Entertainment Image

শিডিউল ফাঁসানো নিয়ে তোলপাড়



চিত্রনায়ক শাহ-রিয়াজ পরিচালক সায়মন তারিকের ‘ক্রাইম রোড’ ছবির শিডিউল ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু শাহ-রিয়াজ বলেন তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় তিনি শুটিং বাতিল করে ঢাকায় ফিরছেন। বিষয়টি এসএমএস করেও পরিচালককে জানিয়েছেন তিনি। যার সত্যতাও স্বীকার করেন পরিচালক। তা সত্ত্বেও শাহ-রিয়াজের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার কারণ জানতে চাইলে পরিচালক যা বললেন, তাতে শাহ-রিয়াজের প্রতি তার অবিশ্বাসের মাত্রাটাই চোখে পড়লো।

এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। শুধু শাহ-রিয়াজ নন, আরিফিন শুভ থেকে শাকিব খান পর্যন্ত সবার নামেই রয়েছে শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ।
শিডিউল ফাঁসানোর ব্যাপারে নায়ক শাহরিয়াজ বলেন, ‘দেখেন পরিচালকরা যদি শিল্পীদের নামে এমন বদনাম করেন তাহলে কাজ করবো কীভাবে! আমি মনে করি পরিচালক ও শিল্পী সবারই সহনশীল হওয়া দরকার।’

ওয়ার্নিং ছবিতে অভিনয় করার সময় আরিফিন শুভ’র বিরুদ্ধেও ওঠে শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে শুভরও আছে অকাট্য যুক্তি। তিনি বলেন, ‘দেখেন দোষটি আসলে আমাদের একার না। দু’পক্ষই এতে সমান দায়ী। একজন ব্যস্ত শিল্পীর অনেক কাজ থাকে। একটার পর একটা শিডিউল মেইনটেইন করতে হয় তাকে। কোন একটা ইউনিটে যদি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পরে শুটিং শেষ হয় তাহলে এর প্রভাব পড়ে অন্য জায়গাগুলোতেও। একজন আর্টিস্টকে রাত ১ টা পর্যন্ত কাজ করালে তার ঘুমাতে ঘুমাতে তিনটা বেজে যায়। তারপক্ষে তো আর খুব সকালে এসে শুটিং করা সম্ভব হবে না। তারও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। আমি মনে করি তারকারা তো সিনেমার জন্যই কাজ করেন। তাদেরও সমস্যা থাকতে পারে। তাদের সমস্যাটাও দেখা উচিত।’
সবচেয়ে বেশি শিডিউল ফাঁসানোর দায়ভার কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। শাকিব খানকে নিতে গেলেই ভয়ে চুপসে যান পরিচালকরা। অবশ্যে এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। আর্টিস্টদেরও অনেক সময় সমস্যা হয়। তো সে কারণে সঠিক সময়ে সে আসতে পারে না। এটাস পরিচালকদের বুঝতে হবে। এর জন্য অভিযোগের কিছু নেই। আমি মনে করি পারস্পরিক সম্পর্ক ভাল থাকলে এটা কোন সমস্যা না। আর কোন পরিচালক এরকম ক্ষতির সম্মুখীন হলে আমি কিন্তু পুষিয়ে দেই।’

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঈশানা বলেন, ‘আর্টিস্টরাও মানুষ। তারাও প্রবলেমে পড়তে পারেন-এটা পরিচালকদের বুঝতে হবে। তা না করে কিছু একটা হলেই শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়। কিন্তু যখন পরিচালকরা শিডিউল নিয়ে নিজেরা হঠাৎ না করে দেন তখন কিন্তু আমরা খুব একটা অভিযোগ করতে যাই না। মেনে নেই বিষয়টা। তাই আমি বলবো আর্টিস্টদের সমস্যাটাও পরিচালকদের দেখা দরকার।’

বড়পর্দা ছোটপর্দা মিলিয়ে দু’পর্দাতেই সমান ব্যস্ত প্রসূণ আজাদ। প্রসূণ বলেন, ‘শিল্পীরা যখন ছোট থাকে তখন সে ঠিকঠাক শিডিউল দিলেও পরিচালকরা তাদের মূল্য দেন না। হুটহাট তাদের না করে দেন। আবার শিল্পী বড় হলে তখন তিনি পরিচালকদেরই ঘুরান। বসিয়ে রাখেন পুরো ইউনিট। এটাই জগতের নিয়ম। তবে আমি মনে করি একজন তারকার জন্য পুরো ইউনিট বসিয়ে রাখাটা ঠিক নয়। তবে পরিচালকদেরও বুঝতে হবে শিল্পীদের সমস্যাটা। কারণ শিল্পীরাও তো মানুষ।’

এ প্রসঙ্গে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘বড় তারকারা মাঝে মাঝেই শিডিউল ফাঁসান। তাতে পরিচালকরা কিছু বলেন না কিন্তু আমরা যারা সময় মতো সেটে গিয়ে হাজির হই তাদেরকে আবার পরিচালকরা তেমন মূল্যায়ণ করেন না। তবে তারকারা কোন প্রবলেমে পড়লে তারা শিডিউল ফাঁসিয়েছেন বলে যে অপপ্রচার করা হয় এটা ঠিক না। তাদের সমস্যাটাও দেখা উচিত।’

চিত্রনায়িকা আঁচল বলেন, ‘শুধু অভিযোগ না করে তারকাদের সমস্যাটা বুঝতে চাওয়া উচিত। কারণ কোন তারকাই চান না শিডিউল ফাঁসাতে। খুব বিপদে পড়েই তিনি শুটিং স্পটে গিয়ে হাজির হতে পারেন না।’