Sports Image

বিশ্ব ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আজ সারা বিশ্বে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। খেলাটি আজ যে জায়গায় এসে সমৃদ্ধ হয়েছে শুরুতে এরকম ছিল না। আবার ক্রিকেট খেলার এতগুলো ফরম্যাটও ছিল না। বর্তমানে টেস্ট, ওয়ানডে, টি টোয়েন্টি তিন ধরণের ফরম্যাটে খেলা হয়। তাই যদি বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাস ভাগ করা হয় তবে দুভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

১। আদি যুগ
২। আধুনিক যুগ


আদি যুগ



ক্রিকেটের জনক কে তা নিয়ে আজো মতভেদ রয়েছে। তারপরেও ক্রিকেটের জন্মস্থান বলা হয় ইংল্যান্ডেকে। অবশ্য অনেকে মনে করেন যে, ক্রিকেটের জন্মটা হয় ভারতীয় উপমহাদেশের পাঞ্জাব অঞ্চলের ‘দোয়াব’ এলাকায়। দক্ষিণ ভারতে ব্যাটকে বলা হত ডান্ডা। এটি ৭ম শতাব্দীতে চালু হয় বলে জানা যায়। তারপরেই খেলাটি ৮ম শতাব্দীর আরও কিছু পরে পারস্যের দিকে চালু হতে থাকে। এরপরই ইউরোপীয়দের মধ্যে খেলাটির প্রচলন হয়।

১০৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিজয়ের পর নরম্যানরা সেখানেও এই খেলাটা চালু করে। তখন শুধুমাত্র সপ্তাহের রবিবার এই খেলাটি খেলা হতো। ১১৮৩ খ্রীস্টাব্দে জোসেফ অব এক্সেটার নামক লেখকের লেখা থেকে জানা যায়, একটি বল একজন ব্যাটসম্যানের দিকে ছুড়ে মারা হতো যার পিছনেই আজকের স্ট্যাম্পের মতো এক ধরনের কাঠামো থাকতো। ব্যাটসম্যানের হাতে থাকা কাঠের তক্তা দিয়ে বলটিকে বাড়ি মারতো সেই কাঠামোকে বলের আঘাত থেকে বাঁচানোর জন্য। আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকতো ব্যাটসম্যানের বাড়ি মারা বলটিকে ধরতে। অনেকটা আজকের দিনের ক্রিকেটের মতই।

কিন্তু এরপর আসে ক্রিকেটের উপর ধাক্কা। কারণ ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়ে গিয়েছিল রাজ্য জয়ের প্রতিযোগিতা। ক্রিকেট খেলার কারণে যুদ্ধ করার মতো প্রয়োজনীয় সৈনিক পাওয়া যাচ্ছিল না বলে রাজা দ্বিতীয় রিচার্ড ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধ করেন। নিষেধ অমান্য করলেই ছিল শাস্তির ব্যবস্থা। তবে ১৫০০ সালের পর এই ক্রিকেট খেলা জনপ্রিয় হতে থাকে। ফলে আর কোন বাধাই আর সামনে দাঁড়াতে পারে নি।




আধুনিক যুগ

মূলত যখন থেকে কাউন্টি ম্যাচ খেলা শুরু হয় তখন থেকেই আধুনিক ক্রিকেটের পথচলা শুরু হয়। প্রথম ম্যাচটি ছিল ১৭১৯ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও কেন্ট দলের মধ্যে। আর আমাদের ভারতবর্ষে ১৭২১ সালে আধুনিক ক্রিকেটের প্রচলন হয়। এরপর ১৮৭৭ সালে এসে জন্ম নেয় টেস্ট ক্রিকেট। ১৮৭৭ সালের ১৫ ই মার্চ প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও অংশ গ্রহণ করে এই দুটি দল। দুই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়া জয় লাভ করে। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে ‘ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্স’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৯ সালে। পরে ১৯৫৬ সালে ‘ইম্পেরিয়াল’ কথাটি পরিবর্তন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দটি যোগ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল’ রাখা হয়। যাকে এখনো সংক্ষেপে আইসিসি।



শুরুর দিকে টেস্ট ম্যাচগুলোর নির্দিষ্ট কোনো দিনের হিসাব ছিল না। তখন থেকেই ম্যাচ দেখার জন্য প্রচুর দর্শক টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসত। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের জন্যে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে আসে আরো ব্যাপক পরিবর্তন। জিলেট কাপ নামে ৬০ ওভারের এক টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ইংল্যান্ডে। এরও অনেক পরে ১৯৭১ সালের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের শুরু হয়। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জয়ী হয়। তারপর শুরু হয় বিশ্বকাপের ধারণা। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আইসিসি’ ক্রিকেট খেলুড়ে সবগুলো দেশ একসাথে নিয়ে নতুন এক টুর্নামেন্টের চিন্তা করে। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই ১৯৭৫ সালের ৭ জুন প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা ওঠে। প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড এবং সেই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, পূর্ব আফ্রিকা, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। এতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন ক্লাইভ লয়েড।



এরপর ৩০ বছর পর আবারো ক্রিকেটে আসে পরিবর্তন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে অনুষ্টিত হয় বিশ্বের প্রথম টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক বা টি২০ ইন্টারন্যাশনাল (ইংরেজি: Twenty20 International বা T20I) ক্রিকেট খেলার একটি ক্ষুদ্র সংস্করণবিশেষ। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডকে ৪৪ রানে পরাজিত করেছিল।