শাহআজিজ

১ বছর আগে লিখেছেন

সময় তুমি

 
 
এই মার্চে , তুমি আমার জননী
বসে গেলে বেলুনি – পিড়ি নিয়ে
চল্লিশখানা রুটি হবে বানাতে
পাড়ার ছেলেরা যুদ্ধরত
খালিশপুরে বিহারিদের সাথে
ওরা ক্ষুধার্ত তাই পাড়ার মায়েরা
ব্যাস্ত সবাই রুটি বানানোয়
সাথে যাবে গুড় আর চিড়া ।
আমার ছোট দুটি হাত দিয়ে
জীবনের প্রথম সেঁকেছিলাম রুটি
তোমার দেখানো কায়দায়।
আমরা অভুক্ত ভুলে গেছি ক্ষুধা
তুমি বল স্বাধীনতার দিয়েছে ডাক
ওই সেইযে শেখের বেটা
মা, তুমি সাক্ষী ৪৬ এর দাঙ্গা
৪৭ এর দেশ ভাগ চারিদিক অনাচার
বুকে জড়িয়ে একমাত্র সন্তান, স্তব্ধ বাবা
পার্ক স্ট্রীটের ভাড়াটে বাড়িতে ।
দেখেছ তুমি আরও দুটি যুদ্ধ
এবার অস্ত্র তোমার তেজী ভাব
পাশে তোমার চার পুত্র ।।
স্বাধীনতা তুমি মায়ের তেজী মূর্তির
বিবিধ ক্রোধের সমাহার
চলে গেলে আরেক শতাব্দীর প্রারম্ভে
মা’হীন সংসার এলোমেলো
রুটির বেলুনি মাটিতে গড়ায়
বলেনা কেউ ডেকে খাবি আয়
বড্ড খারাপ যাচ্ছে সময়
ঘুমাও তুমি সমাধিতে
দেশ জননী আমার ।।
 
continue reading
Likes Comments
০ Shares

শাহআজিজ

২ বছর আগে লিখেছেন

যেভাবে এলো আজকের মিয়ানমার: একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস

বর্তমান সময়ে প্রতিবেশী যে রাষ্ট্রের দ্বারা বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে এবং একইসাথে যে দেশটি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য আরও অগণিত সমস্যা তৈরি করবে সেটি মিয়ানমার। লাখো লাখো রোহিঙ্গা অধিবাসীকে নিজ দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে সে দেশের সরকার ও সামরিক বাহিনী। এই সমস্যা আজ নতুন নয়। সেই ‘৭০ এর দশক থেকেই রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চলছে, চলছে বাংলাদেশের সীমান্তে শরণার্থী হয়ে তাদের অনুপ্রবেশ। আর মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্কসহ বড় বড় দেশগুলোর তাগাদায় এই উদ্বাস্তু জাতির বাস্তুসংস্থানের একক দায় চেপেছে আজ বাংলাদেশের উপর। চলুন জানা যাক সময়ের সবচেয়ে বড় মূর্তিমান উৎপাত মিয়ানমারের ইতিহাস।
১৯৮৯ সালে দেশটির নাম ইউনিয়ন অব বার্মা থেকে ইউনিয়ন অব মিয়ানমারে পরিবর্তন করা হয়। বার্মা নামটি এসেছে দেশটির সর্ববৃহৎ সম্প্রদায় ‘বামার’ থেকে। নাম থেকেই বোঝা যায় যে সাম্প্রদায়িকতা দেশটির রন্ধ্রে রন্ধে মিশে আছে।
আজকের মিয়ানমার বা পূর্বের বার্মা এককালে একাধিক ছোট ছোট স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। ১০৪৪ সালে রাজা অনরথ পাগান নামক রাষ্ট্রের সিংহাসনে বসেন। তিনিই প্রথম ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলোকে একত্রিত করে একটি একচ্ছত্র রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাগান প্রদেশটি হয় তার রাজধানী। রাজা অনরথের রাজত্বকালকে স্বর্ণকাল বলা চলে। বৌদ্ধধর্মে অতিমাত্রায় অনুরক্ত এই রাজা শহরজুড়ে অনেক মন্দির ও প্যাগোডা নির্মাণ করেন, শিল্প, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় অনেক সমৃদ্ধ হয় এই রাজত্ব। তবে রাজতন্ত্রে বেশিদিন রাজ্য টিকিয়ে রাখাটাও এক অনিশ্চিত ব্যাপার। ত্রয়োদশ শতকের শেষের দিকে পাগান রাজত্ব ভেঙ্গে পড়ে।
একদিক থেকে ‘শন’ ও আরেকদিক থেকে ‘মোঙ্গল’ জাতি পাগান সাম্রাজ্য দখল করে এবং একে ভেঙ্গে পুনরায় ছোট ছোট রাষ্ট্রে পরিণত করে। চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি দেশটি চারটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়ে- উচ্চ বার্মা (Upper Burma), নিম্ন বার্মা (Lower Burma), শন প্রদেশ ও আরাকান প্রদেশ।... continue reading
Likes Comments
০ Shares

শাহআজিজ

২ বছর আগে লিখেছেন

সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর উপাখ্যান

দেশ কী? কখনো মনে হয়, হয়তো স্রেফ মানচিত্রে দাগ টানা সীমারেখা বা জোর করে চাপিয়ে দেয়া কাঁটাতারের নামই দেশ। কিন্তু পরক্ষণেই দ্বন্দ্বে পড়ে যেতে হয়। এ সীমারেখার মধ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য যুগে যুগে কত রক্তপাত, কত না বলিদানই হয়েছে। ‘সার্বভৌমত্ব’, ‘স্বাধীনতা’- এ শব্দগুলো যেন প্রাণের সবটুকু উচ্ছ্বাস ধারণ করে থাকে।
ইতিহাসের পাতায় অনেক জাতি যেমন স্বর্ণাক্ষরে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের গল্প লিখেছে, তেমনি এর পাশাপাশি কালো হরফে লেখা স্বাধীনতা হারানোর অধ্যায়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন দেশের কথা বলতে গেলেই চলে আসে সিকিমের নাম।
মাত্র ৭,০৯৬ বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট দেশ সিকিমের জনগণও স্বাধীনতা চেয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন সিকিমে ‘ভারতের সাথে তারা যুক্ত হতে ইচ্ছুক কিনা’ এ প্রশ্নে গণভোট হয়েছিল। সিকিমের জনগণ প্রত্যাখ্যান করে এ প্রস্তাব। কিন্তু এরপর তিরিশ বছর না পেরোতেই এক বিশ্বাসঘাতক, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কূটচাল ও সিকিমের রাজার সরলতায় সিকিম হয়ে ওঠে ভারতের প্রদেশ।
সিকিমের ভারতের প্রদেশ হয়ে ওঠার সফরটা বুঝতে হলে একটু ব্রিটিশ-ভারতের সময়ে ফিরে তাকানো দরকার। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিকিমের উপর আধিপত্যবাদীদের লোভাতুর দৃষ্টি ছিল সবসময়ই। উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে প্রতিনিয়ত নেপালের গোর্খা রাজ্যের হামলায় উৎকণ্ঠিত ছিল সিকিম। গোর্খা রাজ্য হামলা চালাত সংলগ্ন ব্রিটিশ ভারতের রাজ্যগুলোতেও। তাই সহজেই সে সময় সিকিম ও ব্রিটিশ রাজ গোর্খাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর ১৮১৪ সালে শুরু হওয়া ব্রিটিশ-নেপাল যুদ্ধে নেপাল পরাজিত হয়। আর এক চুক্তি অনুসারে সিকিম ফিরে পায় নেপাল অধিকৃত তার অংশগুলো।
এ চুক্তির ফলে নেপাল অধিকৃত অংশগুলো ফিরে পায় সিকিম; ছবিসূত্রঃ উইকিপিডিয়া
আর এ সুযোগে বৃটিশরা সিকিমের উপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। তারা সিকিমের রাজাকে চাপ প্রয়োগ... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - এই মেঘ এই রোদ্দুর

    সুন্দর কবিতা

শাহআজিজ

২ বছর আগে লিখেছেন

প্লেটো: যোগ্য গুরুর যোগ্য শিষ্য

“সুন্দর পৃথিবীতে এসেছি আমি“- এই বাক্যটি ছোটবেলায় শিক্ষকরা শিখিয়েছিলেন ইতিহাসের চারজন অতি পরিচিত মহামানবের নাম সহজে মনে রাখবার জন্য। গুরু-শিষ্যের সম্পর্কের এই ধারা শুরু হয় সক্রেটিস থেকে যার শিষ্য প্লেটো। পরে প্লেটোর শিষ্য হন অ্যারিস্টটল আর তার শিষ্য হন আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট। আজকের আলোচনা সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটোকে নিয়ে।
গ্রীক দার্শনিক প্লেটো, আরেক বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য এবং অ্যারিস্টটলের গুরু, প্রাচীন গ্রীসের তো বটেই, সমগ্র বিশ্বেরই একজন অতি পরিচিত, সম্মানিত ও আলোচিত ব্যক্তি। তার চিন্তাধারা ও দর্শন কালের মহাস্রোতে হারিয়ে যায়নি। বরং কালক্রমে অধিক শক্তিশালীরূপে মানুষের মনে বসতি গড়েছে। যুগে যুগে মানুষ তার দর্শন নিয়ে ভেবেছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। বিশেষভাবে পশ্চিমাদের দর্শন ব্যাপকভাবে প্লেটোর দর্শন দ্বারা প্রভাবিত।
প্লেটো (খ্রিস্টপূর্ব ৪২৮-৩৪৮); image source: intellectualtakeout.org
সক্রেটিসের দ্বারা ভীষণ মাত্রায় প্রভাবিত প্লেটোর অধিকাংশ লেখারই কেন্দ্রীয় চরিত্র সক্রেটিস। সক্রেটিসকে ঘিরে লেখা তার ‘লোগোই সক্রেটিকো’গুলো নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও অন্তত প্রাচীন গ্রীসের সমাজ ও দর্শন জানার জন্য প্লেটোর লেখাগুলোকেই সবচেয়ে প্রামাণিক বলে ধরে নেয়া হয়। ‘দ্য একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা (অনেকের মতে পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ‘রিপাবলিক’ লেখার জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি লাভ করেন। আর তার ‘ফিলোসোফার কিং’ বিষয়ক দর্শন তো যেকোনো যুগের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের আদর্শ হবার দাবিদার।
জন্ম ও শৈশব প্রথমেই বলে রাখা ভালো, প্লেটোর সম্পর্কে যে তথ্যগুলো আপনাদের জানাবো, সেগুলোর অধিকাংশই বিতর্কিত। তবে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য তথ্যগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
খ্রিস্টপূর্ব ৪২৮ অব্দে (সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, মতান্তরে ৪২৭-৩১) প্লেটো প্রাচীন গ্রীসের এথেন্স নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার ব্যক্তিজীবন এবং পরিবার সম্পর্কে খুব কম তথ্যই জানা যায়। তার বাবা অ্যারিস্টন এবং মা পেরিকটিওন উভয়েই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ছিলেন। প্লেটোর আরো দুই ভাই গ্লকন ও অ্যাডেইমেন্টাস উভয়ে বয়সে তার চেয়ে ছোট ছিল। শৈশবেই... continue reading
Likes Comments
০ Shares

শাহআজিজ

২ বছর আগে লিখেছেন

ডেড সী স্ক্রোল: মৃত সাগরের জীবন্ত পুঁথি

সময়টা তখন ১৯৪৭ এর দিকে। মৃত সাগরের উত্তর-পশ্চিম তীর ঘেঁষে অবস্থিত কুমরান গুহা। এই গুহাতেই পাথর নিক্ষেপ করার খেলায় মত্ত দুই বেদুইন বালক। মেষ চড়ানোর বায়না ধরে প্রায়ই এদিকটায় চলে আসে দুই ভাই মিলে। হঠাৎ বড় একটা পাথর ছোঁড়ার পর অদ্ভুত রকমের শব্দ হলো। প্রথমদিকে তারা মনের ভুল ভেবে উড়িয়ে দিলেও, প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের পর একই রকম শব্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাটির তৈরি কিছু একটা ভেঙে গেছে। দুই বালক খেলা থেমে চুপ করে দাঁড়িয়ে পড়লো।
বাতাসে ভেসে আসা মৃত সাগরের লোনা গন্ধ আর পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া বিকেলের সূর্য চারিদিক করে তুলেছিল রহস্যময়। তখনো সন্ধ্যা হতে অনেক দেরি। তাই এই অদ্ভুত শব্দের উৎস জানার জন্য দুজনে মিলে ঢুকে পড়লো গুহার ভেতর।
সেদিন সেই দুই বালকের সাহসী পদক্ষেপ উন্মোচন করে দিল এক গুপ্ত ইতিহাস। তারা গুহার ভেতর প্রবেশ করে উদ্ধার করলো বড় বড় মাটির পাত্র। পাত্র গুলো উল্টে দিতেই মাটিতে ছড়িয়ে পড়লো অগণিত চামড়ার তৈরি স্ক্রোল। এরকম প্রায় ৭টি বড় পাত্র ভর্তি স্ক্রোল উদ্ধার করলো দুজন মিলে। তখন বাইরের আকাশে সূর্য প্রায় অস্ত যাই-যাই করছে। দুই বালক ছুটে চলে গেল বেদুইন পল্লীর দিকে। চিৎকার করতে লাগলো হাত-পা ছুঁড়ে, “গুপ্তধন! গুপ্তধন!”
বেদুইন সর্দার সব শুনে রাতটা অপেক্ষা করলেন। পরদিন ভোর হতেই দলে দলে কুমরান গুহাতে হানা দিলেন। উদ্ধার করে নিয়ে আসলেন শত শত স্ক্রোল। আশেপাশের সব গুহাতে তল্লাশী চালানো যখন শেষ, তখন বেদুইনদের ঝুলিতে স্ক্রোলের সংখ্যা ৯০০ ছুঁই ছুঁই করছে। জেরুজালেমে তীর্থের উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ জড়ো হতেন। এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে গেলে সবাই বেদুইন পল্লীতে ছুটে আসলেন। এভাবেই মানবসভ্যতার চোখের আড়াল হয়ে থাকা রহস্যময় ডেড সী স্ক্রোল নতুন করে ফিরে আসলো... continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...