কৃষ্ণেন্দু দাস

১ বছর আগে লিখেছেন

"যদি বল ভালবাসি"

"যদি বল ভালবাসি"
নীল আকাশের শেষ সীমানায় আমি -
তোমায় একটি কুটির বানিয়ে দেব, থাকবে সেখানে সুখে, যদি আশ্রয় চাও তুমি। সারা পৃথিবীর সম্রাট হব আমি-
পৃথিবীকে ভেঙ্গে বানাব একটি দেশ,
তোমার মনের মত- যদি একবার বল তুমি। আষাঢ়ী মেঘের আধার বর্ণ নিয়ে-
কাজল পরাব তোমার অবুঝ চোখে,
রূপে হবে অপরূপা- যদি অভিমানে থাক তুমি। তোমায় নিয়ে দেশান্তরী হব, সমাজ ছেড়ে দূরের কোন দ্বীপে...
নির্বাসিত হব- যদি শুধু পাশে থাক তুমি। তোমায় আমি সাঁজাব পরীর বেশে,
গোধূলি বেলার আবীরের রঙ দিয়ে,
রাঙাব তোমার সিঁথি- যদি অধিকার দাও তুমি। তোমার জন্য হব অযোধ্যা পতি-
জনক সভায় ভেঙ্গে দিয়ে হরধনু, করব তোমাকে জয়...
যদি সীতা হতে চাও তুমি। তোমার জন্য আবার পোঁড়াব ট্রয়-
দেবদাস হয়ে জীবন করব ক্ষয়, বিরহে কাটাব কাল...
যদি অন্যের হও তুমি। একদিন হব জীবনানন্দ দাশ-
আমার কাব্যে তুমি হবে বনলতা, লিখব প্রেমের কথা..
যদি এ চোখে তাকাও তুমি। তোমার বিরহে যক্ষ প্রেমিক হয়ে-
মেঘের বক্ষে পাঠাব তোমাকে চিঠি, তোমার অচিন দেশে-
যদি দূরে চলে যাও তুমি। তুমি আর আমি হংস-মিথুন হয়ে-
আগামী জনমে যমুনার জলে ভেসে, হয়ে যাব দিশেহারা..
যদি একবার মনে রাখ তুমি। হাতের মুঠোয় প্রানটাকে নিয়ে তুলে-
একশ আটটি নীলপদ্ম কে এনে, ফেলব তোমার পায়ে...
যদি কথা রাখ তুমি। তোমায় না পেলে এ্যটমিক বোমা ফেলে-
সারা পৃথিবীকে করে দেব হিরোশিমা, মরুময় হবে সব...
যদি ভুলে যাও তুমি। তোমার জন্য দেবকী তনয় হব-
সবকিছু ভুলে হাতে তুলে নেব বাঁশি,
বসব কদম ডালে... যদি বল ভালবাসি।।
-কৃষ্ণেন্দু দাস, জানুয়ারি-২০১৮। continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - শাহআজিজ

    দানবের সামনে মেলে ধর আয়না

    আর যেন না করে রুপের বাহানা

    • - লুৎফুর রহমান পাশা

      ফাইন ফাইন

    - মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান

    emoticons

    • - লুৎফুর রহমান পাশা

      emoticons

কৃষ্ণেন্দু দাস

১ বছর আগে লিখেছেন

"সহযাত্রী আমরা"

“সহযাত্রী আমরা”
রাত একটা ত্রিশ, সাইরেনের তীক্ষ্ণ হুইসেল- হঠাৎ চুরমার করে দিল রাতের সবটুকু নীরবতা। সামনে জমাট বাঁধা অন্ধকার, ঠিক যেন অনিশ্চয়তার মত। আমাদের যেতে হবে অনেক দূর; সীমান্ত পেরিয়ে পায়ে হাঁটা পথে আরো প্রায় ত্রিশ মাইল… আমরা চলেছি দিশেহারার মত- ভীতু হরিণের ক্ষিপ্রতায়; আমাদের একে অপরের সাথে কথোপকথন নেই, সময় ভীষণ কম। পাছে ধরা পড়ে যাই- রাতের বাতাসে গাছের পাতায় উন্মাদিনী’র ক্রন্দন। ধোঁয়াটে আকাশে চিরচেনা একফালি নবমীর চাঁদ; তার থিকথিকে আলোয় চরাচর যেন খুব বেশি করে অচেনা- ঠিক খেই হারিয়ে ফেলা প্রসঙ্গের অস্বস্তি হয়ে জড়িয়ে রাখার মত। এখন রাত খুব বেশি গভীর, হয়তো তিনটে কি আরো বেশি। আমরা তের জন মানুষ, নানা বয়েসী আর নানা জাতের... অথচ, এখন আমরা সবাই এক- এক এবং অভিন্ন; নিরুত্তাপ হৃদয়ে ব্যাথায় টনটন করা পা ফেলে সবাই চলছি- রাত পোহাবার আগেই আমাদের যেতে হবে অনেক দূরে। মাথায় আনকোরা কোন বিপদের শিরস্ত্রান পরে সেই যে নেমেছি পথে তারপর আর ফেরা হয়নি ঘরে… হঠাৎ গুলির আওয়াজ, লুটিয়ে পড়ল কেউ? কে জানে- আবারো নৈশব্দ, আবারো পথচলা। চাঁদ ডুবে গেল এই খানিক সময় আগে; আঁধার এখন অনেক জমাট। বাতাসের হিস হিস আর পায়ের আওয়াজে চলে এসেছি বহুদূর, হয়তো ভোর হতে এখনও ঢের দেরি, কিন্তু- সময় ভীষণ কম, আমাদের যেতে হবে অনেক দূর…… ----------------------------------------------কৃষ্ণেন্দু দাস continue reading
Likes Comments
০ Shares

কৃষ্ণেন্দু দাস

১ বছর আগে লিখেছেন

"অমানুষ"

"অমানুষ"
আস্তাকুঁড়ের মত অপরিচ্ছন্ন কোন এক আঁতুর ঘরে,
ফ্যাকাশে এক আলো আঁধারির মাঝে-
কেটেছিল তার জন্মলগ্নের কিছু অব্যক্ত প্রহর।
শৈশবের অনাহারি দিনের মাঝেও কী যে এক অদ্ভূত কায়দায় সে
রপ্ত করল ভাঙ্গা-গড়ার এক অত্যাশ্চার্য্য খেলা, যে খেলার কোন নিয়মনীতি নেই, নেই কোন সময়সীমা। যৌবনে সে পুরোদস্তুর সচেতন এক চেতনা।।
মিথ্যে, ঘৃনা, অহংকার আর অনাচার দেখলেই
গায়ে যেন আগুন জ্বলত তার, সে চাইতো তার চারিপাশের সব বিশৃঙ্খলাকে ভেঙ্গে চুরে তছনছ করে দিতে... তার বয়স তো থেমে ছিলনা কখনোই,
তাই কোন এক পরিনত লগ্নের স্নিগ্ধতার মাঝে
তার অন্তরের গভীরে অনুভূত হল এক অজানা আমন্ত্রন। যে আমন্ত্রনকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কারুর নেই, থাকেনা কোন মানুষের। তাই কোন এক অবেলায় পৃথিবীর যাবতীয় হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দিয়ে আঁধারী রাতের অমনিশার পথে পা বাড়াল সে, যে পথের নেই কোন শেষসীমা, যে পথের অলিতে গলিতে ওৎ পেতে আছে কত সহস্র অজানা সংশয়, আর অজানা কিছু রহস্য। কিন্তু সব জেনে বুঝেই সে সেই অস্পষ্ট আলো আঁধারির পথেই
ফিরে গেল অনির্দিষ্ট গন্তবে, চারিপাশে তখনও অস্পষ্ট আলো আঁধারের খেলা। যেমনটি হয়েছিল কোন এক কালে আস্তাকুঁড়ের জীর্ণ আঁতুর ঘরে- ঠিক তার জন্মলগ্নের ক্ষণে... -কৃষ্ণেন্দু দাস। continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - লুৎফুর রহমান পাশা

    নিয়মিত লিখতে থাকুন

    • - নদী

      ধন্যবাদ 

    - প্রিন্স মাহমুদ রহিম

    ভাল লাগল

    - নদী

    ধন্যবাদ 

কৃষ্ণেন্দু দাস

১ বছর আগে লিখেছেন

"অদূরদর্শী দুঃস্বপ্ন"

"অদূরদর্শী দুঃস্বপ্ন" স্বপ্নাতুর কোটরাগত চোখদুটো মেলে আমি আবার তাকাই সামনে-
দৃষ্টিসীমার পুরোটা জুড়েই তখন জমাট বাঁধা অন্ধকার;
যান্ত্রিকতার যাতাকলে অবিরত পিষ্ঠ হতে হতে এই মন বড় বেশি নির্মোহ আজ। বিভীষিকারূপী হায়েনার ঝাঁকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে
তবু আমি ফিরতে চাই শুভ্রতার বসত ভিটায়।। ধোঁয়াশার আঁধারে কখন জানি বেড়ে গিয়েছে বয়স;
দেহের এই প্রাচীন জীর্ণ দেয়াল বেয়ে উঠেছে অনেক লতা-গুল্ম।
আমার বয়ষ্ক হাত, মুখের বলিরেখা-
সবকিছু খুব অচেনা মনেহয় আজ। অথচ, সেই প্রিয় যাচিত সময়- যখন আড়ষ্টতার শৃঙ্খল খুলে বেরিয়ে পড়েছি ঢের,
লাগাম ছেড়ে দুরন্ত ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে পার হয়েছি মাঠ-ঘাট, বন-প্রান্তর।। অদূরদর্শী দুঃস্বপ্নের মতই সামনে এবার প্রতীক্ষিত অনাগত দিন,
যেদিনের আকাশে থাকবেনা চাঁদ;
অসংখ্য নক্ষত্রের নীলচে ফিঁকে রঙের আলোটুকু সম্বল করে
আমি দীর্ঘ সময় ধরে থাকব বসে; জনশূন্য উপত্যকায়।
নিরাশার বেলাভূমিতে লেখা হলে মৃত্যুর ইতিহাস-
পৃথিবী হারাবে তার রং, ডাকবেনা পাখি;
নিভে যাবে সবটুকু আলো- হারাবে সবকিছু চীরচেনা নিস্প্রাণ সাগরের জলে,
আমিও হারিয়ে যাব সেইদিন সেইক্ষণে,
ডুবে গিয়ে নিঃসংকোচে সময়ের গভীর অতলে।।। -কৃষ্ণেন্দু দাস// ১৩ জুলাই ২০১৭ খ্রিঃ।।
continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - প্রিন্স মাহমুদ রহিম

    ভাল লাগল

কৃষ্ণেন্দু দাস

২ বছর আগে লিখেছেন

"অনতিক্রান্ত সময়ের নির্লিপ্ততা"

খুব সম্ভবত একটু পরেই আমার ট্রেন,
ঘড়ির কাটায় গুনে গুনে- ঠিক পনেরো ঘন্টায় ছাড়বে গাড়ি।
হাত ঘড়িটার আয়ু ফুরিয়ে গিয়ে-
সাতটা চল্লিশে দাঁড়িয়ে আছে চারদিন আগে থেকে।
অনেক কিছু ভেবে চিন্তে অবশেষে বাড়ি ছাড়ছি আমি…
হয়তো আর ফেরা হবেনা এ তল্লাটে।
এই রাস্তা, চায়ের দোকন- বটতলার মোড়ের নিতাই লন্ড্রী,
তোমাদের পুরানো কাঠের দোতলা বাড়ি আর এই ষ্টেশন,
সবকিছুই হবে ধোঁয়াটে কোন স্মৃতি।
মগজের সব অলি-গলি পার হয়ে স্বপ্নেরা এসে হানা দেবে একদিন-
এইখানে, সেইসব পথে- যেখানে হেঁটেছি শৈশবে,
কিংবা সেই ঝিলে যেখানে নৌকা চেপে কেটেছে অগুনতি বেলা।
সময় যেন ব্যস্ততা ভুলে থমকে গেছে এক অজানা পলে, অথচ-
আমি বসে আছি ষ্টেশনে, একটু পরেই আমার ট্রেন।
আমি ছেড়ে যাব আমার ঘর, আমার পরিচিত সব মানুষ আর তোমাকে…
যে তোমাকে দেখব বলে বটতলা থেকে নতুন বাজার,
সাইকেল চেপে কলেজ মোড়… এভাবে কেটেছে দিন।
তারপর সময়ের স্রোতে সব দিন রাত মিলে হয়েছে একাকার
নতুনত্বের অভিপ্রায়ে আমিও নিজেকে বদলে নিয়েছি এরপর।
সবকিছু ভুলে তাই হঠাৎ স্বেচ্ছা নির্বাসন
সবাই জানবে- হারিয়ে গেছি আমি,
লাল চাদরের মত হাওয়ায় ছড়াবে আমার উপাখ্যান।
এসব যখন নির্ধারিত হতে হতে পরিপূর্ণের অপেক্ষায়-
তখন আমার হাতে তোমার চিঠি,
তুমি বলেছ তোমার ভালবাসার কথা।
যে ভালবাসার জন্যে একদা হয়েছি ব্যাকুল,
যে তোমাকে পাবার আশায় নিরুদ্দেশ হয়েছে আমার প্রতিক্ষণ-
সেই তোমায় পেয়েও আজ আমি সর্বহারা।
টিক টিক করে এগিয়ে আসছে সময়,
আর একটু… হয়ত আর একটু পরেই আমার ট্রেন,
ঘড়ির কাটায় গুনে গুনে ঠিক পনেরো ঘন্টায় ছাড়বে গাড়ি।
আমি ছুটে যাব সামনে, এই সময়কে পেছনে ফেলে এক... continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...