Beauty Image

লাল সবুজে বিজয় দিবস



বিজয় দিবসের রঙ বলতে লাল সবুজকেই বোঝায়। আর তাই বিজয় দিবসে পোশাকের ফ্যাশনের প্রাধান্য পায় লাল আর সবুজ এই দুটি রঙ। আর বিজয় দিবস আনন্দের দিন, তাই আমরা পোশাকের মধ্যে সেই আনন্দভাবটা তুলে ধরি। লাল-সবুজ যেহেতু আমাদের জাতীয় পতাকার রঙ, তাই পোশাকে এই দুটি রঙের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আনন্দের রঙ সৃষ্টি করা হয়। আবার পোশাক অন্য রঙের হলেও সাঁজে লাল সবুজের ছোঁয়া থাকেই। আর তাই বিজয় দিবস এলেই দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে দেখা যায় লাল সবুজ রঙের নানান রঙের ও ঢঙের পোশাক। শাড়ি, পাঞ্জাবী, শার্ট, কুর্তা, ফতুয়া, স্কার্টের ডিজাইনে আনা হয় বিজয় দিবসের আমেজ।

* নারীরা লাল সবুজ শাড়ি পরতে পারেন লম্বা হাতের ব্লাউজের সঙ্গে। লাল সবুজ শাড়ি পরতে না চাইলেও এক রঙা শাড়ির সঙ্গে লাল সবুজের সংমিশ্রণে ব্লাউজ পরুন আর বেছে নিন লাল সবুজ একটি শাল।
যারা শাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তারা সালোয়ার কামিজ অথবা লম্বা কুর্তা পরে নিন। এক্ষেত্রেও উঁচু গলা ও লম্বা হাতা মানানসই হবে। পোশাকে লাল সবুজ পছন্দ না হলে লাল সবুজ রাখুন ওড়না, স্কার্ফ, শাল ও গহনার সাজে।
বিজয়ের লাল রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ে নেওয়া যায় ফ্লাওয়ার প্রিন্টেড লং কামিজ বা ফতুয়া। সঙ্গে গাঢ় সবুজ রঙের লেগিন্স বা চোষ সালোওয়ার, আর শীতের রঙিন চাদর।

টিপঃ বাঙালি নারীর সাজের সঙ্গে আদিকাল থেকে জড়িয়ে আছে বাহারি রঙের টিপ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বিলিন হয়ে গেলেও টিপের কদর কমেনি এক ফোঁটাও। উৎসব আমেজে ভরপুর এই রীতিতে টিপ না হলে সাজের পূর্ণতাও কিছুটা কম থেকে যায়। নানা উৎসবে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে টিপের রঙেও থাকে বিশিষ্টতা। বিজয় উৎসবও এর ব্যতিক্রম নয়। এদিনে পোশাকে যেমন থাকবে লাল-সবুজের সমারোহ, তেমনি টিপও থাকবে মানানসই। আজ জেনে নেয়া যাক, বিজয় দিবসে আপনার কপালে শোভা পেতে পারে কেমন টিপ-

•লাল সবুজের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নারীদের কপালে শোভা পাবে স্পষ্ট একটি টিপ। তবে সেই টিপের রং অবশ্যই লাল বা সবুজ হতে হবে। আলপনা টিপের সঙ্গে পাথর মিলিয়েও পরতে পারেন। যাতে আপনার টিপের উজ্জ্বলতা আরও বেশি বাড়ে।
•অনেকেই আছেন সম্পূর্ণ পোশাকটিই পরবেন সবুজ এবং বুকের ওপর থাকবে লাল গোলাকার। তারা কপালে বড় লাল টিপ পরতে পারেন। আবার কারো পোশাকে লালের পরিমান বেশি থাকলে কপালে সবুজ টিপ বেশি মানাবে।
•এই দিনে সাজের সঙ্গে বড় একটি টিপ পরতেই পারেন। এক্ষেত্রে বড় একটি লাল টিপের ওপর নিচের দিকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি টিপ লাগতে পারেন। তাহলে লাল সবুজের বিজয়ের দিনে আপনার সাজে টিপটা মানিয়ে যাবে সহজেই।
•বিজয় দিবসের সাজে কপালে দুই ভ্রুর মাজখানে কুমকুম দিয়ে চারকোনা একটি সবুজ পতাকা আঁকতে পারেন। ঠিক তার মাঝখানে ছোট একটি লাল টিপ দিয়ে দিতে পারেন। দেখবেন আপনার সাজে একটা আলাদা আবহ সৃষ্টি করছে।
•যাদের মুখমণ্ডল অপেক্ষাকৃত চিকন লম্বা, তারা মাঝারি আকারের টিপ পরলে ভালো দেখাবে। টিপ খুব বেশি বড় হলে মুখের সঙ্গে বেমানান লাগতে পারে।
•গোল চেহারার অধিকারীরা একটু লম্বাটে টিপ পরলেও ভালো দেখাবে। তাছাড়া যাদের মুখমণ্ডল একটু মোটা বা চ্যাপ্টা ধরনের তারা নি:সঙ্কোচে বড় একটি টিপ কপালের ঠিক মাঝখানে লাগাতে পারেন।


টিপস- টিপ বাছায়ের সময় অবশ্যই তার আঠার দিকে খেয়াল রাখবেন। বাজারে সব রকম টিপ পাওয়া যায়। একটু খুঁজে দেখলে পেয়ে যাবেন মনের মতো টিপ। এক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিটি টিপের পেছনে আঠা সাদা কাগজে আটকানো থাকে। যেনতেন টিপ কিনলে দ্রুত কপাল থেকে পড়ে যাবে। অনেক সময় টিপের আঠার কারণে কপালে র্যাশ দেখা দেয়। সেই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্যে টিপ খোলার পরেই বেবি অয়েল বা লোশন দিয়ে আঠা মুছে ফেলুন। তাহলে আর সমস্যা হবে না।

*পুরুষরা বিজয় দিবসের ফ্যাশন হিসেবে বেছে নিতে পারেন টি-শার্ট। বিজয় দিবস সম্পর্কিত বিভিন্ন ডিজাইনের টি-শার্ট গুলো পাওয়া যায় দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে। সঙ্গে একটি পতাকা বেঁধে নিতে পারেন কপালে বা হাতে।

যাদের পাঞ্জাবী পছন্দ তারা খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবী বেছে নিতে পারেন। লাল সবুজের সংমিশ্রনের পাঞ্জাবী কিনে নিতে পারবেন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ থেকে।
লাল সবুজ সংগ্রহে না থাকলে শুধু লাল কিংবা শুধু সবুজও পরে নিতে পারেন। কিংবা সাধারণ রঙের পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করুন লাল সবুজ শাল।

…রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আমাদের দেশের সবুজ প্রকৃতির রঙ আর স্বাধীনতার লাল সূর্যের রঙ। এটা যেমন আমদের স্বাধীনতার চেতনা তেমনি নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার বার্তা বহন করে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় জীবনেরই এক বড় প্রাপ্তির ইতিহাস আমাদের বিজয় দিবস। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অঙ্গে ধারণ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে।