Lifestyle Image

অবসাদ কাটানোর ১১টি উপায়



বর্তমান যুগ এতই ব্যস্ত যে অনেক সময়ই নিজের প্রিয়জনকে শুধু ঘুমানোর জন্যে কাছে পাওয়া যায়। আর যারা বিভিন্ন মেসে থাকেন তাদের তো কথায় নেই, মাসের পর মাস লেগে যায় প্রিয়জনের সাথে দেখা হতে। তাছাড়া এই প্রতিযোগিতামূলক জীবনে ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা তো রয়েছেই। এজন্য অনেকেই হতাশায় ভোগেন। আসুন জানা যাক এই অবসাদ কাটানোর ১১ টি উপায়ঃ

১। একজন পরামর্শদাতা খুজুনঃ
ভীত বা লজ্জবোধ করবেন না! আপনার অনেক গুরুতর শারীরিক সাহায্যের প্রয়োজন হলে একজন পরামর্শদাতাই আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তার কাছে আপনি বলতে পারবেন নিজের জীবনের অনেক কথা যা অনেক সময় নিকট আত্নীয় বা বন্ধুকেও বলা যায় না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিষণ্নতা একটি রোগ, অন্ধকারাছন্নময় জগত। তাই এটি যত তাড়াতাড়ি দূর করা যায় ততই মঙ্গল।

২। বাইরে অনেকদূর পর্যন্ত হাটুনঃ
অনেক ডাক্তার রোগীদেরকে নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আপনাকেও হয়ত বলতে পারে সময় কাটানোর জন্য ব্যায়াম করতে। কিন্তু সবচেয়ে ভাল হয় বাইরে বের হয়ে অনেকদূর পর্যন্ত হাঁটাহাঁটি করতে। এতে আপনার ভাল ব্যায়াম তো হবেই সাথে পাবেন প্রকৃতির সাথে আপনার মনের যোগসূত্র। আপনার শরীর ও আত্নাকে প্রকৃতির সাথে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিন। আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালবোধ করবেন।

৩। সূর্যের দ্বারা আপনার ত্বক গরম করা যাকঃ
এটা ডাক্তারি মতে সত্যি যে ভিটামিন ডি এর অভাবে আপনার ভেতর বিষণ্নতা কাজ করতে পারে। যারা বাইরে বেশি সময় কাটান, প্রচুর ফ্যাটি মাছ খান তাদের ভেতর ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিষণ্নতা কমবোধ করেন। এই ভিটামিন ডি খুব সহজেই পেতে পারেন সূর্য থেকে। তাই সূর্যের দ্বারা আপনার ত্বক গরম করা যাক এবং বিষণ্নতা তাড়িয়ে দিন।

৪। অনেক বই পড়ুনঃ
বিষণ্নতা তাড়াতে বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। প্রথমে সিলেক্ট করুন কোন বইগুলো আপনাকে আনন্দ দিবে। বই এর চেয়ে বড় বন্ধু কেউ হতে পারে না। তাই নিঃসঙ্গ সময়টুকু শুধুই বই পড়ে কাটাতে পারেন। এতে মন প্রফুল্ল করবে। আমি খুঁজে পাবেন নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বাদ।

৫। সময় মত সঠিকভাবে খাওয়া দাওয়া করুনঃ
খাওয়া দাওয়ার কারণে অনেক সময় আপনার মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে থাকে। এ থেকে আপনার মনে ভর করতে পারে অবসাদ। এ থেকে বাঁচতে হলে তাই নিয়ম মেনে সঠিক খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নাই। তবে খাওয়ার তালিকার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

৬। মদ্যপান এবং ড্রাগ নেওয়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুনঃ
আপনি যদি মদ পান করেন এবং ড্রাগ নেন তবে বিষণ্নতা রোগ আপনার হবেই। এ ধরনের মানুষেরা কখনোই জীবনে সুখী হতে পারে না। সব সময় এক অনিশ্চিত জীবনের পথে ধাবিত হতে থাকে। ফলে হতাশায় পর্যবসিত হয় জীবন। তাই নিজেকে বিষণ্নতা থেকে বাঁচাতে এখনই এই বাজে অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৭। ভালবাসতে শিখুনঃ
ভালবাসা জিনিসটা এমন যেটা যেকোন কিছুর প্রতিই হতে পারে। নিজের প্রতি, প্রমিকার প্রতি, বন্ধুর প্রতি এমনকি ফুল বা নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্র ইত্যাদি যেকোন কিছুর প্রতি আপনার ভালবাসা তৈরি হতে পারে। তাই সবকিছুকে ভালবাসতে শিখুন। ভালবাসা দিয়েই যেকোন জিনিস অর্জনও করা যায়। নিজের প্রতি যদি ভালবাসা থাকে তবে মনের মাঝে বিষণ্নতা ভীড় করার প্রশ্নই আসে না।

৮। বেশি বেশি হাসুনঃ
হাসি সবকিছুতে টনিক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে হাসির কারণে সত্যিই আপনি ভালবোধ করতে পারেন। এর জন্যে অবশ্য অনেক ফান ভিডিও দেখতে পারেন যেমন মিস্টার বিন। হাসি আপনাকে আপনার ব্যর্থতাগুলো ভুলিয়ে দিবে। তাই বেঁচে থাকার জন্যে আপনার মধ্যে আবারো প্রাণের সঞ্চার ঘটবে। আর এর মাধ্যমেই বিষণ্নতা থেকে আপনি সহজেই মুক্তি পেতে পারেন।

৯। সৃষ্টিশীল হতে চেষ্টা করুনঃ
আপনি অনেকভাবেই সৃষ্টিশীল হতে পারে। সৃজনশীলতা মানুষের বিষণ্নতার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। সৃষ্টিশীলতা অনেক ধরনের হতে পারে যেমন ছবি আঁকা, গান গাওয়া, ডায়েরি লেখা ইত্যাদি। তবে কখনোই এগুলোর শিল্পমূল্য নিয়ে চিন্তা করবেন না কারণ আপনার আনন্দটাই আসল। এই আনন্দের মাধ্যমেই আপনি আপনার মনকে রাখতে পারবেন চন্‌মনে।

১০। নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করুনঃ
নিজের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ মানুষ সবসময়ই নিরাশাবাদী হোন। তাই ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত আপনার স্বপ্নগুলো নিয়ে ভাবুন। খুঁজে বের করুন কোন স্বপ্নগুলো এখনো পূরণ হয়নি। স্বপ্নগুলো বাস্তবসম্মত হলে এখনই সেগুলো পূরণ করুন। দেখবেন জীবন কত অর্থবহ হয়ে উঠবে।

১১। পরিবর্তন মেনে নেওয়ার সাহস থাকতে হবেঃ
জীবন পরিবর্তনশীল। বেঁচে থাকতে হলে জীবনে পাড়ি দিতে হবে হাজারটা নানারকম অলিগলি পথ। যেমন ধরুন, প্রিয় মানুষের মৃত্যু আপনাকে মর্মাহত করবেই। কিন্তু ভেবে দেখুন, জীবন কিন্তু কারো জন্যে থেমে থাকছে না। বরং এই পরিবর্তনকে শক্তভাবে মোকাবেলা করুন। তবেই বিষণ্নতা সরিয়ে জীবনে সফলতা পাবেন।