Site maintenance is running; thus you cannot login or sign up! We'll be back soon.

শফিক সোহাগ

৫ বছর আগে লিখেছেন

প্রাণের বইমেলায় একদিন

প্রাণের বইমেলায় একদিন

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী মাস এলেই বাংলা একাডেমি বইমেলার আয়োজন করে । ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য মেলার নামকরণ করা হয় “অমর একুশে বইমেলা” । একসাথে অনেক বই দেখা এবং নতুন বইয়ের টাটকা ঘ্রাণ আহরণ করার সুযোগ করে দেয় বইমেলা । বইমেলা বই পোকাদের নেশার পরিতৃপ্তি প্রদানে সহায়ক । লিখালিখির অভ্যাস থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই আমি বইয়ের নেশায় আচ্ছন্ন ছিলাম । এই নেশার তৃপ্তি আহরনের জন্য বইমেলায় যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও সময় সুযোগের অভাবে যাওয়া হয় নি । সুদূর চট্টগ্রাম থেকেই প্রতিবছর টেলিভিশনের পর্দায় বইমেলা দেখে কৃত্রিম তৃপ্তি আহরন করতাম । এবছর হঠাৎ সুযোগ পেয়ে গেলাম । তাই সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে ভুল হল না ।   

 

২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ ইং । ভোরবেলা ট্রেন ঢাকা গিয়ে পোঁছে । প্রথমেই গেলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে । আশেপাশে সাজানো হয়েছে ফুলের দোকান । সেখান থেকে ফুল নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম । কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবারই আমার প্রথম যাওয়া । শহীদ মিনার থেকে পায়ে হেঁটেই রওনা হই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে । সেদিন ছিল শুক্রবার তাও আবার ২১ ফেব্রুয়ারী । তাই মেলায় ছিল উপচে পরা ভির । বইমেলা চত্বরকে ভাগ করা হয়েছে কবি, সাহিত্যিক, লেখক, ভাষা শহীদ ও বুদ্ধিজীবীদের নামানুসারে । আমি ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টলে বই দেখতে লাগলাম আর প্রাণ ভরে নিতে লাগলাম নতুন বইয়ের ঘ্রাণ । বই কিনেছি নিজের জন্য এবং বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষী ও কলিগদের উপহার দেওয়ার জন্য । আমার ক্রয়কৃত বেশির ভাগ বই ছিল নতুন লেখক ও কবিদের বই । বিখ্যাত লেখকদের বই সর্বত্রই পাওয়া যায় । ইন্টারনেট তাঁদের লেখাকে আরও সহজলভ্য করেছে । তাছাড়া নতুন লেখক ও কবিদেরকে উৎসাহিত করার জন্য তাঁদের বই কেনাকে আমি দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছি । এক সময় হয় তো ক্ষুদ্র লেখক হিসেবে আমাকে উৎসাহিত করার জন্য অন্যরাও আমার বই কিনবে ।

 

বইমেলায় শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-জোয়ান সকল বয়সের মানুষের উপস্থিতি এবং বই কেনাবেচার হিড়িক দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হলাম । বলতে দ্বিধা নেই; বইমেলা-ই আমাদের দেশের মানুষকে বইয়ের প্রতি দিন দিন আকৃষ্ট করে তুলছে । বইমেলা এখন আমাদের ঐতিহ্যের এক বিরাট অংশীদার হিসেবে অবস্থান করে নিয়েছে । প্রাণের এই বইমেলার ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে চিত্তরঞ্জন সাহার নামটি । চিত্তরঞ্জন সাহা ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গনে বটতলায় এক টুকরো চটের উপর মাত্র ৩২ টি বই নিয়ে বই মেলার যাত্রা শুরু করেন । বইগুলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা পরিষদ (বর্তমান নাম মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত হয়েছিল । চিত্তরঞ্জন সাহার প্রচেষ্টায় বইমেলা ক্রমাগত বিকশিত হতে থাকে । ১৯৭৬ সালে অন্যান্য প্রকাশকরাও বইমেলার প্রতি আকৃষ্ট হয় । ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. আশরাফ সিদ্দিক বইমেলার সাথে বাংলা একাডেমিকে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন । সেই থেকেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আমাদের প্রাণের বই মেলা হয়ে আসছে । যা ক্রমাগত বিকশিত হওয়ায় এবছর (২০১৪ সালে) বাংলা একাডেমিসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও বসেছে মেলার বড় আসর ।

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে ঘুরতে জুমার নামাজের সময় ঘনিয়ে আসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে গিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সহ সকল মনীষীদের কবর জেয়ারত করলাম । এরপর পুনরায় ফিরে এলাম বইমেলায় । ঐ এলাকার আশেপাশে কোনো খাবার হোটেলের অস্তিত্ব ছিল না । মেলাকে কেন্দ্র করে শুধু কয়েকটি চটপটি-ফুসকার দোকান ছিল । তাই দুপুরের খাবারের অভাবে যথেষ্ট কষ্ট ভোগ করলাম । অতঃপর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করি । সেখানেও সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো হয়েছে বইয়ের স্টল । বিভিন্ন টিভি চ্যানেল মেলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করছে । সেই সাথে দেখানো হচ্ছে প্রতিদিন মেলায় আসা নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন । কবি-লেখকগণ টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ করছেন তাঁদের অনুভূতি। সবকিছু মিলে এ এক অন্য জগত !      

Email : shafiq_shohag@yahoo.com

Likes Comments
০ Share

Comments (6)

  • - আলমগীর সরকার লিটন

    অল্প কথায় সুন্দর কাহিনী বেশ ভাল

    ভাল থাকুন দাদা

    • - ঘাস ফুল

      ধন্যবাদ আলমগীর সরকার। 

    - লুৎফুর রহমান পাশা

    প্রকৃত ভালোবাসা নির্ভর একটা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত যে মানুষ আধার গলিতে আশ্রয় পেল সে কি আর আলোতে আসতে পারে?

    বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পারেনা।

    • - ঘাস ফুল

      এখানে আঁধার গলিতে বলতে আমি নেশার জগতকে বুঝিয়েছি পাশা ভাই। ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে ছেলেটি ঐ পথে পা বাড়ায়। কিন্তু নতুন করে তার জীবনে একজন আসে, যে হাত বাড়ায় ভালোবাসায় এবং নির্ভরতায়। তাই ফিরে আসতেও পারে। তাছাড়া নেশার জগত থেকে অনেকেই ফিরে আসে, আসে না? 

      ধন্যবাদ পাশা ভাই। 

    - সুখেন্দু বিশ্বাস

    আঁধারের যাত্রীর আলোর পথে চলা আশার সঞ্চার করে।

    সুন্দর ও কাব্যিক অনুগল্প। শুভেচ্ছা রইলো ঘাস ফুল।

    • - ঘাস ফুল

      আপনি ঠিকই বলেছেন সুখেন্দু দা, আঁধারের যাত্রীর আলোর পথে চলা আশার সঞ্চার করে। ধন্যবাদ আপনাকে। 

    Load more comments...