Health Image

বন্ধ হোক এইডস আক্রান্তদের প্রতি সকল বৈষম্য


AIDS কি? প্রশ্নটি শোনার সাথে সাথে অনেকেই বিরুক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু এ সম্পর্কে জনসচেতনতা কতটা জরুরী তা কেউ অনুধাবন করেন না। চারটি ইংরেজি শব্দ – Acquired Immune Deficiency Syndeome এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল AIDS। আবার তিনটি ইংরেজি শব্দ Human Immunodeficiency Virus এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল HIV। এটি একটি ভাইরাস যার মাধ্যমে এইডস হয়। এটি এখনো একটি ঘাতক ব্যধি যা কোন রোগ বা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। আসুন জেনে নেই এর লক্ষণ সমূহঃ

১। শরীরের ওজন অতি দ্রুত হ্রাস পাওয়া।
২। দীর্ঘদিন ধরে পাতলা পায়খানা।
৩। পুনঃপুন জ্বর হওয়া বা রাতে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
৪। অতিরিক্ত অবসাদ অনুভব করা। এবং
৫। শুকনা কাশি হওয়া ইত্যাদি।

বায়ু, পানি, খাদ্য অথবা সাধারণ ছোঁয়ায় বা সংস্পর্শে এইচআইভি ছড়ায় না। মানবদেশের রক্ত, বীর্য, বুকের দুধ ইত্যাদিতে এইচআইভি বেশি থাকে। এগুলোর মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে থাকে। তাই সহজেই বোঝা যায় এ সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো থেকে বিরত থাকলেই এইডস হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। যৌনরোগ এবং এইচআইভি সংক্রমণের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যাদের কোন যৌনরোগ রয়েছে তাদের এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চাইতে অনেকগুন বেশি। সব মিলিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন মানলেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনের উপর গুরুত্ব দেয়া।
২। রক্ত ট্রান্সফারের আগে বিস্তারিত বিষয় পরীক্ষা করা।
৩। ব্যবহৃত সুচ/সিরিঞ্জ ব্যবহার করা এবং অপারেশনে যন্ত্রপাতি জীবাণূমুক্ত কিনা পরীক্ষা করা।
৪। অনৈতিক ও অনিরাপদ যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকা।
৫। এইডস আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পান না করা।
৬। যৌনরোগ থাকলে তার দ্রুত সমাধান করা।

সমাজে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়। কিন্তু তা কখনোই উচিত না। বরং তাদের প্রতি আলাদা যত্ন নেওয়া উচিত কারণ এই আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে কাজের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাদের প্রতি আমাদের যেসব দায়িত্ব পালন করা উচিতঃ

১। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করা।
২। স্বাভাবিক জীবন যাপনে উৎসাহিত করা।
৩। আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা।
৪। তাদের প্রতি যত্নশীল করা।
৬। চিকিৎসা জারি রাখা।

তাই এইডস দিবসে বলা যায়,
আর নতুন সংক্রমণ নয়, নয় এইডসের মৃত্যু, বন্ধ হোক এইডস আক্রান্তদের প্রতি সকল বৈষম্য।