লুৎফুর রহমান পাশা

৬ বছর আগে লিখেছেন

অনুগল্পঃ গোলাপ কাহিনী

  সে এক অচিন দেশের গল্প। রাজকুমারী বনলতার সাথে বনরাজের দারুন সখ্যতা। যতদুর দৃষ্টি যায়, ঘন সন্নিবেশী দৃষ্টি ভিভ্রম বন। সুঠাম সবুজ সরু কিংবা চিড়ল পাতায় ছেয়ে আছে কোথাওবা হরিন শিকারী লতাগুল্মের দল। সেখানে ছায়া আছে। বৃষ্টি এলে নিরাপদে ধরে রাখার মায়া আছে। এই মায়াতেই ভুলে আছে রাজ কুমারী। মনে তার যত কষ্টই জমা হোক বনরাজের সান্নিধ্যে এলে মন ভালো হয়ে যায়। বনরাজ তাকে নিয়ে দোল খায় বৃক্ষ শাখে, স্বাদ উপভোগে নিমিত্ত করে বনের যত সুস্বাদু ফলের ভান্ডার। রাজকুমারীর স্মৃতির ভান্ডারে নিত্য জমা হয় হাজারো বৃক্ষের হাজারো রকমের ছায়ার মায়া।

বিজন বনের এক মাথে যেখায় জল মিশে গেছে বিস্তীর্ন ভুমির সাথে। সেথায় দেখা গেলো লাল গালিচা পাতা ফুলের সমারোহ। এত সুন্দর এর আগে কখনো দেখেনি রাজকুমারী। শূণ্য থেকে দৃষ্টি পরতেই নামতে হলো তার। সেকি সুগন্ধী। মন মাতাল করা বিমোহিত লাল গালিচার সুবাসী বায়ু। তাবৎ ফুলের মধ্য খানে শয্যা পেতে এখানে শায়িত হতে চায় রাজকুমারী। । পাহারায় রইলো বনরাজ। রাজকুমারীর মন যে আরো ভাল করা চাই। আরো আনন্দে উদ্বেলিত হোক তার মন। নিত্য প্রতুষ্যে নয়তো ঘুমের ঘোরে এ যে বনরাজের পন। বনের বুক চিড়ে নেমে আসা তৃষ্ণার জল বৃক্ষের ফল সবই যে রাজকুমারীর অধীন হয়ে সেই কবে থেকেই। আজ থেকে এই ফুলের ভুমিও তার চরনেই নিবেদিত হোক।

শেষ বিকেলের আলোয় ফিরে আসার পালা। কিন্তু এই মনোহর ভুমিতে মায়া পড়ে থাকে। নিশিথে নির্জনে ঘুম ভাঙ্গে রাজকুমারীর। প্রার্থনায় রত হয় ইশ্বরের কাছে। আমি বিমোহিত হয়েছি যে ফুলে সে বাগান তুমি রক্ষা করো। যদি কেউ হাত দেয় আমি মরে যাবো। ফুলের গায়ে কাটা তুলে দাও। যাতে অযাচিত হাত রক্তাক্ত হয়।

পরদিন প্রতুষ্যে বনের প্রবেশ পথে দেখা হয়না বনরাজের। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই রাজকুমারীর। এগিয়ে যেতেই মেঠোপথে পড়ে আছে বনরাজের রক্তাক্ত দেহ।বিড় বিড় করছে বনরাজ। বুকে জড়ানো এক গোছা রক্তাভ লাল ফুল দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে রাজকুমারীর মন। হৃদয় ক্রমশ হয়ে উঠে বেদনার একরাশ বিরান ভুমি। সেখানে কিসের তৃষ্ণা কে জানে?
Likes Comments
০ Share

Comments (3)

  • - Developer

    - ঘাস ফুল

    চিরকুট -২ তে তো আপনি এই গল্পটাই লিখেছেন। এটা এখানে আবার এলো কী করে? 

    - মামুন ম. আজিজ

    nice