আহসান কবির

১ বছর আগে লিখেছেন

আকাশ বাড়িয়ে দাও

শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার
চোখ মেলে কি তাকাতে পারছেন এখন? নাকি ওষুধের ভারে ক্লান্ত আপনার চোখ খোলা সাময়িক বারণ? আচ্ছা, হাসপাতালের বিছানা থেকে মুক্ত আকাশ কতটুকু দেখা যায়? ঘুম আর ব্যথাময় জাগরণের ভেতর আপনার নিজের (প্রথম?) লেখা কি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে একবারও মনে পড়েনি? একবারও কী বলতে ইচ্ছে হয়নি-আকাশ বাড়িয়ে দাও!
সুনীল গাঙ্গুলী লিখেছিলেন-ভালোবাসার পাশে একটা অসুখ শুয়ে থাকে! ২০১৮ এর ৩ মার্চ যে ঘাতক আপনাকে হত্যা করার চেষ্টা করে, ছবিতে সেই ঘাতককে আপনার পেছনেই দেখা গেছে। তাহলে কী মুক্তপ্রাণ ও মুক্তবুদ্ধির মানুষের পাশেই সমান্তরাল বসে থাকে বিশ্বাসের ভাইরাস আক্রান্ত অন্ধ ঘাতকরা? কাউকে কাউকে চেনা যায় আর ঘাপটি মেরে বসে থাকা অনেককেই চেনা যায় না? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ভর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে মুক্তবুদ্ধির মানুষেরা দেশটাকে ভালোবেসে এগিয়ে আসবেন, পেছন থেকে চাপাতির কোপে তাঁদের মুণ্ডুটাই কি কেটে ফেলা হবে? চাপাতিই দেবে ওইসব অন্ধদের বেহেশতের নিশ্চয়তা? সুনীল গাঙ্গুলী আরও লিখেছিলেন, আমি মানুষের পায়ের নিচে কুকুর হয়ে বসে থাকি তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখব বলে! বিশ্বাসের ভাইরাসে অন্ধ আর জঙ্গিবাদের মিথ্যে ফানুসের কাছে নতজানু কুকুররা আজ লোকালয়ে নেমেছে মানুষের বেশ ধরে। এইসব মানুষের ভেতরের কুকুরটাকে চিনে রাখা খুব দরকার! এরা ফেসবুকে অন্ধ ঘাতকের পক্ষে সাফাই গায়! জাতির পতাকা আজ খামছে ধরেছে সেই পুরনো শকুন!
নবারুন ভট্টাচার্য্য লিখেছিলেন, এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না। জেনে শুনে তবু এই মৃত্যু উপত্যকায় ফিরেছিলেন আপনি। বাবার বীরোচিত মৃত্যু আপনাকে সম্ভবত উজ্জীবিত করেছিল মৃত্যু উপত্যকায় ফেরার। আপনি জানতেন আপনার বাবা মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ফয়জুর রহমানকে কীভাবে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আপনি জানতেন স্যার আপনার বাবাকে যখন বুলেটবিদ্ধ করা হয় সেই অন্তিম মুহূর্তে আপনার বাবা কী বলেছিলেন। বলেছিলেন- আমার... continue reading
Likes Comments
০ Shares

আহসান কবির

১ বছর আগে লিখেছেন

দরকার নেই কম্বলের!

শীত, গরম আর বৃষ্টি নাকি মানব সভ্যতার সমান পুরনো! এই তিন ঋতু আদিকাল থেকে ছিল, আছে ও থাকবে। তাই পুরনো দিনের একটা কৌতুক দিয়ে শীতের শুরুটা করা যায়।
রাজা উজিরের কাছে জানতে চাইলেন— প্রতি রাতে শেয়াল ডাকে কেন? এত বিশ্রিভাবে ডাকলে কি ঘুম আসে? উজিরের উত্তর, ‘রাজা মশাই ওদের শীতের কম্বল নেই।’ তাই প্রত্যেক শেয়ালকে একটি করে কম্বল দেওয়ার নির্দেশ শোনালেন রাজা। বিতরণ শেষে উজির এসে রাজাকে জানালো, শেয়ালদের কম্বল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেয়ালদের হুক্কাহুয়া তবু থামলো না। তিন-চার দিন পর রাজা খানিক রেগে উজিরের কাছে জানতে চাইলেন, কম্বল তো দেওয়া হলো। এখনও ডাক থামে না কেন? উজিরের উত্তর, ‘কম্বল পেয়ে শেয়ালরা রাজার গুনগান গাচ্ছে। যতদিন কম্বল থাকবে ততদিন তারা রাজার গুনগান গেয়েই যাবে!’ তাই শীত এলে শেয়ালদের ডাক কখনও থামে না। কিন্ত গরম বা বর্ষাকালে শেয়ালরা ডাকে কেন?
যতই ডাকুক, ধরে নেওয়া যাক শেয়ালদের আগে একটি করে কম্বল ছিল। ২০১৮ সালের শুরুটা হয়েছে শীত দিয়ে। হাড়কাঁপানো শীতে বাঘ কিংবা শেয়াল সবারই জবুথবু অবস্থা। উজির নেই, তাই জানা যায়নি শেয়ালদের আরও একটা করে বেশি কম্বল লাগবে কিনা অথবা বাঘ-বানরদের কপালে কী আছে। বাঘ-বানরদের অবস্থা যেমনই হোক মানুষের অবস্থা কেমন? বৈশ্বিক জলবায়ুতে যতই পরিবর্তন আসুক, মানুষের ভোগান্তি যতই বাড়ুক, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তাতে কিছু যায় আসে না। জলবায়ু পরিবর্তন হেতু মানুষের নেওয়া কার্যক্রমকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ভাওতাবাজি!’
শীতকে অবশ্য এই দেশের কবি-সাহিত্যিকরা নিয়েছিলেন খুব সম্মানের সঙ্গে। জীবনানন্দ দাশ সম্ভবত শীতকে ভয় পেতেন। তিনি বলতেন, শীতের রাতে তার হৃদয়ে মৃত্যু আসে! যদিও শিশির ঝরে, মধ্যরাতে শোনা যায় বিষণ্ন পেঁচার ডাক। তবু জীবনানন্দ লিখেছিলেন, শীতের রাতে নাকি সার্কাসের সিংহ যে হুংকার দেয় তা নাকি ব্যথিত হুংকার।... continue reading
Likes Comments
০ Shares

আহসান কবির

১ বছর আগে লিখেছেন

নিঃসঙ্গ নন হ‌ুমায়ূন

তৃষ্ণা পেয়েছে।টেবিলে পানি ভর্তি জগ। ইচ্ছে হয় না বিছানা থেকে নেমে গ্লাশে ঢেলে খাই। বাইরে অপার জোসনা। জানালা খুলে দিলে অপার জোসনায় ভেসে যাবে ঘরটা।ইচ্ছে হয়না জানালাটা খুলি।দুঃখ হয় তাদের জন্য যাদের সঙ্গ আজ আমায় নিঃসঙ্গ করে দেয়! .................... হ‌ুমায়ূন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ কী নিঃসঙ্গ ছিলেন?তার জীবন যাপনে কিংবা লেখালেখিতে? সম্ভবত এই প্রশ্নটা অমিমাংসিতই থেকে যাবে। তবে কেউ যদি জানতে চায় প্রয়ানের পরে হ‌ুমায়ূন এখন কেমন আছেন,সাহিত্যের কোথায় আছেন বা থাকবেন তাহলে এই প্রশ্নের উত্তরও কী অমিমাংসিত থাকবে? নাকি সেটা মহাকালই নির্নয় করবে?
মানুষ যদি নিঃসঙ্গ হয়ে যায় তবে সেটা কবরে যাবার আগে নয়! হ‌ুমায়ূন আহমেদের এই কথার সূত্র ধরে আবারো বলা যায় হ‌ুমায়ূন কী নিঃসঙ্গ ছিলেন নাকি এখন চির নিঃসঙ্গতা তাকে গ্রাস করেছে? জীবন যাপনে রাজকীয় ভাব ছিল তার। রাজারা একাকী জীবন যাপন করতে পারেন না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেবার পরে সেই অল্প আয়ের জীবনে শ্যামলীর বাসা থেকে হেটে হেটে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার বিবরন তার একাধিক লেখাতে আছে। সেই সময়টাতে কী তিনি একা থাকতেন?নাকি মধ্যবিত্ত জীবনের সাথে স্বপ্ন সংযোগের ব্যাপারটা তার সাথে তখন হেটে যেত সমান্তরাল? একা একা হাটার এই ব্যাপারটা জীবনানন্দের জীবনে কতোটা ছিল পুরোপুরি জানা না গেলেও তার কবিতায় আছে-হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে! পৃথিবীর পথে কী কেউ একা থাকে? রবীন্দ্রনাথ আর জীবনানন্দে প্রভাবিত ছিলেন হ‌ুমায়ূন। তার বইয়ের নামগুলো থেকেই সেটা অনুমেয়। যেমন-যখন গিয়াছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ কিংবা মেঘ বলেছে যাব যাব। অবশ্য তার একটা লেখাতে আছে- মানুষ যখন একা থাকে তখন আসলে সে একা থাকেনা। সবার কথা ভাবে,সবাইকে নিয়ে থাকে।কিন্তু অনেকের ভীড়ে সেই মানুষটা যখন থাকে তখন যতো মানুষই আশে পাশে থাকুক আসলে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

আহসান কবির

১ বছর আগে লিখেছেন

রক্তের দাগ

প্রিয় দীপন,
হয়তো সত্য কথাই লিখেছেন তিনি। নাজিম হিকমতের ভাষাতেই বলা যায় তোর মৃত্যুর পর আরও একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করেছে পৃথিবী। পৃথিবীটা যেমন ছিল হয়তো তেমনই আছে, শুধু প্রিয় কিছু মানুষের স্মৃতির ডায়েরিতে ছাড়া আর কোথাও তুই নেই দীপন! তোর বাবা আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গাতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- আমি এই হত্যার (দীপন হত্যার) বিচার চাই না। আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে কিন্তু বিশ্বাস কমে গেছে! স্যারের আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। বছর ঘুরলেও তোর হত্যাকারীরা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে!
স্মৃতির ডায়েরিটা খুললে তোর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিটা খুব বেশি মনে পড়ে!
নৌ বাহিনীর চাকরি হারানো এই আমি টিউশনি আর রাতভর গাড়ি চালানোর টাকা দিয়ে শাহবাগ আজিজ মার্কেটের তিনতলায় একটা দোকান ভাড়া নিয়েছিলাম। পুরোনো তিনটে চেয়ার ( আমার অফিস ছিল তিনতলার ৪৮ নম্বর রুমে । উপদ্রব মনে করে আগের ভাড়াটে চেয়ার তিনটে নিয়ে যায়নি) রেখে দিয়েছিলাম তিনতলার এক কোনে। একদিন বিকেলে দেখলাম সেখানে পনের বিশ জন ছেলে এসেছে। তারা চেয়ার তিনটে দড়ি দিয়ে সুন্দর করে তিনতলার রেলিং এর সাথে বাধলো। আমি জানতে চাইলে ইংরেজদের মতো দেখতে টকটকে ফর্সা একটা ছেলে বললো- মুদি বা রাস্তার দোকানে সিগারেট কিনতে যাবেন দেখবেন ম্যাচটা সুতা দিয়ে বান্ধা। কোনও কোনও দোকানে কলমও বাইন্ধা রাখা হয় যেন কেউ নিজের মনে কইরা নিয়া যাইতে না পারে। চেয়ারগুলা আমরা বুকিং দিয়া গেলাম। এখানে এখন থেকে আড্ডা আর কনসার্ট হবে!
টকটকে ফর্সা এই স্মার্ট ছেলেটার নাম দীপন। বন্ধুরা তাকে ফরেনার বলেই ডাকতো! আজিজের তিনতলার কোনায় দীপনদের আড্ডাটা ক্রমশ জমে উঠলো। উদয়ন স্কুল আর ঢাকা কলেজ থেকে পাস করা পনের বিশ জন ছেলে নিয়মিত আড্ডা দিতে আসতো... continue reading
Likes Comments
০ Shares

আহসান কবির

১ বছর আগে লিখেছেন

‘বালাম’ ও ‘শ্রাবণী’দের দাম বেড়েছে!

শৈশবে পড়া একটি ছড়া আজও মনে আছে। ছড়াটির প্রথম দুই লাইন ছিল এমন, ‘দাদখানি চাল মসুরির ডাল চিনিপাতা দৈ/দুটি পাকা বেল সরিষার তেল ডিমভরা কই।’ শৈশবে বাজারে গিয়ে আমি দাদখানি চাল খুঁজতাম। কোথাও পাওয়া যেত না। একবার এক চালের আড়ৎদার বলেছিল, খোকা এই নামে কোনও চাল নেই। তুমি যারে ‘দাদখানি’ বলছ, সেটা আসলে দাঁতের সমান লম্বা চাল! (দাদখানি নামের ধান আসলেও আছে)। আমি অবাক হয়েছিলাম এই ভেবে যে, দাঁতের নামে কিংবা দাঁতের মাপেও চাল পাওয়া যায়! পরবর্তী সময়ে অবশ্য এই অবাক হওয়ার ব্যাপারটা আর থাকেনি। কারণ, তখন জেনে গেছি, মানুষের নামেও চালের অথবা চালের নামেও মানুষের নামকরণ করা হয়ে থাকে।
নদী, সংখ্যা, ফল, ফুল, মাছের নামে ধানের নাম তো আছেই। এমনকি ‘গাঁজা’ নামের ধানও রয়েছে। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, নিজামী নামের ধানও আছে! জানি না ‘গাঁজা’ আর ‘নিজামী’ ধান কোথায় চাষ হয় আর কারা চাষ করে!
বালাম একদা শুধু চালের নাম ছিল, এখন এদেশে এই নামে জনপ্রিয় গায়কও আছেন। ছেলেদের নামে আছে অনেক চাল বা ধানের নাম। যেমন, বিপ্লব, নিয়ামত, কিরণ, রহমত ও গাজী। আগে জনপ্রিয় চালের নাম ছিল ঝিঙা, দিঘা, বড়ন ও পাইজাম। এখন জনপ্রিয় চালের নাম হচ্ছে নাজির (এটাও মানুষের নাম, হয়তো এটা কোম্পানির নামও) শাইল, মিনিকেট। মিনিকেট নামে অবশ্য ধানের কোনও জাত নেই। বিআর-২৮ ও বিআর-৩২ নামের চালগুলো কেটে ছোট করা হয়, যে কারণে এই চালের নাম হয়ে যায় মিনিকেট। মিনিকেট অবশ্যই ‘মোটা স্বাস্থ্য চিকন বা স্লিম করিয়া থাকি’ টাইপ চাল!
মোটা স্বাস্থ্য যারা চিকন বা স্লিম করে থাকেন, সেই মেয়েদের নামেও আছে অনেক ধান বা চালের নাম। যেমন: শ্রাবণী, মালা (মালা ধান থেকে খুব ভালো মুড়ি হয়। মালা ধান একসময়ে এত... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (2)

  • - মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান

    সুন্দর লেখা।

Load more writings...