Lifestyle Image

কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাবেন




শুধু খাবার আর ব্যায়াম নয়, আপনার প্রয়োজনীয় ঘুমও নিশ্চিত করুন। দিন শেষে খুব ভালো ঘুম পরবর্তী দিনের সকল কাজের জন্য আপনার শরীরকে প্রস্তুত রাখবে।

*অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কম ঘুমের সাথে ওজন বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৮৯% শিশু এবং ৫৫% পূর্ণবয়স্ক মানুষ যারা কম ঘুমায়, তাদের মোটা হওয়ার (ওবেসিটি) প্রবণতা বেশি। এর পেছনে হরমোন, ব্যায়ামে আলস্য সহ অসংখ্য কারণ রয়েছে। ঘুম কম হলে এমন কিছু হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা আপনার খাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

*ভালো ঘুম আপনার মনোযোগ, পারফরম্যান্স, কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প ঘুম মস্তিষ্কের ক্রিয়াকর্মের যে ক্ষতিসাধন করে, তা অ্যালকোহলের ক্ষতিসাধনের সমান। কোনো সমস্যার সমাধানেও আপনি অনেক বেশি সফল হবেন যদি আপনার ঘুম ভালো হয়ে থাকে। যারা খেলাধুলা করেন, তাদের জন্য ভালো ঘুম অনেক বেশি প্রয়োজনীয় কেননা ঘুম তাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে, মানসিক সুস্থতা, শুদ্ধতা, প্রতিক্রিয়া, দ্রুততা- খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এসব গুণাবলীর উন্নতি হয়।

*ঘুমের কোয়ালিটি এবং স্থায়িত্বকাল বিভিন্ন রিস্ক ফ্যাক্টরের ওপর প্রভাব ফেলে যেগুলো হৃদরোগসহ অন্যান্য ক্রনিক রোগের প্রভাবক। যারা কম ঘুমান, তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে। কম ঘুম ব্লাড সুগারের ওপর প্রভাব ফেলে ও ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি হ্রাস করে। একজন তরুণ মানুষ যিনি সপ্তাহের ছয় রাত ৪ ঘণ্টা করে ঘুমান, তার মধ্যে প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। পরবর্তী ১ সপ্তাহ তিনি যদি তার ঘুমের সময়কাল বাড়িয়ে দেন, তবে তিনি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন। আপনি যদি নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমিয়ে থাকেন, তবে আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

*যারা কম ঘুমান, তাদের ৯০% মানুষ বিষণ্ণতায় ভোগেন। যাদের ইনসমনিয়া, স্লিপ এপনিয়া এ ধরনের স্লিপিং ডিসঅর্ডার আছে, তাদের অধিকাংশই বিষণ্ণতার রোগী। দেখা গেছে, যারা কম ঘুমায় তাদের সুইসাইড করার প্রবণতা বেশি থাকে।

*প্রতিদিনের ঘুমের খুব সামান্য হেরফের আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনার যদি প্রায়ই ঠাণ্ডা লেগে থাকে, খেয়াল রাখুন আপনার ঘুমের সময় কতটুকু। আপনি যদি রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে পারেন তবে উপকার পাবেন। কম ঘুমের সাথে পেটের/বুকের জ্বালাপোড়ার গভীর ষড়যন্ত্র আছে।