জাবেদ ভুঁইয়া

২ বছর আগে লিখেছেন

বইমেলায় "বিভাজন"

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসছে আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ "বিভাজন"। মোট দশটা গল্প নিয়ে এই বই। প্রকাশিত হচ্ছে দাঁড়িকমা প্রকাশনি থেকে।
বই মেলায় ৩৮৮, ৩৮৯ স্টলে পাবেন বইটি।
ব্লগারদের স্টলে আসার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল 
আমার এই একক সংকলনটি কিছু কথাঃ
গল্প সংকলন অনেক রকমের হয়। সংকলিত গল্পগুলোর প্রকারের উপর গল্প সংকলনের প্রকার পরিবর্তন হয়। এই গল্প সংকলনটারও হয়তো একটা প্রকার আছে। কিন্তু সেই প্রকার হিসেবে ঠিক কি বলব সেটা নিয়ে কিছুটা দোটানার মধ্যে আছি। কারণ এই বইয়ের এক একটা গল্প একেক রকমের। কোনটা গা ছমছমে কোন ভূতের গল্প আবার কোনটা প্রেমের। কোনটাতে হয়তো খুকুর সাথে আপনি চলে যেতে পারবেন রূপকথার রাজ্যে আবার কোনটায় কোন এক চরিত্রের সাথে দেখতে পারবেন সমাজের নির্মম বাস্তবতা। সুতরাং এই সংকলনটাকে খিচুরি ধরনের সংকলন বললেও খারাপ হয়না।
সংকলনের গল্পগুলো বেশ সময় ধরে লেখা। যার প্রথম গল্পটা লেখা হয়েছিল ২০১২ এর দিকে এবং শেষটা ২০১৬। এই দীর্ঘ সময় লাগার কারণ যে প্রত্যেক গল্প অনেক সময় নিয়ে লেখা এমনটা নয়, সময়টাকে দীর্ঘ করেছে এককটা গল্পের মাঝখানের সময়সীমাটা। এমনও হয়েছে একটা গল্প লেখার প্রায় ছয় সাত মাস পরে আরেকটা গল্প লিখেছি। আমার মনে হয় একেকটা গল্প একেক ঘরানার হওয়ার এইটা একটা বড় কারণ হতে পারে। এইযে সময়ের পরিবর্তন, এর মধ্যের আমার বয়স বেড়েছে, আশেপাশের পরিবেশ বদলেছে, বদলে গেছে মানুষজন। আর এই সব কিছুর সাথে বদলে গেছে আমার গল্পের প্রেক্ষাপটও।
যাহোক, জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নিয়ে লম্বা ভূমিকা লেখার ইচ্ছা বা সামর্থ্য কোনটাই আমার নেই। শেষ মেষ একটা কথা বলেই শেষ করব ভূমিকা।
এইযে বইটা, ১০ টা গল্প নিয়ে মলাটবদ্ধ। এটা খালি দশটা গল্পই নয়, এটা আমার জীবনের... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (1)

  • - এই মেঘ এই রোদ্দুর

    ভোট দিলাম

    • - কাফাশ মুনহামাননা

      ধন্য্বাদ।

জাবেদ ভুঁইয়া

৩ বছর আগে লিখেছেন

চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম নীলচে খামে (একটি গানের প্রচেষ্টা)

 
চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম নীলচে খামে
যদি কভু পড় তুমি উত্তর দিও কানে কানে।
যদি এই চিঠি পড়ে
মনে হয় আমার কথা
জাগে সব মরে যাওয়া
যতসব দুঃখ গাথা
তবে মন খোলা ডাকে উত্তর লেখ মনে মনে।
গানটি শুনুনঃ https://soundcloud.com/studioarrival/chitita-pathiye-dilam
 
ধন্যবাদ আমার বন্ধু হোসেন তারেক কে। আমার অনুরোধে এমন লুতুপুতু একটা গান গেয়ে দেয়ার জন্য ।
আরো ধন্যবাদ বন্ধু হিমেলকে গানে রেকর্ডিং এর সময় হাঁচি দেয়া মিউজিক এর জন্য এবং ইসমাইল কে ব্যকগ্রাউন্ডে হুদাই গুনগুনের জন্য
continue reading
Likes Comments
০ Shares

জাবেদ ভুঁইয়া

৪ বছর আগে লিখেছেন

সম্পর্কের গল্প

মুক্ত রাস্তাটা দিয়ে দুটো শূন্য হাত নিয়ে হাটছিল একটা লোক। পথের খানিকটা এগুতেই তার একটা হাত আর খালি রইলনা। সেখানে এসে স্থান নিল একটা কোমল নরম হাত। এবার দুজন হাটছে মুক্ত রাস্তাটা বেয়ে। একে অপরের হাত ধরে। খানিকটা পথ। লোকটা স্থির হয়ে দাঁড়ালো। তার অপর হাতে আরেকটা কোমল হাতের অস্তিত্য অনুভব করছে সে। তার দুহাতই এখন ভরা। খানিকটা সময় ভাবল সে। তারপর হ্যাচকা টানে পুরনো হাতটা থেকে নিজের হাতটা মুক্ত করে নিল। ছুড়ে ফেলা হাতটা অসহায়ভাবে আকুতি জানালো। লোকটা ফিরলওনা। বরং নতুন কোমল হাতটা মুঠোবদ্ধি করে হাটতে শুরু করল। একটা সময় তার হাত পাকড়ে থাকা নতুন কোমল হাতটার বাধন ঢিলে হয়ে গেল। তারপর একসময় ফসকে গেল হাত গলিয়ে। দুটো শূন্য হাত নিয়ে লোকটা দাঁড়িয়ে রইল হতভম্ব হয়ে। ঠিক যেন একটা মূর্তি। দুটো হাতে এসে ভর করল প্রচন্ড একাকীত্বতা। প্রাণপণে চাইল কেউ একজন তার হাতে হাত রাখুক। শূণ্য হাত ঘেসে হু হু বাতাসের শব্দ বড় অদ্ভুত লাগে লোকটার কাছে। অনুতপ্ততার সময় পেরোতেই একটা ছোট্ট মেয়ে কচি হাতে পাকড়ে ধরল তার হাত। বাচ্চা মেয়েটার মেয়েটার অপর হাতটা পাকড়ে আছে সেই ঝেরে ফেলা পুরনো কোমল হাতটা। এবার মুক্ত রাস্তা দিয়ে তারা তিনজন হাটতে শুরু করল। খানিকটা যেতেই লোকটার খালি অপর হাতটায় মুঠো করে ধরলো আরেকটা কোমল হাত। নতুন কোমল হাত। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল লোকটা। একটু সময় ভাবল। অপর হাত পাকড়ে থাকা কচি হাতটা থেকে একটু উষ্ণ চাপ অনুভব করল। ঝেরে ফেলল নতুন কোমল হাতটা। মুক্ত রাস্তা দিয়ে আবার এগিয়ে চলল ওরা তিনজন। ক্রমশ সামনে... আরো সামনে...... continue reading
Likes Comments
০ Shares

জাবেদ ভুঁইয়া

৪ বছর আগে লিখেছেন

শিশুতোষ গল্প লেখা প্রতিযোগিতা-২০১৫

অনলাইন বাংলা সাহিত্যের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। ফেসবুক আর ব্লগের বদৌলতে বেরিয়ে আসছে অনেক নতুন নতুন লেখক। যারা নানা রকম কাব্যে, গল্পে সমৃদ্ধ করছেন বাংলার অনলাইন জগৎকে। কিন্তু এত সাহিত্যের মধ্যে শিশুদের জন্য লেখা কীরকম আসছে? উত্তর খুবই দুঃখজনক। গুগলে সার্চ করলে শতকরা ২৫টি শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এডাল্ট পোস্টের লিংক আসে কিন্তু শিশুদের জন্য? সে হার দু একটার বেশি নয়।
এবার অনলাইন শিশুসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে আলোর নিশান ম্যাগ ও শুধুই গল্পের উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে শিশুতোষ গল্প লেখা প্রতিযোগিতা।
এখানে একটা কথা বলে নেয়া যাক। তা হল আমরা শিশুসাহিত্য বলতে ঠিক কিরকম গল্পকে নির্দেশ করছি। শিশুসাহিত্য বলতে মূলত এমন সাহিত্যকে বোঝায় যেটাতে শিশুদের নৈতিকতার জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনও কিছু থাকে না, শিশুরা যে গল্প পড়ে কল্পনায় ভাসে আবার বড়রাও সে গল্প পড়তে অনীহা বোধ করে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রূপকথা, শিশু কিশোর এডভেঞ্চার, শিশুতোষ ভৌতিক , শিশুতোষ রম্য কিংবা কোনও মজার সহজ ভাষায় লেখা গোয়েন্দা গল্প।
তো আর দেরি কেন? খাতা কলম কিংবা পিসি কি-বোর্ড নিয়ে বসে যান আর লিখে ফেলুন মজার মজার শিশুতোষ রূপকথা, এডভেঞ্চার, ভৌতিক, রম্য কিংবা গোয়েন্দা গল্প। আজ থেকেই লেখা জমা নেয়া শুরু হচ্ছে, লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১০ জানুয়ারি। বিস্তারিত নিয়মাবলী।
১। লেখা অবশ্যই অপ্রকাশিত হতে হবে।
২। আপনার নিজস্ব লেখা হতে হবে। অনুবাদ গ্রহণযোগ্য নয়।
৩। গল্প শিশু কিশোরদের উপযোগী হতে হবে।
যেভাবে পাঠাবেন:
প্রথমে http://mag.alor-nishan.com/story-submit এই লিংকে যান। প্রথম ঘরে আপনার গল্পের শিরোনাম, দ্বিতীয় ঘরে আপনার নাম, তৃতীয় ঘরে আপনার গল্প এবং চতুর্থ ঘরে আপনার ইমেইল আইডি দিয়ে সাবমিট করুন।
সন্মাননাঃ
প্রথমত একটা গল্প সৃষ্টি করাই একজন লেখকের সবচেয়ে বড় সন্মাননা। তারপরও... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - আলমগীর সরকার লিটন

    বেশ আবেগময় কবিতা-----------

    - অনিক হালদার

    ধন্যবাদ লিটন ভাই

    - টোকাই

    ভালো লাগলো ।

    Load more comments...

জাবেদ ভুঁইয়া

৪ বছর আগে লিখেছেন

তিনটি দৃশ্য ও একটি আংশিক প্রেমের গল্প

এক
নিমের মাজন দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে আরেকবার মিয়াবাড়ির আওতার উপর দিয়ে উঁকি মারে সুজন। উঠোনের অর্ধেকটা চোখে পড়ে। একপাশে চট বিছিয়ে তাতে ধান আর মরিচ রোদে দিয়ে এখনও ঝিমুচ্ছে জাও বুড়ি। বড় মিয়ার কোন দূরসম্পর্কের বোন। বাড়ি ঘর কিছুই নেই। চাকরানীর মত পড়ে থাকে মিয়া বাড়িতে।
বুড়ির দাঁত নেই, ফোকলা দাঁতে ভাত খেতে পারেনা বলে নরম করে 'জাও' রেঁধে খায়। সেই থেকে এখন নামই হয়ে গেছে 'জাও বুড়ি'।
দাঁতমাজতে উশখুশ করে সুজন। আড়চোখে আশপাশটা দেখে দ্বিতীয়বার উঁকি দিতেই 'হুশ হুশ' করে উঠে বুড়িটা। ওর কলজে শুকিয়ে যায়। দেখে ফেলল নাকি ?
ভয়টা কাঁটে একটু পরেই।দেখেনি ! ধানে মুরগী লেগেছিলো। তাই তাড়িয়েছে।
না! আজকে বোধহয় আর উপায় হবেনা।
দাঁতন করতে করতে পুকুর ঘাটের দিকে এগোয় ও। গেল কোথায় আজ?
কার খোঁজ করে ও? মিয়াবাড়ির আওতার বাইরে বেলীর ঝুপে দাড়িয়ে কাকে দেখার আশায় উঁকি মারে সুজন?
অবৈধ ,নিষিদ্ধ একটা কাজে এত টান কেন ওর?
ভাবে সুজন। জানে বিপদ। তারপরও! নুরু মিয়ার বউকে ভাল লাগলে ও কি করবে?
এক গাদা ছবি লেপ্টানো ওর মনে । ভেজা চুলে এলোকেশী কিংবা ঘামে ভেজা হাসি হাসি মুখের ছবিগুলো দিনরাত যদি বায়োস্কোপের মত ওর চোখের তারায় নাচে কিইবা করবে ও।
ছয়মাস হল নুরু মিয়া দুবাই। এমন বউ রেখে ক্যামনে থাকে কে জানে ?
পুকুর ঘাটে এসে মুখ ধোয়ে ওজুটাও সেড়ে ফেলে।
এ অভ্যাসটা সুজন পেয়েছে তার দাদার কাছ থেকে। তার বয়স তখন কত হবে, ছয় কি সাত।
দাদার সাথে ঘাটে আসত গোসল করতে করতে। দাদাকে ওজু করতে দেখে সুজন প্রশ্ন করত , কি কর দাদা?
দাদা নাকে পানি দিয়ে... continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...