বিশ্বের বৃহত্তম পাবলিক স্পট বা জনসমাগম স্থলটি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বিশ্বব্যাপী এটি তিয়েন আনমেন স্কোয়ার হিসেবে সমধিক পরিচিত। ১৯৮৯ সালে এখানেই গণতন্ত্রকামী ছাত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় চীন সরকার। সেটি ছিল গণতন্ত্রের দাবিতে বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় আন্দোলন। সেই আন্দোলন ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সুবাদে তিয়েন আনমেন স্কোয়ার বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন আনন্দঘন পরিবেশে লাখ লাখ মানুষ উপভোগ করে তিয়েন আনমেন স্কোয়ারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। নিজের জীবনের সঙ্গে এর স্মৃতি ধারণ করতে এখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে।
চীনের একটি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ব্যাটালিয়ন প্রতিদিন সকালে সেখানে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা স্কোয়ারের কেন্দ্রস্থলে জাতীয় পতাকা ওড়ায়। সূর্যাস্তের পরও ৪৪ হেক্টর জায়গা বিস্তৃত তিয়েন আনমেন স্কোয়ার থেকে দিনের মতোই আলোকিত। স্কোয়ারের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে কমিউনিস্ট চীনের প্রতিষ্ঠাতা ‘মাও সে তুং’-এর সুবিশাল এক ভাস্কর্য। উত্তর থেকে দক্ষিণে তিয়েন আনমেন স্কোয়ারের বিস্তৃতি ৮৮০ মিটার। পূর্ব-পশ্চিমে ৫০০ মিটার। গোটা স্কোয়ার ৪ লাখ ৪০ হাজার বর্গমিটার। একসঙ্গে ১০ লাখ লোক সমবেত হতে পারে এ স্কোয়ারে। বিশ্বের অন্য কোন পাবলিক স্পটে একসঙ্গে এত লোক জড়ো হতে পারে না। স্কোয়ারের উত্তরদিকে রয়েছে তিয়েন আনমেন গেট টাওয়ার। এ টাওয়ারের ওপরে পতপত করে উড়ে চীনের পাঁচ তারকা খচিত লাল পতাকা। স্কোয়ারের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে চীনের জাতীয় বীরদের ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ। গ্রেট হল অব দ্য পিপল, চীন বিপ্লব ও চীনের ইতিহাসভিত্তিক জাদুঘর রয়েছে পুর্বদিকে। পশ্চিমে রয়েছে চেয়ারম্যান মাও মেমোরিয়াল হল এবং দক্ষিণে কিয়ানমেন গেট। গত কয়েক শতকে তিয়েন আনমেন স্কোয়ারের গণতন্ত্রের পক্ষে বহু সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বেইজিংয়ের ১৬টি নৈসর্গিক স্পটের মধ্যে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় তিয়েন আনমেন স্কোয়ার। ১৯৮৯ সালে গণতন্ত্রকামী ছাত্রদের বিরুদ্ধে চীন সরকারের দমন অভিযান অনেকটা চাপা পড়েছে তিয়েন আনমেনের নৈসর্গিক দৃশ্যের কাছে। বর্তমানে চীনে আসা বিদেশী পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ পাবলিক স্পট।