Lifestyle Image

গুণে ভরপুর আদা



রান্নাবান্নার কাজে আদা ব্যবহারের কথা রাঁধুনীদের কাছে অজানা নয়। মূলত সুগন্ধযুক্ত বলে এটি মসলা হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রায় ২০০০ বছর আগে থেকে চীনা ভেষজবিদেরা পাকস্থলীর নানা সমস্যায় আদা ব্যবহার করে আসছেন৷ আদার ভেষজ গুণের উল্লেখ রয়েছে মহাভারতে ও আয়ুর্বেদ মেডিসিনেও৷ আর বর্তমানের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও আদার বিভিন্ন গুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷


আদার ভরপুর গুণ সমূহ :
১.মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিসজনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা। গর্ভবতী মায়েদের সকালবেলা, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে সকালবেলা শরীর খারাপ লাগে। কাঁচা আদা দূর করবে এ সমস্যা।

২.দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যেকোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে।

৩.আদার রসে রয়েছে জিনজেরল নামের রাসায়সিক উপাদান, যা দেহের সিমপ্যাথেটিক সিস্টেমে বিটা এগনিস্ট হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ বন্ধ শ্বাসনালি খুলে দেয়, সাইনাসগুলোকে পরিষ্কার রাখে, শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে৷

৪.হাঁপানি রোগে ব্যবহৃত বিটা এগনিস্ট ওষুধের প্রায় সমান কার্যকরী এই রস—তা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে৷ এ ছাড়া শোগাওল নামের উপাদান মস্তিষ্কের বিভিন্ন কেন্দ্রের ওপর কাজ করে বমি ভাব বা বমি অনেকটাই কমাতে পারে৷ বিজ্ঞানীরা যেসব সমস্যায় আদার ব্যবহারের সুফল মেনে নিয়েছেন সেগুলো হলো:

৫.যাত্রাকালীন অসুস্থতা বা মোশন সিকনেস কমানো এবং গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেসে দারুণ কাজে আসে আদার রস৷ এটি পেটের ব্যথা, গ্যাস কমায়, রুচি বাড়াতে সাহায্য করে৷

৬.আদা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ডায়াবেটিস রোগের উপশম হয় বলে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন।

৭. সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক পরিচালিত এক গবেষণায় জানা গেছে, আদা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কার্যকরভাবে কমাতে সাহায্য করে। মূলত রক্তে অধিক মাত্রার কোলেস্টেরলের উপস্থিতি হৃদরোগ সৃষ্টির বিভিন্ন কারণের মধ্যে বিশেষ একটি। গবেষকদের মতে, আদায় রয়েছে রক্ত জমাটবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্তনালীর ভিতরের রক্ত জমাটে বাধা দান করে। এ ছাড়াও আদা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগ প্রতিরোধ সহজ হয়। সুতরাং আদার গুণ ভোলার নয়।



গুণে ভরপুর আদা

আদার আর ও কিছু গুণ ঃ
১.মল পরিস্কার করে, ভারী, উষ্ণ, খিদে বাড়ায়, পাকে মধুর রুক্ষ, রায়ু ও কফ দূর করে।

২. আদার রস শরীর শীতল করে, মধুর তীক্ষন, এবং হার্টের পক্ষে ভালো।
৩. হৃদরোগ ও শরীরের ভেতরে বায়ু ও আমাশা সারিয়ে তোলে।
১. আদার রস খেলে আহারে রুচি আসে এবং ক্ষুধা বাড়ে।
৪. আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে কাশি সারে।
৫. আদা মল পরিষ্কার করে।
৬. আদার রসে পেটব্যথা কমে।
৭. আদা পাকস’লী ও লিভারের শক্তি বাড়ায়।
৮. আদা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
৯. আদার রস শরীর শীতল করে।
১০. আদা রক্তশূন্যতা দূর করে।

১১.আদা কাজি বা পানীয় লবণ মিশিয়ে পান করলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়। খিদে বেড়ে যায়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং আমাশা সারে।
১২. আদা খেলে মুখে থুতু বা লালা উৎপন্ন হয়। এই লালা বা (স্যালাইভা) খাবার হজম তাড়াতাড়ি করতে সাহায্য করে, সেজন্য অরুচি ও অখিদে দূর করতে আদা খাওয়া জরুলী।
১৩. ভোজনের আগে আদা-লবণ সর্বদাই পথ্য। বিশেষত বর্ষা ও শীতে এভাবে আদা খাওয়া শরীরের পক্ষে হিতকর।

আদার এই ভরপুর গুণ আমাদের অনেকেরই একদম অজানা৷ তাই আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে রোজ সকালে একটুকরো খেলে অতুলনীয় উপকৃত হবেন।