা এই খেলার সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ক্রিকেটারদের কয়েকজন। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের খোঁজে মরিয়া হয়ে নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেরাই পড়ে যাবার পর এবারও সেই পথে হাঁটছে বিসিবি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে বদলে ফেলা হয়েছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। কারণ আসন্ন টি-টোয়েন্টির বিশ্বআসর।

নারায়নস্বামী শ্রীনিবাসন ক্রিকেটকে কুক্ষীগত করার যে নীলনকশা এঁকেছিলেন,তাতে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এর বিলুপ্ত হয়ে যাবার কথা। তবে এখনো বিলুপ্ত হয়নি সংগঠনটি, তাদের আর্থিক জ্বালানী যোগায় এশিয়া কাপ যার গত দুটো আসরই হয়েছে বাংলাদেশে, হবে এবারও। তবে ৫০ওভারের ওয়ানডে নয়,এবার টি-টোয়েন্টির বিশ্বআসরকে সামনে রেখে হবে টি-টোয়েন্টি। সেখানে কমপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ, তারপর ভারতে টি-টোয়েন্টির বিশ্বআসর শুরুর আগে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচের সূচী আছে। দেশের মাটিতে হয়ে গেল বিপিএল,সেখানে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা ছাড়াও বিদেশের অনেক নামী খেলোয়াড়দেরও দেখা গেছে। সব মিলিয়ে বিশওভারের ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুতিটা অকিঞ্চিত হয়তো নয়। কিন্তু তারপরও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট সিরিজটা টি-টোয়েন্টি সিরিজে বদলে ফেলাটা বোর্ডের টি-টোয়েন্টির দিকে অতিরিক্ত নজরেরই প্রমাণ! ব্যপারটা ভাল লাগেনি খোদ অধিনায়ক মাশরাফিরও, “আমি অবশ্যই বলব টেস্ট ম্যাচের বিকল্প কিছু নেই। কারণ পুরো ক্রিকেটের উন্নতি করতে হলে টেস্ট ম্যাচের বিকল্প নেই।কিন্তু এখন এই ফরম্যাটে (টি-টোয়েন্টি) খেলছি কারণ সামনে আমাদের বিশ্বকাপ আছে,এজন্য এশিয়া কাপকেও টি-টোয়েন্টি করাহয়েছে।আমরা বাধ্য হচ্ছি টি-টোয়েন্টিতে ফোকাসড হতে।” টেস্ট থেকে মাঝে বেশ কিছুদিন স্বেচ্ছা নির্বাসন নেয়া জিম্বাবুয়ে ইদানিং বাংলাদেশের সঙ্গেই টেস্ট খেলছে বেশি। তাই বাংলাদেশ মুখ ফিরিয়ে নেয়াতে সুচী থেকে টেস্টের সংখ্যাও কমেগেছে তাদের, অবশ্য এজন্যে এলটন চিগুম্বুরার খুব একটা আক্ষেপ নেই কারণ টেস্টের চাইতে অন্য দুই ফরম্যাটেই যে তার দলটা অপেক্ষাকৃত বেশি ভাল, “আমার ধারণা বেশিরভাগ বড় দলগুলো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ কমই খেলে তবে এখন যেহেতু বিশ্বকাপ এগিয়ে আসছে তাই সবাই চাইছে যতবেশি ম্যাচ খেলে নিতে। এতেই নিত্যনতুন কৌশল আর দলীয় সমন্বয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া যাবে। টি-টোয়েন্টির বিশ্বআসর পর্যন্ত সবগুলো দলই বেশি বেশি টি-টোয়েন্টি খেলবে।” টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে মজাটা কমে গিয়ে সিরিয়াসনেসটা বেশি বেড়ে যাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে চিগুম্বুরা বেছে নিলেন মাঝামাঝি পথ, “ একটু হাত-পা খেলিয়ে খেলা যায় বলে অনেকেই টি-টোয়েন্টি পছন্দ করে,তবে আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি আসলে সিরিয়াস ক্রিকেট আর মজার একটা মিশ্রণ। দেশের হয়ে খেলতেও নামছি আবার মন খুলে নিজেকে প্রকাশও করা যায়। আমারতো মনে হয় মজার অংশটা এখনো হারিয়ে যায়নি। দর্শকদের জন্যও ভাল। অল্প সময়ে অনেক বেশি রোমাঞ্চের খেলা দেখতে পারে। সবাই চায় একইসঙ্গে সফল হতে আর মজাও পেতে।”

অস্ট্রেলিয়া সঙ্গে তুলনা করাটা অর্থহীন ঠেকে বটে, কিন্তু তাদের ক্রীড়াসংস্কৃতির প্রশংসা করতেই হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দেশে যখন তারা টেস্ট খেলছে,তখন সমানতালে চলেছে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ঘরোয়া আসর বিগব্যাশ লিগ। বিশ্বআসরে মাঠে নামার আগে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজও আছে স্মিথদের। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা বরাবরই উপমহাদেশে এসে খাবি খেয়েছে,তারাও কিন্তু টি-টোয়েন্টির স্তবগান জপতে উপমহাদেশের কোন দলের সঙ্গে এসে টি-টোয়েন্টি খেলছে না।কারণ টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা কোন অনুশীলন যে নেই! ভিভিএস লক্ষ্মণকে হাজার চেষ্টা করালেও তার ব্যাট থেকে এবি ডি ভিলিয়ার্সের মত উদ্ভাবনী সব শট বেরোবে না,আবার লক্ষ্মণের মত ধ্রুপদী শট আসবে না সুরেশ রায়নার ব্যাট থেকে। টি-টোয়েন্টির সাফল্য আসলে নির্ভর করে সঠিক দলটা বেছে নেয়ার উপর,সঙ্গে কিছুটা ভাগ্য এবং ১২০বলের হিসেবি ব্যবহারের কৌশলে। অথচ টি-টোয়েন্টি শিখতেই বাংলাদেশ বাদ দিয়েছে টেস্ট, যেখানে এমনিতেই টেস্ট খেলার সুযোগ কম জোটে। যদিও বা জুটে যায়,সেটা এমন সময়ে যার তিনদিন জুড়ে চলে বৃষ্টি। এখন আবার টি-টোয়েন্টির বিশ্বআসরের অনুশীলনের তাগিদে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক চারদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ।

ইমারতের ভিত্তিতে ক্রমাগত গাঁইতি শাবল চালিয়ে উপরে যতই চুনকাম করা হোক না কেন,সেটা ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য। টি-টোয়েন্টির বাণিজ্যিক লাভ এবং দর্শক উন্মাদনার সমীকরণে লাভের অংক কষে সেই পথেই হাঁটছেন ক্রিকেটের নীতি নির্ধারকরা। অথবা উল্টোটাও হতে পারে, তারা হয়তো জানেন ভবিষ্যতের পৃথিবীতে টি-টোয়েন্টিই হয়ে উঠবে ক্রিকেটের একমাত্র চেহারা। টেস্ট ক্রিকেট চলে যাবে জাদুঘরে, কারণ “টাইমলেস টেস্টও তো বিবর্তনের ধারায় এখন বিলুপ্ত! বরং উদ্ভব হয়েছে গোলাপি বলের ডে-নাইট টেস্টের। তখন হয়তো শরৎচন্দ্রের ভাষাতেই বলতে হবে,”অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা ঠিকই টিকিয়া আছে।”