রাজীব নূর খান

২ বছর আগে লিখেছেন

সত্যি ভূতের গল্প

প্রথমেই বলে নিচ্ছি, দুর্বল হার্টের কেউ এই লেখাটা পড়বেন না। বাগেরহাট যাচ্ছি। সুন্দরবনের পাশে একটি গ্রাম। গ্রামের নাম রসুল পুর। সকাল ১০ টায় বাসে উঠলাম। রাস্তায় তিন বার বাস নষ্ট হলো। বিকেলে পৌঁছানোর কথা ছিল রায়েন্দা। আমি পৌছালাম রাত ৩ টায়। পনের বছর আগের কথা। তখন রাস্তা ঘাট খুব উন্নত ছিল না। প্রচন্ড শীত। বাস থেকে নেমে আমি কাঁপছি। চারপাশে ঘুট ঘুট অন্ধকার। আমার সাথে যে ক'জন মাস থেকে নেমেছিল তারা কে কোথায় চলে গেল। ঈদের ছুটিতে বন্ধুর গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। তখন মোবাইল ছিল না। গত পাঁচ বছর ধরে যাব যাব করছিলাম, যাওয়া আর হয়নি।
বাজারের মতো একটা জায়গায় বাস নামিয়ে দিয়েছে। চারপাঁচটা কুকুর একটা ভাঙ্গা চায়ের দোকানের সামনে জট পাকিয়ে আছে। আমি ভীতু টাইপ ছেলে না। আমার আছে লজিক। কত কঠিন কঠিন ভূতের বই পড়ে আর মুভি দেখে ভয় পাইনি। যাই হোক, আমার বন্ধু বাবলু বলেছিল- তুই বাস থেকে নেমে দেখবি আমি তোর জন্য হোন্ডা নিয়ে অপেক্ষা করছি। হয়তো বাবলু হোন্ডা নিয়ে বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে চলে গেছে। বাবলু ছেলে হিসেবে খুব ভালো। যথেষ্ট আন্তরিক। বন্ধু বাবলু বলেছিল- রায়েন্দা থেকে ভ্যানে করে রসুলপুর গ্রামে যেতে আধা ঘন্টা লাগে। এত রাতে একটা ভ্যানও নেই। আমি সকাল হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে হাঁটা শুরু করলাম।
মাটির রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। ভয়াবহ অন্ধকার। প্রচন্ড কুয়াশা। নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি ঝরছে। বাতাসে গাছের পাতার শন শন শব্দ। বাবলু বলেছিল- মাটির রাস্তাটা যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানেই আমাদের গ্রাম। বাবলুর বাবা গ্রামের ডাক্তার। খুব নাম ডাক আছে। সুন্দরবন থেকে নানাবিদ জিনিস পত্র নিয়ে যারা জীবিকা নির্বাহ করে তারা বনের পশু দ্বারা আক্রান্ত... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - টি.আই.সরকার (তৌহিদ)

    অহেতুক লেখাকে কঠিন করার বিষয়ে সমালোচনাটা বেশ ভালো লেগেছে ।

    ধন্যবাদ ।

    • - মৌনতা

      ধন্যবাদ

রাজীব নূর খান

২ বছর আগে লিখেছেন

কোনোও কোনো দিন এমনও হয়

সময়ঃ মধ্য দুপুর। মধ্য দুপুর সময়টা বড় অদ্ভুত! এই সময় নিজের ছায়াটাকেও খুঁজে পাওয়া যায় না। বুকের মধ্যে যেন কেমন করে! চারপাশে যা দেখা যায় সবই ভালো লাগে। প্রেসক্লাব এর সামনে একলোক রাস্তার পাশে লেবুর সরবত বিক্রি করছে, দোয়েল চত্ত্বরের সামনে দেখলাম- মানুষজন পাগলের মতোন ডাবের পানি খাচ্ছে। গুলশান লিংক রোডের সামনে দেখলাম- পথচারীরা পাগলের মতো গেন্ডারির রস খাচ্ছে। বেশ কড়া রোদ উঠেছে। এইসব রাস্তার খাবার না খেয়েই বা কি করবে!
এই শহরে কেউ কেউ মধ্যদুপুরে একা হাটতে বের হয়। রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খায়- কেক খায়। তারপর আবার হাটতে শুরু করে। সব জাগাতেই দুপুরবেলা মানুষের ভিড়টা একটু কম থাকে কিন্তু কোথাও জটলা দেখলে- এক আকাশ আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। আবার খাপছাড়া ভাবে হাটে। আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেটের ধোয়া ছাড়ে। এমন-ই এক সময়ে বাইশ/তেইশ বছরের একটি ছেলে নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার কাধে ক্যামেরার ব্যাগ। মাথার চুল বড় বড়।  সে কোথায় যাবে বুঝতে পারছে না। তখন ছেলেটির সামনে দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছিল। মেয়েটিকে খুব রুপসী বলা যাবে না। শুধু চোখে মোটা করে কাজল দেওয়া। সারা পিঠে এক রাশ চুল ছড়ানো। ছাতা মেলে কি সুন্দর করেই না হেঁটে যাচ্ছে। এর আগে এত সুন্দর করে কোনো মেয়ে কি ছাতা মেলে হেঁটে গিয়েছে? ছেলেটা মেয়েটিকে বলল- শুনুন। মেয়েটি এক আকাশ অবাক দৃষ্টি নিয়ে ফিরে তাকালো। ছেলেটি বলল- আচ্ছা, এখন, ক'টা বাজে বলেন তো? মেয়েটি বলল, আমার হাতে ঘড়ি নেই, জানি না কয়টা বাজে। ছেলেটি বলল- আহ হা আন্দাজে বলুন। মেয়েটি বলল- আমার আন্দাজ ভালো না। ছেলেটি বলল- আচ্ছা, মোবাইলে সময় দেখে বলুন। মেয়েটি হেসে ফেলল, তারপর... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - টি.আই.সরকার (তৌহিদ)

    যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদের সকলকে অভিনন্দন ! emoticons

    বিজয়ীর বেশে নিজেকে আবিষ্কার করা সবসময়ই আনন্দের তবে আজকের আনন্দটা আমার কাছে একটু বেশিই !

    কারণ, আমার লিখালিখির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাললাগার (কবিতা) জায়গায় আজ আমি বিজয়ীর বেশে ।

    এই বিজয়ে অবদান রাখা সকলের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা । emoticons

    - দীপঙ্কর বেরা

    শুভেচ্ছা 

    - মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান

    সকাল রয় এর গ্যব্রিয়েলের কুকুর জন্ম লিখাটি আমার কাছে ভালো লেগেছিল। এটা পাঠক হিসাবে আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত।

    Load more comments...

রাজীব নূর খান

২ বছর আগে লিখেছেন

আকাশ ভরা মেঘ

এত টাকা দিয়ে আমি কি করবো? 
ঘটনা হলো- অফিসের কাজে বের হয়েছি। মগবাজার থেকে সিএনজি'তে উঠেছি উত্তরা যাবো। অন্যদিনের তুলনায় আজ রাস্তা মোটামোটি ফাঁকা। ভয়াবহ গরম পড়েছে। ঘামে শার্ট পুরোপুরি ভিজে গেছে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফেসবুক চালাচ্ছি। হঠাত দেখি আমার পাশে একটা বড় ব্যাগ। প্রথমেই মনে হলো ব্যাগের মধ্যে বোমা। আবার মাথার মধ্যে কে যেন বলল, ব্যাগ ভরতি টাকা। টাকা? সাথে সাথে ব্যাগ খুলে দেখি টাকা। কম করে হলেও এক শ'টা বান্ডিল। সব এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল। মাথা পুরাই নষ্ট। আমার হাত পা কাঁপছে, আনন্দে অথবা ভয়ে। 
এখন আমি কি করবো? মাথা কাজ করছে না। টাকা গুলো থানায় জমা দিয়ে দিব? নাকি টাকা গুলো নিয়ে বাসায় চলে যাবো? অথবা যার টাকা তাকে খুঁজে বের করে তার কাছে দিয়ে দিব? অথবা যেহেতু অফিসের কাজে বের হয়ে টাকা গুলো পেয়েছি- কাজেই টাকাগুলো অফিসে জমা দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। 
আমি একটা এড এজেন্সীতে চাকরি করি। নাম 'টাইটান এড এজেন্সী'। ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আমাদের সংগ্রহ করা বিজ্ঞাপন গুলো যায়। অফিসে আমার পদ এক্সজিকিউটিভ। বড় বড় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদেরকে অনেক তেল মালিশ করে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করি। কি যে কষ্টের কাজ তা বলার ভাষা আমার নেই। অল্প কিছু টাকা বেতন পাই। বউ বাচ্চা নিয়ে সেই টাকা দিয়ে সারা মাস চলতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। মাসের শেষে পরিচিত লোকজনের কাছে হাত পাততে হয়। 
মহাখালী'তে লম্বা জ্যাম। সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে। সিএনজি ড্রাইভার একটু পরপর লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে আমাকে দেখছে। ব্যাটা কি কিছু বুঝতে পেরেছে নাকি? নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি ড্রাইভারের সাথে আলাপ শুরু করলাম- দেখেছো- আজ কি গরম পরেছে? ব্যাটা কোনো জবাব দিল না। মনে মনে বললাম,... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - এই মেঘ এই রোদ্দুর

    ভোট দিলাম

রাজীব নূর খান

২ বছর আগে লিখেছেন

শেষের খুব কাছে

কিছুক্ষন আগে নিশ্চিত হলাম আজ আমার ফাঁসি।
এক সময় ফযরের নামাজের আগে ফাঁসি দিত। এখন দেয় রাত বারোটার আগে। আমাকে ফাঁসি দেয়ার পর হয়তো জল্লাদ ওযু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিবে। একটু আগে জেলার সাহেব নিজে এসে আমার কাছে জানতে চাইলেন- কিছু খেতে ইচ্ছা করে কিনা? তার হাতে জলন্ত সিগারেট। তিনি হাসি মুখে সিগারেটের পেকেট আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। কি মনে করে পুরো পেকেটটাই দিয়ে দিলেন। আবারও জিজ্ঞেস করলেন- রাতে কি খেতে ইচ্ছা করছে। আমি বললাম, ইলিশ মাছের ডিম দিয়ে করলা ভাজি। আর ঘন ডাল। জেলার সাহেব বললেন আর কিছু না? জেলার সাহেব চলে যাবার আগে বললেন কাউকে কিছু বলতে হবে বা জানাতে? আমি ছোট করে বললাম- না। রাত আট টার মধ্যে খাবার চলে আসবে বলে, জেলার সাহেব চলে গেলেন। তাকে চিন্তিত মনে হলো। ফাঁসির আসামীকে কারাগারের প্রতিটা লোক খুব মমতা দেখায়। দিন যত ঘনিয়ে আসে, মমতার পরিমান তত বাড়তে থাকে। 
ফালগুন মাস চলছে। খবরের কাগজে পড়লাম শেষ রাতের দিকে নাকি শীত পড়ে। জেলখানাতে শীতের কোনো কারবার নেই। এখানে একটাই ঋতু, তা হলো গরম কাল। আমার সেল এর সামনে যে গার্ড এখন ডিউটি দিচ্ছে তার বাড়ি ময়মনসিংহ। নাম সোলায়মান। সে বেচারা একটু পরপর পান খায়। যতবার পান মুখে দেয় তত বার আমাকে পান খাওয়ার জন্য বলে। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে লোকটার সাথে নানান বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। বেচারা কে খুশি করার জন্য তার কাছ থেকে পান নিয়ে মুখে দিলাম। কাঁচা সুপারি আর জর্দা দেয়া পান। মাথা ঘুরাচ্ছে। 
পান মুখে দিয়েই আমার নীলা'র কথা মনে পড়ল। নীলা প্রায়'ই পান খেত। নীলার সাথে আমার বিয়ে হয় অগ্রহায়ণ মাসের সাত তারিখে।... continue reading
Likes Comments
০ Shares

Comments (0)

  • - নাজনীন পলি

    সহজ সরল ভাষায় লেখা গল্প , ভালো লাগলো emoticons

    - টি.আই.সরকার (তৌহিদ)

    কষ্ট করে পাঠের মাধ্যমে গল্প সম্পর্কে মতামত প্রকাশের জন্য অনেক ধন্যবাদ । emoticons

    শুভকামনা জানবেন । emoticons

রাজীব নূর খান

২ বছর আগে লিখেছেন

ধাবমান কালো চোখে আলো নাচে ( ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব- দুই )

১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । ভারতীয় উপমহাদেশ ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ভারত,বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) সিলন (বর্তমান শ্রীলংকা) এবং পাকিস্তান (তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ) এই চারটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৪৭ সনে অর্থাৎ দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান পৃথক হওয়ার সময়ে কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সোহরাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন। পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। ( এই লেখাতে আমি, একটু একটু করে দেশ ভাগ, যুদ্ধ, আন্দোলন,আবিস্কার, রাজনীতি, প্রেম, মানব জীবন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে টুকরো টুকরো কিছু আলোচনা করবো।) 
ফাতেমা বেগমের মেয়ের নাম, নূরজাহান বেগম। ডাক নাম নূরী। নূরী ছোটবেলা পুকুরে পড়ে গিয়েছিলেন। অল্পের জন্য বেঁচে জান। বেগম পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয় ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই যখন নূরজাহান বেগম বিএ শ্রেণীতে পড়তেন। বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল। বেগমের শুরু থেকে নূরজাহান বেগম ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। তিনি বিয়ে করেন রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই) কে। নারীদের ছবি আঁকতে, লেখার জন্য উৎসাহী দিতেন নূরজাহান বেগম। প্রায় ৬৩ বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠিত বেগম পত্রিকা। যদিও অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল পত্রিকাটা নিয়ে কিন্তু বেগম-এর উদ্দেশ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নারী জাগরণ, নতুন লেখক সৃষ্টি, সাহিত্য ও সৃজনশীলতায় নারীকে উৎসাহী করাই ছিল মূল লক্ষ্য। বেগম-এর... continue reading
Likes Comments
০ Shares
Load more writings...