সোহেল আহমেদ পরান

৩ বছর আগে লিখেছেন

সাম্প্রতিক ছড়াঃ একগুচ্ছ পান্তা ইলিশ

(১) লিমেরিকঃ ইলিশ
-----------------------
ইলিশ নাকি খেতেই হবে এবার পয়লা বৈশাখে!
সে যে আমার নাগালে নাই ক্যামনে বুঝাই সই তাকে?
রূপার ইলিশ সোনার মূল্যে
গোটা কয়েক মেলে কুল্লে
তা নয় আমার !! যদি পেতাম কাঁঠাল গাছের ওই শাখে!
- (২) অণু অনুভবঃ পান্তা-বিলাস
-----------------------------
বোশেখ ভোরে পান্তা বিলাস
রাত-আসরে রঙিন গিলাস
তোমার কৃষ্টি বুঝা দায়!
জুটে না যার নিত্য আহার
দিনযাপনে বাঁধার পাহাড়
বাঁচার স্বপ্নে ঝুঝা দায়।
(৩) অণু অনুভবঃ নুন পান্তা
-------------------------
পান্তা ইলিশ
যখন গিলিস
আমার কথা মনে পড়ে?
আমি তো হায়
নুন পান্তাই চাই
রোজ সকালে জীবন ভরে ।
|
এইতো চাওয়া
হয় না পাওয়া!!
(৪) বাইকুঃ ভান
----------------------
হুজুগে এই ইলিশ পান্তা
ছুঁয় না হৃদয় টানে না মন
ঠেকে শুধু মেকি ভান তা।
---
সোহেল আহমেদ পরান
এপ্রিল ২০১৬
continue reading
Likes Comments
০ Shares

সোহেল আহমেদ পরান

৩ বছর আগে লিখেছেন

বিশ্ব কবিতা দিবস আজ (World Poetry Day Today)

আজ “বিশ্ব কবিতা দিবস”। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ মার্চকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা। ইউনেস্কোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল, “এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলনগুলোকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।”
পূর্বে অক্টোবর মাসে বিশ্ব কবিতা দিবস পালন করা হত। প্রথম দিকে কখনও কখনও ৫ অক্টোবর এই উৎসব পালিত হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রোমান মহাকাব্য রচয়িতা ও সম্রাট অগস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরণে ১৫ অক্টোবর এই দিবস পালনের প্রথা শুরু হয়। অনেক দেশে আজও অক্টোবর মাসের কোনো দিন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কবিতা দিবস পালন করা হয়।এই দিবসের বিকল্প হিসেবে অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসের কোনো দিন কবিতা দিবস পালনেরও প্রথা বিদ্যমান।
কবিতা কী? কবিতার গুরুত্ব কটোটুকু আজকের এই সমাজে? – এসব নিয়ে বিতর্ক হয়তো করা যায়। কিন্তু কবিতা যে হৃদয়ের সুকুমারবৃত্তিকে লালন করে তাতে সন্দেহ নেই। কবিতা অনেকক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে।
বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রমে সমকালীন কবিতাকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা মনে করে, কবিতা হলো কিছু মানুষের অপ্রয়োজনীয় সৃষ্টি কিংবা মিথ্যা ভাষ্য মাত্র। তবে কবিতাকে আমরা কীভাবে মোকাবিলা করি কিংবা কবিতা আমাদের চেতনাকে কতটা জাগ্রত করে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কবিতায় সমসাময়িক বিষয় ওঠে আসবে এটা স্বাভাবিক। কবি এস টি কোলরিজের মতে—‘কোনো কবিই বড় কবি হতে পারেননি সত্যসন্ধ দার্শনিক হওয়া ছাড়া।’
আজকের দিনে, আমাদের কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ –এর “আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি” কবিতার অংশবিশেষ তোলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি নাঃ
“জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - প্রলয় সাহা

    আমার খুব প্রিয় একটি কবিতা। 

সোহেল আহমেদ পরান

৩ বছর আগে লিখেছেন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস: সর্বস্তরের নারী ও আমাদের সমাজ

নারী এবং বাস্তবতাঃ
নারী ও পুরুষ মানব জাতির দুটি রূপ। সৃষ্টিকর্তা এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর মানুষ, গাছপালা, পশু পাখি, ধূলিকণা, সাগর নদী, পাহাড় পর্বত সব। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে। পৃথিবীর চালিকাশক্তির প্রধান ভূমিকায় রেখেছেন মানুষকে মহিয়ান সৃষ্টিকর্তা। মানুষ পৃথিবীতে এসেছে নর এবং নারী হয়ে। ‘আদম’ এবং ‘ঈভ’ মানবজাতির আদি পিতা ও মাতা। সৃষ্টির শুরু থেকেই পৃথিবী চলছে নর তথা পুরুষ ও নারীর যৌথ প্রচেষ্টায়। একা নারী কিংবা একা পুরুষ বড় কিছু করতে পারেনি কখনো। আর তাই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় বলেছেনঃ
“কোন কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষী নারী।”
“বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
সৃষ্টিকর্তা নারী ও পুরুষকে সমান মর্যাদা সম্পন্ন করেই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো- সমাজে নারী অনেকক্ষেত্রেই বৈষম্যের নির্মম শিকার। নির্যাতন আর অত্যাচারে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে অনেক নারীর জীবন। এটা হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। কারণ, সৃষ্টির কাঠামোতে পুরুষ আর নারীকে সমান দক্ষতায় আঁকা হলেও পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয়নি। এ সমাজে পুরুষরা স্বঘোষিত মানুষ হয়। কিন্তু নারী যেনো সবসময় মানুষ নয়- তার যেনো রয়েছে অন্য এক অস্তিত্ব। শুধু ভোগ করার সময় তাকে আদর করে মানুষ বলে ডাকা হয়। কিন্তু অধিকারের প্রশ্ন আর মর্যাদার প্রশ্নে পুরুষ নারীকে তার সমকক্ষ হিসেবে স্বীকার করতে দ্বিধা করে। অনেকসময় শারীরিক, মানসিক ও বস্তুগত বৈষম্যের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দেয়াল তুলে তাকে বুঝিয়ে দিতেও কুণ্ঠা করে না যে নারী একটি দ্বিতীয় শ্রেণির ভোগ্যপণ্য বা প্রাণীবাচক অস্তিত্ব। তাই, কিছু ব্যতিক্রম সহজভাবে মেনে... continue reading
Likes Comments
০ Shares

সোহেল আহমেদ পরান

৩ বছর আগে লিখেছেন

সৃজনশীল সাহিত্যচর্চায় ব্লগঃ বর্তমান প্রেক্ষাপট

লেখালেখি একটি সৃজনশীল কাজঃ  
লেখালেখি মানুষের মজ্জাগত একটা বিষয়। এটা ভেতর থেকে আসে। আমরা মনের টানে লিখে থাকি। মনের ভালোলাগা বা মন্দলাগাটুকু আমাদের লেখায় ওঠে আসে। ওঠে আসে কষ্টবোধ বা সুখবোধ। তাই জোর করে লেখালেখি করা প্রায় অসম্ভব। তাই লেখালেখির এই প্রয়াস- একে বলা হয় সৃজনশীল কাজ। সৃজনশীল কাজে স্বভাবিকভাবেই থাকে - স্বতন্ত্র চিন্তা, বোধ ও চেতনার হৃদ্য প্রকাশ। জোর করে সৃজনশীল এই কাজ করা সম্ভব না হলেও, অনুশীলন ও শেখার আগ্রহ ভালো লেখক হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।  তাছাড়া, পাঠকের পাঠ-প্রতিক্রিয়া এবং লেখক-পাঠক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লেখার মান উন্নত করা সম্ভব। আগেকার দিনে, পাঠকের প্রতিক্রিয়া এবং লেখক-পাঠক মিথস্ক্রিয়ার বিষয়টি সাধারণত আড্ডা/আলোচনা আর চিঠিপত্রের মাধ্যমে হয়ে থাকতো।

লেখালেখি -  সেকাল একালঃ
তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারলাভ করায় লেখালেখির মেজাজ ও মাধ্যমেও এসেছে (আসছে) অনেক পরিবর্তন। আগে নতুন কবি-লেখকগণের জন্য লেখা প্রকাশের মাধ্যম ছিলো খুব সীমিত। দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা, হাতেগোনা সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিলো লেখা প্রকাশের মূল মাধ্যম। ঈদ-পার্বণের বিশেষ সংখ্যাগুলোও বড় লক্ষ্য থাকতো অনেক লেখা প্রকাশের জন্য। এর বাইরে বিভিন্ন বিশেষ দিবসে স্মরণিকা বা ম্যাগাজিন বেরুতো তখন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারিতে এসব ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো নতুন ও পুরনোদের লেখা নিয়ে।  সপ্তাহের সাহিত্যপাতা কিংবা ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য কবি-লেখকদের অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করতে হতো।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই দিনে অনেককিছুর সাথে পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন এসেছে- লেখালেখি ও লেখা প্রকাশেও। আগে লেখালেখির ড্রাফট বা প্রাথমিক হতো কাগজে কলমে। আরএখন তা হচ্ছে ফিঙ্গারটিপে- কীবোর্ডে। লেখালেখির জন্য এখন প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি এসেছে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সাহিত্য-আশ্রয়ী ওয়েবসাইট/ব্লগ এদের মধ্যে অন্যতম।    
সাহিত্যচর্চায় বাংলা ব্লগঃ 
বাংলা কমিউনিটি ব্লগগুলো সাহিত্যচর্চায় ব্যাপক... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (1)

  • - তামান্না তাবাসসুম

    শুভেচ্ছা 

সোহেল আহমেদ পরান

৩ বছর আগে লিখেছেন

কষ্ট কারিগর

নানান রঙের কষ্ট ফেরি করে
কষ্ট বিকিয়ে কিছু কি পেয়েছিলো জলে আগুন জ্বালানো প্রিয়কবি!
ভেজালের ভয়ে ফেরিঅলার ডাকে ক্বচিৎ সাড়া দেয় আজকের স্মার্ট নাগরিক
কষ্টেও যে নেই ভেজাল ~ কে বলবে তা?
 
কষ্ট বিকোতে তাই আমি
হয়েছিলেম কিঞ্চিৎ উত্তরাধুনিক
স্মার্ট সময়ের অনুষঙ্গ নিয়ে ব্যাপক ক্যাম্পেইন আমার
বাদ যায়নি -
সুপারস্টোর
চেইন শপ
...কিছুই।
হালের আমাজনেও প্যাকেট চাকচিক্যে বাজারজাত করতে চেয়েছি তাকে।
 
কষ্ট বিকোতে প্রমাণিত ব্যর্থ তকমা ঘুচাতে
কষ্ট কারিগর আজ আমি
কষ্টের নিপুণ বিন্যাসে বানাই প্রাসাদ সুরম্য
তিন তারকা পাঁচ তারকা গড়ি
লাবণি পয়েন্টের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে।

যত্ন আঁচড়ে গড়া সুরম্য আবাসে
সুখ উদযাপন করে কতিপয় মানব মানবী
আর কষ্টেরা দুর্ভেদ্য প্রাচির হয়ে থাকে পাহাড়ায়
একটু সুখও যেনো চুইয়ে পড়ে না যায়
প্রাণান্ত তাই আজ এই কষ্ট কারিগর্।
........
২০১৬০২১৬ | ঢাকা 
 
continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...