Entertainment Image

যৌনতা নেই ‘জিরো ডিগ্রি’তে!






আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী মুক্তি পেতে যাচ্ছে নন্দিত নির্মাতা অনিমেষ আইচ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘জিরো ডিগ্রি’। রাস্তায় চোখ মেললেই চোখে পড়ছে জিরো ডিগ্রির উত্তেজক পোষ্টার, আর ট্রেইলারে রুহি আর জয়ার আবেদনময়ী দৃশ্যে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন জিরো ডিগ্রির দিকেই। কিন্তু নির্মাতা অনিমেষ আইচ বলছেন জিরো ডিগ্রিতে কোন যৌনতা নেই! আহমেদ জামান শিমুল’র সঙ্গে অনিমেষ আইচ’র কথপোকথন প্রকাশিত করা হল-





আপনার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘জিরো ডিগ্রি মুক্তি পাচ্ছে, অনুভূতি কি?
আমি অনেক উত্তেজিত, আনন্দিত। একইসাথে শঙ্কিত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। যদি পরিস্থিতি ভাল থাকে তাহলেই দর্শক ছবি দেখবে।

দর্শক কেন ‘জিরো ডিগ্রি’ দেখবে?
ছবির গল্পটা টান টান উত্তেজনার। গল্পটা সমসাময়িক, এ সময়ের গল্প।

ট্রেইলার ও পোস্টারে যৌনতাকেই প্রধান করে তোলা হয়েছে। ভেতরেও কি তাই?
প্রশ্নই আসে না যৌনতার। আমাদের গল্প বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিপ্রেক্ষিত তার গল্প। স্বপরিবারে দেখার মত ছবি। আমার ছবিতে যৌনতার কোন নাম গন্ধ নেই।


আপনারা থ্রিলার গল্পের ছবি বলছেন একে। এটা কি আপনার প্রিয় পরিচালক হিচকক তাই?
না, একদমই না। এটা কারো দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বানাই নি। একদমই আমাদের নিজেদের গল্প।

নাটক থেকে যারা চলচ্চিত্র নির্মাণে আসেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে – তাদের সিনেমা বড় নাটক হয়ে যায়। জিরো ডিগ্রীর ক্ষেত্রেও কি তাই ঘটবে?
এটা তো এখন বলতে পারছি না। ছবি মুক্তির পর দর্শকের মতামত জানতে পারব।

রুহি, মাহফুজ আহমেদ কিংবা জয়া আহসানকে কাস্ট করার কারণ?
চরিত্র অনুযায়ী তাদেরই আমার প্রয়োজন ছিল।

যদি তাই হয়, তাহলে রুহির জায়গায় প্রথমে আপনারা কলকাতার পাওলি দামকে চাইলেন। এরপর মৌসুমিকে প্রায় নিশ্চিত করলেন। পরে উনি রাজী না করায় রুহিকে নিলেন। তাহলে এতজনের কাছে কেন যাওয়া?
সবকিছুর একটা নিয়তি বা পরিনিতি থাকে। একটা ছবিতে শাহরুখকেও আমি অফার করতে পারি। কিন্তু শুটিং এর আগে কাউকে নিশ্চিত বলা যায় না। একটা চরিত্রের জন্য অনেক চয়েস থাকে। আর রুহিকে নিয়ে আমরা অনেক কনফিউশনে থাকলেও পরে ফুটেজ দেখে আমরা বুঝেছি আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

বলছেন শতভাগ বাণিজ্যিক ছবি। কিন্তু বাণিজ্যিক ছবির শিল্পীরা অনুপস্থিত আপনার ছবিতে। হলমালিকরা ছবি নিতে রাজি হবেন তো?
তারাতো আমার ছবি নেওয়ার জন্য পাগল। আমরা দিচ্ছি না। প্রথমে আমরা বড় থিয়েটারে দিচ্ছি। আমরা একটা নিদৃষ্ট অঙ্কের টাকা চাইছি এর নিচে কাউকে দিচ্ছি না।

ছবির বাজেট বলছেন ২কোটি টাকা। আমাদের দেশের বাজার কি এত বড়?
হ্যাঁ, এত বড় না। কিন্তু বাজার তৈরি হবে।



বিশ্বব্যাপী মুক্তির কথা বলেছিলেন…
এটা হলিউডের ছবি না, চাইলেই বিশ্বব্যাপী দেখানো সম্ভব। কিন্তু আমরা দেশের বাইরে যেখানে বাঙ্গালী কমিনিউটি আছে সেখানে মুক্তি দেব।
অনেক আগে থেকে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখছেন, এত দেরী হল কেন?
আসলে নানা পরিপ্রেক্ষিতসহ বেশকিছু কারণ আছে এর পিছনে। সময় বলে দিবে কেন আমি এত দেরি করেছি।

পরিচালক হবার পিছনে কোন ঘটনা কিংবা কারণ কি জড়িত?
আমি ফাইন আর্টসে পড়তাম। প্রাচ্যনাটে কাজ করেছি। জলছবি নামক ফিল্ম সোসাইটিতে কাজ করেছি। এরপর এডকমে কপি রাইটার হিসেবে কাজ করেছি। মূলত এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকা অবস্থায় মনে হলে আমার নিজের কিছু গল্প বলার আছে। তাই নির্মাতা হওয়া।

অনেকে একটা ছবি হলে না চালিয়ে অনেকে উৎসবে চালান। ছবিগুলো প্রশংসিত হয় এবং পুরস্কারও জিতে। কিন্তু এ নিয়ে সমালোচনা হয় অনেক। অনেকে প্রশ্ন করেন, পুরস্কারের জন্য ছবি নাকি ছবির জন্য পুরস্কার?
আমার লক্ষ্যটা হচ্ছে মানুষকে কমিউনিকেট করা। এখন সেটা থিয়েটারে না চলে উৎসবে চলল সেটা ব্যাপার না। মানুষের কাছে পৌঁছাল কিনা সেটা ব্যাপার। এখন আমার ছবিও আমি বিভিন্ন উৎসবে চালাব। এবছরের মাঝে ৭-৮টা উৎসবে চলবে।




ছবি বানাতে এসে কোন জিনিসটা আপনার বেশি সমস্যা মনে হয়েছে?
দর্শক হলে ছবি দেখতে যায় না। ভাল হল নাই।

কারণ কী?
আমাকে না জিজ্ঞেস করে তথ্য মন্ত্রনালয়কে জিজ্ঞসে করেন। সংস্কৃতির অঙ্গনের বড় বড় নেতাদের জিজ্ঞাসা করেন। কেন ভাল ছবি হচ্ছে না, মানুষ হলে যাচ্ছে না। কেন সরকার সিনেমাকে প্রমোট করেছে না।

কিন্তু আপনাদের কি কোন দায় নেই?
তা তো অবশ্যই। একটা আরেকটার ভাইসভার্সা। সরকার ক্রিকেটকে প্রমোশন করছে, সিনেমাকে করছে না। তাদের উচিত বাইরে থেকে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সিনেমাটোগ্রাফার এনে কর্মশালা করানো।

দর্শকের সাথে বসে ছবি দেখবেন?
যতটা সম্ভব যদি আমার ছবি দর্শক নেয় তাহলে পরবর্তী একমাস সব কয়টা হলে দেখার চেষ্টা করব।

যদি না চলে?
কী আর করব। ঘরে বসে বসে চোখের পানি টিস্যু দিয়ে মুছব।

পরবর্তী ছবি কী?
এখন নাম বলব না। আগামী ৬মাসের মাঝে শুরু করব।

পরের ছবির গল্পটা কেমন?
ওয়ার্ল্ড ক্রাইসিস নিয়ে প্রেমের গল্প ।