Sports Image

শচীন টেন্ডুলকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী (পর্ব ২)




বাংলাদেশের ক্রিকেট ও শচীন
শচীন ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বেশ ওতপ্রোতভাবেই মিশে আছে, ইতিহাসে অমর হয়েই থাকবে। ব্যাটিং মাস্টার শচীন ক্যারিয়ারের শততম শতক হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১২ সালে ১৬ মার্চ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১৪ রান করেন শচীন। এরপর ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে ম্যাচও খেলেছেন বাংলাদেশের মাটিতে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১২ সালে ১৮ মার্চ শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। টেস্ট ক্রিকেটেরও সর্বোচ্চ রান করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০৪ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ২৪৮ রান করেন তিনি।
শচীন টেন্ডুলকারের অজানা কিছু তথ্য:
১. বিখ্যাত সুরকার শচিন দেব বর্মনের নামানুসারে শচিন টেন্ডুলকার নাম রাখা হয়। কারণ লিটল জিনিয়াসের বাবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন শচিন দেব বর্মন।
২. ১৯৮৮-১৯৮৯ মৌসুমে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মুম্বাইয়ের হয়ে অভিষেকেই গুজরাটের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকান টেন্ডুলকার (১০০*)। এই কীর্তি টেন্ডুলকার গড়েছিলেন মাত্র ১৫ বছর ২৩২ দিন বয়সে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ড, বিশ্বরেকর্ড হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ড।
৩. শচিন ১৯৯৭ সালে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সাহারা কাপ জেতেন। বিষয়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে মেয়ের নাম ‘সারা’ টেন্ডুলকার রাখেন।
৪. প্রথমে ফাস্ট বোলার হওয়ার টার্গেট ছিল শচিনের। কিন্তু এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে অস্ট্রেলিয়ান পেস কিংবদন্তি ডেনিস লিলি তাকে প্রত্যাখান করেন।
৫. ১৯৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে থার্ড আম্পায়ারের মাধ্যমে আউট হন শচিন। যখন কার্ল লিবেনবার্গের শিকার হন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’।
৬. প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা পেতে ৭৯ ম্যাচ অপেক্ষা করতে হয়েছে শচিনকে। এরপর রঙিন পোশাকে আরো ৪৮টি সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি।
৭. টেন্ডুলকারের টেস্ট অভিষেকের দিনে ভারতের আরেক কিংবদন্তি কপিল দেব ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিলেন।
৮. ২০০৩ সালে ‘স্টামপেড’ নামক বলিউডের একটি সিনেমায় অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শচিন।
৯. ১৪ বছর বয়সী শচিনকে কপিল দেব নিজের ব্যবহৃত একটি প্যাড দিয়েছিলেন। কিন্তু বয়সভিত্তিক ক্যাম্পে গিয়ে ওই প্যাডটি হারিয়ে ফেলেন লিটল জিনিয়াস।
১০. রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে ২০টির বেশি শত রানের পার্টনারশিপ আছেন শচিনের।
১১. শচিনের নামে টুথপেস্টের একটি ব্রান্ডও আছে। ২০১০ সালে বাজারে আসা ওই টুথপেস্টের ব্রান্ডের নাম ‘শাচ’।
১২. টেন্ডুলকারের শ্বশুর ভারতে সাতবার ব্রিজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখান।
১৩. রামেশ পারধে ছিলেন টেন্ডুলকারের বাল্যবন্ধু। পারধে রাবার বল পানিতে চুবিয়ে টেন্ডুলকারের দিকে সজোরে মারার কাজটি করতেন। বলটি মারার পর ব্যাটে ছাপ পড়ে যেত, টেন্ডুলকার বুঝতে পেতেন বল তাঁর ব্যাটের মাঝখানেই লাগছে কি না! সেই বাল্যবন্ধু পারধে এখন টেন্ডুলকারের ব্যক্তিগত সহকারী।
১৪. ১৯৮৭ বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যখন ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিল, টেন্ডুলকার স্টেডিয়ামে ছিলেন ‘বলবয়’ হিসেবে।
১৫. ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড সফর শেষে ভারতে ফেরার সময় বিমানবন্দরে প্রথম পরিচয় অঞ্জলির সঙ্গে। বয়সে ছয় বছরের বড় অঞ্জলিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
১৬. ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাসে টেন্ডুলকার সব সময় সামনের সারির বাম দিকের জানালার পাশের আসনটিতে বসতে পছন্দ করেন।
১৭. ১৯৮৭ সালে মুম্বাইয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ, সেই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান দলের হয়ে বদলি ক্রিকেটার হিসেবে ফিল্ডিং করেছিলেন টেন্ডুলকার! অবশ্য সেটি ছিল প্রীতি ম্যাচ।
১৮. ১৯৮৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওয়ানডে অভিষেকেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন টেন্ডুলকার। তাঁর দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটিতেও শূন্যতেই আউট হয়েছেন! টানা দুটো শূন্য দিয়ে শুরু ওয়ানডে ক্যারিয়ার। দুবারই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে।
১৯. ১৯৯০ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে টেন্ডুলকার প্রথম ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন ম্যাগনাম কোম্পানির একটি আস্ত শ্যাম্পেন বোতল। ১৮ পূর্ণ না হওয়ায় শ্যাম্পেনের বোতলটি খোলেননি। শুধু তা-ই নয়, সেই শ্যাম্পেনের বোতল তিনি খোলেন আট বছর পর, মেয়ে সারার প্রথম জন্মদিনে।
২০. ১৯৯৯ সালে চেন্নাই টেস্টে টেন্ডুলকারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পরেও পাকিস্তানের কাছে হেরে যেতে হয় ভারতকে। ওই টেস্টের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হওয়া সত্ত্বেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না টেন্ডুকারকে। ড্রেসিংরুমে কাঁদছিলেন!
২১. ভারতীয় দলে ড্রেসিংরুমে টেন্ডুলকার সবার আগে বসার জায়গা ঠিক করেন, তারপর বাকিরা তাদের বসার জায়গা নেন। টেন্ডুলকার সব সময় ড্রেসিংরুমের কোনাকুনি জায়গাতে বসতে পছন্দ করেন।
২২. টেন্ডুলকার ডান হাতে ব্যাটিং করেন, ডান হাতে বোলিং করেন, কিন্তু লেখেন বাম হাতে! তিনি সব্যসাচী।
২৩. ক্রিকেট ইতিহাসে ৫০+ রানের সবচেয়ে বেশি ইনিংস খেলার কীর্তিও তাঁর। ৫১টি সেঞ্চুরি এবং ৬৮টি হাফ সেঞ্চুরি। পঞ্চাশ কিংবা তার বেশি রানের মোট ১১৯টি ইনিংস খেলেছেন টেন্ডুলকার।
২৪. টেস্টে ভারতের হয়ে একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা এবং হেরে যাওয়া ক্রিকেটারও তিনি। ৭০টি টেস্ট জয়ের পাশাপাশি রয়েছে ৫৬টি পরাজয়।
২৫. পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে টেন্ডুলকার একবারই স্টাম্পড হয়েছিলেন। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেঙ্গালুরু টেস্টে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন।
২৬. মোট ১১ জন বিরল সৌভাগ্যবান বোলার আছেন, যাঁদের ক্যারিয়ারের প্রথম শিকারের নামটি ছিল ‘টেন্ডুলকার’। হানসি ক্রনিয়ে, উজেশ রানছোড় (জিম্বাবুয়ে), রুয়ান কালপেগে (শ্রীলঙ্কা), মার্ক ইলহাম (ইংল্যান্ড), নিল জনসন (জিম্বাবুয়ে), জ্যাকব ওরাম (নিউজিল্যান্ড), মন্টি পানেসার (ইংল্যান্ড), ক্যামেরন হোয়াইট (অস্ট্রেলিয়া), পিটার সিডল (অস্ট্রেলিয়া), পিটার জর্জ (অস্ট্রেলিয়া), অ্যান্ডি ম্যাকায় (নিউজিল্যান্ড)।
২৭. শচীন তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিন তিনবার ৯৯ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন। সবগুলোই ২০০৭ সালে!
২৮. শচীনের কৈশোর যে বাসায় কেটেছে সেটির নাম ছিল ‘সাহিত্য সাহস কোঅপারেটিভ সোসাইটি’!
২৯. তরুণ বয়সে নেট অনুশীলনে আউট না হয়ে পুরো সেশন ব্যাট করতে পারলে তার তৎকালীন কোচ রমাকান্ত আচরেকারের কাছ থেকে টেন্ডুলকার একটি করে কয়েন পেতেন। এমন ১৩টি কয়েন পেয়েছিলেন টেন্ডুলকার।
৩০. ওয়ার্ল্ডটেলের সঙ্গে ৩১ দশমিক পাঁচ কোটি রুপিতে পাঁচ বছরের চুক্তি করে ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার হন টেন্ডুলকার।
৩১. তার প্রথম ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল ৮০০ সিসির মারুতি।
৩২. ১৯৯৫ সালে ছদ্মবেশে ‘রোজা’ নামক সিনেমা দেখতে হলে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর চোখের সান গ্লাস খুললে তাকে সবাই চিনে ফেলে ।
৩৩. নিজের ফেরারি গাড়ি ব্যবহারে শচিন এতটাই দুর্বল যে, স্ত্রী অঞ্জলি তাকে কখনো এটা চালাতে দেন না।
৩৪. শচীন সব সময় ভারী (৩.২পাউন্ড) ব্যাট ব্যবহার করেন। তার চেয়ে বেশি ভারি ব্যাট ব্যবহার করতেন একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার।
৩৫. কিশোর বয়সে ক্রিকেট ব্যাগ মাথার নিচে দিয়ে ঘুমাতেন টেন্ডুলকার।
এক নজড়ে শচীন টেন্ডুলকার:
শচীন রমেশ টেন্ডুলকার, ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক উঁচুমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি ‘লিটেল মাস্টার’ নামে পরিচিত। যিনি টেস্ট ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক একদিনের খেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শতকের মালিকসহ বেশ কিছু বিশ্বরেকর্ড ধারণ করে আছেন। তিনি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একদিনের খেলা ও টেস্ট ম্যাচ মিলিয়ে শততম শতক করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১২ সালের এশিয়া কাপ চারদেশীয় ক্রিকেট ম্যাচে তিনি এই রেকর্ড করেন। আন্তর্জাতিক একদিনের খেলার ইতিহাসে প্রথম ডবল সেঞ্চুরির মালিক তিনি । ২০০২ সালের উইসডেন এর একটি নিবন্ধে তাকে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টেস্ট ক্রিকেটার বলে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি ১৯৯৭ - ১৯৯৮ সালের জন্য ভারতের খেলাধুলার সর্বোচ্চ পুরস্কার রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার এবং ১৯৯৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার অর্জন করেন। টেন্ডুলকার ১৯৯৭ সালে উইসডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল তারিখে এই লিটেল মাস্টার জন্মগ্রহণ করেন।



অবসর ভাবনা:
শচীন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিকট অবসর গ্রহণ সংক্রান্ত একটি চিঠি লেখেন। যার সারমর্ম হলো - ‘সারা জীবন ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন আমি দেখেছি। গত ২৪টি বছরের প্রত্যেকটি দিন আমি এই স্বপ্ন দেখে কাটিয়েছি। ১১ বছর বয়স থেকে আমি ক্রিকেটের সঙ্গেই আছি। ক্রিকেট ছাড়া আছি এটা কল্পনা করাও আমার জন্য ভীষণ কঠিন। নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব হয়ে সারা বিশ্বে খেলা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। ঘরের মাঠে আমি দুশতম টেস্ট খেলতে মুখিয়ে আছি। এরপরই আমি অবসর নেব।’‘এই দীর্ঘ সময়ে যা কিছু ঘটেছে তার জন্য বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাই। সহ্যশক্তি ও বোঝাপড়ার জন্য আমার পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞ। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাই। তাদের প্রার্থনা ও শুভ কামনা আমাকে সেরা পারফর্ম করার শক্তি দিয়েছে।’ ১৯৮৯ সালে করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ১৬ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে শচীনের। শুরু হয় ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গৌরবজ্জ্বল এক অধ্যায়ের। ইতোমধ্যে ২০০ টেস্টে ৫১ শতক ও ৬৮ অর্ধশতক নিয়ে ৫৩.৮৬ গড়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন । পাঁচদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংস হার না মানা ২৪৮ রান। গত ডিসেম্বরে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে খেলে ফেলেন ৪৬৩ ম্যাচ। ৪৯ শতক, ৯৬ অর্ধশতকে ৪৪.৮৩ গড়ে একদিনের ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৪২৬ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন একটিই।
ডানহাতি এই ব্যাটিং তারকার যত বিশ্বরেকর্ড-
• টেস্টে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরি।
• ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরি।
• শতকের সেঞ্চুরি হাঁকানো একমাত্র ব্যাটসম্যান।
• বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান এই তারকার।
• টেস্টের সঙ্গে ওয়ানডেতেও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড তার।
• এক বর্ষপঞ্জিকায় টেস্টে এক হাজার বা তার বেশি রান করেছেন ছয়বার- ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০১, ২০০২, ২০০৮ ও ২০১০।
• এক বর্ষপঞ্জিকায় ওয়ানডেতে এক হাজার বা তার বেশি রান করেছেন সাতবার- ১৯৯৪, ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৩ ও ২০০৭ সাল।
শচীনের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো-

১১ ডিসেম্বর, ১৯৮৮: ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক। সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছিলেন ওই ম্যাচে।
১৫ নভেম্বর, ১৯৮৯: করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক।
১৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯: গুজরানওয়ালায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক।
১৪ আগস্ট, ১৯৯০: মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি।
১০ ডিসেম্বর, ২০০৫: সতীর্থ সুনীল গাভাস্কারের ৩৪টি টেস্ট শতকের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছিলেন।
১৭ অক্টোবর, ২০০৮: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং গ্রেট ব্রায়ান লারাকে টপকে টেস্টে রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল।
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০: ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটসম্যান হয়ে দ্বিশতক হাঁকালেন।
২ এপ্রিল, ২০১১: ভারতের হয়ে অধরা ওয়ানডে বিশ্বকাপও জিতলেন।
১৬ মার্চ, ২০১২: একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি অর্জন করলেন।
অক্টোবর ২০১৩: দুশতম টেস্ট খেলে টেস্ট ক্রিকেটকেও বিদায় জানানোর আগাম ঘোষণা দিলেন শচীন।

ব্যবসায়ি টেন্ডুলকারঃ
টেন্ডুলকারের অসম্ভব জনপ্রিয়তার দরুণ অতীতের যে-কোন চুক্তিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ক্রিকেটে তার অবদানকে পুঁজি করে ১৯৯৫ সালে ওয়ার্ল্ডটেলের সাথে ৩০ কোটি রূপিতে চুক্তিবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আবারো ৫ বছরের জন্য নবায়ণ করেন ৮০ কোটি রূপির বিনিময়ে।
২০০৬ সালে সাচি এণ্ড সাচি’র সাথে ১৮০ কোটি রূপিতে তিন বছর মেয়াদী চুক্তি করেন। টেন্ডুলকার তাঁর জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে দু’টি রেস্টুরেন্ট হিসেবে - টেন্ডুলকার’স (কোলাবা, মুম্বাই) এবং শচীন’স (মুলুন্দ, মুম্বাই) চালু করেন। মার্স রেস্টুরেন্টের মালিক সঞ্জয় নারাং এর সাথে উক্ত রেস্টুরেন্টগুলো যৌথভাবে পরিচালিত করছেন। এছাড়াও, তিনি ব্যাঙ্গালোরে শচীন’স নামে নতুন একটি রেঁস্তোরা চালু করবেন।
২০০৭ সালে টেন্ডুলকার ফিউচার গ্রুপ এবং মানিপাল গ্রুপের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন যা স্বাস্থ্যসেবা এবং খেলাধূলায় শারীরিক সক্ষমতার লক্ষ্যে পণ্য উৎপাদনে আসার ঘোষণা দেন। পণ্যটির নাম হবে ‘এস ড্রাইভ এণ্ড সাচ’। ভার্জিন কমিকের পরিবেশনায় শচীনকে মহাবীর প্রদর্শন করে কমিক বই প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে। টেন্ডুলকারের জীবনীঃ
বিভিন্ন বইয়ে শচীন টেন্ডুলকারের প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও, নিম্নের বইগুলোতে টেন্ডুলকারের ক্রিকেট জীবনকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছেঃ-


ব্যক্তিগত সম্মাননা ও পুরস্কার
টেন্ডুলকার বিভিন্নভাবে দলীয়, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। উল্লেখযোগ্য সম্মাননা ও পুরস্কারগুলো নিম্নে ছক আকারে দেয়া হলোঃ-