Site maintenance is running; thus you cannot login or sign up! We'll be back soon.

ইফ্ফাত রুপন

২ বছর আগে লিখেছেন

প্রত্যুত্তর

অরণ্য,
এই লিখাটির শুরু তুমি যেভাবে দেখতে পাচ্ছো আমি ঠিক সেভাবে শুরু করতে চাচ্ছিলাম না। প্রারম্ভিকের ব্যাপারটা আমার মধ্যে নেই। কোন কিছুর সূচনা আমার দ্বারা হয়তো আজ পর্যন্ত সম্ভব হয় নি। অনেকটা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখানোর জন্য আজ তোমাকে লিখতে বসেছিলাম। পারলাম না, হয়তো কখনো পারবোও না। তবে সূচনার কিছুটা অভিব্যাক্তি আজ তোমার হাতে আমি কিছুটা হলেও দিতে পারবো। তোমার কাছে আমার লিখার প্রথম সূচনা।
তোমাকে লিখার জন্য আজ কেন যেন কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম তোমাকে কিছু লিখবো। পারছিলাম না। কেন পারছিলাম না তার উত্তরটা আমার জানা নেই। তবে আমি আশা করি তোমার কাছে উত্তরটা নিশ্চয়ই আছে। আর তুমি নিশ্চয়ই এটাও বুঝতে পারছো যে কেন তোমার কাছে আমি লিখতে শুরু করেছি।
আমি তোমাকে যখন এই লিখাটি লিখছিলাম তখন একটা বেশ অর্থবহ শব্দ দিয়ে লিখাটা শুরু করতে আমার ইচ্ছে করছিলো। যদিও শব্দটি তোমার কাছ থেকেই শুনা। তবে আজ তোমার নাম দিয়ে শুরু করলাম। তুমি কি জানো তোমার নামটা অনেক সুন্দর। “অরণ্য”। তোমার নামটা শুনলেই কেন যেন মনের মধ্যে এক ধরণের প্রশান্তির একটা ভাব চলে আসে। আজ তোমায় তোমার দেয়া সেই শব্দটি দিয়ে সম্বোধন না করায় রাগ করছ নাতো?
শোন অরণ্য, আমার বেশ কয়দিন ধরে মনে হচ্ছে তুমি আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছো। অবহেলার খুবই সুক্ষ তবে বেশ স্পষ্ট একটা ছাপ আমি তোমার মধ্যে এখন প্রায়ই দেখতে পাই। হয়তো তুমি এসব তোমার নিজের অজান্তে করছো। কিংবা হয়তো আমাকে তুমি আর আগের মতো করে দেখতে পারছো না। জানো তোমার দেয়া লাল জামাটা আমি সেদিনও পরেছিলাম। কপালে লাল টিপ দিয়েছিলাম। কোন একটা কারণে আমাকে লাল টিপে দেখতে পেয়ে নাম না জানা... continue reading
Likes Comments
০ Shares

ইফ্ফাত রুপন

২ বছর আগে লিখেছেন

ইন্দ্রাণী

আবহা। এই আবহা। উঠছিস না কেন? দেখ কত বেলা হয়েছে। এতক্ষণ ধরে ঘুমায় কেউ?
আবহা বেশ সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিল।
স্বপ্নের পরিবেশগুলো সাধারণত ধূসর বর্ণের হয়। যার নিজস্ব কোন রং থাকে না, থাকে না কোন নিজস্ব অস্তিত্বও। কিন্তু আবহার কাছে সবসময় মনে হয় শুধুমাত্র তার স্বপ্নগুলোর মাঝেই নিজস্ব একটা স্বকীয়তা রয়েছে। কারণ একমাত্র তার এই স্বপ্নগুলোর মাধ্যমেই সে মাঝে মাঝে তার অতীতের জীবনটাতে ফিরে যেতে পারে। ফিরে যেতে পারে তার সেই জগতে যেখানে শুধু সে ছিল, তার স্বপ্ন ছিল আর সেই স্বপ্নের সাথে মিশে ছিল...
আবহা। উঠ তো মা। আর কতো ঘুমাবি?
আবহা উঠে বসলো। স্বপ্নটা তার এখনো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। মার কি দরকার ছিল এভাবে তাকে ডাকাডাকি করার। ডাক না দিলে হয়তো আরো কিছুক্ষণ তার সঙ্গে থাকা যেত।
আজকের স্বপ্নটা একটু অন্যরকম ছিল। অন্যান্য দিনের মতো বিষাদময় ছিল না। কারণ আজ সে, তার পাশে ছিল। তারা দুজন একসাথে করে কোথাও যাচ্ছিল। সে বসেছিল জানালার পাশে আর আবহা বসেছিল ঠিক তার পাশের জায়গাটিতে। আবহা তার কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। আর সেই সাথে জানালা দিয়ে আসা বাতাসের কারণে আবহার চুলগুলো উড়ছিল। একটু পর আবহা খেয়াল করলো তার চুলগুলো উড়ে গিয়ে ঠিক তার পাশের মানুষটার মুখের উপর পরছে। কিন্তু মানুষটা তাকে কিচ্ছু বলছে না এমনকি সে চুলগুলো মুখের উপর থেকে সরাচ্ছেও না। যেন সে চাইছে বাতাসে আবহার চুলগুলো উড়ুক এবং সে যেন সেগুলোর স্পর্শ অনুভব করতে পারুক। আজকের স্বপ্নে তার মুখটাও বেশ হাসিখুশি ছিল। অন্যান্য দিনগুলোতে তো মুখ গোমড়া করে বসে থাকে। আবহা হাত বাড়িয়ে তার পাশে বসে থাকা মানুষটাকে স্পর্শ করতে যাচ্ছিল। আর ঠিক সেই সময়টাতে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

ইফ্ফাত রুপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

ঘোর

ভাই একটা গল্প শুনবেন?
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে আমার পাশে তাকালাম। বেশ কাঠখোট্টা চেহারার একজন মানুষ আমার পাশে বসে রীতিমত দাঁত বের করে হাসছে। ব্যাপারটা দেখে মনে হচ্ছে ভদ্রলোক আমাকে এভাবে হঠাৎ করে চমকে দিতে পেরে বেশ মজা পাচ্ছেন। আমিও যে এক আধটু অবাক হই নি তা নয়। রাত তিনটার দিকে আমার পাশের সিটে বসা যাত্রী ভদ্রলোক যদি এভাবে হুট করে বলে বসে যে ভাই গল্প শুনবেন তাহলে একটু অবাক হবারই কথা। তবে অবাক হবার থেকে আমি যেই জিনিসটা বেশি এই মুহূর্তে হচ্ছি সেটা হচ্ছে বিরক্ত।
কি ভাই খুব বিরক্ত হচ্ছেন তাই না।
আমি একটু অবাক হলাম এবার। এই লোক কিভাবে বুঝলো আমি বিরক্ত হচ্ছি। এবার যদি তার কথার উত্তর না দেই তাহলে রীতিমত অভদ্রতা করা হয়ে যায়। অগত্তা কোন উপায় না দেখে আমি কথা বলতে শুরু করলাম।
না ভাই বিরক্ত হচ্ছি না।
ভদ্রলোক কিছুটা হেসে উত্তর দিলেন, বুঝতে পারছি ভাই কিছুটা বিরক্ত হচ্ছেন। এভাবে রাত দুপুরে কারোরই গল্প শুনতে চাইবার কথা না। তারপরও বাসের সবাই ঘুমুচ্ছিল কিন্তু আপনি ঘুমুচ্ছিলেন না। তাই ভাবলাম আপনার সাথে কথা বলতে বলতে যদি বাকিটা সময় পার করে দেয়া যায়? ঝিনাইদাহ আসতে তো আর বেশি দেরি নেই। তা ভাই আপনি নামবেন কোথায়?
এইতো পায়রা চত্বরে। আপনি?
আমার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। যেখানে খুশি সেখানে নেমে পরবো।
ভদ্রলোককে কোন একটা কারণে আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং বলে মনে হোল। যদিও আমার মনোযোগ ধরার মতো তেমন কোন কাজ তিনি করেন নি কিন্তু তারপরও কেন যেন মনে হোল খারাপ কি? ঝিনাইদাহ পৌঁছুতে আরো কম করে হলেও চার ঘণ্টা লাগবে। বাকি সময়টা নাহয় গল্পগুজব করতে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

ইফ্ফাত রুপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

নবনীতা

খালামণি ও খালামণি, আমাকে কার্টুন এনে দাও না।
কিভাবে এনে দেব মামণি? কারেন্ট তো চলে গেছে। এক ঘণ্টার আগে তো আসবে না।
কিন্তু আমার কার্টুন দেখতে ইচ্ছে করছে। কালও দেখতে পারি নি, আম্মু তার অনুষ্ঠান দেখেছে আমাকে দেখতে দেয় নি। আমি আজো দেখতে পারবো না।
এই বলে নবনীতা কাঁদতে শুরু করলো। কারেন্ট চলে যাওয়াতে নবনীতার যতটা না মন খারাপ হয়েছে তার চেয়েও বেশি মন খারাপ লাগছে স্বর্ণার। নবনীতা স্বর্ণার বড় বোনের মেয়ে। নিজের মেয়ে না হলেও ছোট বেলা থেকে নবনীতাকে কোলে পিঠে করে স্বর্ণাই মানুষ করেছে। তার বোন আর বোনের হাসবেন্ড দুজনেই চাকরিজীবী হওয়াতে ছোটবেলা থেকে নবনীতা বেশিরভাগ সময় স্বর্ণার কাছেই ছিল। স্বর্ণার এখনো মনে আছে নবনীতার এই পৃথিবীতে আসার দিনটার কথা। প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিলো সেদিন। এর মধ্যে বিকেল বেলা হঠাৎ করে বড় আপার প্রচণ্ড প্রশব বেদনা শুরু হয়। বৃষ্টিতে রাস্তা ঘাটের অবস্তা এতোটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে সেদিন একটা সিএনজি কিংবা রিক্সাও পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বর্ণার দুলাভাই হাসান ভাইয়াও সেদিন চাকরির কাজে সিলেটে ছিলেন। ঘরে একটা পুরুষ মানুষও ছিল না তাদের সাহায্য করার মতো। অবশেষে স্বর্ণা হাঁটু পানি মাড়িয়ে বাজার থেকে সিএনজি ঠিক করে এনেছিল। হসপিটালে নিতে দেরি হওয়াতে বড় আপার অবস্থা প্রচণ্ড খারাপ হয়ে যায়। ব্যাথার প্রচণ্ড ঝাঁপটায় তার চোখ মুখ কুঁকড়ে যাচ্ছিল। সিএনজিতে তিনি স্বর্ণার হাত ধরে বলেছিলেন, “স্বর্ণা আমি যদি মারা যাই আমার বাচ্চাটিকে তুই দেখিস”। স্বর্ণা প্রচণ্ড কেঁদেছিল সেদিন তার বড় আপার কথা শুনে।
অবশেষে হসপিটালে পৌঁছাবার পর সাথে সাথে বড় আপাকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে হাসান ভাইকেও খবর দেয়া হয়েছিল। নিজের স্ত্রীর অবস্থা শুনে ঝড় বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই তিনি... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - আলমগীর সরকার লিটন

    সুন্দর ফলাফল -

    • - ব্লগ সঞ্চালক

      ধন্যবাদ, নক্ষত্রের সাথে থাকুন সবসময়। 

    - আমির ইশতিয়াক

    অভিনন্দন সকল বিজয়ী লেখকদেরকে।

    • - দীপঙ্কর বেরা

      জেনে ভাল লাগল। ভাল থাকবেন। 

    - নাসির আহমেদ কাবুল

    বিজয়ীদের অভিনন্দন।

    লেখকের নাম ছাড়া  লেখাগুলো বিচারক পরিষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা লেখা পড়ে পয়েন্ট দিয়েছি। সুতরাং, এই নির্বাচন বিচারকের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ হয়েছে।

    Load more comments...

ইফ্ফাত রুপন

৩ বছর আগে লিখেছেন

একটি মৃত্যুবরণ

সবকিছু ঠিক ঠাক মতো গুছিয়েছো তো?
হ্যাঁ বাবা গুছিয়েছি।
গরম কাপড়, সুয়েটার নিয়েছো তো? সিলেটে কিন্তু এখন অনেক ঠাণ্ডা পরছে।
আরে হ্যাঁ সবকিছুই নিয়েছি।
আর কিছু লাগবে তোমার? লাগলে বল আমি এনে দিচ্ছি। মোবাইলের চার্জার নিয়েছ তো? পরে আবার মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাবে তোমাকে আমি আর খুঁজে পাব না।
আরে বাবা সব কিছুই নিয়েছি। কিছুই বাদ রাখি নি। আর আমার কিছু লাগবে না । চল তো বের হই।
তুমি শিওর তো?
হ্যাঁ আমি শিওর। চল বের হই।
এই বলে নাদিয়া রাতুলের হাত ধরে টান দেয় বের হবার জন্য। নাদিয়া জানে রাতুলকে এভাবে বের না করলে সে কোন মতেই বের হতে চাইবে না। নাদিয়ার প্রচণ্ড খেয়াল রাখে রাতুল, সেই সাথে প্রচণ্ড ভালোবাসেও তাকে। আজ নাদিয়া ভার্সিটি থেকে পিকনিকে যাচ্ছে সিলেট এর চা বাগানে। টানা ৩ দিন থাকবে সেখানে। তাই রাতুলের চিন্তার কোন শেষ নেই। একই ভার্সিটিতে না পড়ার কারণে রাতুল আজ নাদিয়ার সাথে যেতে পারছে না। তার জন্য অবশ্য তার বেশ খানিকটা মনও খারাপ। কিন্তু নাদিয়ার সামনে সে তা প্রকাশ করলো না। মেয়েটা ভার্সিটি লাইফে প্রথম বার ট্যুরে যাচ্ছে। একটু হাসি মুখে যাক না।
রাতুল আর নাদিয়া তাদের সাথে থাকা ব্যাগ আর অন্যান্য টুকটাক কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বের হোল। ভোর ছয়টায় বাস ছাড়বে। তার আগেই নাদিয়াকে রাতুলের পৌঁছে দিতে হবে ক্যাম্পাসে। সকালের আলো এখনো ঠিকমতো ফুটে উঠে নি। রাতুল তার বাইকে করে নাদিয়াকে পৌঁছে দেয় তার ক্যাম্পাসে। বাস আরও আধ ঘণ্টা পর ছাড়বে। রাতুল আর নাদিয়া পাশাপাশি কিছুক্ষণের জন্য একসাথে বসলো। নাদিয়াকে আজ বেশ সুন্দর লাগছে। হালকা হলুদ রঙের একটা জামা পরেছে সে আজ। ভোরের... continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...