Beauty Image

চেহারার বয়সের ছাপ দূর করবে দারুণ যে খাবারগুলো



বার্ধক্যকে কখনো প্রতিরোধ করা যায় অর্থাৎ শরীরের বয়স বেড়ে যাওয়া কেউ আটকাতে পারে না। যদিও বয়সকে কেউ আটকে রাখতে পারে না কিন্তু চাইলে সেই বয়স হয়ে যাওয়ার সময়টাকে আকর্ষণীয় ভাবে দীর্ঘ করতে পারেন।পুরো দুনিয়াতেই এটা দেখা যায় যে বয়স হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করার উপর সবাই বেশ গুরুত্ব দেয় বেশি। একজন ব্যক্তির শরীর না ত্বকে বয়সের ছাপ আসে বিভিন্ন কারনের উপর যেমন বংশগতি, জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং যে পরিবেশের বাস করে তার উপর।

দোকানে এমন অনেক প্রসাধন বা বিভিন্ন ঔষধ রয়েছে যা ত্বকে বয়সের ছাপ পরার গতিকে ধীর করতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু বেশির ভাগ এসব সামগ্রীতেই রাসায়নিক পদার্থ থাকে এবং এগুলো ত্বকের জন্যও ভালো নয়। এগুলোর অনেক ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও থাকে।

ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার গতিকে ধীর করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জীবনযাপনের ধারা পাল্টানো। সেই সাথে খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ব্যায়ামও যুক্ত। এর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। তবে এটা ত্বকে বয়সের ছাপ পরার আগেই শুরু করা উচিত। অনেক ধরনেরই খাবার রয়েছে যা ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া ত্বকের ভালো পরিচর্যা করাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাস শুধু নয় সেই সাথে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামও করতে হবে।
ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে বেশ কিছু খাবারের ভুমিকা উল্লেখযোগ্য-

বেরি
বেরি জাতীয় ফল গুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এরা ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরির মত গারো রঙের বেরি ফলগুলো ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা দেয়। এইসব বেরি ফল গুলো ভিটামিন সিতে ভরপুর তাই এগুলো ত্বকের জন্যও ভালো।

ডার্ক চকলেট
চকলেটের নাম দেখে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন কিন্তু সেটা অবশ্যই হতে হবে ডার্ক চকলেট। এই চকলেটটি নিয়মিত খেলে ত্বকের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তাই এটি ত্বকে বলিরেখা পরতে বাধা দেয়।

সবজি
বেশির ভাগ সবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়াতে বেশি করে সবজি খেলে তা ত্বকে বার্ধক্য আসার গতিকে ধীর করে দেয়। বিশেষ করে সবুজ শাক সবজি যেমন পালং শাকে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বেশি করে সবজি খেতে পারেন এর পুষ্টিগুণের উপর নির্ভর করে সেটা কাঁচাই হোক বা রান্না করেই হোক।

অ্যাভোকাডো
এই বার্ধক্য বিরোধী খাবারটিতে রয়েছে ভিটামিন ই, পটাসিয়াম, মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অনেক বেশি পরিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যাভোকাডো ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করার জন্য বেশ পরিচিত। এছাড়া এটি ত্বককে সুন্দর করতে এবং তারুণ্য আনতে সাহায্য করে।

সয়াবিন
বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় এই সবজিটি অনেকে খায় না বা খেতে কেমন লাগবে ভেবে এড়িয়ে চলে কিন্তু প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই সবজিটিতে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থও রয়েছে। এই সবজিকে সুপার ফুড বলে যায় কারন অসুস্থতা এবং রোগের বিরুদ্ধে এর বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। তাই এটি ত্বকের সুস্থতা এবং তারুন্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সবুজ চা
ফল ও সবজির মত সবুজ চাও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। গবেষণায় জানা যায় যে, এটি সূর্য রস্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে যা ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

গাজর
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, গাজর ত্বকের জন্য খুবই উপকারি এবং প্রচুর পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। ভিটামিন এ এর একটি শক্তিশালী উৎস হচ্ছে গাজর এবং তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা ত্বকের কোষ বিনষ্টকারী ফ্রি র্যা ডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তারুন্য উজ্জ্বল ত্বকের জন্য অবশ্যই ভিটামিন এ গ্রহণ করা উচিত। কারন এর অভাবে ত্বক অনুজ্জ্বল ও শুষ্ক হয়ে যায়। এছাড়া গাজর বায়োটিন, ভিটামিন সি, কে এবং বি৬, পটাশিয়াম এবং থায়ামিনের চমৎকার উৎস। সাধারণত হলুদ ও কমলা ফল এবং সবজি ত্বকের স্বাস্থ্য ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অত্যাবশ্যক।

টমেটো
আমরা সাধারণত জানি যে টমেটোতে থাকে লাইকোপিন যা হৃদরোগের সম্ভাবনাকে কমায়। এছাড়া সূর্যের আলোর পোড়া ভাব কমাতে টমেটোর জুড়ি নেই। লাইকোপিন ত্বকের পোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে।এছাড়া এটি ত্বকের কোলাজেনের মাত্রা বাড়িয়ে ত্বককে করে তোলে মসৃণ এবং দাগমুক্ত। টমেটো তে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও।