Health Image

হেপাটাইটিস সি





হেপাটাইটিস মারাত্মক এক ভাইরাসের নাম। তবে এটি দু ভাগে বিভক্ত। একটি হলো হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং অপরটি হেপাটাইটিস ‘সি’। হেপাটাইটিস ‘সি’ একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাস। প্রধানত রক্তের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়ায়। গঠনগত দিক থেকে হেপাটাইটিস সি – কে ছয়টি জেনোটাইপে ভাগ করা হয়েছে।

ক্ষতিকর দিক:
এটি এমন এক ধরনের ভাইরাস যা সরাসরি লিভারের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ভাইরাসটি লিভারের কোষে বাসা বাঁধে এবং সেখানে ধীরে ধীরে বংশবিস্তার করতে থাকে। এই ভাইরাসের প্রভাবে লিভারের কোষগুলোতে শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশন বা ক্রনিক হেপাটাইটিস। এর ফেলে ধীরে ধীরে লিভারের কোষগুলো তাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের সৃষ্টি হয়।

যেভাবে সংক্রমিত হয়:
 পরীক্ষা ছাড়া হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে
 হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তির অপারেশনের পর সেই যন্ত্রপাতি দিয়ে সুস্থ মানুষের অপারেশন করা হলে এই ভাইরাস সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।
 থুথু, ঘামের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে এ রোগটি ছড়ায়।

লক্ষণ:
হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্তদের ৫/১০ বছরের মধ্যে কোনো লক্ষণ থাকে না। অধিকাংশ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শরীর ম্যাজম্যাজ করে, অনেকের হাত-পায়ের পাতা গরম থাকে এবং চোখ জ্বালা করে। আহারে রুচি কম থাকে এবং পেটের পীড়ায় ভুগতে থাকে। অনেকে সাদা আমযুক্ত মলত্যাগও করে।

লক্ষণ ও উপসর্গ:
হেপাটাইটিস-সি শরীরে প্রবেশের পর বিভিন্ন ধরনের আচরণ করে থাকে। আচরণের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় হেপাটাইটিস-সি কোনো লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই অনেক দিন ধরে স্বল্পমাত্রায় লিভারের ক্ষতি করতে থাকে। রক্ত দেয়ার সময় অথবা অন্য কোনো কারণে হেলথ চেকআপ করতে গিয়ে রক্তে হেপাটাইটিস-সি শনাক্ত হয়ে থাকে।
হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ২০ জন ১০ থেকে ২০ বছর লিভার সিরোসিসে ভোগেন এবং ২০ থেকে ৪০ বছর পর লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এই দীর্ঘ সময় অল্পঅল্প লক্ষণ থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের প্রধান উপসর্গ হলো জন্ডিস (চোখ ও প্রস্রাবের রঙ হলুদ হওয়া), খাবারে অরুচি, শারীরিক দুর্বলতা, পেটের ডান দিকে ব্যথা, পেটে চাকা চাকা অনুভূত হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, গায়ে-পায়ে পানি আসা, কখনো কখনো রক্তবমি বা কালো পায়খানা হওয়া।

চিকিৎসা:
বর্তমানে হেপাটাইটিস সি এর চিকিৎসা বাংলাদেশে রয়েছে। HCV RNA পরীক্ষা করে এই ভাইরাসটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। হেপাটাইটিস-সি লিভারের কতটুকু ক্ষতি করছে তা জানার জন্য আনুষঙ্গিক লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা হয়। অ্যানডোসকপি, ইমেজিং (আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান), কখনো কখনো লিভার বায়োপসি করার প্রয়োজন হয়।

সচেতনতা:
যে কোনো রোগের প্রধান ঔষধ/চিকিৎসা হচ্ছে সচেতনতা। নিয়ম মেনে জীবনযাপন করলে সচরাচর কোনো রোগ মানুষের ধারে কাছে আসতে পারে না। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে কিছু বিষয়ে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি।
 রক্ত গ্রহণের আগে রক্ত পরীক্ষা করে গ্রহণ করা
 অন্যের ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার না করা
 দন্ত চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শতভাগ জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করা
 সেলুনে ব্যবহৃত চুল ও দাড়ি কাটার যন্ত্রপাতি ও বিউটি পার্লারের যন্ত্রপাতির মাধ্যমেও এটি একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হয়। তাই এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া।